Sign in
🚀 Join our Ramadan Challenge!
Learn more
🚀 Join our Ramadan Challenge!
Learn more
Sign in
Sign in
9:35
يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم هاذا ما كنزتم لانفسكم فذوقوا ما كنتم تكنزون ٣٥
يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِى نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَـٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا۟ مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ ٣٥
يَوۡمَ
يُحۡمَىٰ
عَلَيۡهَا
فِي
نَارِ
جَهَنَّمَ
فَتُكۡوَىٰ
بِهَا
جِبَاهُهُمۡ
وَجُنُوبُهُمۡ
وَظُهُورُهُمۡۖ
هَٰذَا
مَا
كَنَزۡتُمۡ
لِأَنفُسِكُمۡ
فَذُوقُواْ
مَا
كُنتُمۡ
تَكۡنِزُونَ
٣٥
The Day ˹will come˺ when their treasure will be heated up in the Fire of Hell, and their foreheads, sides, and backs branded with it. ˹It will be said to them,˺ “This is the treasure you hoarded for yourselves. Now taste what you hoarded!”
Tafsirs
Lessons
Reflections
Answers
Qiraat
You are reading a tafsir for the group of verses 9:34 to 9:35

৩৪-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর: সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, ইয়াহূদী আলেমদেরকে আহবার এবং খ্রীষ্টান আবেদদেরকে রুহবান বলা হয় (আরবী) (৫:৬৩) এই আয়াতে ইয়াহুদী আলেমদেরকে ‘আহবার’ আর কুরআন কারীমের (৫:৮২) এই আয়াতে খ্রীষ্টানদের আবেদদেরকে ‘রুহবান’ এবং তাদের আলেমদেরকে ‘কিস্সীস' বলা হয়েছে। উপরোক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে পথভ্রষ্ট দরবেশ ও সুফীদের থেকে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করা। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রঃ) বলেন যে, আমাদের আলেমদের মধ্যে যারা ফাসাদ সৃষ্টি করে তাদের ইয়াহূদীদের সাথে কিছু না কিছু সাদৃশ্য রয়েছে। আর আমাদের সুফী ও দরবেশদের মধ্যে যারা অনৈক্য সৃষ্টি করে তাদের খ্রীষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। সহীহ হাদীসে রয়েছে- “নিশ্চিতরূপে তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের গতির উপর চলবে। তাদের সাথে তোমাদের চলনগতি এমন সাদৃশ্যযুক্ত হবে যে, মোটেই পার্থক্য থাকবে না।” জনগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের গতির উপর কি?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, তাদেরই চলন গতির উপর।” অন্য বর্ণনায় আছে যে, জনগণ জিজ্ঞেস করেনঃ “পারসিক ও রোমকদের গতির উপর কি?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এরা ছাড়া আর কে হবে?” সুতরাং তাদের কথা ও কাজের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। তাদের এসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মধ্যে বড় বড় পদ লাভ করা ও প্রভাব বিস্তার করা। আর এর মাধ্যমে তারা চায় জনগণের মাল আত্মসাৎ করতে। অজ্ঞতার যুগে ইয়াহদী আলেমদের জনগণের মধ্যে খুবই মর্যাদা ছিল। তাদের জন্যে উপঢৌকন এবং ফকির দরবেশদের মাযারে বাতি জ্বালাবার উদ্দেশ্যে দান নির্দিষ্ট ছিল। এগুলো তাদেরকে চাইতে হতো না, বরং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাছে ওগুলো পৌছিয়ে দিতো। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নবুওয়াতের পর এ লালসাই তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল। কিন্তু সত্যের মুকাবিলা করার কারণে ওদিক থেকেও তারা আনকোরা থেকে যায় এবং আখিরাতের সুখ থেকেও বঞ্চিত রয়ে যায়। তারা আল্লাহর গজবে পতিত হয়েছে। দুনিয়ায় তারা লাঞ্ছিত ও ঘৃণিত হয়েছে এবং পরকালেও তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। হারাম ভক্ষণকারী এই দলটি নিজেরা হক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যদেরকেও ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো। সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে দিয়ে জনগণকেও তারা সত্যের পথ থেকে বিরত রাখতো। মূর্খদের মধ্যে বসে চড়া গলায় তারা বলতোঃ “জনগণকে আমরা সত্যের পথে আহ্বান করছি।” অথচ এটা স্পষ্ট প্রতারণা মাত্র। তারা তো লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে ডাকতে রয়েছে। কিয়ামতের দিন এদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হবে যে তাদের কোন বন্ধু ও সহায়ক থাকবে না।আলেম ও সুফী-দরবেশ অর্থাৎ বক্তা ও আবেদদের বর্ণনা দেয়ার পর এখন আমীর, সম্পদশালী এবং নেতাদের অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যেমন এই দুই শ্রেণীর লোকদের মধ্যে হীন প্রবৃত্তির লোক রয়েছে, দ্রুপ এই তৃতীয় শ্রেণীর লোকদের মধ্যেও হীন ও সংকীর্ণমনা লোক রয়েছে। সাধারণতঃ মানুষের মধ্যে এই তিন শ্রেণীর লোকদের বিশেষ প্রভাব পড়ে থাকে। বহু সংখ্যক লোক তাদের অনুসারী হয়। সুতরাং যখন এই তিন শ্রেণীর লোকের অবস্থা বিগড়ে যাবে তখন সাধারণ মানুষের অবস্থাও বিগড়ে যাবে। যেমন ইবনুল মুবারক (রঃ) বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “দ্বীনকে বিগড়িয়ে থাকে বাদশাহগণ এবং নিকৃষ্ট ও হীন প্রকৃতির আলেম, সুফী ও দরবেশগণ।”শরীয়তের পরিভাষায় (আরবী) ঐ মালকে বলা হয় যে মালের যাকাত আদায় করা হয় না। ইবনে উমার (রাঃ) হতে এটাই বর্ণিত আছে। তিনি বলেন যে, যে মালের যাকাত দেয়া হয় তা যদি সপ্তম যমীনের নীচেও থাকে তবুও তা (আরবী) নয়। আর যে মালের যাকাত দেয়া হয় না সেই মাল যমীনের উপর প্রকাশ্যভাবে ছড়িয়ে থাকলেও তা (আরবী)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। (অনুরূপ বর্ণনা ইবনে আব্বাস (রাঃ), জাবির (রাঃ), আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখ হতেও বর্ণিত হয়েছে) উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-ও এ কথাই বলেন এবং তিনি বলেন যে, যে মালের যাকাত আদায় করা হয় না ঐ মাল দ্বারা মালদারকে দাগ দেয়া হবে। তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এ হুকুম যাকাত ফরয হওয়ার পূর্বে ছিল। যাকাতের হুকুম অবতীর্ণ করে আল্লাহ তা'আলা ওটাকে মাল পবিত্রকারী বানিয়ে দিয়েছেন। ন্যায়পরায়ণ খলীফা উমার ইবনে আবদিল আযীয (রঃ) এবং ইরাক ইবনে মালিক (রঃ)-ও এ কথাই বলেছেন, (আরবী) (৯:১০৩) আল্লাহ পাকের এ উক্তি দ্বারা এটাকে মানসূখ বা রহিত করে দেয়া হয়েছে। আবূ উমামা (রাঃ) বলেন যে, তরবারীর যেওরও (আরবী) -এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেনঃ “জেনে রেখো যে, আমি তোমাদেরকে ঐ কথাই শুনাচ্ছি যা আমি আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর মুখে শুনেছি।” আলী (রাঃ) বলেন যে, চার হাজার এবং তদপেক্ষা কম হচ্ছে নাফকাহ', আর এর অধিক হলেই ওটা হবে ‘কান। কিন্তু এ উক্তিটি গারীব বা দুর্বল। মালের আধিক্যের নিন্দা এবং স্বল্পতার প্রশংসায় বহু হাদীস এসেছে। নমুনা হিসেবে আমরাও এখানে ওগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি হাদীস নকল করছি। মুসনাদে আবদির রাযযাকে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবী)-এ আয়াতকে কেন্দ্র করে নবী (সঃ) বলেনঃ “সোনা ও চাদির (মালিকের) জন্যে ধ্বংস (অনিবার্য)।” এ কথা তিনি তিনবার বলেন। এটা সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন ঠেকে। তাই তারা প্রশ্ন করেনঃ “তাহলে আমরা কোন মাল রাখবো?” তখন উমার (রাঃ) তাদেরকে বলেনঃ “আচ্ছা, আমি এটা তোমাদের জন্যে জেনে নেবো।” অতঃপর তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার এ কথাটি আপনার সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন বোধ হয়েছে এবং তারা কি মাল রাখবেন তা জানতে চেয়েছেন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “(তারা রাখবে), যিকিরকারী জিহ্বা, শাকরকারী অন্তর এবং দ্বীনের কাজে সাহায্যকারিণী স্ত্রী।” মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিন্দায় যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং সাহাবীগণ এ নিয়ে পরস্পর আলোচনা করেন তখন উমার (রাঃ) বলেনঃ “আচ্ছা, এটা আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছি।” অতঃপর তিনি স্বীয় সওয়ারীর গতি দ্রুত করে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, সোনা ও চদির নিন্দায় এ আয়াত অবতীর্ণ হলে সাহাবীগণ বলেনঃ “তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্যে ছেড়ে যাবো কি?” এতে রয়েছে যে, উমার (রাঃ)-এর সাথে সাওবান (রাঃ) ছিলেন। উমার (রাঃ) নবী (সঃ)-কে বলেনঃ “হে আল্লাহর নবী (সঃ) ! এ আয়াতটি আপনার সাহাবীদের কাছে কঠিন বোধ হয়েছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তোমাদের বাকী মালকে পবিত্র করার জন্যেই আল্লাহ তা'আলা যাকাত ফরয করেছেন এবং তোমাদের (মৃত্যুর পরে যে মাল থাকবে তার উপর তিনি মীরাস নির্ধারণ করে দিয়েছেন।” এ কথা শুনে উমার (রাঃ) খুশীতে তাকবীর পাঠ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি কি তোমাকে মানুষের সর্বোত্তম সঞ্চিত ধনের সংবাদ দেবো না? তা হচ্ছে সতী-সাধ্বী নারী। যখন তার স্বামী তার দিকে প্রেমের দৃষ্টিতে তাকায় আর তখন সে তাকে (স্বামীকে) সন্তুষ্ট করে, যখন তাকে কোন হুকুম করে তখন সে তৎক্ষণাৎ তা পালন করে এবং যখন সে (স্বামী) অনুপস্থিত থাকে তখন সে তার (সবকিছু) হিফাযত করে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম হাকিম (রঃ) তার মুসতাদরিক গ্রন্থে এটা রিওয়ায়াত করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এটা ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ)-এর শর্তের উপর সহীহ্, তারা দুজন এটা তাখরীজ করেননি)মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, হাসান ইবনে আতিয়া (রাঃ) বলেন, শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাঃ) এক সফরে ছিলেন। এক মনজিলে অবতরণ করে তিনি স্বীয় গোলামকে বলেনঃ “ছুরি নিয়ে এসো, আমরা খেলা করবো।” এ কথা আমার কাছে খারাপ বোধ হলো। অতঃপর তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর এমন অসতর্ক কথা আমি আর কখনো বলিনি। আপনি এটা ভুলে যান। আমি একটি হাদীস বর্ণনা করছি তা স্মরণ রাখুন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন জনগণ সোনা-রূপা জমা করতে শুরু করে দেবে তখন তোমরা নিম্নের কালেমাগুলো খুব বেশী বেশী করে পাঠ করবেঃ(আরবী) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কাজে অটলতা ও সৎ কাজের উপর দৃঢ়তা প্রার্থনা করছি। আর প্রার্থনা করছি আপনার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ও আপনার উত্তম ইবাদতের। আপনার নিকট প্রার্থনা করছি সুধু অন্তরের ও সত্যবাদী জিহ্বার। আর আমি আপনার কাছে ঐ মঙ্গল যাঞা করছি যা আপনি মঙ্গলরূপে জানেন এবং ঐ দোষ ও অন্যায় হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আপনি দোষ বলে জানেন। আর যে পাপগুলোকে আপনি জানেন সেগুলো থেকে আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়গুলো ভালরূপে অবগত আছেন।”আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দেয়া হয়। কিয়ামতের দিন ঐ মালকেই আগুনের মত অত্যধিক গরম করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে এবং পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে। অতঃপর তাদেরকে ধমকের সুরে বলা হবে- আজকে তোমাদের সঞ্চিত মালের স্বাদ গ্রহণ কর। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে- “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) তোমরা তার (জাহান্নামীর) মাথায় গরম পানি ঢেলে দাও এবং (তাকে বল) শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর। তুমি নিজেকে বড়ই মর্যাদাবান ও বুযুর্গ মনে করতে!” এর দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো যে, যে ব্যক্তি যে জিনিসকে ভালবেসে আল্লাহর আনুগত্যের উপর ওকে প্রাধান্য দেবে, ওর দ্বারাই তাকে শাস্তি দেয়া হবে। ঐ মালদারেরা মালের মহব্বতে আল্লাহর ফরমান ভুলে গিয়েছিল। তাই আজ ঐ মাল দ্বারাই তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। যেমন আবু লাহাব খোলাখুলিভাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে শত্রুতা করতো এবং তার স্ত্রী তার সাহায্য করতো। কিয়ামতের দিন আগুনকে আরো প্রজ্বলিত করার জন্যে সে তার গলায় রশি লটকিয়ে দিয়ে কাঠ এনে এনে ঐ আগুনকে প্রজ্বলিত করবে এবং ঐ আগুনে তারা জ্বলতে থাকবে। এই মাল, যা এখানে সবচেয়ে বেশী প্রিয়, এটাই কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকারক প্রমাণিত হবে। ওটাকেই গরম করে ওর দ্বারা দাগ দেয়া হবে ।আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, এরূপ মালদারদের দেহ এতো লম্বা-চওড়া করে দেয়া হবে যে, এক একটি দীনার ও দিরহাম ওর উপর এসে যাবে, অতঃপর সমস্ত মাল আগুনের মত করে দিয়ে পৃথক পৃথকভাবে সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়া হবে। এটা নয় যে, একটার পর একটা দাগ পড়বে, বরং একই সাথে সমস্ত দাগ পড়বে। মার’ রূপেই এ রিওয়ায়াত এসেছে বটে, কিন্তু এর সনদ সঠিক নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।তাউস (রঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন সঞ্চিত মাল একণ্টা বিরাট অজগর হয়ে মালদারের পিছনে ধাবিত হবে আর সে ওর থেকে পালাতে থাকবে। ঐ সময় সাপটি তার পিছনে ছুটবে ও বলতে থাকবেঃ “আমি তোমার সঞ্চিত ধন।” অতঃপর সাপটি তার যে অঙ্গকেই পাবে ওটাকেই কামড়িয়ে ধরবে।মুসনাদে আহমাদে সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি তার পিছনে সঞ্চিত ধন ছেড়ে যাবে, কিয়ামতের দিন তার ঐ ধন বিষাক্ত অজগর সাপের রূপ ধারণ করবে, যার চক্ষুদ্বয়ের উপর দু'টি বিন্দু থাকবে। সাপটি মালদারের পিছনে ছুটবে। লোকটি তখন পালাতে পালাতে বলবেঃ “তোমার অমঙ্গল হাক! তুমি কে?” সাপটি উত্তরে বলবেঃ “আমি তোমার জমাকৃত মাল, যা তুমি তোমার পিছনে ছেড়ে এসেছিলে।” শেষ পর্যন্ত সাপটি তাকে ধরে ফেলবে এবং তার হাত চিবাতে থাকবে, এরপর তার সারা দেহকেও চিবাবে।সহীহ মুসলিমে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার মালকে আগুনের তক্তা বানানো হবে এবং তা দ্বারা তার পার্শ্বদেশে, কপালে ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে লোকদের ফায়সালা না হওয়া পর্যন্ত তার এ অবস্থা থাকবে। অতঃপর তাকে তার মনযিলের পথ দেখানো হবে, হয় জাহান্নামের পথ না হয় জান্নাতের পথ।” তাতে সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম বুখারী (রঃ) এই আয়াতেরই তাফসীরে বলেন যে, যায়েদ ইবনে অহাব (রাঃ) রাব্যয় আবু যার (রাঃ) -এর সাথে মিলিত হন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ “এখানে আপনি কিরূপে এলেন?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমি সিরিয়ায় অবস্থান করছিলাম। সেখানে আমি .. (আরবী)-- আয়াতটি পাঠ করি । তখন মুআবিয়া (রাঃ) বলেনঃ “এ আয়াত আমাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়নি, বরং আহলে কিতাবের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।” আমি তখন বলি, আমাদের এবং তাদের সকলের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে। এভাবে আমার ও তার মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে উসমান (রাঃ)-এর দরবারে চিঠি লিখেন। সুতরাং খলীফার পক্ষ থেকে আমার নামে ফরমান আসে যে, আমি যেন মদীনায় চলে আসি। মদীনায় পৌঁছে আমি দেখি যে, জনগণ চতুর্দিক থেকে আমাকে ঘিরে নিয়েছে। তারা যেন ইতিপূর্বে আমাকে দেখেনি। যা হাক, আমি মদীনাতেই অবস্থান করতে থাকি। কিন্তু সব সময় জনগণের যাতায়াতের কারণে আমি খুবই অস্বস্তি বোধ করি। শেষে আমি উসমান (রাঃ)-এর কাছে এই অভিযোগে করি। ফলে তিনি আমাকে বলেনঃ “মদীনার নিকটবর্তী কোন বিজন বনে আপনি চলে যান।” আমি তার এ হুকুমও পালন করি। কিন্তু তাকে আমি এ কথা বলে দেই যে, আল্লাহর শপথ! আমি যা বলতাম তা কখনো ছাড়তে পারি না। আবু যার (রাঃ)-এর ধারণা ছিল এই যে, ছেলেমেয়েদের ভরণ পোষণের পর যা বেঁচে যাবে তা জমা রাখা সাধারণভাবে হারাম। তিনি এটাই ফতওয়া দিতেন এবং জনগণের মধ্যে এ কথাই ছড়াতেন। জনগণকে তিনি এর উপরই উদ্বদ্ধ ও উত্তেজিত করতেন এবং তাদের এরই হুকুম দিতেন। আর যারা এর বিরুদ্ধাচরণ করতো তাদের প্রতি বড়ই কঠোরতা অবলম্বন করতেন। মুআবিয়া (রাঃ) তাকে এ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন যাতে লোকদের মধ্যে সাধারণভাবে এই ক্ষতিকর কথা ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি যখন কোনক্রমেই মানলেন না তখন বাধ্য হয়ে তিনি খলীফা উসমান (রাঃ)-এর কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আমীরুল মুমিনীন উসমান (রাঃ) তখন তাকে রাব্য নামক স্থানে একাকী অবস্থানের নির্দেশ দেন। উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতকালেই সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।মুআবিয়া (রাঃ) একবার পরীক্ষামূলকভাবে আবু যার (রাঃ)-এর কাছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করেন। সন্ধ্যার পূর্বেই তিনি সমস্তই এদিক ওদিক আল্লাহর পথে খরচ করে দেন। সকালে যে লোকটি তার কাছে স্বর্ণমুদ্রাগুলো পৌছিয়ে দিয়েছিলেন, সন্ধ্যাতেই তিনি তার কাছে গমন করেন এবং বলেনঃ “আমার ভুল হয়ে গেছে। আমীরে মুআবিয়া (রাঃ) স্বর্ণমুদ্রাগুলো অন্য লোককে দেয়ার জন্যে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমি ভুলক্রমে আপনাকে দিয়ে ফেলেছি। সুতরাং ওগুলো ফিরিয়ে দিন।” তখন আবু যার (রাঃ) বলেনঃ “আপনার জন্যে আমার দুঃখ হচ্ছে! এখন তো আমার কাছে ওগুলোর এক পাইও অবশিষ্ট নেই! আচ্ছা, যখন আমার মাল আসবে তখন আমি আপনাকে আপনার স্বর্ণমুদ্রাগুলো ফিরিয়ে দেবো।” সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এ আয়াত আহলে কিবলার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।আহনাফ ইবনে কায়েস (রঃ) বলেনঃ “একবার আমি মদীনা শরীফে গিয়ে দেখি যে, কুরায়েশদের একটি দল মজলিস করে বসে রয়েছে। আমিও ঐ মজলিসে গিয়ে বসে পড়ি। এমন সময় ময়লা ও মোটাসোটা কাপড় পরিহিত একটি লোক অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় এসে দাড়িয়ে যান এবং বলেনঃ “টাকা-পয়সা জমাকারীরা যেন সতর্ক হয় যায় যে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের অঙ্গার তাদের বক্ষস্থলে রাখা হবে যা কাঁধের হাড় পার হয়ে যাবে। তারপর পিছন দিক থেকে সামনের দিকে ছিদ্র করতে করতে এবং জ্বালাতে জ্বালাতে বের হয়ে যাবে।' একথা শুনে সমস্ত লোক মাথা নীচু করে বসে থাকলো, কেউ কোন কথা বললো না। ঐ লোকটি কথাগুলো বলে ফিরে চলে গেলেন এবং একটি স্তম্ভের সাথে পিঠ লাগিয়ে বসে পড়লেন। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, এ লোকগুলোর কাছে আপনার কথাগুলো খারাপ লেগেছে। তিনি বললেনঃ এরা কিছুই জানে না।'একটি সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আবু যার (রাঃ)-কে বলেনঃ “আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড়ের সমানও সোনা থাকে তবুও আমি এটা পছন্দ করি না যে, তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ওগুলোর কিছু আমার কাছে অবশিষ্ট থেকে যাবে। হ্যাঁ, তবে যদি ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে দু' একটা দীনার রেখে দেই সেটা অন্য কথা।” খুব সম্ভব এই হাদীসই আবু যার (রাঃ)-কে উপরোক্ত উক্তি করতে উত্তেজিত করেছিলে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।আবদুল্লাহ ইবনে সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার তিনি আবূ যার (রাঃ) -এর সাথে ছিলেন। আবু যার (রাঃ) তাঁর অংশ প্রাপ্ত হন। তাঁর দাসী তখনই প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে শুরু করে। ওগুলো ক্রয়ের পর সাতটি (মুদ্রা) বেঁচে যায়। তখন তিনি দাসীকে হুকুম করেন যে, সে যেন ওগুলোর বিনিময়ে তাম্র মুদ্রা নিয়ে নেয়। আবদুল্লাহ ইবনে সামিত (রাঃ) তখন তাঁকে বলেনঃ “ওগুলো আপনার কাছে রেখে দিন, তাহলে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগবে কিংবা কোন অতিথি আসলে তার সেবা করা যাবে।” একথা শুনে আবু যার (রাঃ) তাঁকে বলেনঃ “না, আমার দোস্ত মুহাম্মাদ (সঃ) আমার নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, যে সোনা ও রূপা জমা করে রাখা হবে তা জমাকারীর জন্যে আগুনের অঙ্গার হবে যে পর্যন্ত না সে তা আল্লাহর পথে খরচ করে দেয়। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাঈদ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “দরিদ্র হয়ে আল্লাহর সাথে মিলিত হও, ধনী হয়ে নয়।” তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা কিরূপে হবে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “ভিক্ষুককে ফিরিয়ে দিয়ো না এবং যা পাবে তা গোপন করো না।” তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা আমার দ্বারা কিরূপে হতে পারে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) জবাব দেনঃ “এটাই হতে হবে, নচেৎ জাহান্নামে যেতে হবে।” এর সনদ দুর্বল।মুসনাদে আহমাদে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আহলে সুফফার মধ্যকার একটি লোক মারা যান এবং তিনি দু’টি দীনার বা দিরহাম ছেড়ে যান। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এ দুটি হলো জাহান্নামের দুটি দাগ। তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার নামায পড়ে নাও।" অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, আহলে সুফফার একটি লোক মারা গেলে তাঁর লুঙ্গির গাঁট হতে একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) বেরিয়ে পড়ে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এটা আগুনের একটি দাগ।" অতঃপর আর একটি লোক মারা যান এবং তাঁর নিকট থেকে দু'টি দীনার বের হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এ দু'টি হলো আগুনের দু'টি দাগ।”ইবনে আবি হাতিম (রঃ) সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি লাল ও সাদা অর্থাৎ সোনা ও রূপা ছেড়ে মারা যাবে, ওগুলোর এক একটি কীরাতের (এক কীরাত হলো এক আউন্সের চব্বিশ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ ওজন) বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা আগুনের এক একটি তক্তা তৈরী করবেন এবং তা দ্বারা তার পা থেকে তুথনি পর্যন্ত (সারা দেহে) দাগ দেয়া হবে।”হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি দীনারের উপর দীনার এবং দিরহামের উপর দিরহাম মিলিয়ে জমা করে রাখবে (ও তা ছেড়ে মারা যাবে), তার (দেহের) চামড়া প্রশস্ত করে কপালে, পার্শ্বদেশে এবং পৃষ্ঠদেশে ওগুলো দ্বারা দাগ দেয়া হবে এবং তাকে বলা হবেঃ “এটা হচ্ছে ঐ জিনিস যা তুমি নিজের জীবনের জন্যে জমা করে রেখেছিলে। এখন তার স্বাদ গ্রহণ কর।” (এর বর্ণনাকারী সায়েফ চরম মিথ্যাবাদী ও পরিত্যক্ত)

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Read, Listen, Search, and Reflect on the Quran

Quran.com is a trusted platform used by millions worldwide to read, search, listen to, and reflect on the Quran in multiple languages. It provides translations, tafsir, recitations, word-by-word translation, and tools for deeper study, making the Quran accessible to everyone.

As a Sadaqah Jariyah, Quran.com is dedicated to helping people connect deeply with the Quran. Supported by Quran.Foundation, a 501(c)(3) non-profit organization, Quran.com continues to grow as a free and valuable resource for all, Alhamdulillah.

Navigate
Home
Quran Radio
Reciters
About Us
Developers
Product Updates
Feedback
Help
Our Projects
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Non-profit projects owned, managed, or sponsored by Quran.Foundation
Popular Links

Ayatul Kursi

Yaseen

Al Mulk

Ar-Rahman

Al Waqi'ah

Al Kahf

Al Muzzammil

SitemapPrivacyTerms and Conditions
© 2026 Quran.com. All Rights Reserved