Registrazione
🚀 Partecipa alla nostra sfida del Ramadan!
Scopri di più
🚀 Partecipa alla nostra sfida del Ramadan!
Scopri di più
Registrazione
Registrazione
74:31
وما جعلنا اصحاب النار الا ملايكة وما جعلنا عدتهم الا فتنة للذين كفروا ليستيقن الذين اوتوا الكتاب ويزداد الذين امنوا ايمانا ولا يرتاب الذين اوتوا الكتاب والمومنون وليقول الذين في قلوبهم مرض والكافرون ماذا اراد الله بهاذا مثلا كذالك يضل الله من يشاء ويهدي من يشاء وما يعلم جنود ربك الا هو وما هي الا ذكرى للبشر ٣١
وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَـٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَـٰٓئِكَةًۭ ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَـٰنًۭا ۙ وَلَا يَرْتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَـٰبَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْكَـٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًۭا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ ٣١
وَمَا
جَعَلۡنَآ
أَصۡحَٰبَ
ٱلنَّارِ
إِلَّا
مَلَٰٓئِكَةٗۖ
وَمَا
جَعَلۡنَا
عِدَّتَهُمۡ
إِلَّا
فِتۡنَةٗ
لِّلَّذِينَ
كَفَرُواْ
لِيَسۡتَيۡقِنَ
ٱلَّذِينَ
أُوتُواْ
ٱلۡكِتَٰبَ
وَيَزۡدَادَ
ٱلَّذِينَ
ءَامَنُوٓاْ
إِيمَٰنٗا
وَلَا
يَرۡتَابَ
ٱلَّذِينَ
أُوتُواْ
ٱلۡكِتَٰبَ
وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ
وَلِيَقُولَ
ٱلَّذِينَ
فِي
قُلُوبِهِم
مَّرَضٞ
وَٱلۡكَٰفِرُونَ
مَاذَآ
أَرَادَ
ٱللَّهُ
بِهَٰذَا
مَثَلٗاۚ
كَذَٰلِكَ
يُضِلُّ
ٱللَّهُ
مَن
يَشَآءُ
وَيَهۡدِي
مَن
يَشَآءُۚ
وَمَا
يَعۡلَمُ
جُنُودَ
رَبِّكَ
إِلَّا
هُوَۚ
وَمَا
هِيَ
إِلَّا
ذِكۡرَىٰ
لِلۡبَشَرِ
٣١
Non ponemmo che angeli a guardia del fuoco, fissando il loro numero solo per tentare i miscredenti 1 , affinché credessero con fermezza quelli cui è stato dato il Libro e aumentasse la fede dei credenti e non dubitassero coloro cui è stata data la Scrittura e i credenti, e affinché coloro che hanno morbo nel cuore e i miscredenti dicessero: «Cosa vuol significare Allah con questa metafora?». È così che Allah travia chi vuole e guida chi vuole. Non conosce le truppe del tuo Signore altri che Lui. Questo non è altro che un Monito per gli uomini.
Tafsir
Lezioni
Riflessi
Risposte
Qiraat
Stai leggendo un tafsir per il gruppo di versi 74:31 a 74:37

৩১-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ শাস্তির কাজের উপর এবং জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের উপর আমি ফেরেশতাদেরকে নিযুক্ত করেছি, যারা নির্দয় ও কঠোর ভাষী। এ কথার দ্বারা কুরায়েশদের দাবী খণ্ডন করা হয়েছে। যখন জাহান্নামের প্রহরীদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় তখন আবূ জেহেল বলেঃ “হে কুরায়েশদের দল! তোমাদের দশ জন কি তাদের এক জনের উপর জয় লাভ করতে পারবে না?” তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি জাহান্নামের প্রহরী করেছি ফেরেশতাদেরকে। তারা মানুষ নয়। সুতরাং তাদেরকে পরাজিত করাও যাবে না এবং ক্লান্ত করাও যাবে না।এটাও বলা হয়েছে যে, আবূল আশদাইন, যার নাম ছিল কালদাহ ইবনে উসায়েদ ইবনে খালফ, বলেঃ “হে কুরায়েশদের দল! তোমরা (জাহান্নামের উনিশ জন প্রহরীদের) দু’জনকে প্রতিহত কর, বাকী সতেরো জনকে প্রতিহত করার জন্যে আমি একাই যথেষ্ট।” সে ছিল বড় আত্মগর্বী এবং সে বড় শক্তিশালীও ছিল। তার শক্তি এতো বেশী ছিল যে, সে গরুর চামড়ার উপর দাঁড়াতো। তখন দশজন লোক তার পায়ের নীচ হতে ঐ চামড়াকে বের করার জন্যে এতো জোরে টান দিতো যে, চামড়া ছিড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যেতো, তথাপি তার পা একটুও নড়তো না। এ ছিল ঐ ব্যক্তি যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে এসে বলেছিলঃ “আসুন, আমরা দু’জন মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হই। যদি আপনি আমাকে ভূপাতিত করতে পারেন তবে আমি আপনার নবুওয়াতকে স্বীকার করে নিবো।” তার কথামত রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার সাথে মল্লযুদ্ধ করে কয়েকবার তাকে ভূপাতিত করেন, কিন্তু এর পরও ঈমান আনয়নের সৌভাগ্য সে লাভ করেনি। ইমাম ইবনে ইসহাক (রঃ) মল্লযুদ্ধ সম্বলিত ঘটনাটি রাকানাহ্ ইবনে আবৃদি ইয়াযীদ ইবনে হাশিম ইবনে আবদিল মুত্তালিবের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। আমি (ইবনে কাসীর রঃ) বলি যে, এই দু'জনের মধ্যে কোন বৈপরিত্য নেই। সম্ভবতঃ ওর এবং এর, উভয়ের সাথেই মল্লযুদ্ধ হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ এই সংখ্যার উল্লেখ পরীক্ষা স্বরূপই ছিল। এক দিকে কাফিরদের কুফরী খুলে যায় এবং অপরদিকে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে যে, এই রাসূল (সঃ)-এর রিসালাত সত্য। কেননা, তাদের কিতাবেও এই সংখ্যাই ছিল। তৃতীয়তঃ এর ফলে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস আরো বৃদ্ধি পায়। মুমিন ও কিতাবীদের সন্দেহ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়। পক্ষান্তরে, যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে অর্থাৎ মুনাফিকরা এবং কাফিররা বলে উঠলোঃ আল্লাহ্ তা'আলা এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছেন? এখানে এটা উল্লেখ করার মধ্যে কি হিকমত রয়েছে? আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, এ ধরনের কথা দ্বারা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ-নির্দেশ করেন। আল্লাহ্‌ এ সমুদয় কাজ হিকমত ও রহস্যে পরিপূর্ণ।মহান আল্লাহ্ বলেনঃ তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই ওয়কিফহাল। তাদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের সংখ্যার আধিক্যের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই আছে। এটা মনে করো না যে, তাদের সংখ্যা মাত্র ঊনিশই। যেমন গ্রীক দার্শনিকরা এবং তাদের মতবাদে বিশ্বাসী লোকেরা অজ্ঞতা বশতঃ বুঝে নিয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘উকূলে আশারাহ্' এবং নুফুসে তিসআহ’। কিন্তু এটা তাদের এমন একটা দাবী যার উপর দলীল কায়েম করতে তারা সম্পূর্ণরূপে অপারগ। বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এই আয়াতের প্রথম অংশের উপর তো তাদের দৃষ্টি পড়েছে বটে, কিন্তু এর শেষাংশের সাথে তারা কুফরী করতে রয়েছে! যেখানে সুস্পষ্ট শব্দ বিদ্যমান রয়েছেঃ তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। সুতরাং শুধু ঊনিশের কি অর্থ হতে পারে? সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মিরাজ সম্বলিত হাদীসে এটা সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বায়তুল মা'মূরের বিশেষণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ “ওটা সপ্তম আকাশের উপর রয়েছে। ওর মধ্যে প্রত্যহ পালাক্রমে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে থাকেন। কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে তারা তাতে প্রবেশ করতেই থাকবেন। কিন্তু ফেরেস্তাদের সংখ্যা এতো অধিক যে, একদিন যে সত্তর হাজার ফেরেশতা ঐ বায়তুল মা'মূরে প্রবেশ করেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত আর তাদের ওর মধ্যে প্রবেশ করার পালা পড়বে না।”হযরত আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখোনা এবং আমি এমন কিছু শুনছি যা তোমরা শুনো না। আকাশ চড়ু চড়ু শব্দ করছে এবং চড়ু চডু শব্দ করার তার অধিকার রয়েছে। এমন চার অঙ্গুলী পরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই যেখানে কোন না কোন ফেরেশতা সিজদায় পতিত থাকেন না। আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশী। আর তোমরা বিছানায় তোমাদের স্ত্রীদের সাথে প্রেমালাপ ও ভোগ-বিলাসে লিপ্ত হতে পারতে না, বরং ক্রন্দন ও আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে করতে জঙ্গলের দিকে চলে যেতে!” এ কথা শুনে হযরত আবূ যার (রাঃ) বলেনঃ “আমি যদি গাছ হতাম এবং আমাকে কেটে ফেলা হতো (তবে কতই না ভাল হতো)!” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ, জামে তিরমিযী এবং সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন। এ হাদীসটি হযরত আবূ যার (রাঃ) হতে মাওকূফ রূপেও বর্ণিত আছে)হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “সপ্ত আকাশে পা পরিমিত, কনিষ্ঠাঙ্গুলী পরিমিত এবং হস্ততালু পরিমিত এমন জায়গা ফাঁকা নেই যেখানে কোন না কোন ফেরেশতা কিয়াম, রুকূ' অথবা সিজদার অবস্থায় না রয়েছেন। অতঃপর কাল কিয়ামতের দিন তারা সবাই বলবেনঃ “(হে আল্লাহ!) আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আমরা আপনার যথোপযুক্ত ইবাদত করতে পারিনি। তবে (এ কথা সত্য যে,) আমরা আপনার সাথে অন্য কাউকেও শরীক করিনি।” (এ হাদীসটি হাফিয আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে নাসর মরূযীর (রঃ) ‘কিতাবুস সলাত' নামক পুস্তকে হযরত হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর সাহাবীদের সাথে ছিলেন, হঠাৎ তিনি তাঁদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ “আমি যা শুনছি তা তোমরাও শুনছো কি?" সাহাবীগণ উত্তরে বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা তো কিছুই শুনতে পাচ্ছি না!" তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “আমি আকাশের চড়চড় শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আর আকাশকে তার এই চড়চড় শব্দের জন্য তিরস্কার করা যায় না। কেননা ফেরেশতা এতো বেশী রয়েছেন যে, আকাশের মধ্যে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পরিমিত এমন জায়গাও ফাঁকা নেই যেখানে কোন না কোন ফেরেশতা রুকূ' বা সিজদা অবস্থায় আছেন।”উক্ত পুস্তকেই হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়ার আকাশে পা রাখা পরিমাণ এমন জায়গা ফাঁকা নেই যেখানে কোন একজন ফেরেশতা সিজদা অথবা কিয়ামের অবস্থায় না আছেন। এ জন্যেই কুরআন কারীমের মধ্যে ফেরেশতাদের নিম্নলিখিত উক্তি বিদ্যমান রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমাদের প্রত্যেকের জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। আমরা সারিবদ্ধভাবে (দণ্ডায়মান) থাকি এবং আমরা (আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারী।”(৩৭:১৬৪-১৬৬) (এ হাদীসটির মারফূ’ হওয়া খুবই গরীব বা দুর্বল। অন্য রিওয়াইয়াতে এ উক্তিটি হযরতইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর বলে বর্ণিত হয়েছে। অন্য সনদে হযরত আলা ইবনে সা'দ (রাঃ) হতেও মারফূ’’রূপে এটা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সনদের দিক দিয়ে এটাও গারীব বা দুর্বল)হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত উমার (রাঃ) এমন সময় (মসজিদে) আগমন করেন যে, ঐ সময় নামায শুরু হয়ে গেছে। দেখেন যে, তিনজন লোক (নামাযে না দাঁড়িয়ে) বসে আছে। তাদের একজন ছিল আবূ জাহশ লায়সী। তিনি তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা উঠো এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে নামায পড়?” তখন দু’জন উঠলো এবং আবূ জাহশ উঠতে অস্বীকার করে বললোঃ “যদি এমন কোন লোক আসে যে আমার চেয়ে শক্তিশালী এবং আমাকে সে মল্লযুদ্ধে পরাজিত করে ফেলে দিতে পারে ও আমার চেহারাকে মাটিতে মিলিয়ে দিতে পারে তবে আমি উঠবো, অন্যথায় উঠবো না।” তার একথা শুনে হযরত উমার (রাঃ) বললেনঃ “এসো, আমিই তোমার সাথে মল্লযুদ্ধ করি।” অতঃপর তিনি তাকে মাটিতে ফেলে দিলেন এবং তার চেহারাকে মাটিতে মিলিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) আসলেন এবং আবূ জাহশকে তাঁর নিকট হতে ছাড়িয়ে নিলেন। এতে হযরত উমার অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং ঐ ক্রোধের অবস্থাতেই রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বললেনঃ “হে আবূ হাফস! তোমার হয়েছে কি?” হযরত উমার (রাঃ) তখন তার কাছে পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। ঘটনাটি শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “হযরত উমার (রাঃ) তার উপর সন্তুষ্ট থাকলে অবশ্যই তার প্রতি দয়া করতো। হে উমার (রাঃ)! আল্লাহর কসম! তুমি ঐ দুশ্চরিত্র ব্যক্তির মাথা আমার কাছে আনতে পারলে আমি বড়ই খুশী হতাম।” একথা শুনে হযরত উমার (রাঃ) তার দিকে ধাবিত হলেন। কিন্তু ইতিমধ্যে ঐ নরাধম দূরে চলে গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে ডেকে নিয়ে বললেনঃ “হে উমার (রাঃ) তুমি এখানে বসে পড়। জেনে রেখো যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আবূ জাহশের নামায হতে সম্পূর্ণরূপে বেপরোয়া। দুনিয়ার আকাশে বিনয় প্রকাশকারী অসংখ্য ফেরেশতা আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে রয়েছেন। তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত মাথা উঠাবেন না এবং তারা একথা বলতে বলতে হাযির হবেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ইবাদতের হক আদায় করতে পারিনি।" দ্বিতীয় আকাশেও এই একই অবস্থা।” হযরত উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “তারা কোন্ তাসবীহ পাঠ করে থাকেন?" উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে, দুনিয়ার আকাশবাসীরা পাঠ করেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমরা রাজত্বও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারীর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি।” দ্বিতীয় আকাশবাসীরা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমরা মর্যাদা ও অসীম ক্ষমতার অধিকারীর মহিমা ঘোষণা করছি।” আর তৃতীয় আকাশবাসী ফেরেশতারা পাঠ করেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমরা চিরঞ্জীব যিনি এবং যিনি মৃত্যুবরণ করেন না তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “হে উমার (রাঃ)! তুমি তোমার নামাযে এগুলো পাঠ করো।” হযরত উমার (রাঃ) তখন বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ইতিপূর্বে যা আপনি আমাকে শিখিয়েছিলেন এবং আমার নামাযে যা পড়তে আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার কি হবে?” জবাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “কখনো এটা পড়বে এবং কখনো ওটা পড়বে। প্রথমে তিনি হযরত উমার (রাঃ)-কে যা পড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা ছিল নিম্নরূপঃ (আরবি)অর্থাৎ “(হে আল্লাহ!) আমি আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হতে আশ্রয় চাচ্ছি এবং আপনার হতে আমি আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনার চেহারা মর্যাদাপূর্ণ।” (এ হাদীসটি ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ফারাভী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা অত্যন্ত গারীব বা দুর্বল হাদীস, এমন কি মুনকার বা অস্বীকৃতও বটে। এ হাদীসের বর্ণনাকারী ইসহাক ফারাভী (রঃ) হতে হযরত ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করে থাকেন এবং ইমাম ইবনু হিব্বানও (রঃ) তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। কিন্তু ইমাম আবূ দাউদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ), ইমাম আকীলী (রঃ) এবং ইমাম দারকুতনী (রঃ) তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম আবূ হাতিম রাযী (রঃ) বলেন যে, তিনি সত্যবাদী ছিলেন বটে, কিন্তু তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং কখনো কখনো তিনি তালকীন কবুল করতেন তবে তার কিতাবগুলো বিশুদ্ধ। ইমাম আবূ হাতিম রাযী (রঃ) হতে এটাও বর্ণিত আছে যে, ইসহাক ফারাভী (রঃ) বর্ণনাকারী মুশতারাব এবং তার শায়েখ আবদুল মালিক ইবনে কুদামাহ আবূ কাতাদাহ জমিহীর (রঃ) ব্যাপারেও সমালোচনা রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় যে, মুহাম্মাদ ইবনে নাসর (রঃ) তাঁর এই হাদীসকে কি করে রিওয়াইয়াত করলেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে কোন কথা বললেন, না তার অবস্থা জানলেন এবং না এই হাদীসের কোন কোন বর্ণনাকারীর দুর্বলতা বর্ণনা করলেন! হ্যাঁ তবে এটুকু করেছেন যে, ওটাকে অন্য সনদে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং মুরসালের দু’টি সনদ এনেছেন। একটি হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রঃ) হতে এবং অপরটি হযরত হাসান বসরী (রঃ) হতে)হযরত আদী ইবনে ইরতাত (রঃ) মাদায়েনের জামে মসজিদে তাঁর ভাষণে বলেনঃ আমি একজন সাহাবী হতে শুনেছি যে, তিনি নবী (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলার এমন বহু ফেরেশতা রয়েছেন যারা আল্লাহর ভয়ে সদা প্রকম্পিত থাকেন। তাঁদের চক্ষু দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়। ঐ অশ্রু ঐ ফেরেশতাদের উপর পতিত হয় যারা নামাযে নিমগ্ন থাকেন। তাদের মধ্যে এমন ফেরেশতাও রয়েছেন যারা দুনিয়ার শুরু থেকে নিয়ে রুকুতেই রয়েছেন এবং অনেকে সিজদাতেই রয়েছেন। কিয়ামতের দিন তারা তাদের পিঠ ও মাথা উঠিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহ তা'আলার নিকট আরয করবেনঃ ‘আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমরা আপনার যথোপযুক্ত ইবাদত করতে পারিনি।” (এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনে নসর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে কোন ত্রুটি নেই)এরপর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্যে সাবধান বাণী।অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা চন্দ্রের অবসান ঘটা রাত্রির এবং আলোকোজ্জ্বল প্রভাতকালের শপথ করে বলেনঃ এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদ সমূহের অন্যতম। এর দ্বারা যে জাহান্নামের আগুনকে বুঝানো হয়েছে তা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (রাঃ), কাতাদাহ (রঃ), যহহাক (রঃ) এবং পূর্ব যুগীয় আরো বহু মনীষীর উক্তি।মহান আল্লাহ বলেনঃ এটা মানুষের জন্যে সতর্ককারী, তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হতে চায় কিংবা যে পিছিয়ে পড়ে, তার জন্যে। অর্থাৎ যে ইচ্ছা করবে সে এই সতর্ক বাণীকে কবুল করে নিয়ে সত্যের পথে এসে যাবে এবং যার ইচ্ছা হবে সে এর পরেও এটা থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করতে থাকবে, এখান হতে দূরে সরে থাকবে এবং এটাকে প্রতিরোধ করতে থাকবে। সবারই জন্যে এটা সতর্ক বাণী।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Leggi, ascolta, cerca e rifletti sul Corano

Quran.com è una piattaforma affidabile utilizzata da milioni di persone in tutto il mondo per leggere, cercare, ascoltare e riflettere sul Corano in diverse lingue. Offre traduzioni, tafsir, recitazioni, traduzioni parola per parola e strumenti per uno studio più approfondito, rendendo il Corano accessibile a tutti.

In qualità di Sadaqah Jariyah, Quran.com si impegna ad aiutare le persone a entrare in contatto profondo con il Corano. Supportato da Quran.Foundation , un'organizzazione no-profit 501(c)(3), Quran.com continua a crescere come risorsa gratuita e preziosa per tutti, Alhamdulillah.

Navigare
Casa
Radio del Corano
Recitatori
Chi siamo
Sviluppatori
Aggiornamenti del prodotto
Feedback
Aiuto
I nostri progetti
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Progetti senza scopo di lucro posseduti, gestiti o sponsorizzati da Quran.Foundation
Link popolari

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Mappa del sitoPrivacyTermini e Condizioni
© 2026 Quran.com. Tutti i diritti riservati