تسجيل الدخول
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
🚀 انضم إلى تحدي رمضان!
تعرف على المزيد
تسجيل الدخول
تسجيل الدخول
٣٩:٧٠
كلا انا خلقناهم مما يعلمون ٣٩
كَلَّآ ۖ إِنَّا خَلَقْنَـٰهُم مِّمَّا يَعْلَمُونَ ٣٩
كـَلَّآۖ
إِنَّا
خَلَقۡنَٰهُم
مِّمَّا
يَعۡلَمُونَ
٣٩
تفاسير
فوائد
تدبرات
الإجابات
قراءات
أنت تقرأ تفسيرًا لمجموعة الآيات 70:36إلى 70:44

৩৬-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ ঐ কাফিরদের উপর অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল, স্বয়ং তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল এবং তিনি যে হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন তা তাদের সামনেই ছিল। এতদসত্ত্বেও তারা তার নিকট হতে পালিয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁকে বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্যে ডান ও বাম দিক হতে দলে দলে তার দিকে ছুটে আসছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তাদের কি হয়েছে যে, তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় উপদেশ হতে? তারা যেন ভীত এস্ত গর্দভ- যা সিংহের সম্মুখ হতে পলায়নপর।”(৭৪:৪৯-৫১) অনুরূপভাবে এখানেও বলেনঃ এই কাফিরদের কি হলো যে, তারা ঘৃণা ভরে তোমার নিকট হতে সরে যাচ্ছে? কেন তারা ডানে বামে ছুটে চলছে? তারা বিচ্ছিন্নভাবে এদিক-ওদিক চলে যাচ্ছে এর কারণ কি? হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) প্রবৃত্তির উপর আমলকারীদের সম্পর্কে এ কথাই বলেন যে, তারা আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী হয়ে থাকে এবং তারা পরস্পরও একে অপরের বিরোধী হয়ে থাকে। হ্যাঁ, তবে কিতাবুল্লাহর বিরোধিতায় তারা সব একমত থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে আওফীক (রঃ)-এর রিওয়াইয়াতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হলোঃ তারা বেপরোয়া ভাবে ডানে-বামে হয়ে তোমাকে বিদ্রুপ ও উপহাস করে। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, অর্থ হলোঃ তারা ডানে-বামে হয়ে গিয়ে প্রশ্ন করেঃ এ লোকটি কি বলেছে? হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, তারা দলবদ্ধভাবে ডানে-বামে হয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চতুর্দিকে ফিরতে থাকে। না তাদের কিতাবুল্লাহর উপর চাহিদা আছে, না রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর প্রতি কোন আগ্রহ আছে। হযরত জাবির ইবনে সামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) জনগণকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে আসতে দেখে বলেনঃ “আমার কি হলো যে, আমি তোমাদেরকে এভাবে দলে দলে আসতে দেখছি?” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আবূ দাউদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তাদের প্রত্যেকে কি এই প্রত্যাশা করে যে, তাকে দাখিল করা হবে প্রাচুর্যময় জান্নাতে? না, তা হবে না। অর্থাৎ তাদের অবস্থা যখন এই যে, তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সঃ) হতে ডানে-বামে বক্র হয়ে চলছে তখন তাদের এ চাহিদা কখনো পুরো হতে পারে না। বরং তারা জাহান্নামী দল।এখন তারা যেটাকে অসম্ভব মনে করছে তার সর্বোত্তম প্রমাণ তাদের নিজেদেরই অবগতি ও স্বীকারুক্তি দ্বারা বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছেঃ আমি তাদেরকে যা হতে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে। তা এই যে, আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি দুর্বল পানি হতে। তাহলে তিনি কি তাদেরকে পুনর্বার সৃষ্টি করতে পারবেন না? যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে নিকৃষ্ট পানি হতে সৃষ্টি করিনি?” (৭৭:২০) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “সুতরাং মানুষ প্রণিধান করুক যে, তাকে কি হতে সৃষ্টি করা হয়েছে! তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি হতে। এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য হতে। নিশ্চয়ই তিনি তার প্রত্যানয়নে ক্ষমতাবান। যেই দিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে সেই দিন তার কোন সামর্থ্য থাকবে না এবং সাহায্যকারীও না।” (৮৬:৭-১০) এখানে মহান আল্লাহ্ বলেনঃ শপথ ঐ সত্তার যিনি যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন, পূর্ব ও পশ্চিম নির্ধারণ করেছেন এবং তারকারাজির গোপন হওয়ার ও প্রকাশিত হওয়ার স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন! ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে কাফির সম্প্রদায়! তোমরা যা ধারণা করছো ব্যাপার তা নয় যে, হিসাব-কিতাব হবে না এবং হাশর-নশরও হবে না। এসব অবশ্যই সংঘটিত হবে। এজন্যেই কসমের পূর্বে তাদের বাতিল ধারণাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন এবং এটাকে এমনভাবে সাব্যস্ত করেন যে, নিজের পূর্ণ শক্তির বিভিন্ন নমুনা তাদের সামনে পেশ করেন। যেমন আসমান ও যমীনের প্রাথমিক সৃষ্টি এবং এই দু'টির মধ্যে প্রাণীসমূহ, জড় পদার্থ এবং বিভিন্ন নিয়ামতের বিদ্যমানতা। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “অবশ্যই মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করাই বড় ব্যাপার, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।”(৪০:৫৭)। ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা যখন বৃহৎ হতে বৃহত্তম জিনিস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিস সৃষ্টি করতে কেন সক্ষম হবেন না? অবশ্যই তিনি সক্ষম হবেন। যেমন তিনি এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলো সৃষ্টি করতে ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম হবেন না? হ্যাঁ অবশ্যই তিনি সব কিছুরই উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।" (৪৬:৩৩)অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি ওগুলোর অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তার ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি ওকে বলেনঃ 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।”(৩৬:৮১-৮২)এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলের অধিপতির- নিশ্চয়ই আমি তাদের এই দেহকে, যেমন এখন এটা রয়েছে, এর চেয়েও উত্তম আকারে পরিবর্তিত করতে পূর্ণমাত্রায় ক্ষমতাবান কোন জিনিস, কোন ব্যক্তি এবং কোন কাজ আমাকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারবো না? বস্তুতঃ আমি তার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পূনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।” (৭৫:৩-৪) আরো বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমি তোমাদের জন্যে মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই তোমার স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতি দান করতে যা তোমরা জান না।” (৫৬:৬০-৬১)। সুতরাং (আরবি)-এর একটি ভাবার্থ তো এটাই যা উপরে বর্ণিত হলো। আর দ্বিতীয় ভাবার্থ, যা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন তা হলোঃ নিশ্চয়ই আমি সক্ষম তাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর মানব গোষ্ঠীকে তাদের স্থলবর্তী করতে, যারা হবে আমার পূর্ণ অনুগত, যারা আমার অবধাচরণ করবে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন; তারা তোমাদের মত হবে না।”(৪৭:৩৮) তবে প্রথম ভাবার্থটিই বেশী প্রকাশমান। কেননা এর পরবর্তী আয়াতগুলোতে এ লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ) ! তুমি তাদেরকে বাক-বিতণ্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকতে দাও, যে দিবস সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল, তার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সেদিন তারা কবর হতে বের হবে দ্রুত বেগে, মনে হবে যে, তারা কোন একটি লক্ষ্যস্থলের দিকে ধাবিত হচ্ছে অবনত নেত্রে। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। এটাই সেই দিন, যার বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল। এটা হলো দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্য হতে সরে পড়া ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার ফল। আর এটা হলো ঐ দিন যা সংঘটিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করা হচ্ছে এবং নবী (সঃ)-কে, শরীয়তকে ও আল্লাহর কালামকে তুচ্ছ জ্ঞান করে উপহাসের ছলে বলা হচ্ছেঃ কিয়ামত কেন সংঘটিত হচ্ছে না? আর কেনই বা আমাদের উপর শাস্তি আপতিত হয় না?

Notes placeholders
اقرأ واستمع وابحث وتدبر في القرآن الكريم

Quran.com منصة موثوقة يستخدمها ملايين الأشخاص حول العالم لقراءة القرآن الكريم والبحث فيه والاستماع إليه والتدبر فيه بعدة لغات. كما يوفر الموقع ترجمات وتفسيرات وتلاوات وترجمة كلمة بكلمة وأدوات للدراسة العميقة، مما يجعل القرآن الكريم في متناول الجميع.

كصدقة جارية، يكرّس Quran.com جهوده لمساعدة الناس على التواصل العميق مع القرآن الكريم. بدعم من Quran.Foundation، وهي منظمة غير ربحية 501(c)(3)، يواصل Quran.com في التقدم و النمو كمصدر مجاني وقيم للجميع، الحمد لله.

تصفّح
الصفحة الرئيسة
راديو القرآن الكريم
القرّاء
معلومات عنا
المطورون
تحديثات المنتج
الملاحظات
مساعدة
مشاريعنا
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
المشاريع غير الربحية التي تملكها أو تديرها أو ترعاها Quran.Foundation
الروابط الأكثر شيوعًا

آية الكرسي

يس

الملك

الرّحمن

الواقعة

الكهف

المزّمّل

خريطة الموقـعالخصوصيةالشروط والأحكام
© ٢٠٢٦ Quran.com. كل الحقوق محفوظة