وارد شوید
🚀 به چالش رمضانی ما بپیوندید!
بیشتر بدانید
🚀 به چالش رمضانی ما بپیوندید!
بیشتر بدانید
وارد شوید
وارد شوید
۱۱۳:۹
ما كان للنبي والذين امنوا ان يستغفروا للمشركين ولو كانوا اولي قربى من بعد ما تبين لهم انهم اصحاب الجحيم ١١٣
مَا كَانَ لِلنَّبِىِّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن يَسْتَغْفِرُوا۟ لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوٓا۟ أُو۟لِى قُرْبَىٰ مِنۢ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَـٰبُ ٱلْجَحِيمِ ١١٣
مَا
كَانَ
لِلنَّبِيِّ
وَٱلَّذِينَ
ءَامَنُوٓاْ
أَن
يَسۡتَغۡفِرُواْ
لِلۡمُشۡرِكِينَ
وَلَوۡ
كَانُوٓاْ
أُوْلِي
قُرۡبَىٰ
مِنۢ
بَعۡدِ
مَا
تَبَيَّنَ
لَهُمۡ
أَنَّهُمۡ
أَصۡحَٰبُ
ٱلۡجَحِيمِ
١١٣
برای پیامبر و کسانی‌که ایمان آوردند (شایسته) نبود که برای مشرکان طلب آمرزش کنند، - هر چند از نزدیکان‌شان باشند- بعد از آنکه برای آن‌ها روشن شد که آن‌ها اهل دوزخند.
تفاسیر
درس ها
بازتاب ها
پاسخ‌ها
قیراط
شما در حال خواندن تفسیری برای گروه آیات 9:113 تا 9:114

১১৩-১১৪ নং আয়াতের তাফসীর: মুসনাদে আহমাদে ইবনুল মুসাইয়াব (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু তালিব যখন মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছিলেন, সেই সময় নবী (সঃ) তাঁর কাছে গমন করেন। ঐ সময় তাঁর কছে আবু জাহেল ও আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই উমাইয়া উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (স) বললেনঃ “হে চাচা! আপনি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করুন! এই বাক্যটিকেই আমি আপনার মার্জনার পক্ষে আল্লাহর নিকট হুজ্জত হিসেবে পেশ করবো।” তখন আবূ জাহেল এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই উমাইয়া বললোঃ “হে আবু তালিব! তুমি আব্দুল মুত্তালিবের মিল্লাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে?” আবু তালিব তখন বললেনঃ “আমি আব্দুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরই রয়ে গেলাম।” এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বললেনঃ “আমি ঐ পর্যন্ত আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবো যে পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা আমাকে নিষেধ না করেন। আল্লাহ তাআলা তখন। (আরবী) -এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। অর্থাৎ “নবী (সঃ) ও মুমিনদের জন্যে এটা জয়েয নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (আরবী) আয়াতটিও এই সম্পর্কেই নাযিল হয়। অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! নিশ্চয়ই তুমি যাকে ভালবাস তাকে তুমি হিদায়াত করতে পার না, বরং আল্লাহই যাকে চান তাকে তিনি হিদায়াত করে থাকেন।” (২৮:৫৬)আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-আমি একজন লোককে দেখলাম যে, তার মুশরিক পিতা-মাতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছে। আমি তাকে বললাম, তুমি তোমার মুশরিক পিতা-মাতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছো! সে তখন বললোঃ “ইবরাহীম (আঃ) কি তার মুশরিক পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি?” আমি ঘটনাটি নবী (সঃ)-এর সামনে বর্ণনা করলাম। তখন (আরবী) -এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।(আরবী) -এর পরে (আরবী) -এই শব্দগুলোও বলা হয়েছে। কিন্তু আমি বলতে পারি না যে, সুফিয়ান (রঃ) স্বয়ং বলেছেন, কিংবা ইসরাঈল (রঃ) বলেছেন, অথবা স্বয়ং হাদীসেই এই শব্দগুলো রয়েছে। আমি বলি- এটা প্রমাণিত যে, এই শব্দগুলো মুজাহিদ (রঃ) বলেছেন।বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (সঃ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা এক জায়গায় অবতরণ করি। আমরা প্রায় এক হাজার আরোহী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেখানে দু'রাকাআত সালাত পড়েন। অতঃপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসেন। আমরা দেখলাম যে, তার চক্ষু দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। উমার (রাঃ) তার কাছে এসে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উৎসর্গিত হোন! আপনার কাঁদার কারণ কি?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করেছিলমি যে, আমাকে যেন আমার মায়ের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি। তখন আগুনের ভয়ে আমার মায়ের প্রতি আমার করুণার উদ্রেক হলো এবং এ কারণেই আমার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। ইতিপূর্বে আমি তোমাদেরকে তিনটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছিলাম। তোমাদেরকে আমি কবর যিয়ারত হতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন থেকে তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার; উদ্দেশ্য শুধু এটাই যে, এর ফলে তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে এবং তোমরা কল্যাণের দিকে ঝুঁকে পড়বে। ইতিপূর্বে আমি তোমাদেরকে কুরবানীর গোশত তিন দিনের বেশী জমা রাখতে নিষেধ করেছিলাম। এখন হতে তোমরা যত ইচ্ছা খেতে পার এবং যত দিন ইচ্ছা জমা করে রাখতে পার। ইতিপূর্বে আমি তোমাদেরকে চারটি পান-পাত্র থেকে নিষেধ। করেছিলাম। কিন্তু এখন থেকে তোমরা যে কোন পাত্র থেকেই পনি করতে পার। কিন্তু কোন নেশা আনয়নকারী জিনিস পান করো না। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সঃ) যখন মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন তখন তিনি পথে একটি কবরের পার্শ্বে এসে বসে পড়েন এবং কবরকে সম্বোধন করতে শুরু করেন। অতঃপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে উঠে পড়েন। তখন আমরা বলি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি যা করেছেন তা আমরা দেখেছি। তিনি বলেনঃ “আমি আল্লাহ তাআলার নিকট আমার মায়ের কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়েছেন। অতঃপর আমি তাঁর জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি চাইলে আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি।” সেই দিন তিনি এতো বেশী কেঁদেছিলেন যে, ইতিপূর্বে আমরা তাকে কখনো এতো কাঁদতে দেখিনি। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) গোরস্থানের দিকে বেরিয়ে যান। আমরাও তাঁর অনুসরণ করি। তিনি একটি কবরের পাশে বসে পড়েন। অতঃপর তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে মুনাজাত করতে থাকেন। তারপর তিনি কাঁদতে শুরু করেন। তাঁকে কাঁদতে দেখে আমরাও কাঁদতে থাকি। উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) তাঁর কাছে যান। তিনি উমার (রাঃ)-কে এবং আমাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমরা কাঁদছিলে কেন?" আমরা উত্তরে বলি, আপনাকে কাদতে দেখে আমাদেরও কান্না এসে যায়। তিনি তখন বলেনঃ “আমি যে কবরের নিকট বসেছিলাম সেটা আমার মায়ের কবর । আমি আল্লাহ তাআলার নিকট এই কবর যিয়ারত করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দান করেন।” (এই হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) তাঁর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন) এ হাদীসটি অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীসটিরই প্রায় অনুরূপ। তবে তাতে এ কথাও রয়েছে- “আমি আমেনার জন্যে দুআ করার অনুমতি চাই। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা অনুমতি দেননি এবং তিনি উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন। সুতরাং মাতার জন্যে ছেলের মন যেমন দুঃখিত হয় দ্রুপ আমার মনও দুঃখিত হয়েছে। আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করা থেকে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন হতে তোমরা কবর যিয়ারত করবে। কেননা, এটা আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।”ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তাবুকের যুদ্ধ হতে ফিরে আসেন ও উমরার নিয়ত করেন এবং যখন তিনি ‘গাসফান' ঘাঁটি হতে অবতরণ করেন তখন স্বীয় সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেনঃ “তোমরা আকাবায় বিশ্রাম কর, আমি তোমাদের কাছে (কিছুক্ষণের মধ্যেই) ফিরে আসছি।” তিনি সেখানে তার মায়ের কবরের পার্শ্বে অবস্থান করলেন। সেখানে তিনি অনেকক্ষণ স্বীয় প্রতিপালকের নিকট মুনাজাত করলেন। তারপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। এবং বহুক্ষণ ধরে কাঁদলেন। তাঁকে কাঁদতে দেখে লোকেরাও কাঁদতে লাগলেন। এবং বললেনঃ “এখানে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কোন জিনিস কাঁদালো? তার উম্মতের ব্যাপারে এমন নতুন কিছু কি ঘটেছে যা তিনি সহ্য করতে পারছেন না?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) লোকদেরকে কাঁদতে দেখে তাদের কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমরা কাঁদছো কেন?” তারা উত্তরে বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকে কাঁদতে দেখে আমাদেরও কান্না এসে গেল। আমাদের ধারণা হলো যে, আপনার উম্মতের ব্যাপারে হয়তো এমন নতুন কিছু ঘটেছে যা আপনি সহ্য করতে পারছেন না। তিনি তখন বললেন, না, না, এটা একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল। ঘটনা এই যে, আমি আমার মায়ের কবরের পার্শ্বে অবস্থান করছিলাম এবং কিয়ামতের দিন তার শাফাআতের জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করেছিলাম। কিন্তু তিনি অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছেন। এতে আমার অন্তর ফেটে যায়। কেননা তিনি আমার মা। তাই, আমি কাঁদছিলাম । এরপর জিবরাঈল (আঃ) আমার নিকট আগমন করেন এবং বলেন, ইবরাহীম (আঃ)-এর তাঁর পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা শুধু এ কারণেই ছিল যে, তিনি তাঁর পিতার সাথে অঙ্গীকার করে বলেছিলেনঃ “আমি আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তিনি তা থেকে বিরত থাকেন। সুতরাং হে নবী (সঃ)! ইবরাহীম (আঃ) যেমন তাঁর পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে বিরত থেকেছিলেন, তদ্রুপ আপনিও আপনার মায়ের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে বিরত থাকুন।” তিনি তো আমার মা ছিলেন। কাজেই এটা আমার মনে রেখাপাত করবে না কেন? আর আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি আমার উম্মত হতে যেন চারটি জিনিসের বোঝা উঠিয়ে নেন। তখন অল্লিাহ তা'আলা দুটি শাস্তি উঠিয়ে নেন এবং দু'টি বাকী রেখে দেন। আমি দুআ করেছিলাম যে, আমার উম্মতের উপর যেন আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত না হয়, যেমন অন্যান্য উম্মতদের উপর বর্ষিত হয়েছিল।আমি প্রার্থনা করেছিলাম যে, শাস্তি হিসাবে আমার উম্মতকে যেন যমীনে ধ্বসিয়ে দেয়া না হয়। আরও প্রার্থনা করেছিলাম যে, আমার উম্মত যেন বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে না পড়ে।আমার আর একটি প্রার্থনা ছিল এই যে, আমার উম্মত যেন পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে না পড়ে। আল্লাহ তা'আলা প্রথম দু’টি ককূল করেন বটে, কিন্তু পরের দু'টি কবুল করেননি।” (এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) রাসূলুল্লাহ (সঃ) রাস্তা কেটে তাঁর মায়ের কবরের নিকট গিয়েছিলেন। কেননা তাঁর মায়ের কবর একটি টিলার নীচে ছিল। এ হাদীসটি গারীব। এর বর্ণনা বিস্ময়কর বটে। এর চেয়ে বেশী বিস্ময়কর ও অস্বীকারযোগ্য হচ্ছে ঐ রিওয়ায়াতটি যা খাতীব বাগদাদী তাঁর কিতাবুস সায়েক ওয়াল লাহিক’ নামক গ্রন্থে অপরিচিত সনদে বর্ণনা করেছেন এবং আয়েশা (রাঃ) হতে ইসনাদ জুড়ে দিয়েছেন। কাহিনীটি এইভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মাতা আমেনাকে জীবিত করেছিলেন এবং জীবিত হয়ে তিনি ঈমান এনেছিলেন । তারপর মারা গিয়েছিলেন। সাহীলীও ‘রাও’ এর মধ্যে অপরিচিত একটি দলের সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিতা ও মাতা উভয়কেই জীবিত করেছিলেন এবং তাঁরা ঈমান এনেছিলেন। হাকিম ইবনে দাহইয়া (রঃ) বলেন যে, এ হাদীসটি মিথ্যা। কুরআন ও ইজমা উভয়ই এটাকে রদ করছে। আল্লাহ তী'আলা স্বয়ং কুরআন কারীমে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ আর ঐ লোকদেরকে ক্ষমা করা হবে না যারা কুফরী অবস্থায় মারা গেছে।” (৪:১৮) আবু আবদিল্লাহ কুরতুবী (রঃ) বলেন। যে, এই হাদীসের দাবীর উপর চিন্তা করা হাক এবং তিনি বড় রকমের তীর মেরে এই দলীল পেশ করেছেন যে, এই নব জীবন দান ঠিক এই রূপেই হতে পারে যেমন আসরের সময় চলে যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মু'জিযা বলে সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর পুনরায় বেরিয়ে আসে এবং তিনি আসরের সালাত আদায় করেন। এই দলীল দ্বারা তিনি ইবনে দাহ্ইয়ার উক্তি খণ্ডন করেছেন। সূর্য পুনঃউদয় হাদীসটি প্রমাণিত। কুরতবী বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিতা-মাতার পুনর্জীবন লাভ জ্ঞানের দিক দিয়েও অসম্ভব নয় এবং শরীয়তের দিক দিয়েও অসম্ভব নয়। আমি তো এ কথাও শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চাচা আবু তালিবকেও জীবিত করেছিলেন এবং তিনি ঈমান এনেছিলেন।” আমি বলি-এটা হাদীসের বিশুদ্ধতার উপর নির্ভরশীল। যদি হাদীস বিশুদ্ধ হয় তবে তা মানতে কোন বাধা নেই। আর যদি হাদীসই সহীহ না হয় তবে কোন ঝগড়াই নেই। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।আওফী (রঃ) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) তাঁর মাতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার ইচ্ছা করেছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা থেকে নিষেধ করে দেন। তখন তিনি বলেন “ইবরাহীম খালীলুল্লাহ (আঃ) তো তাঁর পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এ সময় আল্লাহ তা'আলা (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, লোকেরা তাদের মৃতদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতো। তখন (আরবী) আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। জনগণ তখন ঐ নাজায়েয ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু মুসলিমদেরকে তাদের জীবিত মুশরিক আত্মীয় স্বজনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয়নি।কাতাদা (রঃ) এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, নবী (সঃ)-এর সাহাবীদের কতকগুলো লোক তাকে বললেন, হে আল্লাহর নবী (সঃ)! আমাদের পূর্বপুরুষরা বড়ই সৎ লোক ছিল। তারা প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত রাখতে অভ্যস্ত ছিল। তারা বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে নেয়ার এবং জনগণের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যাপারে টাকা পয়সা খরচ করতো। আমরা কি ঐ মৃতদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো না? উত্তরে নবী (সঃ) বললেনঃ “কেন করবে না? আল্লাহর শপথ! আমিও ইবরাহীম (আঃ)-এর মত আমার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো।” তখনই উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। অতঃপর ইবরাহীম (আঃ)-কে ক্ষমার্হ সাব্যস্ত করে বলছেন যে, তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা শুধুমাত্র ঐ ওয়াদার কারণে ছিল যা তিনি তাঁর পিতার সাথে করেছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমার উপর এমন কতকগুলো কালেমার অহী করলেন যা আমার কানে গুঞ্জরিত হচ্ছে এবং আমার অন্তরে বদ্ধমূল হয়েছে। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীদের জন্যে আমি ক্ষমা প্রার্থনা না করি। আর যে ব্যক্তি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাল সাদকা করে দিলো সেটা তার জন্যে বড় রকমের কল্যাণ লাভের কারণ হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তা থেকে বিরত থাকলো, সেটা তার জন্যে হবে বড়ই ক্ষতির কারণ। যারা প্রয়োজন মোতাবেক আহার করে ও খরচ করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার কোন আপত্তি নেই।ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একবার একজন ইয়াহুদী মারা যায়। তার পুত্র ছিল মুসলিম। সে তার ঐ পিতার কাফন দাফনের জন্যে বেরিয়ে আসলো না। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এটা জানতে পেরে বললেনঃ “তার পুত্রের উচিত ছিল তার (ইয়াহূদী) পিতার কাফন দাফনের ব্যবস্থা করে দেয়া এবং তার জীবিত থাকা পর্যন্ত তার কল্যাণের নিমিত্ত প্রার্থনা করা এবং মৃত্যুর পরে তার নিজের অবস্থার উপর সমর্পণ করা। এরপর আর তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা চলবে না।” এর সঠিকতার প্রমাণ পাওয়া যায় আলী (রাঃ)-এর নিম্ন বর্ণিত রিওয়ায়াত দ্বারা তিনি বলেন, যখন (আমার পিতা) আবু তালিব মারা যান তখন আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার পথভ্রষ্ট পিতৃব্য মারা গেছেন, সুতরাং এখন কি করা যায়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “তাকে দাফন করে দাও। আর কিছুই করতে হবে না। এরপর আমার কাছে আসবে।” অতঃপর সম্পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করা হয়। আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে যখন আবূ তালিবের জানাযা গমন করে তখন তিনি (আবেগে তার মৃতদেহকে) সম্বোধন করে বলেনঃ “হে চাচা! আমি আপনার আত্মীয়তার সম্পর্কের হক আদায় করে দিয়েছি।” আতা ইবনে আবু রাবাহ (রঃ) বলেনঃ “আমি কোন আহলৈ কিবলার জানাযার সালাত পড়তে বাধা দেবো না, যদিও সে ব্যভিচার দ্বারা গর্ভধারিণী হাবশী মহিলাও হয়। কেননা, জানাযার সালাত হচ্ছে দুআ। আর মুশরিক ছাড়া আর কারো জন্যে দুআ করতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেননি।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)রামিল (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর দয়া করুন যে ব্যক্তি আবু হুরাইরা (রাঃ) ও তাঁর মাতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কৱে।” আমি জিজ্ঞেস করলামঃ “আর তাঁর পিতার জন্যে?” তিনি উত্তরে বললেন- “না, আমার পিতা মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছে।”(আরবী) সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ইবরাহীম (আঃ) তার পিতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তার মৃত্যুর পর যখন তিনি অবহিত হলেন যে, সে আল্লাহর শত্রু ছিল তখন তিনি তা থেকে বিরত থাকেন। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন ইবরাহীম (আঃ) যখন পিতার সাথে মিলিত হবেন তখন দেখবেন যে, সে অত্যন্ত ব্যাকুল ও উদ্বিগ্ন হয়ে ফিরছে। তিনি তার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হয়ে যাবেন। ঐ সময় তাঁর পিতা তাঁকে বলবেঃ “হে ইবরাহীম (আঃ)! (দুনিয়ায়) আমি তোমার কথা মানিনি। কিন্তু আজ আমি তোমার কোন কথাই অমান্য করবো না।” তখন ইবরাহীম (আঃ) বলবেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি কি আমার সাথে ওয়াদা করেননি যে, কিয়ামতের দিন আমাকে অপমানিত করবেন না? তাহলে আজকের দিন এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে (যে, আমার পিতা অত্যন্ত লাঞ্ছিতভাবে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে)?” তখন তাকে বলা হবেঃ “তোমার পিছন দিকে তাকাও।” তিনি তখন দেখতে পাবেন যে, একটি অর্ধমৃত জানোয়ার পড়ে রয়েছে এবং একটি বেজীর আকারে রূপান্তরিত হয়েছে। ওর পা ধরে টেনে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, শব্দের অর্থ হচ্ছে অত্যধিক প্রার্থনাকারী। শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা নবী (সঃ)-এর নিকট বসেছিলেন। এমন সময় একটি লোক জিজ্ঞেস করলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! শব্দের অর্থ কি?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “অত্যন্ত বিনয় প্রকাশকারী ।” ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর অর্থ ‘দয়ালু’ বলেছেন। হাসনি বসরী (রঃ), কাতাদা (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ বান্দাদের প্রতি দয়ালু। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর অর্থ মুমিন বলেছেন। আলী ইবনে আবি তলিহা (রঃ) এর অর্থ তাওবাকারী মুমিন বলেছেন। উকবা ইবনে আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যুন্নাজাদীন (রাঃ) নামক একটি লোক সম্পর্কে বলেনঃ “নিশ্চয়ই এই লোকটি (আরবী) বটে।” এর কারণ এই যে, কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই আল্লাহ তা'আলার নাম আসতো সেখানেই তিনি উচ্চৈঃস্বরে প্রার্থনা করতে শুরু করতেন। (এই হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সকাল বেলায় যে ব্যক্তি তাসবীহ পাঠরত থাকে তাকেই (আরবী) বলা হয়। আবু আইয়ুব (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে নিজের গুনাহকে স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)মুসলিম ইবনে বায়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক খুব বেশী তাসবীহ পাঠ করতেন, তখন আল্লাহর নবী (সঃ) তাঁকে (আরবী) বলেন। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর নবী (সঃ) একটি লোককে দাফন করার পর বলেনঃ “আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন! তুমি তো একজন (আরবী) ছিলে।” এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, লোকটি কুরআন কারীমের একজন বড় পাঠক ছিলেন। একটি লোক কাবা শরীফ তাওয়াফ করা অবস্থায় দুআ' করার সময় আহ! আহ! করতেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে তাঁর আলোচনা হলে তিনি বলেনঃ সে (আরবী) ছিল। আবু যার (রাঃ) বলেনঃ “একদা রাত্রে আমি বাইরে বের হয়ে দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ লোকটিকেই দাফন করছেন এবং তার সাথে প্রদীপ রয়েছে।” এ হাদীসটি গারীব বা দুর্বল। এটা ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। সর্বাপেক্ষা উত্তম কথা এই যে, শব্দের অর্থ হচ্ছে দুআ' বা প্রার্থনা। আর এটা বচন রীতির উপযুক্ত ও যোগ্যও বটে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করলেন যে, ইবরাহীম (আঃ)-এর দুআ’র ভিত্তি ছিল ওয়াদার উপর এবং তিনি অধিক প্রার্থনাকারী ছিলেন, দুর্ব্যবহারকারীর ব্যাপারে তিনি ছিলেন সহিষ্ণু। তাই তো তিনি পিতার নিকট থেকে কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সে (ইবরাহীমের আঃ পিতা) বললো, হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার মা’দগণ হতে ফিরে আছ (এবং আমাকেও বারণ করছে)? (স্মরণ রেখো) যদি তুমি এটা হতে নিবৃত্ত না হও, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাকে প্রস্তরাঘাতে মেরে। ফেলবো, আর দূর হয়ে যাও আমা হতে চিরতরে। ইবরাহীম বললো, আমার সালাম গ্রহণ কর, এখন আমি তোমার জন্যে আমার প্রতিপালকের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করবো; নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।” (১৯:৪৬-৪৭) মোটকথা, পিতা থেকে কষ্ট পাওয়া সত্ত্বেও ইবরাহীম (আঃ) সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেছিলেন। তিনি পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা তাকে (আরবী) বা সহিষ্ণু উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
قرآن بخوانید، گوش دهید، جستجو کنید و در قرآن فکر کنید

Quran.com یک پلتفرم قابل اعتماد است که میلیون‌ها نفر در سراسر جهان برای خواندن، جستجو، گوش دادن و تأمل در مورد قرآن به زبان‌های مختلف از آن استفاده می‌کنند. این پلتفرم ترجمه، تفسیر، تلاوت، ترجمه کلمه به کلمه و ابزارهایی برای مطالعه عمیق‌تر ارائه می‌دهد و قرآن را برای همه قابل دسترسی می‌کند.

به عنوان یک صدقه جاریه، Quran.com به کمک به مردم برای ارتباط عمیق با قرآن اختصاص دارد. Quran.com با حمایت Quran.Foundation ، یک سازمان غیرانتفاعی 501(c)(3)، به عنوان یک منبع رایگان و ارزشمند برای همه، به لطف خدا، به رشد خود ادامه می‌دهد.

پیمایش کنید
صفحه اصلی
رادیو قرآن
قاریان
درباره ما
توسعه دهندگان
به روز رسانی محصول
بازخورد
کمک
پروژه های ما
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
پروژه های غیرانتفاعی تحت مالکیت، مدیریت یا حمایت شده توسط Quran.Foundation
لینک های محبوب

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

نقشه سایتحریم خصوصیشرایط و ضوابط
© ۲۰۲۶ Quran.com. تمامی حقوق محفوظ است