Log masuk
🚀 Sertai Cabaran Ramadan kami!
Ketahui lebih lanjut
🚀 Sertai Cabaran Ramadan kami!
Ketahui lebih lanjut
Log masuk
Log masuk
24:28
فان لم تجدوا فيها احدا فلا تدخلوها حتى يوذن لكم وان قيل لكم ارجعوا فارجعوا هو ازكى لكم والله بما تعملون عليم ٢٨
فَإِن لَّمْ تَجِدُوا۟ فِيهَآ أَحَدًۭا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤْذَنَ لَكُمْ ۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرْجِعُوا۟ فَٱرْجِعُوا۟ ۖ هُوَ أَزْكَىٰ لَكُمْ ۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌۭ ٢٨
فَإِن
لَّمۡ
تَجِدُواْ
فِيهَآ
أَحَدٗا
فَلَا
تَدۡخُلُوهَا
حَتَّىٰ
يُؤۡذَنَ
لَكُمۡۖ
وَإِن
قِيلَ
لَكُمُ
ٱرۡجِعُواْ
فَٱرۡجِعُواْۖ
هُوَ
أَزۡكَىٰ
لَكُمۡۚ
وَٱللَّهُ
بِمَا
تَعۡمَلُونَ
عَلِيمٞ
٢٨
Maka sekiranya kamu tidak mendapati sesiapa (yang berhak memberi izin) maka janganlah masuk ke dalam rumah itu sehingga kamu diberi izin; dan jika dikatakan kepada kamu "baliklah", maka hendaklah kamu berundur balik; cara yang demikian adalah lebih suci bagi kamu; dan (ingatlah) Allah Maha Mengetahui akan apa yang kamu lakukan.
Tafsir
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 24:27 hingga 24:29

২৭-২৯ নং আয়াতের তাফসীরএখানে শরীয়ত সম্মত আদব বা ভদ্রতার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। ঘোষিত হচ্ছেঃ কারো বাড়ীতে প্রবেশ করার পূর্বে অনুমতি প্রার্থনা কর। অনুমতি পেলে কর। প্রথমে সালাম বল। প্রথমবারের অনুমতি প্রার্থনায় যদি অনুমতি না দিলে তবে দ্বিতীয়বার অনুমতি চাও। এবারেও অনুমতি না পেলে তৃতীয়বার অনুমতি প্রার্থনা কর। যদি এই তৃতীয়বারেও অনুমতি না পাও তবে ফিরে যাও। যেমন সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত আবূ মূসা (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-এর নিকট গমন করেন। তিনবার তিনি তার বাড়ীতে প্রবেশের অনুমতি চান। যখন কেউই তাঁকে ডাকলেন না তখন তিনি ফিরে আসলেন। কিছুক্ষণ পর হযরত উমার (রাঃ) লোকদেরকে বললেনঃ “দেখো তো, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস (রাঃ) ভিতরে আসতে চাচ্ছেন। তাঁকে ভিতরে ডেকে নাও।” এক লোক বাইরে এসে দেখে যে, তিনি ফিরে গেছেন। লোকটি গিয়ে হযরত উমার (রাঃ)-কে এ খবর দিলো। পরে হযরত উমার (রাঃ)-এর সাথে হযরত আবু মূসা (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হলে হযরত উমার (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনি ফিরে গিয়েছিলেন কেন?” উত্তরে হযরত আবূ মূসা (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নির্দেশ এই যে, তিনবার অনুমতি প্রার্থনার পরেও অনুমতি না পেলে ফিরে আসতে হবে। আপনার ওখানে গিয়ে আমি ভিতরে প্রবেশের জন্যে তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু কোন সাড়া না পেয়ে হাদীসের উপর আমল করে ফিরে এসেছি।” হযরত উমার (রাঃ) তখন তাঁকে বলেনঃ “আপনি এ হাদীসের পক্ষে সাক্ষী আনয়ন করুন, অন্যথায় আমি আপনাকে শাস্তি প্রদান করবো।" এই কথা অনুযায়ী হযরত আবু মূসা (রাঃ) ফিরে এসে আনসারের এক সমাবেশে হাযির হন এবং তাদের সামনে ঘটনাটি বর্ণনা করেন এবং বলেনঃ “আপনাদের মধ্যে কেউ এই হাদীসটি শুনে থাকলে তিনি যেন আমার সাথে গিয়ে হযরত উমারের সামনে এটা বর্ণনা করেন।” আনসারগণ বলেনঃ “এটা তো সাধারণ মাসআলা। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ কথা বলেছেন এবং আমরা শুনেছি। আমরা আমাদের মধ্যকার সবচেয়ে অল্প বয়সী ছেলেটিকেই আপনার সাথে পাঠাচ্ছি। সেই সাক্ষ্য দিয়ে আসবে।” অতঃপর হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) গেলেন এবং হযরত উমার (রাঃ)-কে বললেনঃ “আমিও রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে একথা শুনেছি।" ঐ সময় হ্যরত উমার (রাঃ) আফসোস করে বলেনঃ “বাজারের আদান-প্রদান আমাকে এই মাসআলা থেকে উদাসীন রেখেছে।”হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত সা’দ ইবনে উবাদা (রাঃ)-এর কাছে (তার বাড়ীতে প্রবেশের) অনুমতি চান। তিনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলেন। হযরত সা'দ (রাঃ) উত্তরে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলেন। কিন্তু তিনি এমন স্বরে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) শুনতে পাননি। এভাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তিনবার সালাম দেন এবং তিনবারই একই অবস্থা ঘটে। তিনি সালাম করেন এবং হযরত সা'দ জবাবও দেন। কিন্তু তিনি শুনতে পান না। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেখান থেকে ফিরে আসতে শুরু করেন। এ দেখে হযরত সা'দ (রাঃ) তার পিছনে দৌড় দেন এবং বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার প্রত্যেক সালামের শব্দই আমার কানে পৌঁছেছে এবং প্রত্যেক সালামের আমি জবাবও দিয়েছি, কিন্তু আপনার দুআ ও বরকত বেশী প্রাপ্তির আশায় এমন স্বরে সালামের জবাব দিয়েছি যেন আপনার কানে না পৌঁছে। সুতরাং মেহেরবানী করে এখন আমার বাড়ী ফিরে চলুন।” তাঁর একথায় রাসূলল্লাহ (সঃ) তার (হযরত সা’দের রাঃ) বাড়ীতে ফিরে আসেন। হযরত সা'দ (রাঃ) তাঁর সামনে কিশমিশ পেশ করেন। তিনি তা খেয়ে নিয়ে বলেনঃ “তোমার এ খাদ্য সৎ লোকে খেয়েছেন এবং ফেরেশতামণ্ডলী তোমার প্রতি রহমতের জন্যে প্রার্থনা করেছেন। তোমার এ খাদ্য দ্বারা রোযাদারগণ রোযার ইফতার করেছেন।”এহদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন।অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, যে সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) সালাম বলেন এবং হযরত সাদ (রাঃ) নিম্নস্বরে জবাব দেন তখন তার পুত্র হযরত কায়েস (রাঃ) তাঁর পিতাকে বলেনঃ “আপনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি কেন দিচ্ছেন না?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “চুপ থাকো, দেখো, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয়বার সালাম দিবেন এবং দ্বিতীয়বার আমরা তাঁর দুআ পাবো।” ঐ রিওয়াইয়াতে এও আছে যে, সেখানে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) গোসল করেন। হযরত সা'দ (রাঃ) তাঁর সামনে যাফরান বা ওয়ারসের রঙে রঞ্জিত একখানা চাদর পেশ করেন যেটা তিনি নিজের দেহ মুবারকে জড়িয়ে নেন। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে হযরত সা'দ (রাঃ)-এর জন্যে দু'আ করেনঃ “হে আল্লাহ! সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)-এর বংশধরের উপর দরূদ ও রহমত বর্ষণ করুন!” অতঃপর তিনি সেখানে আহার করেন। তিনি সেখান থেকে বিদায় হওয়ার ইচ্ছা করলে হযরত সা’দ (রাঃ) তার গাধার পিঠে গদি কষে দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আনয়ন করেন এবং তাঁর ছেলে কায়েস (রাঃ)-কে বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সাথে যাও।” তিনি তখন তাঁর সাথে সাথে চললেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত কায়েস (রাঃ)-কে বললেনঃ “কায়েস (রাঃ)! তুমিও সওয়ার হয়ে যাও।”হযরত কায়েস (রাঃ) উত্তরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাঁকে বললেনঃ “দুটোর মধ্যে একটা তোমাকে অবশ্যই করতে হবে। সওয়ার হও, না হয় ফিরে যাও।” তখন হযরত কায়েস (রাঃ) ফিরে আসাই স্বীকার করেন। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, বাড়ীতে প্রবেশের জন্যে অনুমতি প্রার্থনাকারীকে দর্যর সামনে দাঁড়ানো চলবে না। বরং তাকে ডানে বা বামে একটু সরে দাড়াতে হবে। কেননা, সুনানে আবি দাউদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন কারো বাড়ীতে যেতেন তখন তিনি তার বাড়ীর দরযার ঠিক সামনে দাঁড়াতেন না। বরং এদিক-ওদিক একটু সরে দাঁড়াতেন। আর তিনি উচ্চস্বরে সালাম বলতেন। তখন পর্যন্ত দরযার উপর পর্দা লটকানোর কোন ব্যবস্থা ছিল না। রাসূলুলুল্লাহ (সঃ)-এর বাড়ীর দরযার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে একটি লোক ভিতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাকে শিক্ষা দিবার জন্যে বলেনঃ “(স্ত্রীলোকের প্রতি) দৃষ্টি যেন না পড়ে এজন্যেই তো অনুমতি প্রার্থনার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলে দরার সামনে দাঁড়িয়ে অনুমতি প্রার্থনার কি অর্থ হতে পারে? হয় এদিকে একটু সরে দাঁড়াবে, না হয় ওদিকে একটু সরে দাঁড়াবে।”অন্য একটি হাদীসে রয়েছেঃ “কেউ যদি তোমার বাড়ীতে তোমার অনুমতি ছাড়াই উঁকি মারতে শুরু করে এবং তুমি তাকে কংকর মেরে দাও আর এর ফলে তার চক্ষু বিদীর্ণ হয়ে যায় হবে তোমার কোন অপরাধ হবে না।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত জাবির (রাঃ) তাঁর পিতার ঋণ আদায়ের চিন্তায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দরবারে হাযির হন। তিনি দরযায় করাঘাত করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “কে?” হযরত জাবির (রাঃ) উত্তরে বলেনঃ “আমি।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি, আমি?” তিনি যেন ‘আমি’ বলাকে অপছন্দ করলেন। কেননা, ‘আমি’ বলাতে ঐ ব্যক্তি কে তা জানা যায় না যে পর্যন্তনাম বা কুনিয়াত বলা হবে। আমি তো প্রত্যেকেই নিজের জন্যে বলতে পারে। কাজেই এর দ্বারা প্রকৃত অনুমতি প্রার্থনাকারীর পরিচয় লাভ করা যেতে পারে না।(আরবি) এবং (আরবি) একই কথা। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবি) কথাটি লেখকদের ভুল। (আরবি) বলা উচিত ছিল। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর কিরআত এটাই ছিল। আর হযরত উবাই ইবনে কাবেরও (রাঃ) কিরআত এটাই। কিন্তু এটা খুবই গরীব বা দুর্বল উক্তি। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর মাসহাফে (আরবি) এইরূপ রয়েছে। সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ) মুসলমান হওয়ার পর একদা কিলদাহ ইবনে। হাম্বল (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। তিনি ঐ সময় উপত্যকার উঁচু স্থানে অবস্থান করছিলেন। কিলদাহ ইবনে হাম্বল (রাঃ) সালাম প্রদান ও অনুমতি প্রার্থনা ছাড়াই তাঁর নিকট পৌছে যান। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেনঃ “ফিরে যাও এবং বল-আসসালামু আলাইকুম। আমি আসতে পারি কি?” এটা মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। (ইমাম আবু দাউদ (রাঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈও (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন) বর্ণিত আছে যে, বানু আমির গোত্রের একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে তার বাড়ীতে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করে। সে বলেঃ “আমি ভিতরে আসতে পারি কি?" রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এক গোলামকে বলেনঃ “তুমি বাইরে গিয়ে তাকে অনুমতি প্রার্থনা করার পদ্ধতি শিখিয়ে এসো। সে যেন প্রথমে সালাম দেয় এবং পরে অনুমতি প্রার্থনা করে। লোকটি তার একথা শুনে নেয় এবং ঐভাবেই সালাম দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে অনুমতি দেন এবং সে ভিতরে প্রবেশ করে।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেন)আর একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, একটি লোক এসে সালাম না দিয়েই রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বাড়ীতে প্রবেশের জন্যে তার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) রওযাহ নামী তাঁর একটি দাসীকে বলেনঃ “লোকটি অনুমতি প্রার্থনার পদ্ধতি ভালরূপে অবগত নয়। তুমি উঠে গিয়ে তাকে বল যে, সে যেন আসসালামু আলাইকুম বলার পর বলে-“আমি প্রবেশ করতে পারি কি?” লোকটি এ কথা শুনে নেয় এবং ঐ ভাবেই সে সালাম দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করে।হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কথা বলার পূর্বে সালাম রয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এটি দুর্বল হাদীস)হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে উমার (রাঃ) একদা হাজত পুরো করে আসছিলেন। কিন্তু রৌদ্রের তাপ সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তিনি এক কুরাইশীর কুটিরের নিকট এসে বলেনঃ “আসসালামু আলাইকুম। আমি ভিতরে আসতে পারি কি?” কুরাইশী বলেঃ “শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আসুন!” তিনি তাঁর কথার পুনরাবৃত্তি করেন। লোকটি ঐ একই উত্তর দেয়। তার পা পুড়ে যাচ্ছিল। কখনো তিনি আশ্রয় নিচ্ছিলেন এই পায়ের উপর কখনো ঐ পায়ের উপর। তিনি তাকে বলেনঃ বল- ‘আসুন'। সে তখন বলেঃ “ আসুন।” এরপর তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন। হযরত উম্মে আইয়াস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা চারজন স্ত্রীলোক হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গমন করে বলি-আমরা ভিতরে আসতে পারি কি? তিনি উত্তরে বলেনঃ “না, তোমাদের মধ্যে অনুমতি প্রার্থনা করার পদ্ধতি যার জানা আছে তাকে অনুমতি প্রার্থনা করতে বলো।” তখন আমাদের মধ্যে একজন মহিলা সালাম বলে অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তিনি আমাদেরকে অনুমতি প্রদান করলেন এবং (আরবি)-এই আয়াতটি পাঠ করে শুনালেন। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “তোমরা তোমাদের মা ও ভগ্নীর নিকট প্রবেশের সময়ও অনুমতি প্রার্থনা করবে।”হযরত আদী ইবনে সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আনসারের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে বলে- “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কোন কোন সময় আমি বাড়ীতে এমন অবস্থায় থাকি যে, ঐ সময় আমার কাছে আমি আমার পিতা ও পুত্রের আগমনও পছন্দ করি না। কেননা, ঐ সময় আমি এমন অবস্থায় থাকি না যে তাদের দৃষ্টি আমার উপর পড়া আমি অপছন্দ না করি। এমতাবস্থায় পরিবারের কোন লোক এসেই পড়ে (সুতরাং কি করা যায়?)।” ঐ সময় (আরবি)-এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনটি আয়াত এমন রয়েছে যেগুলোর আমল মানুষ পরিত্যাগ করেছে। একটি এই যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু।” অথচ লোকদের ধারণায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ঐ ব্যক্তি যার বাড়ী বড় (এবং যে সম্পদ ও শাসন ক্ষমতার অধিকারী)। আর আদব ও ভদ্রতার আয়াতগুলোর উপর আমলও মানুষ ছেড়ে দিয়েছে। হযরত আতা (রঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “আমার বাড়ীতে আমার পিতৃহীন বোনেরা রয়েছে, যারা একই বাড়ীতে থাকে এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব আমারই উপর ন্যস্ত রয়েছে। তাদের কাছে গেলেও কি আমাকে অনুমতি নিতে হবে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ, অবশ্যই তোমাকে অনুমতি নিতে হবে।” হযরত আতা (রঃ) দ্বিতীয়বার তাঁকে ঐ প্রশ্নই করেন যে, হয় তো কোন ছুটির সুযোগ পাওয়া যাবে। কিন্তু এবারও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “তুমি কি তাদেরকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখা পছন্দ কর?” তিনি জবাবে বলেনঃ “না।” তিনি বললেনঃ “তাহলে অবশ্যই তোমাকে অনুমতি নিতে হবে।” হযরত আতা (রঃ) তৃতীয়বার ঐ প্রশ্নই করেন। তিনি জবাবে বলেনঃ “তুমি কি আল্লাহর হুকুম মানবে না?” তিনি উত্তর দেনঃ “হ্যাঁ, অবশ্যই মানবো।” তখন তিনি বললেনঃ “তাহলে খবর না দিয়ে তুমি তাদের পাশেও যাবে না।” হযরত তাউস (রঃ) বলেনঃ “যাদের সাথে চিরতরে বিবাহ নিষিদ্ধ তাদেরকে আমি তাদের উলঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলি এর চেয়ে জঘন্য বিষয় আমার কাছে আর কিছুই নেই।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “সংবাদ না দিয়ে তোমার মায়ের কাছেও যেয়ো না।” হযরত আতা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “অনুমতি না নিয়ে কি স্ত্রীর কাছেও যাওয়া চলবে না?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “এখানে অনুমতির প্রয়োজন নেই।” এই উক্তিরও ভাবার্থ এই যে, স্ত্রীর নিকট অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নেই বটে, কিন্তু তাকেও সংবাদ অবশ্যই দিতে হবে। এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, ঐ সময় হয় তো স্ত্রী এমন অবস্থায় রয়েছে যে অবস্থায় তার স্বামী তাকে দেখুক এটাও সে পছন্দ করে না।হযরত যয়নব (রাঃ) বলেনঃ “আমার স্বামী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) ঘরে যখন আমার কাছে আসতেন তখন তিনি গলা খাঁকড়াতেন। কখনো কখনো তিনি দরার বাইরে কারো সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলতেন যাতে বাড়ীর লোকেরা তার আগমন সংবাদ জানতে পারে।” হযরত মুজাহিদ (রঃ)। -এর অর্থও এটাই করেন যে, এটা হলো গলা খাঁকড়ানো, থুথু ফেলা ইত্যাদি। ইমাম আহমাদ (রঃ) বলেন যে, মানুষ যখন তার বাড়ীতে প্রবেশ করবে তখন তার বাইরে থেকে গলা খাঁকড়ানি দেয়া বা জুতার শব্দ শুনিয়ে দেয়া মুস্তাহাব।একটি হাদীসে এসেছে যে, সফর হতে ফিরে এসে রাত্রিকালে পূর্বে না জানিয়ে আকস্মিকভাবে বাড়ীতে প্রবেশ করতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিষেধ করেছেন। কেননা, এটা যেন গোপনীয়ভাবে বাড়ীর লোকদের বিশ্বাসঘাতকতার সন্ধান নেয়া।অন্য একটি হাদীসে এসেছে যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সঃ) সকালে সফর হতে ফিরে আসেন। তখন তিনি সঙ্গীদেরকে নির্দেশ দেন যে, তারা যেন বস্তির পাশে অবতরণ করেন যাতে মদীনায় তাদের আগমন সংবাদ প্রচারিত হয়ে যায়। আর সন্ধ্যার সময় যেন তারা নিজেদের বাড়ীতে প্রবেশ করেন। যাতে এই অবসরে মহিলারা নিজেদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সুন্দররূপে সাজিয়ে নিতে পারে।আর একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “সালাম তো আমরা জানি, কিন্তু এর পদ্ধতি কি (আরবি) জবাবে তিনি বলেনঃ “উচ্চ স্বরে সুবহানাল্লাহ বা আলহামদুলিল্লাহ অথবা আল্লাহু আকবার বলা কিংবা গলা খাঁকড়ানো, যাতে বাড়ীর লোকেরা জানতে পারে আসছে।”হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “তিনবার অনুমতি প্রার্থনা এই জন্যেই নির্ধারণ করা হয়েছে যে, প্রথমবারে বাড়ীর লোকেরা জানতে পারবে যে, এ ব্যক্তি অমুক। কাজেই তারা নিজেদেরকে সামলিয়ে নিবে ও সতর্ক হয়ে যাবে। আর তৃতীয়বারে ইচ্ছা হলে তাকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেবে, না হলে ফিরিয়ে দেবে। অনুমতি না পেয়ে দরযার উপর দাঁড়িয়ে থাকা বদভ্যাস। কোন কোন সময় মানুষের কাজ ও ব্যস্ততা এতো বেশী হয় যে, ঐ সময় তারা অনুমতি দিতে পারে ।”মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রাঃ) বলেন যে, অজ্ঞতার যুগে সালামের কোন প্রচলন ছিল না। একে অপরের সাথে মিলিত হতো, কিন্তু তাদের মধ্যে সালামের আদান-প্রদান হতো না। কেউ কারো বাড়ী গেলে অনুমতি নিতো না, এমনিতেই প্রবেশ করতো। প্রবেশ করার পরে বলতো: “আমি এসে গেছি। এর ফলে কোন কোন সময় বাড়ীর লোকদের বড়ই অসুবিধা হতো। এমনও হতো যে, বাড়ীতে তারা এমন অবস্থায় থাকতো যে অবস্থায় তারা কারো প্রবেশকে খুবই খারাপ ভাবতো। আল্লাহ তা'আলা এই কু-প্রথাগুলো সুন্দর আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে দূর করে দেন। এ জন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম। এতে আগমনকারী ও বাড়ীর লোক উভয়ের জন্যেই শান্তি ও কল্যাণ রয়েছে। এগুলো তোমাদের জন্যে উপদেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষা।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যদি তোমরা গৃহে কাউকেও না পাও তাহলে তাতে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। কেননা, এটা হলো অন্যের মালিকানায় হস্তক্ষেপ করা, যা বৈধ নয়। বাড়ীর মালিকের এ অধিকার রয়েছে যে, ইচ্ছা হলে সে অনুমতি দেবে, না হলে দেবে না। যদি তোমাদেরকে বলা হয়ঃ ফিরে যাও, তবে তোমরা ফিরে যাবে। এতে মন খারাপ করার কিছুই নেই। বরং এটা তো বড়ই উত্তম পন্থা।কোন কোন মুহাজির (রাঃ) দুঃখ করে বলতেনঃ “আমাদের জীবনে এই আয়াতের উপর আমল করার সুযোগ হলো না। যদি কেউ আমাদেরকে বলতো, ফিরে যাও, তবে আমরা এই আয়াতের উপর আমল করতঃ ফিরে যেতাম!”অনুমতি না পেলে দরযার উপর দাঁড়িয়ে থাকতেও নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যে গৃহে কেউ বাস করে না তাতে তোমাদের দ্রব্য-সামগ্রী থাকলে সেখানে তোমাদের প্রবেশে কোনও পাপ নেই। এ আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াত হতে বিশিষ্ট। এতে ঐ ঘরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশের অবকাশ রয়েছে যে ঘরে কেউ বাস করে না এবং ওর মধ্যে কারো কোন আসবাবপত্র থাকে। যেমন অতিথিশালা ইত্যাদি। এখানে প্রবেশের একবার যখন অনুমতি পাওয়া যাবে তখন বারবার আর অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাহলে এ আয়াতটি যেন পূর্ববর্তী আয়াত হতে স্বতন্ত্র। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা। ব্যবসায়িকদের ঘর বুঝানো হয়েছে। যেমন গুদাম ঘর, মুসাফিরখানা ইত্যাদি। প্রথম কথাটি বেশী প্রকাশমান। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা কবিতার ঘরকে বুঝানো হয়েছে।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Baca, Dengar, Cari, dan Renungkan Al-Quran

Quran.com ialah platform dipercayai yang digunakan oleh berjuta-juta orang di seluruh dunia untuk membaca, mencari, mendengar dan merenung Al-Quran dalam pelbagai bahasa. Ia menyediakan terjemahan, tafsir, bacaan, terjemahan perkataan demi perkataan, dan alat untuk kajian yang lebih mendalam, menjadikan al-Quran boleh diakses oleh semua orang.

Sebagai Sadaqah Jariyah, Quran.com berdedikasi untuk membantu orang ramai berhubung secara mendalam dengan al-Quran. Disokong oleh Quran.Foundation , sebuah organisasi bukan untung 501(c)(3), Quran.com terus berkembang sebagai sumber percuma dan berharga untuk semua, Alhamdulillah.

Navigasi
Halaman Utama
Radio Al-Quran
Qari
Tentang Kami
Pemaju (Developers)
Kemas kini produk
Maklum balas
Bantuan
Projek Kami
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Projek tanpa untung yang dimiliki, diurus atau ditaja oleh Quran.Foundation
Pautan yang di gemari

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Peta lamanPrivasiTerma dan Syarat
© 2026 Quran.com. Hak cipta terpelihara