Registrazione
🚀 Partecipa alla nostra sfida del Ramadan!
Scopri di più
🚀 Partecipa alla nostra sfida del Ramadan!
Scopri di più
Registrazione
Registrazione
22:28
ليشهدوا منافع لهم ويذكروا اسم الله في ايام معلومات على ما رزقهم من بهيمة الانعام فكلوا منها واطعموا البايس الفقير ٢٨
لِّيَشْهَدُوا۟ مَنَـٰفِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا۟ ٱسْمَ ٱللَّهِ فِىٓ أَيَّامٍۢ مَّعْلُومَـٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلْأَنْعَـٰمِ ۖ فَكُلُوا۟ مِنْهَا وَأَطْعِمُوا۟ ٱلْبَآئِسَ ٱلْفَقِيرَ ٢٨
لِّيَشۡهَدُواْ
مَنَٰفِعَ
لَهُمۡ
وَيَذۡكُرُواْ
ٱسۡمَ
ٱللَّهِ
فِيٓ
أَيَّامٖ
مَّعۡلُومَٰتٍ
عَلَىٰ
مَا
رَزَقَهُم
مِّنۢ
بَهِيمَةِ
ٱلۡأَنۡعَٰمِۖ
فَكُلُواْ
مِنۡهَا
وَأَطۡعِمُواْ
ٱلۡبَآئِسَ
ٱلۡفَقِيرَ
٢٨
per partecipare ai benefici che sono stati loro concessi; ed invocare il Nome di Allah nei giorni stabiliti, sull’animale del gregge che è stato loro attribuito in nutrimento. Mangiatene voi stessi e datene al bisognoso e al povero 1.
Tafsir
Lezioni
Riflessi
Risposte
Qiraat
Stai leggendo un tafsir per il gruppo di versi 22:28 a 22:29

২৮-২৯ নং আয়াতের তাফসীর: মহান আল্লাহ বলেনঃ যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলিতে উপস্থিত হতে পারে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওটা হলো দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের কল্যাণ। আখেরাতের কল্যাণ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দুনিয়ার কল্যাণ হলো দৈহিক উপকার, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে এতে তোমাদের উপর পাপ নেই।” (২৪ ১৯৮)।হজ্জের মৌসুমে ব্যবসা করা অবৈধ নয়। নির্দিষ্ট দিনগুলি দ্বারা যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর নিকট কোন দিনের আমল এই দিনগুলির আমল অপেক্ষা উত্তম নয়।" জনগণ জিজ্ঞেস করেনঃ “জিহাদও নয় কি?" তিনি জবাবে বলেনঃ “না, জিহাদও নয়। তবে ঐ মুজাহিদের আমল এর ব্যতিক্রম যে তার জান ও মাল আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দিয়েছে।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারীতে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে) আমি এই হাদীসটি এর সমস্ত সনদসহ একটি স্বতন্ত্র কিতাবে জমা করে দিয়েছি। একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ। তাআলার নিকট কোন দিনের আমল এই দিনগুলির আমল অপেক্ষা বড় ও প্রিয় নয়। সুতরাং তোমরা এই দশদিনে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ' “আল্লাহু আকবার' এবং 'আলহামদু লিল্লাহ’ খুব বেশী বেশী পাঠ করো। এইদিনগুলিরই শপথ। (৮৯:১-২)। (আরবী) (শপথ ফজরের ও শপথ দশ রজনীর) এই উক্তিতে রয়েছে।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে) পূর্ব যুগীয় কোন কোন গুরুজন বলেছেন যে, (৭:১৪২) (আরবী) (আমি ওটাকে দশ দ্বারা পূর্ণ করেছি) এই উক্তি দ্বারাও এই দশ দিনকেই বুঝানো হয়েছে। সুনানে আবি দাউদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই দশদিন রোযা রাখতেন। এই দশদিন আরাফার দিনকেও অন্তর্ভুক্ত করে। হযরত আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহকে (সঃ) আরাফার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “এর মাধ্যমে আল্লাহ পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে থাকেন।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)আর এই দশদিন ইয়াওমুন নাহর (কুরবানীর দিন) কেও শামিল করে যা হলো হাজ্জে আকবারের দিন। হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তাআলার নিকট এই দিনগুলি সর্বোত্তম দিন। মোট কথা, বছরের মধ্যে এই দশদিনকে সর্বোত্তম দিন বলা হয়েছে, যেমন হাদীস দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো। অনেকে এই দশ দিনকে রমাযান মাসের শেষের দশ দিনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা, রমাযান মাসের শেষ দশ দিনে যেমন নামায, রোযা, সাকা ইত্যাদি রয়েছে, অনুরূপভাবে ওগুলি এই দশ দিনের মধ্যেও রয়েছে। উপরন্তু এই দিনগুলিতে হজ্জব্রতও পালন করা হয়। আবার একথাও বলা হয়েছে যে, রমাযানের মাসের শেষ দশ দিনই উত্তম। কেননা, এতে লাইলাতুল কদ্র রয়েছে। যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তৃতীয় উক্তিটি হলো মাঝামাঝি। অর্থাৎ যিল হজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের দিনগুলি উত্তম এবং রমযানুল মুবারকের শেষ দশ দিনের রাতগুলি উত্তম। এই উক্তিটি মেনে নেয়ার বিভিন্ন দলীল একত্রিত হয়। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে।(আরবী) (নির্দিষ্ট দিনসমূহ)-এর তাফসীরে অন্য একটি উক্তি এই যে, এইদিনগুলি হলো কুরবানীর দিন এবং ওর পরবর্তী তিন দিন। হযরত ইবনু উমার (রাঃ) ও হযরত ইবরাহীম নাঈ (রাঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বলের (রঃ) মাযহাবও এটাই। তৃতীয় উক্তি এই যে, (আরবী) হলো ঈদুল আযহার দিন ও পরবর্তী দু’দিন। মোট তিন দিন। আর হলো ঈদল আযহা এবং ওর পরবর্তী তিন দিন, মোট চার দিন। (এর ইসনাদ হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) পর্যন্ত বিশুদ্ধ) সুদ্দীও (রঃ) এটাই বলেন। ইমাম মালিকেরও এটাই মাযহাব। এর এবং এর পূর্ববর্তী উক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করে মহান আল্লাহর নিম্নের- (আরবী) এই উক্তিটি। কেননা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পর কুবরানীর সময় আল্লাহ তাআলার নাম নেয়া। চতুর্থ উক্তি এই যে, (আরবী) দ্বারা আরাফার দিন, ঈদুল আযহার দিন এবং ওর পরবর্তী একদিনকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম আবূ হানীফার (রঃ) মাযহাব এটাই। হযরত আসলাম (রঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, এর দ্বারা আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়ামে তাশরীক (১১ই, ১২ই ও ১৩ই যিলহজ্ঞকে আইয়ামে তাশরীক বলা হয়) কে বুঝানো হয়েছে। (আরবী) দ্বারা উট, গরু ও বকরীকে বুঝানো হয়েছে। যেমন সূরায়ে আনআমের (আরবী) (৬:১৪৩) এই আয়াতে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমরা নিজেরা ওটা হতে আহার কর এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তদেরকে আহার করাও। এর দ্বারা কতকগুলি লোক দলীল গ্রহণ করেছেন যে, কুরবানীর গোশত ভক্ষণ করা ওয়াজিব কিন্তু এই উক্তিটি গারীব বা দুর্বল। অধিকাংশ বুর্গের মাযহাব এই যে, এতে অবকাশ রয়েছে। বা এটা মুসতাহাব। যেমন হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কুরবানী করার পর প্রত্যেক উটের গোশতের একটা খণ্ড বের করে তা রান্না করার নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি ঐ গোশত খান ও শুরুয়া পান করেন। ইমাম মালিক (রঃ) বলেনঃ “আমি এটা পছন্দ করি যে, কুরবানীর গোশত কুরবানী দাতা খাবে। কেননা, এটা আল্লাহ তাআলার নির্দেশ। ইবরাহীম (রঃ) বলেন যে, মুশরিকরা তাদের কুরবানীর গোশত খেতো না। পক্ষান্তরে মুসলমানদেরকে কুরবানীর গোশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন যে চাইবে খাবে এবং ইচ্ছা না হলে খাবে না। হযরত মুজাহিদ (রঃ) ও হযরত আতা (রঃ) হতেও এরূপই বর্ণিত আছে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে কুরবানীর গোশত ভক্ষণের নির্দেশ দান আল্লাহ তাআলার (আরবী) অর্থাৎ “যখন তোমরা ইহরাম থেকে হালাল হবে তখন তোমরা শিকার কর।”(৫:২) এই নির্দেশ দানের মতই। অনুরূপভাবে সূরায়ে জুমুআ’য় রয়েছে।অর্থাৎ “যখন নামায পুরো করা হয়ে যাবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়।” (৬২:১০) ভাবার্থ এই যে, দু’টি আয়াতে শিকার করা ও জীবিকা অন্বেষণে যমীনে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। তদ্রুপ কুরবানীর গোশত খাওয়ার নির্দেশও ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক নয়। ইমাম ইবনু জারীর এই উক্তিটিই পছন্দ করেছেন। কোন কোন লোকের ধারণা এই যে, কুরবানীর গোশতকে দু'ভাগ করতে হবে। একভাগ হলো কুরবানী দাতার এবং অপর ভাগ হলো ফকীর মিসকীনের। আর কেউ কেউ বলেন যে, তিন ভাগ করা উচিত। এক ভাগ হাদিয়ার জন্যে, এক ভাগ সাদকার জন্যে এবং এক ভাগ নিজের জন্যে। প্রথম উক্তিকারীরা দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (আরবী) এই উক্তিকে এবং দ্বিতীয় উক্তিকারীরা দলীল হিসেবে নিয়েছেন- (আরবী) এই উক্তিকে। এর পূর্ণ বর্ণনা আসবে ইনশা আল্লাহ। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, (আরবী) দ্বারা ঐ দুঃস্থ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ভিক্ষাবৃত্তি হতে নিবৃত্ত থাকে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, যে ভিক্ষার হাত লম্বা করে না।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওটা হলো ইহরাম খুলে ফেলা, মাথা মুণ্ডন করা, কাপড় পরিধান করা, নখ কাটা ইত্যাদি। এরপর বলা হচ্ছেঃ তারা যেন তাদের মানত পূর্ণ করে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর অর্থ হলোঃ তারা যে কুরবানীর নজর মেনেছে তা যেন করে ফেলে। আর মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এর অর্থ হলোঃ হজ্জের মানত, কুরবানী এবং মানুষ যা কিছু মানত করে থাকে।সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয় তার দায়িত্বে রয়েছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো, আরাফার মাঠে যাওয়া, মুযদালাফায় হাযির হওয়া, শয়তানদেরকে পাথর মারা ইত্যাদি। এই সবগুলোই পুরো করতে হবে এবং সঠিক ভাবে পালন করতে হবে।মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা যেন তাওয়াফ করে প্রাচীন গৃহের। অর্থাৎ এই তাওয়াফ হলো কুরবানীর দিনের ওয়াজিব তাওয়াফ। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, হজ্জের শেষ কাজ হলো বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করা। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এটাই করেছেন। তিনি যখন ১০ই যিলহজ্জ মিনার দিকে ফিরে আসেন তখন সর্বপ্রথম শয়তানকে সাতটি পাথর মারেন। তারপর কুরবানী করেন। এরপর মাথা মুণ্ডন করেন। তারপর ফিরে এসে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “লোকদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তাদের শেষ কাজ হলো বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ। হাঁ, তবে ঋতুবতী নারীদের জন্যে হালকা করে দেয়া হয়েছে।(আরবী) (প্রাচীন ঘর) শব্দ দ্বারা দলীল গ্রহণ করে বলা হয়েছে। যে, বায়তুল্লাহ শরীফ প্রদক্ষিণকারীদেরকে তাদের প্রদক্ষিণের মধ্যে হাতীমকেও নিয়ে নিতে হবে। কেননা, ওটাও মূল বায়তুল্লাহরই অংশ। এটা হযরত ইবরাহীমের (আঃ) ভিত্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্ত কুরায়েশরা ঐ ঘর নতুনভাবে নির্মাণ করবার সময় হাতীমকে বাইরে রেখে দেয়। এটার কারণ ছিল অর্থের স্বল্পতা। এ ছাড়া আর কিছুই নয়। এজন্যেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) হাতীমের পিছনে থেকে তাওয়াফ করেন এবং ঘোষণাও করেন যে, হাতীম বায়তুল্লাহরই অন্তর্ভুক্ত। তিনি শামীরুকন দ্বয়ে হাত লাগান নাই এবং চুম্বনও দেন নাই। কেননা, ও দুটো হযরত ইবরাহীমের (আঃ) ভিত্তি অনুযায়ী পুরো হয় নাই। এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হাতীমের পিছনে থেকে তাওয়াফ করেন। প্রথমে এই প্রকারেরই ইমারত ছিল যে, এটা ভিতরে ছিল। এ জন্যেই এটাকে পুরাতন ঘর বলা হয়েছে। এটাই আল্লাহর প্রথম ঘর। এটাকে প্রাচীন ঘর বলার আর একটি কারণ এই যে, এটা হযরত নুহের (আঃ) তুফানের সময় অক্ষত অবস্থায় ছিল। এটাও একটা কারণ যে, কোন উদ্ধত ও দুষ্ট লোক এর উপর জয়যুক্ত হতে পারে নাই। এটা সব সময় তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সেই ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ তাঁর এ ঘরকে ঐ সব দুষ্ট লোকদের আধিপত্য হতে সদা মুক্ত রেখেছেন। জামে তিরমিযীতে এই ধরণের একটি মারফু হাদীসও রয়েছে যা হাসান গারীব। আর একটি সনদে মুরসাল রূপেও বর্ণিত আছে।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Leggi, ascolta, cerca e rifletti sul Corano

Quran.com è una piattaforma affidabile utilizzata da milioni di persone in tutto il mondo per leggere, cercare, ascoltare e riflettere sul Corano in diverse lingue. Offre traduzioni, tafsir, recitazioni, traduzioni parola per parola e strumenti per uno studio più approfondito, rendendo il Corano accessibile a tutti.

In qualità di Sadaqah Jariyah, Quran.com si impegna ad aiutare le persone a entrare in contatto profondo con il Corano. Supportato da Quran.Foundation , un'organizzazione no-profit 501(c)(3), Quran.com continua a crescere come risorsa gratuita e preziosa per tutti, Alhamdulillah.

Navigare
Casa
Radio del Corano
Recitatori
Chi siamo
Sviluppatori
Aggiornamenti del prodotto
Feedback
Aiuto
I nostri progetti
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Progetti senza scopo di lucro posseduti, gestiti o sponsorizzati da Quran.Foundation
Link popolari

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Mappa del sitoPrivacyTermini e Condizioni
© 2026 Quran.com. Tutti i diritti riservati