Iniciar sesión
¡Únete a nuestro desafío de Ramadán!
Más información
¡Únete a nuestro desafío de Ramadán!
Más información
Iniciar sesión
Iniciar sesión
48:28
هو الذي ارسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله وكفى بالله شهيدا ٢٨
هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ ۚ وَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدًۭا ٢٨
هُوَ
ٱلَّذِيٓ
أَرۡسَلَ
رَسُولَهُۥ
بِٱلۡهُدَىٰ
وَدِينِ
ٱلۡحَقِّ
لِيُظۡهِرَهُۥ
عَلَى
ٱلدِّينِ
كُلِّهِۦۚ
وَكَفَىٰ
بِٱللَّهِ
شَهِيدٗا
٢٨
Él es Quien les envió a Su Mensajero con la guía y la práctica de adoración verdadera, para que prevalezca sobre todas las demás. Dios es suficiente como testigo.
Tafsires
Lecciones
Reflexiones.
Respuestas
Qiraat
Estás leyendo un tafsir para el grupo de versículos 48:27 hasta 48:28

২৭-২৮ নং আয়াতের তাফসীর: রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি মক্কা গিয়েছেন এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। তার এই স্বপ্নের বৃত্তান্ত তিনি মদীনাতেই স্বীয় সাহাবীদের (রাঃ) সামনে বর্ণনা করেছিলেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির বছর যখন তিনি উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন তখন এই স্বপ্নের ভিত্তিতে সাহাবীদের এটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এই সফরে তারা সফলতার সাথে এই স্বপ্নের প্রকাশ ঘটতে দেখতে পাবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন তাঁরা উল্টো ব্যাপার লক্ষ্য করেন এমনকি সন্ধিপত্র সম্পাদন করে তাদেরকে বায়তুল্লাহর যিয়ারত ছাড়াই ফিরে আসতে হয় তখন এটা তাদের কাছে খুবই কঠিন ঠেকে। সুতরাং হযরত উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি তো আমাদেরকে বলেছিলেনঃ “আমরা বায়তুল্লাহ শরীফে যাবো ও তাওয়াফ করবো?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হ্যা, এটা সঠিক কথাই বটে, কিন্তু আমি তো একথা বলিনি যে, এই বছরই এটা করবো?” হযরত উমার (রাঃ) জবাব দেনঃ “হ্যা আপনি একথা বলেননি এটা সত্য।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “তাহলে এতো তাড়াহুড়া কেন? তোমরা অবশ্যই বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে এবং তাওয়াফও অবশ্যই করবে।” অতঃপর হযরত উমার (রাঃ) হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে এ প্রশ্নই করলেন এবং ঐ একই উত্তর পেলেন।এখানে (আরবী) ইসতিসনা বা এর ব্যতিক্রমও হতে পারে এ জন্যে নয়, বরং এখানে এটা নিশ্চয়তা এবং গুরুত্বের জন্যে। এই বরকতময় স্বপ্নের প্রকাশ ঘটতে সাহাবীগণ (রাঃ) দেখেছেন এবং পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে মক্কায় পৌঁছেছেন এবং ইহরাম ভেঙ্গে দিয়ে কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করিয়েছেন এবং কেউ কেউ কেশ কর্তন করিয়েছেন। সহীহ হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর দয়া করুন।” সাহাবীগণ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “চুল কর্তনকারীদের উপরও কি?”রাসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয়বারও ঐ কথাই বললেন। আবার জনগণ ঐ প্রশ্নই করলেন। অবশেষে তৃতীয়বার বা চতুর্থবারে তিনি বললেনঃ “চুল-কর্তনকারীদের উপরও আল্লাহ দয়া করুন।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমাদের কোন ভয় থাকবে না। অর্থাৎ মক্কায় যাওয়ার পথেও তোমরা নিরাপত্তা লাভ করবে এবং মক্কায় অবস্থানও হবে তোমাদের জন্যে নিরাপদ। উমরার কাযায় এটাই হয়। এই উমরা সপ্তম হিজরীর যুলকাদাহ মাসে হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হুদায়বিয়া হতে যুলকাদাহ মাসে ফিরে এসেছিলেন। যুলহাজ্জাহ ও মুহাররাম মাসে তো মদীনা শরীফেই অবস্থান করেন। সফর মাসে খায়বার গমন করেন। ওর কিছু অংশ বিজিত হয় যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কিছু অংশের উপর আধিপত্য লাভ করা হয় সন্ধির মাধ্যমে। এটা খুব বড় অঞ্চল ছিল। এতে বহু খেজুরের বাগান ও শস্য ক্ষেত্র ছিল। খায়বারের ইয়াহূদীদেরকে তিনি সেখানে খাদেম হিসেবে রেখে দিয়ে তাদের ব্যাপারে এই মীমাংসা করেন যে, তারা বাগান ও ক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজকর্ম করবে এবং উৎপাদিত ফল ও শস্যের অর্ধাংশ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রদান করবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) খায়বারের সম্পদ শুধু ঐ সব সাহাবীর মধ্যে বন্টন করেন যারা হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ছাড়া আর কেউই এর অংশ প্রাপ্ত হননি। তবে তাঁরা এর ব্যতিক্রম ছিলেন যারা হাবশে হিজরত করার পর তথা হতে ফিরে এসেছিলেন। যেমন হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ) ও তার সঙ্গীরা এবং হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীরা। হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে যেসব সাহাবী (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন তাঁরা সবাই তার সাথে খায়বার যুদ্ধেও শরীক ছিলেন, শুধু আবু দাজানাহ সাম্মাক ইবনে খারশাহ (রাঃ) শরীক ছিলেন না, যেমন এর পূর্ণ বর্ণনা স্বস্থানে রয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) মদীনায় ফিরে আসেন। তারপর সপ্তম হিজরীর যুলকাদাহ মাসে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন। তার সাথে হুদায়বিয়ায় অংশ গ্রহণকারী সাহাবীগণও ছিলেন। যুলহুলাইফা হতে ইহরাম বাঁধেন এবং কুরবানীর উটগুলো সাথে নেন। বলা হয়েছে যে, ওগুলোর সংখ্যা ছিল ষাট। তাঁরা ‘লাব্বায়েক’ শব্দ উচ্চারণ করতে করতে যখন মাররুয যাহরানের নিকটবর্তী হলেন তখন মুহাম্মাদ ইবনে সালমা (রাঃ)-কে কিছু ঘোড়া ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ আগে আগে পাঠিয়েছিলেন। এ দেখে মুশরিকদের প্রাণ উড়ে গেল, কলিজা শুকিয়ে গেল। তাদের ধারণা হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) পূর্ণ প্রস্তুতি ও সাজ-সরঞ্জামসহ এসেছেন। অবশ্যই তিনি এসেছেন যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। উভয় দলের মধ্যে দশ বছর কোন যুদ্ধ হবে না’ এই যে একটি শর্ত ছিল তিনি তা ভঙ্গ করেছেন। তাই, তারা মক্কায় দৌড়িয়ে গিয়ে মক্কাবাসীকে এ খবর দিয়ে দিলো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মাররুয যাহরানে পৌঁছলেন যেখান হতে কা'বা ঘরের মূর্তিগুলো দেখা যাচ্ছিল, তখন তিনি শর্ত অনুযায়ী সমস্ত বর্শা, বল্লাম, তীর, কামান বাতনে ইয়াজিজে পাঠিয়ে দেন। শুধু তরবারী সঙ্গে রাখেন এবং ওটাও কোষবদ্ধ থাকে। তখনো তিনি পথেই ছিলেন, ইতিমধ্যে মুশরিকরা মুকরিযকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেয়। সে এসে বলেঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! চুক্তি ভঙ্গ করা তো আপনার অভ্যাস নয়?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেনঃ “ব্যাপার কি?” সে উত্তরে বললোঃ “আপনি তীর, বর্শা ইত্যাদি সাথে এনেছেন?” তিনি জবাব দেন:“না, আমি তো ওগুলো বাতনে ইয়াজিজে পাঠিয়ে দিয়েছি?” সে তখন বললোঃ “আপনি যে একজন সৎ ও প্রতিজ্ঞাপালনকারী ব্যক্তি এ বিশ্বাস আমাদের ছিল।” অতঃপর মক্কার মুশরিক কুরায়েশরা মক্কা শহর ছেড়ে চলে গেল। তারা দুঃখে ও ক্রোধে ফেটে পড়লো। আজ তারা মক্কা শহরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তার সাহাবীবর্গকে দেখতেও চায় না। যেসব পুরুষ, নারী ও শিশু মক্কায় রয়ে গেল তারা পথে, প্রকোষ্ঠে এবং ছাদের উপর দাঁড়িয়ে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে এই পবিত্র, অকৃত্রিম ও আল্লাহ ভক্ত সেনাবাহিনীর দিকে তাকাতে থাকলো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং তাঁর সাহাবীবর্গ (রাঃ) ‘লাব্বায়েক’ ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) কুরবানীর পশুগুলোকে যী-তওয়া নামক স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে চলছিলেন। যার উপর তিনি হুদায়বিয়ার দিন আরোহণ করেছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরে ছিলেন এবং নিম্নের কবিতাটি পাঠ করছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তাঁর নামে, যার দ্বীন ছাড়া কোন দ্বীন নেই (অর্থাৎ অন্য কোন দ্বীন গ্রহণযোগ্য নয়)। ঐ আল্লাহর নামে, মুহাম্মাদ (সঃ) যাঁর রাসূল। হে কাফিরদের সন্তানরা! তোমরা তাঁর (রাসূল সঃ-এর) পথ হতে সরে যাও। আজ আমরা তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় তোমাদেরকে ঐ মারই মারবো যে মার তার আগমনের সময় মেরেছিলাম। এমন মার (প্রহার) যা মস্তিষ্ককে ওর ঠিকানা হতে সরিয়ে দিবে এবং বন্ধুকে বন্ধুর কথা ভুলিয়ে দিবে। করুণাময় (আল্লাহ) স্বীয় অহী অবতীর্ণ করেছেন যা ঐ সহীফাগুলোর মধ্যে রক্ষিত রয়েছে যা তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সামনে পঠিত হয়। সর্বাপেক্ষা উত্তম মৃত্যু হলো শাহাদাতের মৃত্যু যা তাঁর পথে হয়। হে আমার প্রতিপালক! আমি এই কথার উপর ঈমান এনেছি।” কোন কোন রিওয়াইয়াতে কিছু হের ফেরও রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, এই উমরার সফরে যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মাররুম্ যাহ্রান নামক স্থানে পৌছেন তখন সাহাবীগণ (রাঃ) শুনতে পান যে, মক্কাবাসী বলছে:“এ লোকগুলো (সাহাবীগণ) ক্ষীণতা ও দুর্বলতার কারণে উঠা-বসা করতে পারে না।” একথা শুনে সাহাবীগণ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি আপনি অনুমতি দেন তবে আমরা আমাদের সওয়ারীর কতকগুলো উটকে যবেই করি এবং ওগুলোর গোশত খাই ও শুরুয়া পান করি এবং এভাবে শক্তি লাভ করে নব উদ্যমে মক্কায় গমন করি।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে তাদেরকে বললেনঃ “না, এরূপ করতে হবে না। তোমাদের কাছে যে খাদ্য রয়েছে তা একত্রিত কর।” তাঁর এই নির্দেশমত সাহাবীগণ (রাঃ) তাদের খাদ্যগুলো একত্রিত করলেন এবং দস্তরখানা বিছিয়ে খেতে বসলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দু'আর কারণে খাদ্যে এতো বরকত হলো যে, সবাই পেট পুরে খেলেন ও নিজ নিজ থলে ভর্তি করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীবর্গসহ মক্কায় আসলেন এবং সরাসরি বায়তুল্লাহ শরীফে গেলেন। কুরায়েশরা হাতীমের দিকে বসেছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) চাদরের পাল্লা ডান বগলের নীচ দিয়ে বের করে বাম কাঁধের উপর রেখে দিলেন। তিনি সাহাবীদেরকে (রাঃ) বললেন:“জনগণ যেন তোমাদের মধ্যে অলসতা ও দুর্বলতা অনুভব করতে না পারে।” তিনি রুকে চুম্বন করে দৌড়ের মত চালে তাওয়াফ শুরু করলেন। রুকনে ইয়ামানীর নিকট যখন পৌছলেন, যেখানে কুরায়েশদের দৃষ্টি পড়ছিল না, তখন সেখান হতে ধীরে ধীরে চলে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌছলেন। কুরায়েশরা বলতে লাগলো:“তোমরা হরিণের মত লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে, চলা যেন তোমরা পছন্দই কর না।” তিনবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এভাবে হালকা দৌড়ে চলে হাজরে আসওয়াদ হতে রুকনে ইয়ামানী পর্যন্ত চলতে থাকলেন। তিন চক্র এভাবেই দিলেন। সুতরাং মাসনূন তরীকা এটাই। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, বিদায় হজ্বেও রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এভাবেই তাওয়াফের তিন চক্রে রমল করেছিলেন অর্থাৎ হালকা দৌড়ে চলেছিলেন। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, প্রথম দিকে মদীনার আবহাওয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীদের (রাঃ) স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হয়েছিল। জ্বরের কারণে তারা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীগণসহ মক্কায় পৌঁছেন তখন মুশরিকরা বলেঃ “এই যে লোকগুলো আসছে, এদেরকে মদীনার জ্বর দুর্বল ও অলস করে ফেলেছে।” আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে মুশরিকদের এই উক্তির খবর অবহিত করেন। মুশরিকরা হাতীমের নিকট বসেছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় সাহাবীদেরকে (রাঃ) নির্দেশ দেন যে, তারা যেন হাজরে আসওয়াদ থেকে নিয়ে রুকনে ইয়ামানী পর্যন্ত তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে দুলকী দৌড়ে চলেন এবং রুকনে ইয়ামানী হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত চার চক্রে স্বাভাবিক গতিতে চলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) পূর্ণ সাত চক্রেই রমল বা দুলকী দৌড়ের নির্দেশ দেননি। এটা শুধু দয়ার কারণেই ছিল।মুশরিকরা যখন দেখলো যে, সাহাবীগণ সবাই কুদে লাফিয়ে স্ফূর্তি সহকারে চলছেন তখন তারা পরস্পর বলাবলি করেঃ “এদের সম্পর্কে যে বলা হতো যে, মদীনার জ্বর এদেরকে দুর্বল ও অলস করে ফেলেছে এটাতো গুজব ছাড়া কিছুই নয়। এ লোকগুলো তো অমুক অমুকের চেয়েও বেশী চতুর ও চালাক?”একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যুলকাদাহ মাসের ৪ তারিখে মক্কা শরীফে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, ঐ সময় মুশরিকরা কাঈকাআনের দিকে ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাফা মারওয়ার দিকে দৌড়ানোও মুশরিকদেরকে তাদের শক্তি দেখানোর জন্যেই ছিল। হযরত ইবনে আবি আওফা (রাঃ) বলেনঃ “ঐ দিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে পর্দা করেছিলাম, যাতে কোন মুশরিক অথবা নির্বোধ তাঁর কোন ক্ষতি করতে না পারে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) উমরার উদ্দেশ্যে বের হন, কিন্তু কাফির কুরায়েশরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাঁকে বায়তুল্লাহ শরীফে প্রবেশ করতে দেয়নি। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেখানেই কুরবানী করেন অর্থাৎ হুদায়বিয়াতেই কুরবানী দেন এবং মস্তক মুণ্ডন করিয়ে নেন। আর তাদের সাথে সন্ধি করেন। সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তিনি এই বছর উমরা না করেই ফিরে যাবেন এবং আগামী বছর উমরা করার জন্যে আসবেন। ঐ সময় তিনি তরবারী ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র সাথে আনতে পারবেন না এবং মক্কায় তিনি ঐ কয়েকদিন অবস্থান করবেন যা মক্কাবাসী চাইবে। ঐ শর্ত অনুযায়ী পরের বছর রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ ভাবেই মক্কায় আসেন এবং তিন দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন। তারপর মুশরিকরা বলেঃ “এখন আপনি বিদায় গ্রহণ করুন!” সুতরাং তিনি ফিরে আসলেন। (এ হাদীসটিও ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় সহীহ’গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)হযরত বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যুলকাদাহ মাসে উমরা করার ইচ্ছা করেন, কিন্তু মুশরিকরা তাকে বাধা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের সাথে এই মীমাংসা করেন যে, তিনি মাত্র তিন দিন মক্কায় অবস্থান করবেন। যখন সন্ধিপত্র লিখার কাজ শুরু করা হয় তখন লিখা হয়ঃ “এটা ঐ পত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সঃ) সন্ধি করেছেন।” তখন মক্কাবাসী বললোঃ “যদি আমরা আপনাকে আল্লাহর রাসূল বলে মানতাম তবে কখনো বাধা প্রদান করতাম না। বরং আপনি মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ লিখিয়ে নিন।” তিনি তখন বললেনঃ “আমি আল্লাহর রাসূলও এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহও বটে।” অতঃপর তিনি হযরত আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ “রাসূলুল্লাহ শব্দটি কেটে দাও।” হযরত আলী (রাঃ) তখন বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমি এটা কখনো কাটতে পারবো না।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিজেই সন্ধিপত্রটি হাতে নিয়ে ভালরূপে লিখতে না পারা সত্ত্বেও লিখেনঃ “এটা ঐ জিনিস যার উপর মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ (সঃ) সন্ধি করেছেন।” তা এই যে, তিনি মক্কায় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না, শুধু তরবারী নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সেটাও আবার কোষবদ্ধ থাকবে। আরো শর্ত এই যে, মক্কাবাসীদের যে কেউ তার সাথে যেতে চাইবে তাকে তিনি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাঁর সঙ্গীদের কেউ যদি মক্কায় থেকে যেতে চায় তবে তিনি তাকে বাধা দিতে পারবেন না।” অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কায় আসলেন এবং নির্ধারিত সময় কেটে গেল। তখন মুশরিকরা হযরত আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে বললোঃ “মুহাম্মাদ (সঃ)-কে বলুন যে, সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং এখন বিদায় হয়ে যেতে হবে।” তখন নবী (সঃ) বেরিয়ে পড়লেন। এমন সময় হযরত হামযা (রাঃ)-এর কন্যা চাচা চাচা বলে তাঁর পিছন ধরলো। হযরত আলী (রাঃ) তখন তার অঙ্গুলী ধরে হযরত ফাতেমা (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে গেলেন এবং তাঁকে বললেনঃ “তোমার চাচার মেয়েকে ভালভাবে রাখো।” হযরত ফাতেমা (রাঃ) আনন্দের সাথে মেয়েটিকে তার পাশে বসালেন। এখন হযরত আলী (রাঃ), হযরত যায়েদ (রাঃ) এবং হযরত জাফর (রাঃ)-এর মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেল। হযরত আলী (রাঃ) বললেনঃ “আমি একে নিয়ে এসেছি, এটা আমার চাচার কন্যা।” হযরত জাফর (রাঃ) বললেনঃ “এটা আমার চাচাতো বোন এবং তার খালা আমার পত্নী।” হযরত যায়েদ (রাঃ) বললেনঃ “এটা আমার ভাইয়ের কন্যা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ ঝগড়ার মীমাংসা এই ভাবে করলেন যে, মেয়েটিকে তিনি তার খালাকে প্রদান করলেন এবং বললেন যে, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্তা।” হযরত আলী (রাঃ)-কে তিনি বললেনঃ “তুমি আমা হতে এবং আমি তোমা হতে (অর্থাৎ আমার ও আমি তোমার)।” হযরত জাফর (রাঃ)-কে বললেনঃ “দৈহিক গঠনে ও চরিত্রে আমার সাথে তোমার পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে ।" হযরত যায়েদ (রাঃ)-কে বললেনঃ “তুমি আমার ভাই ও আযাদকৃত ক্রীতদাস।" হযরত আলী (রাঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি হযরত হামযা (রাঃ)-এর কন্যাকে বিয়ে করছেন না কেন?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “এটা আমার দুধ ভাই-এর কন্যা। (তাই তার সাথে আমার বিবাহ বৈধ নয়)।"এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ জানেন তোমরা যা জান না। এটা ছাড়াও তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন এক সদ্য বিজয়।' অর্থাৎ এই সন্ধির মধ্যে যে যৌক্তিকতা রয়েছে তা আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন, তোমরা জান না। এরই ভিত্তিতে তোমাদেরকে এই বছর মক্কা যেতে দেয়া হলো না, বরং আগামী বছর যেতে দিবেন। আর এই যাওয়ার পূর্বেই যার ওয়াদা স্বপ্নের আকারে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে দেয়া হয়েছিল, তোমাদেরকে সেই আসন্ন বিজয় দান করা হলো। আর ঐ বিজয় হলো সন্ধি যা তোমাদের এবং তোমাদের শত্রুদের মধ্যে হয়ে গেল। এরপর আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে সুসংবাদ শুনাচ্ছেন যে, তিনি স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে এই শত্রুদের উপর এবং সমস্ত শক্রর উপর বিজয় দান করবেন। এজন্যেই তাকে তিনি পথ-নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। শরীয়তে এ দুটি জিনিসই থাকে, অর্থাৎ ইলম ও আমল। সুতরাং শরয়ী ইলমই সঠিক ও বিশুদ্ধ ইলম এবং শরয়ী আমলই হলো গ্রহণযোগ্য আমল। সুতরাং শরীয়তের খবরগুলো সত্য এবং হুকুমগুলো ন্যায়সঙ্গত।আল্লাহ তাআলা এটাই চান যে, সারা দুনিয়ায় আজমে, মুসলমানদের মধ্যে ও মুশরিকদের মধ্যে যতগুলো দ্বীন রয়েছে সবগুলোর উপরই স্বীয় দ্বীনকে জয়যুক্ত করবেন। এই কথার উপর আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট যে, মুহাম্মাদ (সঃ) আল্লাহর রাসূল এবং তিনিই তাঁর সাহায্যকারী। এসব ব্যাপারে মহিমাময় আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Lea, escuche, busque y reflexione sobre el Corán

Quran.com es una plataforma confiable utilizada por millones de personas en todo el mundo para leer, buscar, escuchar y reflexionar sobre el Corán en varios idiomas. Ofrece traducciones, tafsir, recitaciones, traducción palabra por palabra y herramientas para un estudio más profundo, haciendo que el Corán sea accesible para todos.

Como Sadaqah Jariyah, Quran.com se dedica a ayudar a las personas a conectar profundamente con el Corán. Con el apoyo de Quran.Foundation , una organización sin fines de lucro 501(c)(3), Quran.com continúa creciendo como un recurso gratuito y valioso para todos, Alhamdulillah.

Navegar
Inicio
Radio Coránica
Recitadores
Sobre nosotros
Desarrolladores
Actualizaciones de productos
Retroalimentación
Ayuda
Nuestros Proyectos
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Proyectos sin fines de lucro adquiridos, administrados o patrocinados por Quran.Foundation
Enlaces populares

Ayatul Kursi

Yasin

Al Mulk

Ar-Rahman

Al Waqiah

Al-Kahf

Al Muzzammil

Mapa del sitio webPrivacidadTérminos y condiciones
© 2026 Quran.com. Reservados todos los derechos