تسجيل الدخول
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
تسجيل الدخول
تسجيل الدخول
٨:٥٩
للفقراء المهاجرين الذين اخرجوا من ديارهم واموالهم يبتغون فضلا من الله ورضوانا وينصرون الله ورسوله اولايك هم الصادقون ٨
لِلْفُقَرَآءِ ٱلْمُهَـٰجِرِينَ ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَـٰرِهِمْ وَأَمْوَٰلِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًۭا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنًۭا وَيَنصُرُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ ۚ أُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّـٰدِقُونَ ٨
لِلۡفُقَرَآءِ
ٱلۡمُهَٰجِرِينَ
ٱلَّذِينَ
أُخۡرِجُواْ
مِن
دِيَٰرِهِمۡ
وَأَمۡوَٰلِهِمۡ
يَبۡتَغُونَ
فَضۡلٗا
مِّنَ
ٱللَّهِ
وَرِضۡوَٰنٗا
وَيَنصُرُونَ
ٱللَّهَ
وَرَسُولَهُۥٓۚ
أُوْلَٰٓئِكَ
هُمُ
ٱلصَّٰدِقُونَ
٨
تفاسير
فوائد
تدبرات
الإجابات
قراءات
أنت تقرأ تفسيرًا لمجموعة الآيات 59:8إلى 59:10

৮-১০ নং আয়াতের তাফসীর: উপরে বর্ণিত হয়েছিল যে, ফায় এর মাল অর্থাৎ কাফিরদের যে মাল যুদ্ধক্ষেত্রে বিনা যুদ্ধেই মুসলমানদের অধিকারে আসে তা বিশিষ্টভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর মাল বলে গণ্য হয়। তিনি ঐ মাল কাকে প্রদান করবেন এটাও উপরে বর্ণিত হয়েছে। এখন এই আয়াতগুলোতেও ওরই আরো হকারদের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, এই মালের হকদার হলো ঐ দরিদ্র মুহাজিরগণ যারা আল্লাহ্ তা'আলাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে নিজেদের সম্প্রদায়কে অসন্তুষ্ট করেছেন। এমনকি তাদেরকে তাদের প্রিয় জন্মভূমি ও নিজেদের হাতে অর্জিত সম্পদ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। তারা আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সাহায্যে সদা নিমগ্ন থেকেছেন। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করেছেন। তাঁরাই তো সত্যাশ্রয়ী। তাঁরা তাঁদের কাজকে তাঁদের কথা অনুযায়ী সত্য করে দেখিয়েছেন। এই গুণাবলী মহান মুহাজিরদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। এরপর আনসারদের প্রশংসা করা হচ্ছে। তাদের ফযীলত, শরাফত ও বুযুর্গী প্রকাশ করা হচ্ছে। তাদের অন্তরের প্রশস্ততা, আন্তরিকতা, ঈসার (নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অপরের প্রয়োজনকে বেশী প্রাধান্য দেয়া এবং দানশীলতার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তাঁরা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে (মদীনায়) বসবাস করেছেন ও ঈমান এনেছেন, তাঁরা মুহাজিরদেরকে ভালবাসেন এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তার জন্যে তারা অন্তরে আকাক্ষা পোষণ করেন না এবং তারা তাদেরকে (মুহাজিরদেরকে) নিজেদের উপর প্রাধান্য দেন নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও।হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আমি আমার পরবর্তী খলীফাকে উপদেশ দিচ্ছি প্রথম শ্রেণীর মুহাজিরদের সাথে উত্তম অচরণের, অর্থাৎ তিনি যেন তাঁদের অগ্রাধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। তাঁকে আমি আনসারদের সাথেও উত্তম আচরণের উপদেশ দিচ্ছি। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা উত্তম আচরণকারী তাঁদের প্রতি এগিয়ে যাওয়ার এবং তাদের মধ্যে যারা মন্দ আচরণকারী তাদেরকে ক্ষমা করে দেয়ার উপদেশ দিচ্ছি।” হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা মুহাজিরগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! দুনিয়ায় আমরা আনসারদের মত এমন ভাল মানুষ আর দেখিনি। অল্পের মধ্যে অল্প এবং বেশীর মধ্যে বেশী তারা বরাবরই আমাদের উপর খরচ করছেন। বহুদিন যাবত তারা আমাদের সমুদয় বহন করছেন। তাঁরা এসব করছেন অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে ও উৎফুল্লভাবে। কখনো তাদের চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব পরিলক্ষিত হয় না। তারা এমন আন্তরিকতার সাথে আমাদের খিদমত করছেন যে, আমাদের ভয় হচ্ছে না জানি হয়তো তারা আমাদের সমস্ত সৎ আমলের প্রতিদান নিয়ে নিবেন!” তাদের এ কথা শুনে নবী (সঃ) বললেনঃ “না, না, যে পর্যন্ত তোমরা তাদের প্রশংসা করতে থাকবে এবং তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে থাকবে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) একদা আনসারদেরকে ডাক দিয়ে বলেনঃ “আমি বাহরাইল এলাকাটি তোমাদের নামে লিখে দিচ্ছি।” এ কথা শুনে তাঁরা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যে পর্যন্ত আপনি আমাদের মুহাজির ভাইদেরকে এই পরিমাণ না দিবেন সেই পর্যন্ত আমরা এটা গ্রহণ করবে না।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাদেরকে বলেনঃ “তাহলে আগামীতেও তোমরা সবর করতে থাকবে। আমার পরে এমন এক সময় আসবে যে, অন্যদেরকে দেয়া হবে এবং তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আনসারগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের খেজুরের বাগানগুলো আমাদের মধ্যে এবং আমাদের মুহাজির ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিন!” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) উত্তরে বললেনঃ “না, বরং বাগানে কাজকর্ম তোমরাই করবে এবং উৎপাদিত ফলে আমাদেরকে শরীক করবে।” আনসারগণ জবাব দিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা আনন্দিত চিত্তে এটা মেনে নিলাম।” এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ এই আনসারগণ মুহাজিরদের মান-মর্যাদা ও বুযুর্গী দেখে অন্তরে হিংসা পোষণ করে না। মুহাজিরগণ যা লাভ করে তাতে তারা মোটেই ঈর্ষা করে না। এই অর্থেরই ইঙ্গিত বহন করে নিম্নের হাদীসটিঃহযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাথে বসেছিলাম এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বললেনঃ “দেখো, এখনই একজন জান্নাতী লোক আগমন করবে।” অল্পক্ষণ পরেই একজন আনসারী (রাঃ) বাম হাতে তার জুতা ধারণ করে নতুনভাবে অযু করা অবস্থায় আগমন করলেন। তাঁর দাড়ি হতে টপ-টপ করে পানি পড়ছিল। দ্বিতীয় দিনও আমরা অনুরূপভাবে বসেছিলাম, তখনও তিনি (নবী সঃ) ঐ কথাই বললেন এবং ঐ লোকটিই ঐ ভাবেই আসলেন। তৃতীয় দিনেও ঐ একই ব্যাপার ঘটলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যখন মজলিস হতে উঠে গেলেন তখন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ) তাঁর (আগন্তুকের) পশ্চাদানুসরণ করলেন। তিনি তাকে বললেনঃ “জনাব! আজ আমার মধ্যে ও আমার পিতার মধ্যে কিছু বচসা হয়েছে। তাই আমি শপথ করে বসেছি যে, তিন দিন পর্যন্ত আমি বাড়ীতে প্রবেশ করবে না। সুতরাং যদি দয়া করে আপনি আমাকে অনুমতি দেন তবে এই দিনগুলো আমি আপনার বাড়ীতে কাটিয়ে দিবো।” তিনি বললেনঃ “বেশ, ঠিক আছে।” অতএব, তিন দিন আমি তার সাথে তার বাড়ীতে অতিবাহিত করলাম। দেখলাম যে, তিনি রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযও পড়লেন না। শুধু এতোটুকু করলেন যে, জেগে ওঠে বিছানায় শুয়ে শুয়েই আল্লাহর যিক্র ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে থাকলেন। হ্যাঁ, তবে এটা অবশ্যই ছিল যে, আমি তার মুখে ভাল কথা ছাড়া আর কিছুই শুনিনি। তিন রাত্রি অতিবাহিত হলে তাঁর আমল আমার কাছে হাল্কা লাগলো। অতঃপর আমি তাকে বললামঃ জনাব! আমার মধ্যে ও আমার পিতার মধ্যে কোন বচসাও হয়নি এবং অসন্তুষ্টির কারণে আমি বাড়িও ছাড়িনি। বরং প্রকৃত ব্যাপার এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) উপর্যুপরি তিন দিন বলেন যে, এখনই একটি জান্নাতী লোক আসবে। আর তিন দিনই আপনারই আগমন ঘটে। তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, কয়েকদিন আপনার সাহচর্যে আমি কাটিয়ে দিবে। অতঃপর এটা লক্ষ্য করবে যে, আপনি কি এমন আমল করেন যার কারণে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) জীবিতাবস্থাতেই আপনার জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ আমাদেরকে প্রদান করলেন! তাই আমি এই কৌশল অবলম্বন করেছিলাম এবং তিন দিন পর্যন্ত আপনার খিদমতে থাকলাম, যেন আপনার আমল দেখে আমিও ঐরূপ আমল করে জান্নাতবাসী হতে পারি। কিন্তু আমি তো আপনাকে কোন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ আমল করতে দেখলাম না এবং ইবাদতেও তো অন্যদেরকে ছাড়িয়ে যেতে দেখলাম না। এখন আমি আপনার নিকট হতে বিদায় গ্রহণ করছি। কিন্তু বিদায় বেলায় আপনার নিকট আমি জানতে চাই যে, আর কি এমন আমল করেন যার কারণে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) আপনার জান্নাতী হওয়ার কথা বললেন? উত্তরে তিনি আমাকে বললেনঃ “তুমি আমাকে যে আমল করতে দেখেছো, এ ছাড়া অন্য কোন বিশেষ ও গোপনীয় আমল আমি করি না।” তাঁর এ জবাব শুনে আমি তাঁর নিকট হতে বিদায় গ্রহণ করে চলতে শুরু করলাম। অল্প দূরে গিয়েছি ইতিমধ্যে তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেনঃ “আমার আর একটি আমল রয়েছে, তা এই যে, আমি কখনো কোন মুসলমানের প্রতি হিংসা ও শত্রুতা পোষণ করিনি এবং কখনো কোন মুসলমানের অমঙ্গল কামনা করিনি। আমি তার এ কথা শুনে বললামঃ হ্যাঁ, এবার আমার জানা হয়ে গেছে যে, আপনার এই আমলই আপনাকে এই মর্যাদায় পৌছিয়ে দিয়েছে এবং এটা এমনই এক আমল যে, অনেকেই এটার ক্ষমতা রাখে না।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নাসাঈও (রঃ) তাঁর নামক গ্রন্থে এ হাদীসটি আনয়ন করেছেন)মোটকথা, আনসারদের মধ্যে এই বিশেষণ ছিল যে, মুহাজিরগণ মাল ইত্যাদি লাভ করলে এবং তারা তা না পেলে তাঁরা মনক্ষুন্ন হতেন না। বানী নাযীর গোত্রের মাল মুহাজিরদের মধ্যে বন্টিত হলে কোন একজন আনসারী সমালোচনা করেন। ঐ সময় (আরবী) -এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) আনসারদেরকে বলেনঃ “তোমাদের মুহাজির ভাইগণ ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততি ছেড়ে তোমাদের কাছে এসেছে।” তাঁরা তখন বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের মাল-ধন আপনি তাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে বন্টন করে দিন!” তিনি উত্তরে বললেনঃ “তোমরা কি এর চেয়েও বেশী ত্যাগ স্বীকার করতে পার না?” তারা জবাব দিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! বলুন, কি ত্যাগ স্বীকার আমাদেরকে করতে হবে?” তিনি বললেনঃ “মুহাজিরগণ ক্ষেত-খামারের কাজ জানে না। সুতরাং তোমরাই তোমাদের ক্ষেতে ও বাগানে কাজ করবে এবং উৎপাদিত ফল-শস্যাদি হতে তাদেরকে অংশ দিবে।” আনসারগণ সন্তুষ্ট চিত্তে এতে সম্মতি জানালেন। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা (আনসাররা) তাদেরকে (মুহাজিরদেরকে) নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাগ্রস্ত হলেও।সহীহ্ হাদীসেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যার কাছে (মালের) স্বল্পতা রয়েছে এবং নিজেরই প্রয়োজন আছে, এতদ্সত্ত্বেও সাদকা করে, তার সাদকা হলো উত্তম সাদকা।” এই মর্যাদা ঐ লোকদের মর্যাদার চেয়েও অগ্রগণ্য যাদের সম্পর্কে অল্লিাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম এবং বন্দীকে খাদ্য ভক্ষণ করিয়ে থাকে।” (৭৬:৮) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ "মালের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা তা দান করে। কিন্তু এই লোকগুলো অর্থাৎ আনসারদের নিজেদের প্রয়োজন ও অভাব থাকা সত্ত্বেও তারা দান করে থাকেন। মালের প্রতি আসক্তি থাকে এবং প্রয়োজন থাকে না ঐ সময়ের দান-খয়রাত ঐ মর্যাদায় পৌছে না যে, প্রয়োজন ও অভাব থাকা সত্ত্বেও দান করা হয়।এই প্রকারের দান ছিল হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর দান। তিনি তার সমস্ত মাল নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর দরবারে হাযির হন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আবু বকর (রাঃ)! তোমার পরিবারবর্গের জন্যে কি রেখে এসেছো?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “তাদের জন্যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-কে রেখে এসেছি।” অনুরূপভাবে ঐ ঘটনাটিও এরই অন্তর্ভুক্ত যা ইয়ারমূকের যুদ্ধে হযরত ইকরামা (রাঃ) এবং তাঁর সঙ্গীদের ব্যাপারে ঘটেছিল। যুদ্ধের ময়দানে মুজাহিদগণ (রাঃ) আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পিপাসায় কাতর হয়ে তাঁরা ছটফট করছেন এবং পানি পানি’ করে চীৎকার করছেন! এমন সময় একজন মুসলমান পানির মশক কাঁধে নিয়ে আসলেন। ঐ পানি তিনি আহত মুজাহিদদের সামনে পেশ করলেন। কিন্তু একজন বললেনঃ ঐ যে, ঐ ব্যক্তিকে দাও। তিনি ঐ দ্বিতীয় মুজাহিদের নিকট গেলেন। তিনি তখন তার পার্শ্ববর্তী আর এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে দিলেন। ঐ মুসলমানটি তখন তৃতীয় মুজাহিদের নিকট গিয়ে দেখেন যে, তাঁর প্রাণরায়ু নির্গত হয়ে গেছে! দৌড়িয়ে তিনি দ্বিতীয় মুজাহিদের নিকট ফিরে গিয়ে দেখতে পান যে, তাঁরও প্রাণ পাখী। উড়ে গেছে। তারপর তিনি প্রথম মুজাহিদের নিকট ফিরে গিয়ে দেখেন যে, তিনিও এই নশ্বর জগত হতে বিদায় গ্রহণ করে মহান আল্লাহর কাছে হাযির হয়ে গেছেন! আল্লাহ্ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন ও তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন!” হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি খুবই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি। মেহেরবানী করে আমার জন্যে কিছু খাবারের ব্যবস্থা করুন!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাঁর স্ত্রীদের বাড়ীতে লোকে পাঠান। কিন্তু তাঁদের কারো বাড়ীতেই কিছুই পাওয়া গেল না। তিনি তখন জনগণকে লক্ষ্য করে বললেনঃ “রাত্রে আমার এই মেহমানকে নিয়ে যাবে এমন কেউ আছে কি?” একজন আনসারী (রাঃ) দাড়িয়ে গিয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি (আছি)।” অতঃপর তিনি লোকটিকে সাথে নিয়ে বাড়ী চললেন। বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে বললেনঃ “দেখো, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর মেহমান! আজ যদি আমরা নিজেরা কিছুই খেতে না পাই তবুও যেন এ মেহমান অনাহারে না থাকে।” এ কথা শুনে তাঁর স্ত্রী বললেনঃ “আল্লাহর কসম! বাড়ীতে আজ শিশুদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই।” আনসারী তখন তাঁর স্ত্রীকে বললেনঃ “শিশুদের না খাইয়েই শুইয়ে দাও। আর আমরা দু'জন (স্বামী-স্ত্রী) তো পেটে কাপড় বেঁধে অনাহারেই রাত্রি কাটিয়ে দিবো। মেহমানের খাওয়ার সময় তুমি প্রদীপটি নিভিয়ে দিবে। তখন মেহমান। মনে করবে যে, আমরা খেতে আছি।” স্ত্রী তাই করলেন। সকালে লোকটি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর দরবারে হাযির হলে তিনি বলেনঃ “মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ এই ব্যক্তির এবং তার স্ত্রীর রাত্রের কাজ দেখে খুশী হয়েছেন এবং হেসেছেন।” ঐ ব্যাপারেই (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিমে ঐ আনসারীর নাম দেয়া হয়েছে হযরত আবূ তালহা (রাঃ)। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈও (রঃ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “হে জনমণ্ডলী! তোমরা যুলুম হতে বেঁচে থাকো। কেননা, এই যুলুম কিয়ামতের দিন যুলমত বা অন্ধকারের কারণ হবে। হে লোক সকল! তোমরা কার্পণ্য ও লোভ-লালসাকে ভয় কর। কেননা, এটা এমন একটা জিনিস যা ততামাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এরই কারণে তারা পরস্পর খুনাখুনি করেছে এবং হারামকে হালাল করে নিয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিমেও এটা বর্ণিত হয়েছে)হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা যুলম হতে দূরে থাকো। কেননা, যুলম কিয়ামতের দিন অন্ধকার রূপ ধারণ করবে। আর তোমরা কটুবাক্য প্রয়োগ করা হতে বিরত থাকো। জেনে রেখো যে, আল্লাহ্ তা'আলা অশ্লীলভাষীকে ও নির্লজ্জতাপূর্ণ। কাজকে ভালবাসেন না। তোমরা লোভ-লালসা ও কার্পণ্য হতে বিরত থাকো। কেননা, একারণেই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তারা জনগণকে যুলম করার নির্দেশ দিতো তখন তারা যুলম করতো, তারা পাপাচারের হুকুম করতো ফলে তারা পাপাচার করতো এবং তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিতো, তাই তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতো।” (ইমাম আ’মাশ (রঃ) ও ইমাম শু'বা (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “আল্লাহর পথের ধুলো-বালি এবং জাহান্নামের ধূয়া কোন বান্দার পেটে একত্রিত হতে পারে না (অর্থাৎ আল্লাহর পথের ধুলো যার উপরে পড়েছে সে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত হয়ে গেছে)।”(ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাঊদ (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)হযরত আসওয়াদ ইবনে হিলাল (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক হযরত আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেঃ “হে আবু আবদির রহমান (রাঃ)! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি।” তিনি তার একথা শুনে বলেনঃ “কেন, ব্যাপার কি?” লোকটি উত্তরে বলেঃ “যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম। আর আমি তো একজন কৃপণ লোক। আমি তো আমার মালের কিছুই খরচ করতে চাই না!” তখন হযরত আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাকে বললেনঃ “এখানে কার্পণ্য দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, তুমি তোমার কোন মুসলমান ভাই-এর মাল যুলম করে ভক্ষণ করবে। হ্যাঁ, তবে কার্পণ্যও নিঃসন্দেহে খুবই খারাপ জিনিস।” (এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবুল হাইয়াজ আসাদী (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রায়তুল্লাহ্র তাওয়াফ করা অবস্থায় আমি দেখলাম যে, একটি লোক শুধু -এই দু'আটি পাঠ করছেন অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার জীবনের কার্পণ্য ও লোভ-লালসা হতে রক্ষা করুন!” শেষ পর্যন্ত আমি থাকতে না পেরে তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ জনাব! আপনি শুধু এই প্রার্থনাই কেন করছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ “যদি এটা হতে রক্ষা পাওয়া যায় তবে ব্যভিচার হবে না, চুরি হবে না এবং অন্য কোন খারাপ কাজও হতে পারে না।” অতঃপর আমি তার দিকে ভাল করে চেয়ে দেখলাম। তখন দেখি যে, তিনি হলেন হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)।” (এটা হযরত সুফইয়ান সাওরী (রঃ) ও হযরত ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করলো, মেহমানদারী করলো এবং আল্লাহর পথের জরুরী কাজে (মাল) প্রদান করলো সে তার নফসের কার্পণ্য ও লোভ-লালসা হতে দূর হয়ে গেল।মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা তাদের (মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে, তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। (এটাও ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এঁরা হলেন ফায়-এর মালের তৃতীয় প্রকার হকদার। মুহাজির ও আনসারদের দরিদ্রদের পরে তাদের অনুসারী হলেন তাদের পরবর্তী লোকেরা। এই লোকদের মিসকীনরাও এই ফায়-এর মালের হকদার। এঁরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এঁদের পূর্ববর্তী ঈমানদার লোকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন। যেমন সূরায়ে বারাআতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করে আল্লাহ্ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাতে সন্তুষ্ট।” (৯:১০০) অর্থাৎ এই পরবর্তী লোকেরা ঐ পূর্ববর্তী লোকদের পদাংক অনুসরণকারী এবং তাদের উত্তম চরিত্রের অনুসারী ও ভাল দু'আর মাধ্যমে তাদেরকে স্মরণকারী। যেন তাদের ভিতর ও বাহির পূর্ববর্তীদের অনুসারী। এজন্যেই আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াতে কারীমায় বলেনঃ যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভ্রাতাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেস রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।এই দু'আ দ্বারা হযরত ইমাম মালিক (রঃ) কতই না পবিত্র দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন যে, রাফেযী সম্প্রদায়ের কোন লোককে যেন সেই সময়ের নেতা ফায়-এর মাল হতে কিছুই প্রদান না করেন। কেননা, তারা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাহাবীদের জন্যে দু'আ করার পরিবর্তে তাদেরকে গালি দিয়ে থাকে। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) বলেনঃ “ঐ লোকদের প্রতি তোমরা লক্ষ্য কর যে, কিভাবে তারা কুরআনের বিরুদ্ধাচরণ করছে! কুরআন হুকুম করছে যে, মানুষ যেন মুহাজির ও আনসারদের জন্যে দু'আ করে, অথচ এ লোকগুলো (রাফেযীরা) তাদেরকে গালি দেয়।” অতঃপর তিনি...(আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করেন। (এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত মাসরূক (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাহাবীদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার তোমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, অথচ তোমরা তাদেরকে গালি দিচ্ছ! আমি তোমাদের নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “এই উম্মত শেষ হবে না যে পর্যন্ত না তাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদেরকে লা'নত করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম বাগাভী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত উমার (রাঃ) বলেন যে, (আরবী)-এই আয়াতে যে ফায়-এর মালের বর্ণনা দেয়া হয়েছে ওটা তো রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর জন্যে খাস। তারপর পরবর্তী (আরবী)-এই আয়াতে যে মালের কথা বলা হয়েছে তা আম বা সাধারণ করে দেয়া হয়েছে এবং সমস্ত মুসলমান এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন একজন মুসলমানও এমন নেই যার এই মালের অধিকার নেই, শুধু গোলামদের ছাড়া। (এটা ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসের সনদটি ছেদকাটা)হযরত মালিক ইবনে আউস ইবনে হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) (আরবী) (৯:৬০)-এই আয়াতটি পাঠ করে বলেনঃ “যাকাতের হকদার তো হলো এই লোকগুলো।” তারপর তিনি (আরবী) (৮:৪১) -এ আয়াতটি পাঠ করেন। অতঃপর বলেনঃ “গানীমাতের হকদার তো হলো এই লোকগুলো।” এরপর তিনি (আরবী) এ আয়াতগুলো পাঠ করে বলেনঃ “ফায়-এর মালের হকদারদের বর্ণনা দেয়ার পর এই আয়াত সমস্ত মুসলমানকে এই ফায়-এর মালের হকদার বানিয়ে দিয়েছে। সবাই এই মালের হকদার। যদি আমি জীবিত থাকি তবে তোমরা দেখবে যে, গ্রাম-পল্লীর রাখালদেরকেও আমি এর অংশ প্রদান করবে যাদের কপালে এই মাল লাভ করার জন্যে ঘর্মও দেখা দেয়নি।” (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

Notes placeholders
اقرأ واستمع وابحث وتدبر في القرآن الكريم

Quran.com منصة موثوقة يستخدمها ملايين الأشخاص حول العالم لقراءة القرآن الكريم والبحث فيه والاستماع إليه والتدبر فيه بعدة لغات. كما يوفر الموقع ترجمات وتفسيرات وتلاوات وترجمة كلمة بكلمة وأدوات للدراسة العميقة، مما يجعل القرآن الكريم في متناول الجميع.

كصدقة جارية، يكرّس Quran.com جهوده لمساعدة الناس على التواصل العميق مع القرآن الكريم. بدعم من Quran.Foundation، وهي منظمة غير ربحية 501(c)(3)، يواصل Quran.com في التقدم و النمو كمصدر مجاني وقيم للجميع، الحمد لله.

تصفّح
الصفحة الرئيسة
راديو القرآن الكريم
القرّاء
معلومات عنا
المطورون
تحديثات المنتج
الملاحظات
مساعدة
مشاريعنا
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
المشاريع غير الربحية التي تملكها أو تديرها أو ترعاها Quran.Foundation
الروابط الأكثر شيوعًا

آية الكرسي

يس

الملك

الرّحمن

الواقعة

الكهف

المزّمّل

خريطة الموقـعالخصوصيةالشروط والأحكام
© ٢٠٢٦ Quran.com. كل الحقوق محفوظة