Log masuk
🚀 Sertai Cabaran Ramadan kami!
Ketahui lebih lanjut
🚀 Sertai Cabaran Ramadan kami!
Ketahui lebih lanjut
Log masuk
Log masuk
66:4
ان تتوبا الى الله فقد صغت قلوبكما وان تظاهرا عليه فان الله هو مولاه وجبريل وصالح المومنين والملايكة بعد ذالك ظهير ٤
إِن تَتُوبَآ إِلَى ٱللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا ۖ وَإِن تَظَـٰهَرَا عَلَيْهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ مَوْلَىٰهُ وَجِبْرِيلُ وَصَـٰلِحُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ۖ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ بَعْدَ ذَٰلِكَ ظَهِيرٌ ٤
إِن
تَتُوبَآ
إِلَى
ٱللَّهِ
فَقَدۡ
صَغَتۡ
قُلُوبُكُمَاۖ
وَإِن
تَظَٰهَرَا
عَلَيۡهِ
فَإِنَّ
ٱللَّهَ
هُوَ
مَوۡلَىٰهُ
وَجِبۡرِيلُ
وَصَٰلِحُ
ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ
وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ
بَعۡدَ
ذَٰلِكَ
ظَهِيرٌ
٤
Jika kamu berdua bertaubat kepada Allah (wahai isteri-isteri Nabi, maka itulah yang sewajibnya), kerana sesungguhnya hati kamu berdua telah cenderung (kepada perkara yang menyusahkan Nabi); dan jika kamu berdua saling membantu untuk (melakukan sesuatu yang) menyusahkannya, (maka yang demikian itu tidak akan berjaya) kerana sesungguhnya Allah adalah Pembelanya; dan selain dari itu Jibril serta orang-orang yang soleh dari kalangan orang-orang yang beriman dan malaikat-malaikat - juga menjadi penolongnya.
Tafsir
Pelajaran
Renungan
Jawapan
Qiraat
Anda sedang membaca tafsir untuk kumpulan ayat dari 66:1 hingga 66:5

১-৫ নং আয়াতের তাফসীর এই সূরাটির প্রাথমিক আয়াতগুলোর শানে নুযূলের ব্যাপারে সুফাসসিরদের উক্তি নিম্নরূপঃ কেউ কেউ বলেন যে, এটা হযরত মারিয়াহ্ (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। সুনানে নাসাঈতে এই রিওয়াইয়াতটি বিদ্যমান রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কথার পরিপ্রেক্ষিতে এটা ঘটেছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এক দাসী সম্পর্কে এ কথা বলেছিলেন। ফলে এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়।তাফসীরে ইবনে জারীরে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর কোন এক স্ত্রীর ঘরে উম্মে ইবরাহীম (রাঃ)-এর সাথে কথাবার্তা বলেছিলেন। তখন তাঁর ঐ স্ত্রী তাঁকে বলেনঃ “তোমার ঘরে ও আমার বিছানায় এ কাজ কারবার?” তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম।” তখন তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! হালাল কিভাবে আপনার উপর হারাম হয়ে যাবে?” জবাবে তিনি বলেনঃ “আমি শপথ করছি যে, এখন হতে তার সাথে কোন প্রকারের কথাবার্তা বলবো না।” ঐ সময় এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। হযরত যায়েদ (রঃ) বলেনঃ এর দ্বারা জানা গেল যে, তুমি আমার উপর হারাম’ এ কথা কেউ বললে তা বাজে বলে প্রমাণিত হবে। হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছিলেনঃ “তুমি আমার উপর হারাম। আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাহচর্যে থাকবো না।”হযরত মাসরূক (রঃ) বলেন যে, হারাম করার ব্যাপারে তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং তাঁকে তাঁর কসমের কাফফারা আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়। তাফসীরে ইবনে জারীরে রয়েছে যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “এ দু’জন স্ত্রী কে ছিলেন?” উত্তরে হযরত উমার বলেনঃ “তারা হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। উম্মে ইবরাহীম কিবতিয়্যাহ (রাঃ)-কে কেন্দ্র করেই ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। হযরত হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে তাঁর পালার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত মারিয়াহ্ কিবতিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হন। এতে হযরত হাফসা (রাঃ) দুঃখিতা হন যে, তাঁর পালার দিনে তাঁরই ঘরে ও তাঁরই বিছানায় তিনি মারিয়াহ্ (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হলেন! রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলে ফেলেনঃ “আমি তাকে আমার উপর হারাম করে নিলাম। তুমি এই ঘটনা কারো কাছে বর্ণনা করো না।” এতদসত্ত্বেও হযরত হাফসা (রাঃ) ঘটনাটি হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সামনে প্রকাশ করে দেন। আল্লাহ্ তা'আলা এই খবর স্বীয় নবী (সঃ)-কে জানিয়ে দেন এবং এই আয়াতগুলো নাযিল করেন। নবী (সঃ) কাফফারা আদায় করে স্বীয় কসম ভেঙ্গে দেন এবং ঐ দাসীর সঙ্গে মিলিত হন। এই ঘটনাটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই ফতওয়া দেন যে, কেউ যদি বলেঃ “আমি অমুক জিনিস আমার উপর হারাম করে নিলাম” তবে তার উচিত কসম ভেঙ্গে দিয়ে কাফফারা আদায় করা। একটি লোক তাঁকে এই মাসআলা জিজ্ঞেস করে যে, সে তার স্ত্রীকে নিজের উপর হারাম করে নিয়েছে।তখন তিনি তাকে বলেনঃ “তোমার স্ত্রী তোমার উপর হারাম নয় (তুমি কাফফারা আদায় করে কসম ভেঙ্গে দাও)।” সবচেয়ে কঠিন কাফফারা তো হলো আল্লাহ্‌ পথে গোলাম আযাদ করা। ইমাম আহমাদ (রঃ) এবং বহু ফিকাহ্ শাস্ত্রবিদের ফতওয়া এই যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রী, দাসী অথবা খাওয়া পরার কোন জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে নেয়, তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যায়। ইমাম শাফিয়ী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, শুধু স্ত্রী বা দাসীকে নিজের উপর হারাম করে নিলে কাফফারা ওয়াজিব হয়, অন্য কোন জিনিস নিজের উপর হারাম করে নিলে কাফফারা ওয়াজিব হয় না। যদি হারাম করা দ্বারা তালাকের নিয়ত করে তবে অবশ্যই তালাক হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে দাসীকে হারাম করার কথা দ্বারা যদি আযাদ করে দেয়ার নিয়ত করে তবে ঐ দাসী অবশ্যই আযাদ হয়ে যাবে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াত ঐ নারীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যিনি স্বীয় নফসকে নবী (সঃ)-এর নিকট হিবা বা দান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এটা গারীব উক্তি। সম্পূর্ণ সঠিক কথা এই যে, এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিজের উপর মধুকে হারাম করে নেয়া।সহীহ্ বুখারীতে এই আয়াতের ক্ষেত্রে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) হযরত যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)-এর ঘরে মধু পান করতেন এবং এই কারণে তিনি তার ঘরে কিছুক্ষণ বিলম্ব করতেন। এই জন্যে হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ) পরস্পর পরামর্শ করেন যে, তাঁদের মধ্যে যাঁরই কাছে নবী (সঃ) আসবেন তিনি যেন তাকে বলেনঃ “আপনার মুখ হতে মাগাফীরের (গেঁদ বা আঠা জাতীয় জিনিস যাতে দুর্গন্ধ রয়েছে) গন্ধ আসছে, সম্ভবতঃ আপনি মাগাফীর খেয়েছেন!” সুতরাং তারা এ কথাই বলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “আমি যায়নাব (রাঃ)-এর ঘরে মধু পান করেছি। এখন আমি শপথ করছি যে, আর কখনো আমি মধু পান করবো না। সুতরাং তোমরা এ কথা কাউকেও বলবে না।” ইমাম বুখারী (রঃ) এ হাদীসটিকে কিতাবুল ঈমান ওয়ান নুযূর-এর মধ্যেও কিছু বৃদ্ধি সহকারে আনয়ন করেছেন। তাতে রয়েছে যে, এখানে দু'জন স্ত্রী দ্বারা হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। আর চুপে-চুপে কথা বলা দ্বারা বুঝানো হয়েছে ‘আমি মধু পান করেছি' এই উক্তিটি। তিনি কিতাবুত তালাকের মধ্যে এ হাদীসটি আনয়ন করে বলেন যে, মাগাফীর হলো গঁদের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত একটি জিনিস যা ঘাসে জন্মে থাকে এবং তাতে কিছুটা মিষ্টতা রয়েছে।কিতাবুত তালাকে এ হাদীসটি হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে এই শব্দে বা ভাষায় বর্ণিত আছেঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) মিষ্টি ও মধু খুব ভালবাসতেন। আসরের নামাযের পর তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট যেতেন এবং কাউকেও নিকটে করে নিতেন। একদা তিনি হযরত হাফসা (রাঃ)-এর নিকট গমন করেন এবং অন্যান্য দিন তাঁর কাছে যতক্ষণ অবস্থান করতেন, সেই দিন তদপেক্ষা বেশীক্ষণ অবস্থান করেন। এতে আমার মনে নিজের মর্যাদাবোধ জেগে উঠলো। তত্ত্ব নিয়ে জানলাম যে, তাঁর কওমের একটি স্ত্রীলোক এক মশক মধু তার কাছে উপঢৌকন স্বরূপ পাঠিয়েছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে ঐ মধুর শরবত পান করিয়েছেন। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর ঘরে এতোটা বিলম্ব করেছেন। আমি মনে মনে বললাম যে, ঠিক আছে, কৌশল করে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এটা হতে ফিরিয়ে দিব। সুতরাং আমি হযরত সাওদাহ্ বিনতু যামআহ্ (রাঃ)-কে বললামঃ তোমার ঘরে যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আসবেন এবং তোমার নিকটবর্তী হবেন তখন তুমি তাকে বলবেঃ “আজ কি আপনি মাগাফীর খেয়েছেন?” তিনি জবাবে বলবেনঃ “না।” তখন তুমি বলবেঃ তাহলে এই গন্ধ কিসের?” তিনি। তখন বলবেনঃ “হাফসা (রাঃ) মধু পান করিয়েছেন।” তুমি তখন বলবেঃ “সম্ভবতঃ মৌমাছি ‘আরফাত’ নামক কণ্ঠকযুক্ত গাছ হতে মধু আহরণ করেছে।” আমার কাছে যখন আসবেন তখন আমিও তাই বলবো। হে সফিয়া (রাঃ)! তোমার কাছে যখন আসবেন তখন তুমিও তাই বলবে।” হযরত সাওদাহ (রাঃ) বলেনঃ “যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার ঘরে আসলেন, তখন তিনি দরজার উপরই ছিলেন, তখন আমি ইচ্ছা করলাম যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) আমাকে যা বলতে বলেছেন তাই বলে দিই, কেননা, আমি তাকে খুবই ভয় করতাম। কিন্তু ঐ সময় আমি নীরব থাকলাম। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার কাছে আসলেন তখন আমি ঐ কথাই বলে দিলাম। তারপর তিনি হযরত সফিয়া (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনিও ঐ কথাই বলেন। এরপর হযরত হাফসা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে মধু পান করাতে চাইলে তিনি বলেনঃ “আমার এর প্রয়োজন নেই।” হযরত সাওদা (রাঃ) তখন বলতে লাগলেনঃ “আফসোস! আমরা এটাকে হারাম করিয়ে দিলাম!” আমি (আয়েশা রাঃ) বললামঃ চুপ থাকো। সহীহ মুসলিমে এটুকু বেশী রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুর্গন্ধকে খুবই ঘৃণা করতেন। এজন্যেই ঐ স্ত্রীগণ বলেছিলেনঃ “আপনি মাগাফীর খেয়েছেন কি?” কেননা, মাগাফীরেও কিছুটা দুর্গন্ধ রয়েছে। যখন তিনি উত্তর দিলেন যে, না, তিনি মাগাফীর খাননি। বরং মধু খেয়েছেন, তখন তাঁরা বললেনঃ “তাহলে মৌমাছি ‘আরফাত' গাছ হতে মধু আহরণ করে থাকবে, যার গাঁদের নাম হলো, মাগাফীর এবং ওরই ক্রিয়ার প্রভাবে এই মধুতে মাগাফীরের গন্ধ রয়েছে। এই রিওয়াইয়াতে (আরবি) শব্দ রয়েছে, জাওহারী (রঃ) যার অর্থ করেছেন (আরবি) অর্থাৎ খেয়েছে। মৌমাছিকেও (আরবি) বলা হয় এবং (আরবি) হালকা শব্দকে বলা হয়। পাখী যখন চঞ্চু দ্বারা কোন খাদ্য খায় তখন তার চঞ্চুর শব্দ শোনা যায়, ঐ সময় আরবরা বলেঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি পাখীর চঞ্চুর শব্দ শুনেছি।” একটি হাদীসে রয়েছেঃ “জান্নাতীরা পাখীর হালকা ও মিষ্টি শব্দ শুনতে পাবে।” এখানেও আরবী (আরবি) শব্দ রয়েছে। আসমাঈ' (রঃ) যিনি হযরত শু'বা (রাঃ) -এর মজলিসে ছিলেন, বলেন যে, হযরত শু’বা (আরবি) শব্দটি (আরবি) অর্থাৎ দ্বারা পড়েন। তখন হযরত আসমাঈ’ (রঃ) বলেন যে, ওটা (আরবি) দ্বারা হবে। তখন হযরত শুবা (রঃ) তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেনঃ “এ ব্যক্তি এটা আমার চেয়ে বেশী জানেন। এটাই সঠিক হবে। তোমরা এটা সংশোধন করে নাও।” এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। মোটকথা, মধু পান করানোর ঘটনায় দু’টি নাম বর্ণিত আছে। একটি হযরত হাফসা (রাঃ)-এর নাম এবং অপরটি হযরত যায়নাব (রাঃ)-এর নাম। এই ব্যাপারে যারা একমত হয়েছিলেন তাঁরা হলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। তাহলে খুব সম্ভব ঘটনা দু'টো হবে। তবে এই দুজনের ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে কিছু চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।পরস্পর এই প্রকারের পরামর্শ গ্রহণকারিণী ছিলেন হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)। এটা এ হাদীস দ্বারাও জানা যাচ্ছে যা মুসনাদে আহমাদে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ) বলেনঃ বহু দিন হতে আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, ……(আরবি)–এ আয়াতের মধ্যে যে দু’জন স্ত্রীর বর্ণনা রয়েছে তাঁদের নাম হযরত উমার (রাঃ)-এর কাছে জেনে নিবো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর এই খলীফা যখন হজ্বের সফরে বের হলেন তখন আমিও তার সাথে বের হলাম। পথে এক জায়গায় খলীফা উমার (রাঃ) রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের দিকে চললেন। আমি তখন পানির পাত্র নিয়ে তার পিছনে পিছনে গেলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূর্ণ করে ফিরে আসলেন। আমি পানি ঢেলে ঢেলে তাঁকে অযু করালাম। সুযোগ পেয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! ……… (আরবি) এই আয়াতে যে দুই জনকে সম্বোধন করা হয়েছে তাঁরা কারা? তিনি জবাবে বললেনঃ “হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! এটা বড়ই আফসোসের বিষয়!” যুহরী (রঃ) বলেন যে, হযরত উমার (রাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর এ প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করলেন। কিন্তু ওটা গোপন করা বৈধ ছিল না বলে তিনি উত্তর দেনঃ “এর দ্বারা হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।” অতঃপর হযরত উমার (রাঃ) ঘটনাটি বর্ণনা করতে শুরু করেন। তিনি বলেনঃ “আমরা কুরায়েশরা আমাদের নারীদেরকে আমাদের আওতাধীনে রাখতাম। কিন্তু মদীনাবাসীদের উপর তাদের নারীরা আধিপত্য করতো। যখন আমরা হিজরত করে মদীনায় আসলাম তখন আমাদের নারীরাও তাদের দেখাদেখি। আমাদের উপর প্রাধান্য লাভের ইচ্ছা করে। আমি মদীনা শরীফের উপরের অংশে হযরত উমাইয়া ইবনে যায়েদের বাড়ীতে অবস্থান করতাম। একদা আমি আমার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে কিছু বলতে লাগলাম। তখন সে উল্টিয়ে আমাকেও জবাব দিতে শুরু করলো। তার এই আচরণ আমার নিকট খুবই খারাপ বোধ হলো। আমি মনে মনে বললামঃ এই ধরনের নতুন আচরণ কেন? আমাকে বিস্মিত হতে দেখে সে বললোঃ “আপনি কি চিন্তা করছেন? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীরাও তাকে জবাব দিয়ে থাকে। কোন কোন সময় তো তারা সারা দিন ধরে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলাও বন্ধ রাখে।” তার এই কথা শুনে আমি অন্য এক সমস্যায় পড়লাম। সরাসরি আমি আমার কন্যা হাফসা (রাঃ)-এর বাড়ীতে গেলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে জবাব দিয়ে থাকো এবং মাঝে মাঝে সারা দিন তার সাথে কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখো এটা কি সত্য? সে উত্তরে বললোঃ “হ্যাঁ, এটা সত্য বটে।” আমি তখন বললামঃ যারা এরূপ করে তারা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তোমরা কি ভুলে যাচ্ছ যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর অসন্তুষ্টির কারণে এরূপ নারীর উপর স্বয়ং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন? সাবধান! আগামীতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কোন জবাব দিবে না এবং তাঁর কাছে কিছুই চাইবে না। কিছু চাইতে হলে আমার কাছেই চাইবে। আয়েশা (রাঃ)-কে দেখে তুমি তার প্রতি লোভ বা হিংসা করবে না। সে তোমার চেয়ে ভাল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নিকট অধিকতর প্রিয়। হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! আমার প্রতিবেশী একজন আনসারী ছিলেন। আমরা উভয়ে পালা ভাগ করে নিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর খিদমতে আমি একদিন হাযির হতাম এবং একদিন তিনি হাযির হতেন। আমি আমার পালার দিনের সমস্ত হাদীস, আয়াত ইত্যাদি শুনে তাঁকে এসে শুনাতাম এবং তিনি তার পালার দিন সবকিছু আমাকে এসে শুনাতেন। আমাদের মধ্যে এ কথাটি ঐ সময় মশহর হয়ে গিয়েছিল যে, গাসসানী বাদশাহ্ আমাদের উপর আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। একদা আমার সঙ্গী তাঁর পালার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কাছে গিয়েছিলেন! ইশার সময় এসে তিনি আমার দরজার উপর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ডাক দিতে লাগলেন। আমি উদ্বেগের সাথে বের হয়ে বললামঃ খবর ভাল তো? তিনি উত্তরে বললেনঃ “আজ তো একটা কঠিন ব্যাপার ঘটে গেছে।” আমি বললামঃ গাস্‌সানী বাদশাহ কি পৌঁছে গেছে? তিনি জবাবে বললেনঃ “এর চেয়েও কঠিন সমস্যা দেখা দিয়েছে।” আমি জিজ্ঞেস করলামঃ কি হয়েছে, বলুন না? তিনি বললেনঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়েছেন।” আমি তখন বললামঃ আফসোস! হাফসা (রাঃ) তো ধ্বংস হয়ে গেল! আমি পূর্ব হতেই এটার আশংকা করছিলাম। ফজরের নামায পড়েই কাপড়-চোপড় পরে আমি সরাসরি হাফসা (রাঃ)-এর বাড়ীতে হাযির হলাম। দেখলাম যে, সে কাঁদছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়ে ফেলেছেন? সে জবাব দিলোঃ “এ খবর তো বলতে পারছি না। তবে তিনি আমাদের হতে পৃথক হয়ে নিজের কক্ষে অবস্থান করছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখি যে, একজন হাবশী গোলাম পাহারা দিচ্ছে। আমি তাকে বললামঃ যাও, আমার জন্যে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা কর। সে গেল এবং ফিরে এসে বললোঃ “রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) কোন উত্তর দিলেন না।” আমি তখন সেখান হতে ফিরে এসে মসজিদে গেলাম। দেখলাম যে, মিম্বরের পাশে সাহাবীদের একটি দল বসে রয়েছেন এবং কারো কারো চক্ষু দিয়ে তো অশ্রু ঝরছে! আমি অল্পক্ষণ সেখানে বসে থাকলাম। কিন্তু আমার মনে শান্তি কোথায়? আবার উঠে দাঁড়ালাম এবং ঐ গোলামের কাছে গিয়ে অনুমতি চাইতে বললাম। গোলাম এবারও এসে খবর দিলো যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন উত্তর দেননি। আবার আমি মসজিদে চলে গেলাম। সেখান হতে আবার ফিরে আসলাম এবং পুনরায় গোলামকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইতে বললাম। গোলাম আবার গেল এবং ঐ একই জবাব দিলো। আমি ফিরে যাচ্ছিলাম এমন সময় গোলাম আমাকে ডাক দিলো এবং বললোঃ “আপনাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।” আমি প্রবেশ করে দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি বস্তার উপর হেলান লাগিয়ে বসে আছেন। যার দাগ তার দেহ মুবারকে পড়ে গেছে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি কি আপনার স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে ফেলেছেন? তিনি মাথা উঠিয়ে আমার দিকে চেয়ে বললেনঃ “না।” আমি বললামঃ আল্লাহু আকবার! হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কথা এই যে, আমরা কুরায়েশরা আমাদের স্ত্রীদেরকে আমাদের আজ্ঞাধীনে রাখতাম। কিন্তু মদীনাবাসীদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রাধান্য লাভ করে আছে। এখানে এসে আমাদের স্ত্রীরাও তাদের দেখাদেখি তাদেরই আচরণ গ্রহণ করে নিয়েছে। তারপর আমি আমার স্ত্রীর ঘটনাটিও বর্ণনা করলাম এবং তার একথাটিও বর্ণনা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীরাও এরূপ করে থাকেন। তারপর আমি আমার একথাটিও বর্ণনা করলাম যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর অসন্তুষ্টির কারণে আল্লাহ যে অসন্তুষ্ট হয়ে যাবেন এবং এর ফলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে এ ভয় কি তাদের নেই? আমার কথা শুনে তিনি মুচকি হাসলেন। তারপর আমি আমার হাফসা (রাঃ)-এর কাছে যাওয়া, তাকে আয়েশা (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা পোষণ না করার উপদেশ দেয়ার কথা বর্ণনা করলাম। এবারও তিনি মুচকি হাসলেন। এরপর আমি বললামঃ অনুমতি হলে আরো কিছুক্ষণ আপনার এখানে অবস্থান করতাম। তিনি অনুমতি দিলে আমি বসে পড়লাম। অতঃপর আমি মাথা উঠিয়ে ঘরের চতুর্দিকে লক্ষ্য করে দেখি যে, তিনটি শুষ্ক চামড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। তাঁর খাস দরবারের এ অবস্থা দেখে আমার খুবই দুঃখ হলো। আমি আরয করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! দু'আ করুন যেন আল্লাহ তা'আলা আপনার উম্মতের উপর প্রশস্ততা দান করেন। দেখুন তো পারসিক ও রোমকরা আল্লাহর ইবাদত করে না, অথচ তারা দুনিয়ার কত বেশী নিয়ামতের মধ্যে ডুবে রয়েছে? আমার একথা শোনা মাত্রই তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বলতে লাগলেনঃ “হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি তো, সন্দেহের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে। এই কওমের জন্যে দুনিয়ার এই নিয়ামতরাশি কল্যাণকর নয়। তাদেরকে এগুলো তাড়াতাড়ি করে দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হয়েছে।” আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন!ব্যাপারটা ছিল এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণে শপথ করেছিলেন যে, এক মাসকাল তিনি তাদের সাথে মিলিত হবেন না। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তাম্বীহ করেন।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী এবং সুনানে নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে)সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “বছর ধরে আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম যে, হযরত উমার (রাঃ)-কে এই দুইজন স্ত্রীর নাম জিজ্ঞেস করবো। কিন্তু হযরত উমার (রাঃ)-এর অত্যন্ত প্রভাবের কারণে তাঁকে জিজ্ঞেস করার সাহস হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হজ্ব পালন করে প্রত্যাবর্তনের পথে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।” তারপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন যা উপরে বর্ণিত হলো।সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, তালাকের প্রসিদ্ধির ঘটনাটি পর্দার আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ঘটেছিল। তাতে রয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) যেমন হযরত হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে তাকে বুঝিয়ে এসেছিলেন, তেমনিভাবে হযরত আয়েশা (রাঃ)-কেও বুঝিয়েছিলেন। তাতে এও রয়েছে যে, যে গোলামটি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে পাহারা দিচ্ছিল তার নাম ছিল আবূ রিবাহ (রাঃ)। তাতে এও আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেছিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি আপনার স্ত্রীদের ব্যাপারে এতো চিন্তিত হচ্ছেন কেন? যদি আপনি তাদেরকে তালাকও দিয়ে দেন তবে আপনার সাথে রয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, হযরত জিবরাঈল (আঃ), হযরত মীকাঈল (আঃ), আমি, হযরত আবূ বকর (রাঃ) এবং সমস্ত মু'মিন।” হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলারই সমস্ত প্রশংসা, আমি এই প্রকারের কথা যে বলছিলাম, আমি আশা করছিলাম যে, আমার কথার সত্যতায় তিনি আয়াত নাযিল করবেন। হলোও তাই। আল্লাহ তা’আলা (আরবি) এই আয়াত এবং (আরবি) এই আয়াত অবতীর্ণ করেন। যখন আমি জানতে পারলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর স্ত্রীদেরকে তালাক দেননি তখন আমি মসজিদে গিয়ে দরজার উপর দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে সকলকে জানিয়ে দিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর পবিত্র স্ত্রীদেরকে তালাক দেননি। এ ব্যাপারেই আল্লাহ তা'আলা ... (আরবি)-এই আয়াতটি নাযিল করেন। অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে কোন নিরাপত্তা বা ভয়ের খবর পৌঁছে তখন তারা তা প্রচার করতে শুরু করে দেয়। যদি তারা এই খবর রাসূলুল্লাহ (সঃ) অথবা জ্ঞানী ও বিদ্বান মুসলমানদের নিকট পৌঁছিয়ে দিতো তবে নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে যারা তাহকীককারী তারা ওটা বুঝতে পারতো।” হযরত উমার (রাঃ) আয়াতটি এই পর্যন্ত পাঠ করে বলেনঃ এই বিষয়ের তাহকীককারীদের মধ্যে আমিও একজন।” আরো বহু বুযুর্গ মুফাসসির হতে বর্ণিত আছে যে, দ্বারা হযরত আবূ বকর (রাঃ) এবং হযরত উমার (রাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ হযরত উসমানেরও (রাঃ) নাম উল্লেখ করেছেন এবং কেউ কেউ আবার হযরত আলী (রাঃ)-এর নামও নিয়েছেন। একটি দুর্বল হাদীসে মারফূ’’রূপে শুধু হযরত আলী (রাঃ)-এর নাম রয়েছে। কিন্তু এর সনদ দুর্বল এবং সম্পূর্ণরূপে মুনকার। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর স্ত্রীদের মধ্যে মর্যাদাবোধ জেগে উঠেছিল। আমি তখন তাদেরকে বললামঃ যদি নবী (সঃ) তোমাদেরকে পরিত্যাগ করেন তবে তার প্রতিপালক সম্ভবতঃ তাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং আমার ভাষাতেই আল্লাহ পাক তা নাযিল করেন।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) এটা পূর্বেই গত হয়েছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বহু ব্যাপারে কুরআনের আনুকূল্য করেছেন। যেমন পর্দার ব্যাপারে, বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে এবং মাকামে ইবরাহীমকে কিবলাহ নির্ধারণ করার ব্যাপারে। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আমি যখন উম্মাহাতুল মু'মিনীন ও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মধ্যে মন কষাকষির খবর পেলাম তখন আমি তাদের কাছে গেলাম এবং তাদেরকে বললামঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে আপোষ করে নাও, অন্যথায় তিনি যদি তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন তবে তাঁর প্রতিপালক সম্ভবতঃ তাকে তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী দান করবেন। অবশেষে আমি উম্মাহাতুল মু'মিনীনের শেষ জনের কাছে গেলাম। তখন সে বললোঃ “হে উমার (রাঃ)! আমাদেরকে উপদেশ দানের জন্যে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) কি যথেষ্ট নন যে, আপনি আমাদেরকে উপদেশ দিতে আসলেন?" আমি তখন নীরব হয়ে গেলাম। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ...- (আরবি) এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।” (এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) ) সহীহ বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যে স্ত্রীটি হযরত উমার (রাঃ)-কে এই উত্তর দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) আল্লাহ তা'আলার এই উক্তি সম্পর্কে তিনি বলেনঃ “ঘটনা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। যখন হাফসা (রাঃ) দেখেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত মারিয়াহ (রাঃ)-এর সাথে মশগুল রয়েছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত হাফসা (রাঃ)-কে বলেনঃ “তুমি এ খবর হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জানাবে না। আমি তোমাকে একটি সুসংবাদ দিচ্ছি। তা এই যে, আমার ইন্তেকালের পর আমার খিলাফত হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর পর তোমার আব্বা লাভ করবেন। কিন্তু হযরত হাফসা (রাঃ) এ খবর হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জানিয়ে দেন। তখন হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “এ খবর আপনার কাছে কে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত।” হযরত আয়েশা (রাঃ) তখন বলেনঃ “আমি আপনার দিকে তাকাবো যে পর্যন্ত না আপনি মারিয়াহ (রাঃ)-কে আপনার উপর হারাম করবেন।” তখন তিনি হযরত মারিয়াহ (রাঃ)-কে নিজের উপর হারাম করেন। ঐ সময় আল্লাহ তা'আলা .. (আরবি)-এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।” [এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম তিবরানী (রঃ)](আরবি)-এর একটি তাফসীর তো এই যে, তারা হবে রোযা পালনকারিণী। একটি মারফূ’ হাদীসেও এই শব্দের এই তাফসীরই এসেছে যে হাদীসটি সূরায়ে বারাআতের এই শব্দের তাফসীরে গত হয়েছে যে, এই উম্মতের সিয়াহাত হলো রোযা রাখা। দ্বিতীয় তাফসীর এই যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হিজরতকারিণীগণ। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই বেশী উত্তম। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদের মধ্যে কেউ হবে অকুমারী এবং কেউ হবে কুমারী। যাতে মন খুশী থাকে।মু’জামে তিবরানীতে রয়েছে যে, ইবনে ইয়াযীদ (রঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতে স্বীয় নবী (সঃ)-কে যে ওয়াদা দিয়েছেন তাতে বেওয়া বা অকুমারী দ্বারা হযরত আসিয়া (রাঃ) কে বুঝানো হয়েছে যিনি ফিরাউনের স্ত্রী ছিলেন এবং কুমারী দ্বারা হযরত মরিয়ম (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে যিনি হযরত ইমরানের কন্যা ছিলেন। হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করেন। ঐ সময় হযরত খাদীজাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আসেন। তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত খাদীজাহ (রাঃ)-কে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেন, তাঁকে সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে জান্নাতের একটি ঘরের, যেখানে না আছে গরম এবং না আছে কোন কষ্ট, আর না আছে কোন শোরগোল। যা ছিদ্রকৃত মুক্তা দ্বারা নির্মিত। যার ডানে-বামে মরিয়ম বিনতু ইমরান (রাঃ) এবং আসিয়া বিনতু মাযাহেম (রাঃ)-এর ঘর রয়েছে। অন্য একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, হযরত খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেনঃ “হে খাদীজাহ (রাঃ)! তোমার সতীনদেরকে আমার সালাম জানিয়ে দিবে।” হযরত খাদীজাহ (রাঃ) তখন বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার পূর্বেও কি আপনি কাউকেও বিয়ে করেছিলেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা মরিয়ম বিনতু ইমরান (রাঃ), ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া (রাঃ) এবং মূসা (আঃ)-এর বোন কুলসুম (রাঃ) এই তিনজনকে আমার নিকাহতে দিয়ে রেখেছেন।” (এ হাদীসটি দুর্বল) হযরত আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেছেনঃ “তুমি কি জান যে, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে আমার বিবাহ ইমরানের কন্যা মরিয়ম (রাঃ), মূসা (আঃ)-এর ভগ্নী কুলসুম (রাঃ), এবং ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়ার (রাঃ) সাথে দিয়ে রেখেছেন? তিনি উত্তরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকে মুবারকবাদ।” (এ হাদীসটি আবূ ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এটাও দুর্বল হাদীস এবং সাথে সাথে মুরসালও বটে)

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Baca, Dengar, Cari, dan Renungkan Al-Quran

Quran.com ialah platform dipercayai yang digunakan oleh berjuta-juta orang di seluruh dunia untuk membaca, mencari, mendengar dan merenung Al-Quran dalam pelbagai bahasa. Ia menyediakan terjemahan, tafsir, bacaan, terjemahan perkataan demi perkataan, dan alat untuk kajian yang lebih mendalam, menjadikan al-Quran boleh diakses oleh semua orang.

Sebagai Sadaqah Jariyah, Quran.com berdedikasi untuk membantu orang ramai berhubung secara mendalam dengan al-Quran. Disokong oleh Quran.Foundation , sebuah organisasi bukan untung 501(c)(3), Quran.com terus berkembang sebagai sumber percuma dan berharga untuk semua, Alhamdulillah.

Navigasi
Halaman Utama
Radio Al-Quran
Qari
Tentang Kami
Pemaju (Developers)
Kemas kini produk
Maklum balas
Bantuan
Projek Kami
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Projek tanpa untung yang dimiliki, diurus atau ditaja oleh Quran.Foundation
Pautan yang di gemari

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Peta lamanPrivasiTerma dan Syarat
© 2026 Quran.com. Hak cipta terpelihara