تسجيل الدخول
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
تسجيل الدخول
تسجيل الدخول
٣٠:٢
واذ قال ربك للملايكة اني جاعل في الارض خليفة قالوا اتجعل فيها من يفسد فيها ويسفك الدماء ونحن نسبح بحمدك ونقدس لك قال اني اعلم ما لا تعلمون ٣٠
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَـٰٓئِكَةِ إِنِّى جَاعِلٌۭ فِى ٱلْأَرْضِ خَلِيفَةًۭ ۖ قَالُوٓا۟ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّىٓ أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ٣٠
وَإِذۡ
قَالَ
رَبُّكَ
لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ
إِنِّي
جَاعِلٞ
فِي
ٱلۡأَرۡضِ
خَلِيفَةٗۖ
قَالُوٓاْ
أَتَجۡعَلُ
فِيهَا
مَن
يُفۡسِدُ
فِيهَا
وَيَسۡفِكُ
ٱلدِّمَآءَ
وَنَحۡنُ
نُسَبِّحُ
بِحَمۡدِكَ
وَنُقَدِّسُ
لَكَۖ
قَالَ
إِنِّيٓ
أَعۡلَمُ
مَا
لَا
تَعۡلَمُونَ
٣٠
تفاسير
فوائد
تدبرات
الإجابات
قراءات

মহান আল্লাহর এই অনুগ্রহের কথা চিন্তা করলে বুঝা যাবে যে, জিন হযরত আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করার পূর্বে ফেরেশতাদের মধ্যে ওর আলোচনা করেন, যার বর্ণনা এ আয়াতের মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ যেন নবী (সঃ) কে সম্বোধন করে বলছেন যে, হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি মানব সৃষ্টির ঘটনাটি স্মরণ কর এবং তোমার উম্মতকে জানিয়ে দাও। আবূ উবাইদাহ (রঃ) বলেন যে, এখানে শব্দটি (আরবি) বা (আরবি)অতিরিক্ত। কিন্তু ইবনে জারীর (রঃ) এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণ এটা অগ্রাহ্য করেন।খিলাফতের মূল তত্ত্বঃ(আরবি) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে পরস্পর স্থলাভিষিক্ত হওয়া। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ পাক বলেছেনঃ “তিনি এমন যিনি তোমাদেরকে যমীনের খলীফা বানিয়েছেন।” অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছেঃ যদি আমি চাইতাম তবে এ যমীনে ফেরেশতাগণকে তোমাদের খলীফা বানিয়ে দিতাম। আর এক জায়গায় আল্লাহ বলেছেনঃ তাদের পরে তাদের খলীফা অর্থাৎ স্থলাভিষিক্ত খারাপ লোকেরা হয়েছে। একটি অপ্রচলিত পঠনে (আরবি) খালায়ফাহ্ও পড়া হয়েছে। কোন কোন মুফাসৃসির বলেন যে, খলীফা শব্দ দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আদম (আঃ) কে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু এটা বিবেচ্য বিষয়। তাফসীর-ই-রাযী প্রতি কিতাবের মধ্যে এই মতভেদ বর্ণনা করা হয়েছে। বাহ্যতঃ জানা যাচ্ছে যে, ভাবার্থ এটা নয়। এর প্রমাণ তো ফেরেশতাদের নিম্নের উক্তিটিঃ “তারা জমীনে ফাসাদ করবে ও রক্তারক্তি করবে। এটা স্পষ্ট কথা যে, তারা এটা হযরত আদম (আঃ)-এর সন্তানদের সম্পর্কে বলেছিলেন-খাস করে তার সম্পর্কে নয়।ফেরেশতারা এটা কি করে জেনেছিলেন, সেটা অন্য কথা। হয়তো মানব প্রকৃতির চাহিদা লক্ষ্য করেই তারা এটা বলেছিলেন। কেননা, এটা বলে দেয়া হয়েছিল যে, তাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা হবে। কিংবা হয়তো খলীফা শব্দের ভাবার্থ জেনেই তারা এটা বুঝেছিলেন যে, মানুষ হবে ন্যায় অন্যায়ের ফায়সালাকারী, অনাচারকে প্রতিহতকারী। এবং অবৈধ ও পাপের কাজে বাধাদানকারী। অথবা তারা জমীনের প্রথম সৃষ্টজীবকে দেখেছিলেন বলেই মানুষকেও তাদের মাপকাঠিতে ফেলেছিলেন। এটা মনে রাখা দরকার যে, ফেরেশতাদের এই আর্য প্রতিবাদমূলক ছিল না বা তারা যে এটা বানী আদমের প্রতি হিংসার বশবর্তী হয়ে বলেছিলেন তাও নয়। ফেরেশতাদের মর্যাদা সম্পর্কে কুরআনে ঘোষণা হচ্ছেঃ “যে কথা বলার তাদের অনুমতি নেই, তাতে তারা মুখ খুলে না।” (এটাও স্পষ্ট কথা যে, ফেরেশতাদের স্বভাব হিংসা হতে পবিত্র) বরং সঠিক ভাবার্থ এই যে তাদের এ প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র এর হিকমত জানবার ও এর রহস্য প্রকাশ করবার, যা তাদের বোধশক্তির উর্ধে ছিল। আল্লাহ তে জানতেনই যে, এ শ্রেষ্ঠ জীব বিবাদ ও ঝগড়াটে হবে। কাজেই ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করলেনঃ “এ-রকম মাখলুক সৃষ্টি করার মধ্যে বিশ্বপ্রভুর কি নিপূর্ণতা রয়েছে। যদি ইবাদতেরই উদ্দেশ্যে হয়, তবে ইবাদত তো আমরাই করছি। আমাদের মুখেই তো সদা তার তাসবীহ ও প্রশংসাগীত উচ্চারিত হচ্ছে এবং আমরা ঝগড়া বিবাদ ইত্যাদি হতেও পবিত্র। তথাপি এরূপ বিবাদী মাখলুক সৃষ্টি করার মধ্যে কি যৌক্তিকতা রয়েছে?" মহান আল্লাহ তাঁদের এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন যে, তারা দুনিয়ায় ঝগড়া-বিবাদ, কাটাকাটি, মারামারি ইত্যাদি করবে এই জ্ঞান তার আছে। তথাপি তাদেরকে সৃষ্টি করার মধ্যে যে নিপূণতা ও দূরদর্শিতা রয়েছে তা একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি জানেন যে, তাদের মধ্যে নবী রাসূল; সত্যবাদী, শহীদ, সত্যের উপাসক, ওয়ালী, সৎ, আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী, আলেম, খোদাভীরু, প্রভৃতি মহা-মানবদের জন্ম লাভ ঘটবে, যারা তাঁর নির্দেশাবলী যথারীতি মান্য করবে এবং তারা তাঁর বার্তাবাহকদের ডাকে সাড়া দেবে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে আছে যে, দিনের ফেরেশতাগণ সুবহে সাদেকের সময় আসেন এবং আসরের সময় চলে যান। সে সময় রাতের ফেরেশতাগণ আগমন করেন, তারা আবার সকালে চলে যান। আগমনকারীগণ যখন আগমন করেন তখন অন্যেরা চলে যান। কাজেই তারা ফজর ও আসরে জনগণকে পেয়ে থাকেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তার প্রশ্নের উত্তরে দুই দলই একথা বলেনঃ “আমরা যাবার সময় আপনার বান্দাদেরকে নামাযে পেয়ে ছিলাম এবং আসার সময়ও তাদেরকে নামাযে ছেড়ে এসেছি।”এটাই হলো মানব সৃষ্টির যৌক্তিকতা যার সম্বন্ধে মহান আল্লাহ ফেরেশতাগণকে বলেছিলেনঃ “নিশ্চয় আমি জানি যার তোমরা জাননা।” ঐ ফেরেস্তাগণকে তা দেখবার জন্যও পাঠান হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দিনের আমলগুলো রাত্রির পূর্বে এবং রাত্রির আমলগুলো দিবসের পূর্বে আল্লাহর নিকট উঠে যায়।” মোটকথা মানব সৃষ্টির মধ্যে যে ব্যাপক দুরদর্শিতা নিহিত ছিল সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন যে, এটা তাদের আমরাই আপনার তাসবীহ পাঠ করি’ একথার উত্তরে বলা হয়েছে যে, আল্লাহই সব জানেন অর্থাৎ ফেরেশতারা নিজেদের দলের সবকে সমান মনে করে থাকে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা নয়। কেননা, তাদের মধ্যে ইবলিসও একজন। তৃতীয় মত এই যে, ফেরেশতাদের এটা বলার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের পরিবর্তে তাদেরকেই যেন ভু-পৃষ্ঠে বাস করতে দেয়া হয়। এর উত্তরেই আল্লাহ পাক বলেন যে, আকাশই তাদের বসবাসের উপযুক্ত স্থান, এটা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন।হাসান (রঃ), কাতাদাহ (রঃ) প্রভৃতি মনীষীগণ বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাগণকে সংবাদ দিয়েছিলেন। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, পরামর্শ নিয়েছিলেন। কিন্তু এর অর্থও সংবাদ দেয়া হতে পারে, তা না হলে একথাটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন মক্কা হতে যমীন ছড়ানো ও বিছানো হয় তখন সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করেন ফেরেশতাগণ। তখন আল্লাহ বলেনঃ “ আমি যমীনে খলীফা বানাবো অর্থাৎ মক্কায়।” এর হাদীসটি মুরসাল; আবার এতে দুর্বলতা এবং এতে ‘মুদরজও রয়েছে, অর্থাৎ যমীনের ভাবার্থ মক্কা' নেয়া এটা বর্ণনাকারীর নিজস্ব ধারণা। বাহ্যতঃ জানা যাচ্ছে যে, যমীন' থেকে ভাবার্থ হচ্ছে সাধারণ। এর দ্বারা সমস্ত যমীনকেই বুঝানো হয়েছে। ফেরেশতাগণ এটা শুনে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, ঐ খলীফা দিয়ে কি কাজ হবে? উত্তরে বলা হয়েছিল যে, তার সন্তানদের মধ্যে এমন লোকও হবে যারা ভূ-পৃষ্ঠে ঝগড়া বিবাদ, কাটাকাটি মারামারি করবে এবং একে অপরের প্রতি হিংসা করবে। তাদের মধ্যে ওরা সুবিচার করবে এবং আমার আহকাম তাদের মধ্যে চালু করবে।এটা হতে ভাবার্থ হচ্ছে হযরত আদম (আঃ) এবং আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে ও সৃষ্টজীবের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে তাঁর স্থলবর্তীগণ, কিন্তু বিবাদীরা ও খুনাখুনিকারীরা খলীফা নয়। এখানে খিলাফতের ভাবার্থ হচ্ছে এক যুগীয় লোকের পরে অন্য যুগীয় লোকের আগমন (আরবি) শব্দটি (আরবি) শব্দের ওজনে এসেছে। যখন একের পরে অন্যজন তার স্থলবর্তী হয় তখন আরবেরা বলে থাকেঃ (আরবি) অর্থাৎ অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তির খলীফা হয়েছে। যেমন কুরআন মাজীদে রয়েছেঃ “আমি তাদের পরে তোমাদেরকে খলীফা করে তোমরা কিরূপ আমল কর তা দেখতে চাই।”এজন্যেই বড় সম্রাটকে খলীফা বলা হয়। কেননা তিনি পূর্ববর্তী বাদশাহুদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকেন। মুহাম্মদ বিন ইসহাক (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হলো যমীনে অবস্থানকারী, একে আবাদকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, পূর্বে ভূ-পৃষ্ঠে জ্বিনেরা বাস করতো। তারা কাটাকাটি, মারামারি ও লুটতরাজ করতো। অতঃপর ইবলিসকে পাঠান হলে সে ও তার সঙ্গীরা তাদেরকে মেরে ধরে দ্বীপে ও পাহাড়ে তাড়িয়ে দেয়। অতঃপর হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে যমীনে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি যমীনে বসতি স্থাপন করেন। কাজেই তিনি যেন তাঁর পূর্ববর্তীদের খলীফা বা স্থলবর্তী হলেন। সুতরাং মহান আল্লাহ যখন ফেরেশতাগণকে বলেনঃ “আমি যমীনে বসবাসকারী মাখলক সৃষ্টি করতে চাই।” এর উত্তরে ফেরেশতাগণ যা বলেছিলেন তার দ্বারা তারা আদম (আঃ)-এর সন্তানাদিকেই বুঝাতে চেয়েছিলেন।সে সময় শুধু যমীন ছিল, কোন বসতি ছিল না। কোন কোন সাহাবী (রাঃ) হতে এটাই বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাগণকে বনী আদমের কার্যাবলী সম্বন্ধে পূর্বেই অবহিত করেছিলেন বলেই তারা এ প্রশ্ন করেছিলেন। আবার এও বর্ণিত আছে যে, জ্বিনদের ফাসাদের উপর অনুমান করেই তারা বানী আদমের ফাসাদের কথা বলেছিলেন।হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এর দু'হাজার বছর পূর্ব হতে জ্বিনেরা যমীনে বসবাস করতো। হযরত আবুল আলিয়া (রঃ) বলেন যে, ফেরেশতাদেরকে বুধবারে, জ্বিনদেরকে বৃস্পতিবারে এবং হযরত আদম (আঃ) কে শুক্রবারে সৃষ্টি করা হয়েছে। হযরত হাসান (রঃ) ও হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, ফেরেশতাদেরকে বানী আদমের কার্যাবলী সম্বন্ধে পূর্বেই জানান হয়েছিল বলে তারা প্রশ্ন করেছিলেন। আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী (রঃ) বলেন যে, সাজল’ নামক একজন ফেরেশতা আছেন। হারুত ও মারূত ছিলেন তাঁর সঙ্গী। দৈনিক তিনবার লাওহে মাহফুজের প্রতি দৃষ্টিপাত করার অনুমতি সাজলকে দেয়া হয়েছিল। একদা তিনি হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি প্রভৃতি বিষয়ক কার্যাবলী অবলোকন করতঃ তাঁর সঙ্গীদ্বয়কে গোপনে বলে দেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলে এঁরা দুজন এ প্রশ্ন করেন। কিন্তু বর্ণনাটি গরীব এবং গ্রহণের অযোগ্য। তারা দু’জন প্রশ্ন করেছিলেন, একথা কুরআন মাজীদের বাকরীতির উল্টো।এও বর্ণিত আছে যে, এ প্রশ্নকারী ফেরেশতারা ছিলেন দশ হাজার। তাঁদের সবাইকেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। এটাও ইসরাঈলী বর্ণনা এবং খুবই গরীব বা দুর্বল। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, তাদেরকে এ প্রশ্ন করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল এবং এও জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, এই মাখলূক অবাধ্য হবে। তখন তারা বিস্মিতভাবে মানুষ সৃষ্টির যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানবার জন্যে প্রশ্ন করেছিলেন মাত্র। তারা কোন পরামর্শও দেননি অস্বীকারও করেননি বা কোন প্রতিবাদও করেননি। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যখন হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টিকার্য আরম্ভ হয় তখন ফেরেশতাগণ বলেছিলেনঃ “আমাদের অপেক্ষা বেশী মর্যাদা সম্পন্ন ও বিদ্বান মাখলুক সৃষ্ট হওয়া অসম্ভব।" এর কারণে তাদের উপর আল্লাহর পরীক্ষা এসে যায় এবং কোন সৃষ্টজীবই পরীক্ষা হতে নিস্তার পায়নি। যমীন ও আসমানের উপরেও পরীক্ষা এসেছিল এবং ওরা অবনত মস্তকে ও সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করেছিল।ফেরেশতাদের তাসবীহ ও তাকদীসের অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা, নামায পড়া, বেয়াদবী হতে বেঁচে থাকা, তার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা এবং তার অবাধ্য না হওয়া। (আরবি)-এর অর্থ হচ্ছে পবিত্রতা। পবিত্র ভূমিকে (আরবি) বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞাসিত হচ্ছেনঃ “কোন কালামটি সর্বোত্তম?” উত্তরে তিনি বলছেনঃ “ওটা হচ্ছে ঐ কালামটি যা মহান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের জন্যে পছন্দ করেছেন। ঐ কালামটি হচ্ছেঃ (আরবি) (সহীহ মুসলিম)।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) মিরাজের রাত্রে আকাশে ফেরেশতাদের এই তাসবীহ শুনেছিলেনঃ (আরবি)ইমাম কুরতবী (রঃ) প্রভৃতি মনীষীগণ এই আয়াত হতে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, খলীফা নির্ধারণ করা ওয়াজিব। তিনি মতবিরোধের মীমাংসা করবেন, ঝগড়া বিবাদ মিটিয়ে দেবেন, অত্যচারী হতে অত্যাচারিত ব্যক্তির প্রতিশোধ নেবেন, ‘হুদুদ কায়েম করবেন,,অন্যায় ও পাপের কাজ হতে জনগণকে বিরত রাখবেন ইত্যাদি বড় বড় কাজগুলো যার সমাধান ইমাম ছাড়া হতে পারে না। এসব কাজ ওয়াজিব এবং এগুলো ইমাম ছাড়া পুরো হতে পারে, আর যা ছাড়া কোন ওয়াজিব পুরো হয় না ওটাও ওয়াজিব। সুতরাং খলীফা নির্ধারণ করা ওয়াজিব সাব্যস্ত হলো। ইমামতি হয়তো বা কুরআন ও হাদীসের স্পষ্ট শব্দের দ্বারা লাভ করা যাবে। যেমন আহলে সুন্নাতের একটি জামা'আতের হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) সম্পর্কে ধারণা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) খিলাফতের জন্যে তার নাম নিয়েছিলেন। কিংবা কুরআন ও হাদীসে ওঁর দিকে ইঙ্গিত আছে। যেমন আহলে সুন্নাতেরই অপর একটি দলের প্রথম খলীফার ব্যাপারে ধারণা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইঙ্গিতে খিলাফতের জন্যে তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন। অথবা হয়তো একজন খলীফা তার পরবর্তী খলীফার নাম বলে যাবেন। যেমন হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ) কে তাঁর স্থলবর্তী করে গিয়েছিলেন। কিংবা তিনি হয়তো সৎলোকদের একটি কমিটি গঠন করে খলীফা নির্বাচনের দায়িত্বভার তাঁদের উপর অর্পণ করে যাবেন যেমন হযরত উমার (রাঃ) এরূপ করেছিলেন। অথবা আহলে হিলওয়াল আ (অর্থাৎ প্রভাবশালী সেনাপতিগণ, আলেমগণ, সৎলোকগণ ইত্যাদি) একত্রিতভাবে তাঁর হাতে রাআত করবেন, তাদের কেউ কেউ বায়আত করে নিলে জমহূরের মতে তাঁকে মেনে নেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে। মক্কা ও মদীনার ইমাম তা হতে ইজমা নকল করেছেন। অথবা কেউ যদি জনগণকে জোরপূর্বক তাঁর কর্তৃত্বাধীন করে নেয় তবে হাঙ্গামা ও গোলযোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তারও আনুগত্য স্বীকার করা ওয়াজিব।ইমাম শাফিঈ (রঃ) পরিষ্কার ভাষায় এর ফায়সালা করেছেন। এ বায়আত গ্রহণের সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি ওয়াজিব কি না এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, এটা শর্ত। আবার কারও মতে শর্ত বটে, কিন্তু দু’জন সাক্ষীই যথেষ্ট। জবাঈ (রঃ) বলেন যে, বায়আত গ্রহণকারী ও যার হাতে বায়আত গ্রহণ করা হচ্ছে এ দু’জন ছাড়া চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন। যেমন হযরত উমার (রাঃ) পরামর্শ সভার জন্যে ছয়জন লোক নির্ধারণ করেছিলেন। অতঃপর তারা হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ) কে অধিকার দিয়েছিলেন এবং তিনি বাকী চারজনের উপস্থিতিতে হযরত উসমান (রাঃ)-এর হাতে বায়আত করেছিলেন। কিন্তু এটা হতে দলীল গ্রহণের ব্যাপারে সমালোচনা আছে।ইমাম হওয়ার জন্যে পুরুষ লোক হওয়া, আযাদ হওয়া, বালিগ হওয়া, বিবেক সম্পন্ন হওয়া, মুসলমান হওয়া, সুবিচারক হওয়া, ধর্মশাস্ত্রে সুপণ্ডিত হওয়া, চক্ষু বিশিষ্ট হওয়া, সুস্থ ও সঠিক অঙ্গ বিশিষ্ট হওয়া, যুদ্ধ বিদ্যায় পারদর্শী হওয়া, সাধারণ অভিমত সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়া এবং কুরায়েশী হওয়া ওয়াজিব।এটাই সঠিক মত। হাঁ, তবে হাশিমী হওয়া ও দোষমুক্ত হওয়া শর্ত নয়। গালী রাফেযী এ শর্ত দু’টি আরোপ করে থাকে। ইমাম যদি ফাসিক হয়ে যায় তবে তাকে পদচ্যুত করা উচিত কিনা এ বিষয়ে মতভেদ আছে। সঠিক মত এই যে, তাকে পদচ্যুত করা হবে না। কেননা হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে পর্যন্ত না তোমরা এমন ভোলাখুলি কুফরী লক্ষ্য কর যার কুফরী হওয়ার প্রকাশ্য দলীল আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের নিকট বিদ্যমান থাকে।” অনুরূপভাবে ইমাম নিজেই পদত্যাগ করতে পারে কিনা সে বিষয়েও মতবিরোধ রয়েছে। হযরত হাসান বিন আলী (রাঃ) নিজে নিজেই পদত্যাগ করেছিলেন এবং ইমামের দায়িত্ব হযরত মুআবিয়াকে (রাঃ) অর্পণ করেছিলেন। কিন্তু এটা ওজরের কারণে ছিল এবং যার জন্যে তার প্রশংসা করা হয়েছে। ভূ-পৃষ্ঠে একাধিক ইমাম একই সময়ে হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমাদের মধ্যে কোন কাজ সম্মিলিতভাবে হতে যাচ্ছে এমন সময় কেউ যদি বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে তবে তাকে হত্যা করে দাও, সে যে কেউই হোক না। কেন।" জমহুরের এটাই মাযহাব এবং বহু গুরুজনও এর উপর ইজমা নকল করেছেন। যাদের মধ্যে ইমামুল হারামাইনও (রঃ) একজন।কারামিয়াহদের (শীআ'হ) কথা এই যে, একই সময়ে দুই বা ততোধিক ইমাম হতে পারে। যেমন হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মুআবিয়া (রাঃ) দু’জনই আনুগত্যের যোগ্য ছিলেন। এই দলটি বলে যে, যখন একই সময়ে দুই অথবা ততোধিক নবী হওয়া জায়েয, তখন ইমামদের হওয়া জায়েয হবে না কেন? নবুওয়াতের মর্যাদা তো নিঃসন্দেহে ইমামতের মর্যাদা হতে বহু উর্ধে। কিন্তু উপরের লেখা হাদীসে জানা গেল যে, অন্যকে হত্যা করে দিতে হবে। সুতরাং সঠিক মাযহাব ওটাই যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইমামুল হারামাইন তার শিক্ষক আবু ইসহাক হতে বর্ণনা করেছেন যে, একই সময়ে দুই বা ততোধিক ইমাম নিযুক্ত করা তখনই জায়েয হয়, যখন মুসলমানদের সাম্রাজ্য খুবই প্রশস্ত হয় এবং চতুর্দিকে বিস্তার লাভ করে ও দু’জন ইমামের মধ্যে কয়েকটি দেশের ব্যবধান থাকে। ইমামুল হারামাইন এতে সন্দেহ পোষণ করেন। খুলাফায়ে বানী আব্বাস ইরাকে, খুলাফায়ে বানী ফাতিমা মিসরে এবং উমাইয়া বংশধরগণ পশ্চিমে ইমামতের কার্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আমার ধারণায় তো অবস্থা এইরূপই ছিল। ইনশাআল্লাহ এর বিস্তারিত বিবরণ কিতাবুল আহকামের কোন উপযুক্ত স্থানে দেয়া হবে।

Notes placeholders
اقرأ واستمع وابحث وتدبر في القرآن الكريم

Quran.com منصة موثوقة يستخدمها ملايين الأشخاص حول العالم لقراءة القرآن الكريم والبحث فيه والاستماع إليه والتدبر فيه بعدة لغات. كما يوفر الموقع ترجمات وتفسيرات وتلاوات وترجمة كلمة بكلمة وأدوات للدراسة العميقة، مما يجعل القرآن الكريم في متناول الجميع.

كصدقة جارية، يكرّس Quran.com جهوده لمساعدة الناس على التواصل العميق مع القرآن الكريم. بدعم من Quran.Foundation، وهي منظمة غير ربحية 501(c)(3)، يواصل Quran.com في التقدم و النمو كمصدر مجاني وقيم للجميع، الحمد لله.

تصفّح
الصفحة الرئيسة
راديو القرآن الكريم
القرّاء
معلومات عنا
المطورون
تحديثات المنتج
الملاحظات
مساعدة
مشاريعنا
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
المشاريع غير الربحية التي تملكها أو تديرها أو ترعاها Quran.Foundation
الروابط الأكثر شيوعًا

آية الكرسي

يس

الملك

الرّحمن

الواقعة

الكهف

المزّمّل

خريطة الموقـعالخصوصيةالشروط والأحكام
© ٢٠٢٦ Quran.com. كل الحقوق محفوظة