Sign in
🚀 Join our Ramadan Challenge!
Learn more
🚀 Join our Ramadan Challenge!
Learn more
Sign in
Sign in
58:11
يا ايها الذين امنوا اذا قيل لكم تفسحوا في المجالس فافسحوا يفسح الله لكم واذا قيل انشزوا فانشزوا يرفع الله الذين امنوا منكم والذين اوتوا العلم درجات والله بما تعملون خبير ١١
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا۟ فِى ٱلْمَجَـٰلِسِ فَٱفْسَحُوا۟ يَفْسَحِ ٱللَّهُ لَكُمْ ۖ وَإِذَا قِيلَ ٱنشُزُوا۟ فَٱنشُزُوا۟ يَرْفَعِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْعِلْمَ دَرَجَـٰتٍۢ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌۭ ١١
يَٰٓأَيُّهَا
ٱلَّذِينَ
ءَامَنُوٓاْ
إِذَا
قِيلَ
لَكُمۡ
تَفَسَّحُواْ
فِي
ٱلۡمَجَٰلِسِ
فَٱفۡسَحُواْ
يَفۡسَحِ
ٱللَّهُ
لَكُمۡۖ
وَإِذَا
قِيلَ
ٱنشُزُواْ
فَٱنشُزُواْ
يَرۡفَعِ
ٱللَّهُ
ٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ
مِنكُمۡ
وَٱلَّذِينَ
أُوتُواْ
ٱلۡعِلۡمَ
دَرَجَٰتٖۚ
وَٱللَّهُ
بِمَا
تَعۡمَلُونَ
خَبِيرٞ
١١
O believers! When you are told to make room in gatherings, then do so. Allah will make room for you ˹in His grace˺. And if you are told to rise, then do so. Allah will elevate those of you who are faithful, and ˹raise˺ those gifted with knowledge in rank. And Allah is All-Aware of what you do.
Tafsirs
Lessons
Reflections
Answers
Qiraat

এখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুমিনদেরকে মজলিসে বসার আদব বা ভদ্রতা শিক্ষা দিতে গিয়ে এবং একে অপরের প্রতি অনুগ্রহ করার নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেনঃ যখন তোমরা কোন মজলিসে একত্রিত হবে এবং তোমরা বসে যাওয়ার পর কেউ এসে পড়বে তখন তার বসার জায়গা করে দেয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা একটু একটু করে সরে সরে বসবে এবং এই ভাবে জায়গা কিছুটা প্রশস্ত করে দিবে। এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্যে স্থান প্রশস্ত করে দিবেন। কেননা প্রত্যেক আমলের বিনিময় ঐরূপই হয়ে থাকে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে মসজিদ বানিয়ে দিবে, আল্লাহ্ তাঁর জন্যে জান্নাতে ঘর বানিয়ে দিবেন।” অন্য হাদীসে রয়েছেঃ “যে ব্যক্তি কোন লোকের কাঠিন্য সহজ করবে, আল্লাহ্ দুনিয়া ও আখিরাতে তার (বিপদ-আপদের) কাঠিন্য সহজ করে দিবেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন যে পর্যন্ত বান্দা তার (মুসলমান) ভাইকে সাহায্য করতে থাকে। এই ধরনের আরো বহু হাদীস রয়েছে।হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি যিকরের মজলিসের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। যেমন, ওয়া হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কিছু উপদেশ বাণী প্রদান করছেন এবং জনগণ বসে শুনছেন। এমন সময় কেউ একজন এসে পড়লেন। কিন্তু কেউই নিজ জায়গা হতে একটু সরছেন না যে ঐ লোকটি বসতে পারেন। তখন আল্লাহ্ পাক আয়াত নাযিল করে নির্দেশ দিলেনঃ তোমরা একটু একটু করে সরে গিয়ে স্থান প্রশস্ত করে দাও, যাতে পরে আগমনকারীর বসার জায়গা হয়েযায়।হযরত মুকাতিল (রঃ) বলেন যে, জুমআর দিন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ঐ দিন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) একটি সংকীর্ণ জায়গায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। জায়গা কম ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, যেসব মুহাজির ও আনসার বদরের যুদ্ধে তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে তিনি অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখতেন। ঐ দিন ঘটনাক্রমে কয়েকজন বদরী সাহাবী (রাঃ) কিছু বিলম্বে আগমন করেন। তারা এসে নবী (সঃ)-এর নিকট দাঁড়িয়ে যান। তাঁকে তাঁরা সালাম করেন এবং তিনিও উত্তর দেন। মজলিসের লোকদেরকেও তারা সালাম জানান এবং তারাও জবাব দেন। অতঃপর ঐ বদরী সহাবীগণ (রাঃ) এই আশায় দাঁড়িয়ে থাকেন যে, মজলিসে তাদের জন্যে একটু জায়গা করে দিলে তারা বসে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাদের এ অবস্থা লক্ষ্য করে আর থামতে পারলেন না, নাম ধরে ধরে তিনি কতক লোককে দাঁড়াতে বললেন এবং ঐ উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সহাবীদেরকে ঐ সব জায়গায় বসার নির্দেশ দিলেন। এতে যাদেরকে উঠিয়ে দেয়া হলো তাঁরা মনে কিছু ব্যথা পেলেন এবং তাঁদের কাছে এটা কিছু কঠিন ঠেকলো। মুনাফিকরা এটাকে একটা সুযোগে হিসেবে গ্রহণ করলো। তারা বলতে শুরু করলোঃ “দেখো, তিনি ন্যায় বিচার করার দাবীদার, অথচ যারা তাঁর উপদেশবাণী শুনবার আগ্রহে পূর্বেই এসে তার পার্শ্বে জায়গা নিয়েছিল তাদেরকে তিনি উঠিয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় বসিয়ে দিলেন এমন লোকেদেরকে, যারা পরে এসেছে। এর চেয়ে অবিচার মূলক আচরণ আর কি হতে পারে?” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির উপর দয়া করুন যে তাঁর ভাইয়ের জন্যে মজলিসে জায়গা করে দেয়।” তাঁর এ প্রার্থনা শোন মাত্রই সাহাবীগণ তাড়াতাড়ি খুশীমনে নিজ নিজ জায়গা হতে সরতে লাগলেন এবং তাঁদের ভাইয়ের জন্যে জায়গা করে দিলেন। অতঃপর জুমআর দিন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “কোন মানুষ যেন কোন মানুষকে উঠিয়ে দিয়ে তার জায়গার না বসে, বরং তোমরা মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) নাফে' (রঃ) হতে এটা সহীহাইনে তাখরীজ করেছেন)হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জুমআর দিন তোমাদের কেউ যেন তার ভাইকে তার জায়গা হতে উঠিয়ে না দেয়, বরং যেন বলে জায়গা করে দাও।” (এ হাদীসটি ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)কোন আগন্তুকের জন্যে দাঁড়ানো জায়েয কি-না এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ এতে অনুমতি দেন না এবং দলীল হিসেবে নিম্নের হাদীসটি পেশ করে থাকেনঃ “যে ব্যক্তি চায় যে, লোকেরা তার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তাঁর স্থান বানিয়ে নেয়।”কেউ কেউ আবার এর ব্যাখ্যা করে বলেন যে, কেউ সফর হতে আসলে তার জন্যে এবং কোন হাকিমের জন্যে তাঁর হুকুমতের জায়গায় দাঁড়ানো জায়েয। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) বলেছিলেনঃ “তোমরা তোমাদের নেতার জন্যে দাঁড়িয়ে যাও।” এটা তাঁর তা'যীমের জন্যে ছিল না, বরং তার ফায়সালা জারী করিয়ে দেয়াই উদ্দেশ্য ছিল। এসব ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। হ্যাঁ, তবে এটাকে অভ্যাস করে নেয়া যে, মজলিসে যখনই কোন বড়লোকে এবং মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি আসবে তার জন্যেই মানুষ উঠে দাঁড়াবে, এটা আজমীদের রীতি-নীতি। সুনানের হাদীসে রয়েছে যে, সাহাবীদের (রঃ) নিকট আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর চেয়ে অধিক প্রিয় ও সম্মানিত আর কোন লোকই ছিলেন না। তথাপি তাঁকে দেখে তারা দাঁড়াতেন না। কারণ তাঁরা জানতেন যে, তিনি এটা পছন্দ করেন না। সুনানের অন্য হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) এসেই মজলিসের শেষ প্রান্তে বসে পড়তেন এবং যেখানেই তিনি বসতেন সেটাই হয়ে যেতো সভাপতির স্থান। আর সাহাবীগণ নিজ নিজ মর্যাদা অনুযায়ী বসে যেতেন। প্রায়ই হযরত আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর ডান দিকে বসতেন এবং হযরত উমার (রাঃ) বাম দিকে বসতেন। সাধারণতঃ হযরত উসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) তাঁর সামনের দিকে বসতেন। কেননা, তাঁরা দু’জন ছিলেন অহীর লেখক। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাদেরকে যা বলতেন তাঁরা তা লিখে নিতেন।সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বিবেকবান ব্যক্তি তারা যেন আমার কাছাকাছি বসে। তারপর যেন মর্যাদা অনুযায়ী সবাই ক্রমান্বয়ে বসতে থাকে।” এই ব্যবস্থা রাখার কারণ ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যা কিছু বলেন তা যেন এই জ্ঞানী লোকেরা ভালভাবে শুনেন ও বুঝেন। সুফফা যুক্ত মজলিসের বর্ণনা কিছু পূর্বেই গত হলো যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) অন্যান্য লোকদেরকে সরিয়ে দিয়ে তাঁদের স্থানে বদরী সহাবীদেরকে বসিয়ে দেন। যদিও এর সাথে অন্য কারণও ছিল। যেমন ঐ লোকদের নিজেদেরই উচিত ছিল ঐ মর্যাদাবান সহাবীদের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং নিজেরা সরে গিয়ে তাদের জায়গা করে দেয়া। কিন্তু যখন তাঁরা নিজেরা তা করলেন না তখন হুকুমের মাধ্যমে তাদের দ্বারা তা করিয়ে নেয়া হলো। অনুরূপভাবে প্রথমে যারা এসেছিলেন তারা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর বহু কথা ও উপদেশ বাণী শুনেছেন। তারপর এই মর্যাদা সম্পন্ন লোকগণ আসলেন। তখন তিনি চাইলেন যে, তাঁরাও যেন আরামের সাথে বসে গিয়ে তাঁর উপদেশপূর্ণ কথা শোনর সুযোগে গ্রহণ করতে পারেন। এভাবে এই উম্মতকে এই শিক্ষা দেয়াও উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা যেন তাদের বড়দেরকে ইমামের পার্শ্বে বসার সুযোগে দেন এবং তাদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দান করেন। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) নামাযের সফ বা সারি ঠিক করার সময় নিজেই আমাদের কাঁধ ধরে ধরে ঠিক করতেন এবং মুখেও বলতেনঃ ‘সোজাভাবে দাঁড়াও, বক্রভাবে দাঁড় হয়ো না। জ্ঞানী ও বিবেকবানরা আমার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াবে। তারপর মর্যাদা অনুপাতে ক্রমান্বয়ে দাঁড়াবে।” এই হাদীসটি বর্ণনা করার পর হযরত আবু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “বড়ই দুঃখের বিষয় যে, এই হুকুম সত্ত্বেও তোমরা এখনো লাইন বা সারিকে বক্রই করছো!” (ইমাম আহমাদ (রঃ) এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিম, সুনানে আবি দাউদ, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহুতেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে) এটা স্পষ্টভাবে প্রকাশমান যে, নামাযের জন্যে যখন এই হুকুম ছিল তখন নামায ছাড়া অন্য সময়ে তো এই হুকুমের গুরুত্ব আরো বেশী থাকার কথা। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা লাইনগুলো ঠিক রেখো, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রেখো, সারিগুলোর মাঝে জায়গা ফাঁকা রেখো না, লাইনে নিজের (মুসল্লী) ভাইদের কাছে কোমল হয়ে যাও, সারিতে শয়তানের জন্যে ছিদ্র ছেড়ে রেখো না। যে ব্যক্তি লাইন বা সারি মিলিয়ে রাখে তাকে আল্লাহ্ মিলিয়ে রাখেন এবং যে ব্যক্তি লাইন কেটে দেয়, আল্লাহও তাকে কেটে দেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এজন্যেই সায়্যিদুল কুররা (কারীদের নেতা) হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) যখন নামাযে আসতেন তখন তিনি প্রথম সারিতে বা কাতারে যেতেন এবং সেখান হতে দুর্বল জ্ঞান বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পিছনে সরিয়ে দিতেন এবং নিজে তার স্থানে দাঁড়িয়ে যেতেন। আর ঐ হাদীসটিকেই তিনি দলীল হিসেবে গ্রহণ করতেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “জ্ঞানী ও বিবেকবান ব্যক্তি আমার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়াবে এবং তারপর ক্রমান্বয়ে জ্ঞান অনুপাতে দাঁড়াবে।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-কে দেখে কেউ উঠে দাঁড়ালে তিনি তার জায়গায় বসতেন না এবং ঐ হাদীসটি পেশ করতেন যা উপরে বর্ণিত হয়েছে যে, কেউ যেন কাউকেও উঠিয়ে দিয়ে তার জায়গায় না বসে।এখানে নমুনা হিসেবে আমরা কতকগুলো মাসআলা এবং অল্প সংখ্যক হাদীস লিখে সামনে অগ্রসর হচ্ছি। বিস্তারিত ব্যাখ্যার জায়গা এখানে নেই এবং সেই সুযোগেও নেই।সহীহ্ হাদীসে রয়েছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বসেছিলেন, এমন সময় তিনজন লোক আসলো। একজন তো মজলিসের মাঝে শূন্য জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লো এবং দ্বিতীয়জন মজলিসের শেষ প্রান্তে স্থান নিলো। আর তৃতীয়জন ফিরে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে তিন ব্যক্তির খবর দিবো না? এক ব্যক্তি তো আল্লাহর দিকে স্থান নিলো এবং আল্লাহ্ তাকে স্থান দিলেন। দ্বিতীয়জন আল্লাহ্ হতে লজ্জা করলো এবং আল্লাহও তার হতে লজ্জা করলেন। আর তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং আল্লাহও তার হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।”হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “কারো জন্যে বৈধ নয় যে, সে দুইজনের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। হ্যাঁ, তবে যদি তাদের দু'জনের অনুমতিক্রমে হয় তাহলে সেটা স্বতন্ত্র কথা।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবূ দাঊদ (রঃ) এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান বলেছেন) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে জিহাদের ব্যাপারে। অনুরূপভাবে উঠে দাঁড়ানোর নির্দেশও জিহাদের ব্যাপারেই দেয়া হয়েছে।হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ভাবার্থ হচ্ছেঃ যখন তোমাদেরকে কল্যাণ ও ভাল কাজের দিকে আহ্বান করা হয় তখন তোমরা তৎক্ষণাৎ সাড়া দিয়ে।হযরত মুকাতিল (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা বুঝানো হয়েছেঃ যখন তোমাদেরকে নামাযের জন্যে ডাক দেয়া হয় তখন তোমরা উঠে দাঁড়িয়ে যাবে। হযরত আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ (রঃ) বলেন যে, সাহাবায়ে কিরাম যখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট আসতেন তখন প্রত্যেকেই চাইতেন যে, তিনিই সব শেষে যাবেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কোন প্রয়োজন থাকলে তিনি খুবই অস্বস্তি বোধ করতেন। কিন্তু মানবতার খাতিরে তিনি কিছুই বলতেন না। তখন নির্দেশ দেয়া হয় যে, যখন ফিরে যেতে বলা হয় তখন যেন তারা ফিরে যায়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তোমাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা ফিরে যাও, তবে তোমরা ফিরে যাবে।” (২৪:২৮)এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ যখন তোমাদেরকে মজলিসে জায়গা করে দেয়ার কথা বলা হয় তখন জায়গা দেয়ায় এবং যখন উঠে যাওয়ার কথা বলা হয় তখন উঠে যাওয়ায় তোমরা নিজেদের জন্যে মানহানিকর মনে করো না, বরং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তোমাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন। তোমাদের এ পুণ্যময় কাজ তিনি বিনষ্ট করবেন না। বরং এর বিনিময়ে তিনি তোমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম পুরস্কার প্রদান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর আহকামের উপর বিনয়ের সাথে স্বীয় গর্দান ঝুঁকিয়ে দেয়, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। ঈমানদার ও সঠিক জ্ঞানের অধিকারীদের অভ্যাস এটাই যে, তারা আল্লাহর হুকুমের সামনে তাদের গর্দান ঝুঁকিয়ে থাকে এবং এভাবে তারা উচ্চ মর্যাদা লাভের হকদার হয়ে যায়। মর্যাদার হকদার কারা এবং কারা এর হকদার নয় এ সম্পর্কে আল্লাহ্ সবিশেষ অবহিত।হযরত আবূ তুফায়েল আমির ইবনে ওয়ায়েলাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আসফান নামক স্থানে হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর সঙ্গে হযরত নাফে ইবনে হারিস (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়। হযরত উমার (রাঃ) তাঁকে মক্কা শরীফের আমেল নিযুক্ত করেছিলেন। তাকে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “মক্কায় কাকে তুমি তোমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছো?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “ইবনে ইবষী (রাঃ)-কে আমি আমার স্থলাভিষিক্ত করে এসেছি।” তখন হযরত উমার (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ “সে তো আমার আযাদকৃত গোলাম! সুতরাং কি করে তাকে মক্কাবাসীর উপর আমীর নিযুক্ত করে আসলে?” তিনি জবাবে বললেনঃ “হে আমীরুল মুমিনীন! তিনি আল্লাহর কিতাবের পাঠক, ফারায়েযের আলেম এবং একজন ভাল বক্তা।” এ কথা শুনে হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “তুমি সত্য বলেছো। নবী (সঃ) বলেছেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এই কিতাবের কারণে এক কওমকে সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী করবেন এবং অন্যদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবেন এবং তাদের মর্যাদা কমিয়ে দিবেন।” (এটা ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আলেমদের যে ফযীলতের কথা এই আয়াতে এবং অন্যান্য আয়াত ও হাদীসসমূহে প্রকাশিত হয়েছে, এ সবগুলো আমি সহীহ্ বুখারীর কিতাবুল ইলমের শারায়ূতে জমা করেছি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং তাঁরই নিকট আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Read, Listen, Search, and Reflect on the Quran

Quran.com is a trusted platform used by millions worldwide to read, search, listen to, and reflect on the Quran in multiple languages. It provides translations, tafsir, recitations, word-by-word translation, and tools for deeper study, making the Quran accessible to everyone.

As a Sadaqah Jariyah, Quran.com is dedicated to helping people connect deeply with the Quran. Supported by Quran.Foundation, a 501(c)(3) non-profit organization, Quran.com continues to grow as a free and valuable resource for all, Alhamdulillah.

Navigate
Home
Quran Radio
Reciters
About Us
Developers
Product Updates
Feedback
Help
Our Projects
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Non-profit projects owned, managed, or sponsored by Quran.Foundation
Popular Links

Ayatul Kursi

Yaseen

Al Mulk

Ar-Rahman

Al Waqi'ah

Al Kahf

Al Muzzammil

SitemapPrivacyTerms and Conditions
© 2026 Quran.com. All Rights Reserved