تسجيل الدخول
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
تسجيل الدخول
تسجيل الدخول
١٠:٢
في قلوبهم مرض فزادهم الله مرضا ولهم عذاب اليم بما كانوا يكذبون ١٠
فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضًۭا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۢ بِمَا كَانُوا۟ يَكْذِبُونَ ١٠
فِي
قُلُوبِهِم
مَّرَضٞ
فَزَادَهُمُ
ٱللَّهُ
مَرَضٗاۖ
وَلَهُمۡ
عَذَابٌ
أَلِيمُۢ
بِمَا
كَانُواْ
يَكۡذِبُونَ
١٠
تفاسير
فوائد
تدبرات
الإجابات
قراءات

পীড়ার অর্থ এখানে সংশয় ও সন্দেহ। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং অন্যান্য কয়েকজন সাহাবী (রাঃ) হতে এটাই বর্ণিত আছে। হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত ইকরামা (রাঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ), হযরত আবুল আলিয়া (রঃ), হযরত রাবী' বিন আনাস (রঃ) এবং হযরত কাতাদারও (রঃ) এটাই মত। হযরত ইকরামা (রঃ) এবং হযরত তাউস (রঃ) এর তাফসীর করেছেন রিয়া বা কৃত্রিমতা এবং হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে এর তাফসীর ‘নিফাক' বা কপটতাও বর্ণিত হয়েছে। হযরত যায়েদ বিন আসলাম (রঃ) বলেন যে, এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে ধর্মীয় রোগ, শারীরিক রোগ নয়। ইসলাম সম্পর্কে তাদের সংশয় ও সন্দেহজনিত একটা বিশেষ রোগ ছিল, আল্লাহ তাদের সেই রোগ বাড়িয়ে দিলেন। যেমন কুরআন মাজীদে আছেঃ ‘ঈমানদারদের ঈমান আরও বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় এবং তারা এতে আরও আনন্দ উপভোগ করে; আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তাদের এই অশ্লীলতা ও অপবিত্রতা আরও বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ তাদের পাপ ও গুমরাহী আরও বেড়ে যায় এবং এই প্রতিদান তাদের কাজের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপুর্ণ।এই তাফসীরই উত্তম। এই ফরমানও ঠিক এরই মতঃ (আল্লাহ) হিদায়াত প্রাপ্তদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদেরকে পরহেযগারী দান করেন। কারীগণ ইয়াকযেবুনকে ইউকায়েবুনাও পড়েছেন। মুনাফিকদের মধ্যে এই বদ অভ্যাস ছিল যে, তারা মিথ্যা কথাও বলতো এবং অবিশ্বাসও করতো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুনাফিকদেরকে চেনা সত্ত্বেও তাদেরকে হত্যা করেননি। এর কারণ এই যে, সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত উমারকে (রাঃ) বলেনঃ মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর সঙ্গীগণকে হত্যা করে থাকেন এ চর্চা হওয়াটা আমি আদৌ পছন্দ করি না।' ভাবার্থ এই যে, কপটদেরকে তাদের অন্তরের কুফরীর জন্যে যে হত্যা করা হয়েছে, আশে পাশের মরুচারী বেদুঈনদের এটা জানা থাকবে না। তাদের দৃষ্টি তো শুধু বাহ্যিকের উপরই থাকবে। সুতরাং যখন তাদের মধ্যে এ সংবাদ প্রচারিত হবে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিজের সঙ্গীগণকে হত্যা করেছেন তখন তারা হয়তো ভয়ে ইসলাম গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। কুরতুবী (রঃ) বলেনঃ “আমাদের আলেমদেরও এটাই মত। ঠিক এরূপভাবেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুআল্লাফাতে কুবকে (অর্থাৎ যাদের মন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হতো) মালধন দান করতেন, যদিও তিনি তাদের খারাপ আকীদা সম্পর্কে অবহিত থাকতেন।হযরত ইমাম মালিকও (রঃ) মুনাফিকদের হত্যা না করার কারণ এটাই বর্ণনা করেছেন। যেমন মুহাম্মদ বিন জাহাম (রঃ), কাযী ইসমাঈল (রঃ) এবং আবহারী (রঃ) নকল করেছেন। হযরত ইবনে মাজেশনের (রঃ) কথায় একটি কারণ এও নকল করা হয়েছেঃ নবী (সঃ)-এর উম্মত যেন জানতে পারে যে, বিচারক নিজের অবগতির উপর ফায়সালা করতে পারেন না, মুনাফিকদেরকে হত্যা না করার এটাও ছিল অন্যতম কারণ। অন্যান্য ধর্মীয় নীতির ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও এ বিষয়ে সবাই একমত যে, বিচারক শুধু নিজের অবগতির উপর ভিত্তি করে কাউকে হত্যা করতে পারেন না। হযরত ইমাম শাফিঈ (রঃ) আরও একটি কারণ বর্ণনা করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেনঃ মুনাফিকরা নিজেদের ঈমানের কথা মুখে প্রকাশ করতো বলেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে হত্যা করা হতে বিরত ছিলেন, যদিও তিনি জানতেন যে, তাদের অন্তর এর বিপরীত, কিন্তু এ প্রকাশ্য কথাই হত্যা করার সিদ্ধান্তকে দূরে সরিয়ে রাখতো।' একথার সমর্থনে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ইত্যাদির বিশুদ্ধ হাদীসও পেশ করা যেতে পারে।একটি হাদীসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। করার জন্যে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে। যখন তারা এটা বলে দেবে তখন তারা তাদের জান ও মাল আমার কাছ থেকে বাঁচিয়ে নেবে এবং তাদের হিসাব মহাসম্মানিত আল্লাহর উপর ন্যস্ত থাকবে।' উদ্দেশ্য এই যে, এ কালেমা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর ইসলামের প্রকাশ্য নির্দেশাবলী চালু হয়ে যাবে। এখন যদি তাদের আন্তরিক বিশ্বাসও এর অনুরূপ হয় তবে তো এটা আখেরাতে তাদের মুক্তির কারণ হবে, নতুবা এটা সেখানে কোনই উপকারে আসবে না। কিন্তু দুনিয়ার বুকে তাদের উপর অন্যান্য মুসলমানদের আইন চালু থাকবে। এসব লোকের নাম ধাম এখানে যদিও মুসলমানদের নামের তালিকার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু আখেরাতে ঠিক পুলসিরাতের উপর মুসলমানদের মধ্য হতে তাদেরকে দূরে পৃথক করে দেয়া হবে। তখন তার অন্ধকারে বিচলিত হয়ে উচ্চশব্দে মুলমানদেরকে ডাক দিয়ে বলবেঃ ‘আমরা কি তোমাদেরই সঙ্গে একত্রে ছিলাম না? উত্তর আসবেঃ ‘ছিলে বটে, কিন্তু তোমরা কপটতার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলে এবং অপেক্ষমান ও সন্দিহান থেকে প্রবৃত্তির ফাদে জড়িয়ে পড়েছিলে, ঠিক এমতাবস্থায় আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে। মোট কথা, পরকালেও মুনাফিকরা মুসলমানদের পিছনে থেকে তাদেরকে জড়িয়ে থাকতে সচেষ্ট হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরকে আলাদা করে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে। তাদের মধ্যে ও তাদের আশা আকাংখার মধ্যে বাধার বিন্ধ্যাচল সৃষ্টি হয়ে যাবে, তারা মুসলমানদের সঙ্গে সিজদায় পড়ে যাবে, কিন্তু সিজদা করতে সক্ষম হবে না। যেমন এটা হাদীসসমূহে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বিশ্লেষণকারীর মতে তাদেরকে হত্যা না করার কারণ ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহর (সঃ) বিদ্যমানতায় তাদের দুষ্টুমি মারাত্মক ধরনের কোন ক্ষতির কারণ ছিল না। কেননা, মহান আল্লাহ ওয়াহীর দ্বারা মুসলমানদেরকে তাদের দুষ্টুমি হতে রক্ষা করতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহর (সঃ) পরে আল্লাহ না করুন, যদি এরূপ লোক থাকে যাদের কপটতা প্রকাশ পেয়ে যায় এবং মুসলমানেরা ভালভাবে জানতে পারে তবে তাদেরকে হত্যা করে দেয়া উচিত হবে। ইমাম মালিকের (রঃ) মতে নিফাক ছিল রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সোনালী যুগে। কিন্তু আজকাল আছে ‘যিনদাকাহ বা ধর্মহীনতা এবং আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসহীনতা। যিন্দীক' বা আল্লাহর একত্ববাদে অবিশ্বাসীদের সম্বন্ধে আলেমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে, তাদের কুফরী প্রকাশ পেলে তাদেরকে হত্যা করার কথা বলা হবে কি না? আর যে যিন্দীকরা অন্য মানুষকে তার শিক্ষা দিয়ে থাকে এবং যারা শিক্ষা দেয় না তাদের মধ্যে কোন পার্থক্যের সীমারেখা টানতে হবে কি এই কুফরী কয়েকবার প্রকাশ পেলেও কি এই নির্দেশ কিংবা একবার হলেও কি এই নির্দেশ? আবার এ ব্যাপারেও মতভেদ আছে যে, এই ইসলাম গ্রহণ বা এই কুফরী হতে প্রত্যাবর্তন স্বয়ং তাদের পক্ষ থেকে হলে বা তাদের উপর বিজয় লাভের পর হলে কি এ নির্দেশই থাকবে? মোট কথা এসব বিষয়ে মতভেদ আছে। কিন্তু ঐগুলো বর্ণনার জায়গা হচ্ছে আহকামের কিতাবসমূহ, তাফসীর নয়। সুতরাং আমরাও তা আর বর্ণনা করতে চাইনে।চৌদ্দজন প্রধান ও কুখ্যাত লোকের নিফাক' রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিশ্চিত রূপেই জানতেন। এসব কলুষিত লোক তারাই ছিল যারা তাবুকের যুদ্ধে পরস্পরের সুপরিকল্পিত পরামর্শক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঙ্গে প্রতারণা করবেই। তারা তাকে হত্যা করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এটেছিল যে, রাতের দুর্ভেদ্য অন্ধকারে যখন তিনি অমুক ঘাটির নিকটবর্তী হবেন তখন তাঁর উষ্ট্রিকে তারা তাড়া করবে। এর ফলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঘাঁটির মধ্যে পড়ে যাবেন। আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় নবীকে (সঃ) তাঁর ওয়াহীর মাধ্যমে এই মারাত্মক জঘন্য কপটতার কথা জানিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হুজাইফাকে (রাঃ) ডেকে এ ঘটনার সংবাদ দেন, এমন কি এক এক করে ঐ কপটদের নাম পর্যন্তও তিনি বলে দেন। তথাপি তিনি উপরোক্ত কারণে তাদেরকে হত্যা করার নির্দেশ জারী করলেন না। এরা ছাড়া অন্যান্য মুনাফিকদের নাম তার জানা ছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তোমাদের আশে পাশের কতকগুলো বেদুঈন হচ্ছে মুনাফিক এবং কতক (দুষ্ট প্রকৃতির মুনাফিক) মদীনাতেও আছে, তোমরা তাদেরকে জান না, কিন্তু আমি তাদেরকে জানি।' (৯:১০১) অন্য এক জায়গায় তিনি বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ এই নাপাক অন্তর বিশিষ্ট বিবাদী ও অহংকারী মুনাফিকরা যদি তাদের দুষ্টুমি থেকে বিরত না হয় তবে আমিও তাদের ছেড়ে দেবো না এবং তারা মদীনার মাটিতে আশে পাশে খুব কমই অবশিষ্ট থাকবে। তাদের উপর অভিশাপ দেওয়া হবে, যেখানেই পাওয়া যাবে তাদেরকে মারা ও ধরা হবে এবং টুকরো টুকরো করে দেয়া হবে।' (৩৩:৬০-৬১) এই আয়াতগুলো থেকে জানা গেল যে, ঐ মুনাফিকরা কে কে ছিল, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তা জানতেন না। তবে তাদের নিন্দনীয় স্বভাবের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছিল তা যাদের মধ্যে পাওয়া যেতো, তাদের উপর নিফাক প্রযোজ্য হতো। যেমন এক জায়গায় আল্লাহ পাক স্পষ্টভাবেই বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ আমি যদি ইচ্ছে করি তবে তোমাকে আমি তাদেরকে দেখিয়ে দিতে পারি, কিন্তু তুমি নিশান ও কথাবার্তার মধ্যেই তাদেরকে চিনে নেবে।' (৪৭:৩০)এই কপটাচারী মুনাফিকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিল আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সাল। হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ) তার কপটতাপূর্ণ স্বভাব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে সাক্ষ্য দানও করেছিলেন, যা ইতিপূর্বে। মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে বিবৃত হয়েছে। এ সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই যখন সে মারা যাচ্ছে তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার জানাযার নামায পড়েছেন। এবং অন্যান্য মুসলমান সাহাবীদের (রাঃ) মত তারও দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করেছেন। এমন কি হযরত উসমান (রাঃ) যখন একটু জোর দিয়ে তার কপটতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, তখন তিনি বলছেনঃ আরবের লোক সমালোচনা করবে যে, মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর সহচরগণকে হত্যা করে থাকেন, এ আমি চাই না।'সহীহ হাদীসের বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বা না করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমি ক্ষমা প্রার্থনা করাকেই পছন্দ করেছি। অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি যদি জানতাম যে সত্তর বারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে মার্জনা করা হবে, তবে আমি অবশ্যই তার অধিকই করতাম।

Notes placeholders
اقرأ واستمع وابحث وتدبر في القرآن الكريم

Quran.com منصة موثوقة يستخدمها ملايين الأشخاص حول العالم لقراءة القرآن الكريم والبحث فيه والاستماع إليه والتدبر فيه بعدة لغات. كما يوفر الموقع ترجمات وتفسيرات وتلاوات وترجمة كلمة بكلمة وأدوات للدراسة العميقة، مما يجعل القرآن الكريم في متناول الجميع.

كصدقة جارية، يكرّس Quran.com جهوده لمساعدة الناس على التواصل العميق مع القرآن الكريم. بدعم من Quran.Foundation، وهي منظمة غير ربحية 501(c)(3)، يواصل Quran.com في التقدم و النمو كمصدر مجاني وقيم للجميع، الحمد لله.

تصفّح
الصفحة الرئيسة
راديو القرآن الكريم
القرّاء
معلومات عنا
المطورون
تحديثات المنتج
الملاحظات
مساعدة
مشاريعنا
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
المشاريع غير الربحية التي تملكها أو تديرها أو ترعاها Quran.Foundation
الروابط الأكثر شيوعًا

آية الكرسي

يس

الملك

الرّحمن

الواقعة

الكهف

المزّمّل

خريطة الموقـعالخصوصيةالشروط والأحكام
© ٢٠٢٦ Quran.com. كل الحقوق محفوظة