Aanmelden
🚀 Doe mee aan onze Ramadan-uitdaging!
Leer meer
🚀 Doe mee aan onze Ramadan-uitdaging!
Leer meer
Aanmelden
Aanmelden
4:43
يا ايها الذين امنوا لا تقربوا الصلاة وانتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون ولا جنبا الا عابري سبيل حتى تغتسلوا وان كنتم مرضى او على سفر او جاء احد منكم من الغايط او لامستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وايديكم ان الله كان عفوا غفورا ٤٣
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَقْرَبُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمْ سُكَـٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا۟ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِى سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا۟ ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰٓ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَآءَ أَحَدٌۭ مِّنكُم مِّنَ ٱلْغَآئِطِ أَوْ لَـٰمَسْتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمْ تَجِدُوا۟ مَآءًۭ فَتَيَمَّمُوا۟ صَعِيدًۭا طَيِّبًۭا فَٱمْسَحُوا۟ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا ٤٣
يَٰٓأَيُّهَا
ٱلَّذِينَ
ءَامَنُواْ
لَا
تَقۡرَبُواْ
ٱلصَّلَوٰةَ
وَأَنتُمۡ
سُكَٰرَىٰ
حَتَّىٰ
تَعۡلَمُواْ
مَا
تَقُولُونَ
وَلَا
جُنُبًا
إِلَّا
عَابِرِي
سَبِيلٍ
حَتَّىٰ
تَغۡتَسِلُواْۚ
وَإِن
كُنتُم
مَّرۡضَىٰٓ
أَوۡ
عَلَىٰ
سَفَرٍ
أَوۡ
جَآءَ
أَحَدٞ
مِّنكُم
مِّنَ
ٱلۡغَآئِطِ
أَوۡ
لَٰمَسۡتُمُ
ٱلنِّسَآءَ
فَلَمۡ
تَجِدُواْ
مَآءٗ
فَتَيَمَّمُواْ
صَعِيدٗا
طَيِّبٗا
فَٱمۡسَحُواْ
بِوُجُوهِكُمۡ
وَأَيۡدِيكُمۡۗ
إِنَّ
ٱللَّهَ
كَانَ
عَفُوًّا
غَفُورًا
٤٣
O jullie die geloven, nadert niet de shalât terwijl jullie dronken zijn, totdat jullie weten wat jullie zeggen; en (ook) niet onrein (Djoenoeb), behalve degenen die er onderweg doorheen komen, totdat jullie je (ritueel) gereinigd hebben. En in het geval dat jullie nek zijn, of op reis, of jullie van het toilet komen, of jullie de vrouwen aanraken en jullie geen water vinden: doet dan de Tayammoem met schone aarde en wrijft ennee langs jullie gezichten en handen. Voorwaar, Allah is Vergevend, Vergeverisgezind.
Tafseers
Lessen
Reflecties
Antwoorden
Qiraat

আল্লাহ তাআলা স্বীয় ঈমানদার বান্দাদেরকে নেশার অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করছেন। কেননা, সে সময় নামাযী নিজেই বুঝতে পারে না যে, সে কি বলছে? সঙ্গে সঙ্গে নামাযের স্থানে অর্থাৎ মসজিদে আসতে তাকেও নিষেধ করছেন এবং অবগাহনের পূর্বে অপবিত্র লোককেও নিষধ করছেন। হ্যাঁ, তবে এরূপ ব্যক্তি কোন কার্য বশতঃ যদি মসজিদের একটি দরজা দিয়ে গিয়ে অন্য দরজা দিয়ে ফিরে আসে এবং তথায় অবস্থান না করে তবে এ যাতায়াত বৈধ। নেশার অবস্থায় নামাযের নিকটে না যাওয়ার নির্দেশ মদ্য হারাম হওয়ার পূর্বে ছিল। যেমনঃ সূরা-ই-বাকারার (আরবী) (২:২১৯)-এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হাদীসে প্রকাশিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন এ আয়াতটি হযরত উমার (রাঃ)-এর সামনে পাঠ করেন তখন হযরত উমার (রাঃ) প্রার্থনা করেন-“হে আল্লাহ! মদ্য সম্বন্ধে আরও পরিষ্কারভাবে আয়াত অবতীর্ণ করুন।' তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ নেশার অবস্থায় নামাযের নিটকবতী না হওয়ার আয়াতটি নাযিল হয়। এরপরে লোকেরা নামাযের সময় মদ্যপান পরিত্যাগ করে। এটা শুনে হযরত উমার (রাঃ) পুনরায় এ প্রার্থনাই করেন। তখন (আরবী) (৫:৯০-৯১) পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। যার মধ্যে মদ্য হতে দূরে থাকার পরিষ্কার নির্দেশ বিদ্যমান রয়েছে। এটা শুনে হযরত উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমরা বিরত থাকলাম।' এ বর্ণনার একটি সনদে রয়েছে যে, যখন সূরা-ইনিসার এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং নেশার অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করা হয় তখন প্রথা ছিল, যখন নামায আরম্ভ করা হতো তখন একটি লোক উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করতো-মাতাল ব্যক্তি যেন নামাযের নিকটবর্তী না হয়।সুনান-ই-ইবনে মাজায় রয়েছে, হযরত সাদ (রাঃ) বলেন, “আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। একজন আনসারী খাদ্য রান্না করতঃ বহু লোককে দাওয়াত দেন। আমরা ভোজনে পরিতৃপ্ত হই। অতঃপর আমরা মদ্যপান করে জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ি। এরপরে আমরা পরস্পরের গৌরব প্রকাশ করতে থাকি। একটি লোক উটের চোয়ালের অস্থি উঠিয়ে হযরত সাদ (রাঃ)-কে মেরে দেয়, যার ফলে তাঁর নাক আহত হয় এবং ওর চিহ্ন থেকে যায়। সে সময় পর্যন্ত মদ্য হারাম হয়নি। অতঃপর এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।' এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমেও পূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে যে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) জনগণকে জিয়াফত করেন। জনগণ আহারের পর মদ্যপান করেন এবং জ্ঞানশূন্য হয়ে যান। এমন সময় নামাযের ওয়াক্ত এসে যায়। একজনকে ইমাম করা হয়। তিনি পাঠ করেনঃ (আরবী) সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং মত্ততাবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করা হয়। এ হাদীসটি জামেউত্ তিরমিযীর মধ্যেও রয়েছে এবং এটা হাসান। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আলী (রাঃ), হযরত আবদুর রহমান (রাঃ) এবং তৃতীয় একজন সাহাবী মদ্যপান করেন। হযরত আবদুর রহমান (রাঃ)-কে ইমাম বানান হয়। কুরআন কারীমের সূরা তিনি বিশৃংখলভাবে পাঠ করেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। সুনান-ই-আবি দাউদ এবং সুনান-ই-নাসাঈর মধ্যেও এ বর্ণনাটি রয়েছে।তাফসীর-ই-ইবনে জারীরেও আর একটি বর্ণনা রয়েছে যে, হযরত আলী (রাঃ) ইমাম হন এবং যেভাবে পড়তে চেয়েছিলেন সেভাবে পড়তে পারেননি। তখন আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) ইমাম হয়েছিলেন এবং তিনি নিম্নরূপ পাঠ করেছিলেনঃ (আরবী) তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং ঐ অবস্থায় নামায পড়া হারাম ঘোষণা করা হয়।হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, মদ্যের অবৈধতার পূর্বে মানুষ মাতাল অবস্থায় নামাযে দাড়িয়ে যেতেন। সুতরাং এ আয়াত দ্বারা তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে দেয়া হয়।' (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর) হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর তোক এ কাজ হতে বিরত থাকে।অতঃপর সম্পূর্ণরূপে মদ্যের অবৈধতা ঘোষিত হয়। হযরত যহহাক (রঃ) বলেন যে, এখানে ভাবার্থ মদ্যের মত্ততা নয় বরং ভাবর্থ হচ্ছে দ্রিালুতা। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এখানে মদ্যের মত্ততা ভাবার্থ হওয়াই সঠিক কথা এবং এখানে নেশায় উন্মত্ত লোকদেরই সম্বোধন করা হয়েছে। কিন্তু এতটা নয় যে, শরীয়তের আহকাম তাদের উপর জারী হতেই পারে না। কেননা, নেশায় এরূপ মত্ততাবিশিষ্ট ব্যক্তিকে পাগলেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উসূল’ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ মনীষীদের উক্তি এই যে, সম্বোধন দ্বারা ঐ লোকদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয় যারা কথা বুঝতে পারে। এমন উন্মত্ত ব্যক্তিদেরকে সম্বোধন করা যেতে পারে না যারা কিছুই বুঝে না যে, তাদেরকে কি বলা হচ্ছে। কেননা, সম্বোধন অনুধাবন করার শর্ত হচ্ছে তাকলীফের। এও বলা হয়েছে যে, যদিও শব্দ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে-‘তোমরা মাতাল অবস্থায় নামায পড়ো না, কিন্তু ভাবার্থ হচ্ছে-তোমরা নেশার জিনিস পানাহারও করো না। কেননা, এটা কিরূপে সম্ভব যে, একজন মদ্যপায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঠিক সময়ে আদায় করতে পারে অথচ সে বরাবর মদ্য পান করতেই থাকে? এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা'আলার রয়েছে। তাহলে এ নির্দেশও ঠিক ঐ নির্দেশরই মত যেখানে বলা হয়েছে- “হে মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যতটা ভয়ের তাঁর হক রয়েছে এবং তোমরা মুসলমান না হয়ে মরো না। এখানে ভাবার্থ এই যে, তোমারা সদা-সর্বদা এরূপ প্রস্তুতি গ্রহণ কর এবং এমন সৎ কার্যাবলী সব সময় সম্পাদন করতে থাক যে, যখন তোমরা মরণ বরণ করবে তখন যেন তোমাদের মৃত্যু ইসলামের উপরেই হয়।তদ্রুপ এ আয়াতে যে নির্দেশ হচ্ছে- যে পর্যন্ত না তোমরা বুঝতে পার যে, তোমরা কি বলছ, এটা হচ্ছে নেশার সীমারেখা। অর্থাৎ নেশার অবস্থায় ঐ ব্যক্তিকে বুঝতে হবে যে নিজের কথাই বুঝতে পারে না। নেশায় উন্মত্ত ব্যক্তি কুরআন কারীম বিশৃংখলভাবে পাঠ করে থাকে। তার বুঝবার এবং চিন্তা গবেষণা করবার সুযোগ হয় না। সে নামাযে বিনয়ও প্রকাশ করতে পারে না।মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ নামায পড়া অবস্থায় তোমাদের কারও তন্দ্রা এলে সে যেন ফিরে আসে এবং ঘুমিয়ে পড়ে যে পর্যন্ত না সে বুঝতে পারে যে সে কি বলছে।' সহীহ বুখারী ও সুনান-ই-নাসাঈর মধ্যেও এ হাদীসটি রয়েছে। হাদীসের কতক শব্দ এও রয়েছেঃ ‘সে চায় ক্ষমা প্রার্থনা করতে কিন্তু হয়তো তার মুখ দিয়ে বিপরীত কথা বেরিয়ে যাবে।' এবারে বলা হচ্ছে-‘অপবিত্র ব্যক্তিও যেন গোসল করার পূর্বে নামাযের নিকটবর্তী না হয়। হ্যাঁ, তবে অতিক্রম করা হিসেবে মসজিদের ভেতর দিয়ে গমন করা জায়েয। হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন যে, এরূপ অপবিত্র অবস্থায় মসজিদের ভেতরে যাওয়া জায়েয নয়। তবে মসজিদের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় কোন দোষ নেই। মসজিদে বসতে পারবে না। আরও বহু সাহাবী ও তাবেঈর এটাই উক্তি।হযরত ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব বলেন যে,"কতগুলো আনসার যারা মসজিদের চতুর্দিকে বাস করতেন তাঁরা অপবিত্র হলে বাড়ীতে হয়তো পানি থাকতো না, আর তাদের ঘরের দরজা মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকতো, তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় যে, তাঁরা ঐ অবস্থাতেই মসজিদ দিয়ে গমন করতে পারেন।সহীহ বুখারী শরীফে তো একথা স্পষ্টভাবে রয়েছে যে, লোকদের ঘরের দরজা মসজিদেই ছিল। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় মরণ রোগের সময় বলেনঃ ‘মসজিদে যেসব লোকের দরজা রয়েছে সবগুলো বন্ধ করে দাও। শুধুমাত্র হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর দরজাটি রেখে দাও।' এর দ্বারা এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইন্তিকালের পর তার স্থলাভিষিক্ত হযরত আবু বকরই (রাঃ) হবেন এবং তার প্রায় সব সময় মসজিদে যাতায়াতের প্রয়োজন হবে যেন তিনি মুসমানদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ মীমাংসা করতে পারেন। এ জন্যেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) সমস্ত দরজা বন্ধ করে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর দরজা খুলে রাখতে নির্দেশ দেন। সুনানের কোন কোন হাদীসে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর পরিবর্তে হযরত আলী (রাঃ)-এর নাম রয়েছে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল। সঠিক ওটাই যা সহীহতে রয়েছে।এ আয়াত দ্বারা অধিকাংশ ইমাম দলীল গ্রহণ করেছেন যে, অপবিত্র লোকের মসজিদে অবস্থান নিষিদ্ধ। তবে গমন করা বৈধ। হায়ে্যু ও নিফাস্ বিশিষ্ট নারীদেরও এ হুকুম। কিন্তু কেউ কেউ বলেন যে, এরূপ নারীদের জন্যে মসজিদ দিয়ে গমনও বৈধ নয়। কেননা, এতে মসজিদে অপবিত্রতা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার অন্য কেউ বলেন যে, যদি এ ভয় না থাকে তবে তাদের গমনও বৈধ।সহীহ মুসলিম শরীফের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বলেনঃ ‘আমাকে মসজিদ হতে মাদুরটি এনে দাও। তিনি তখন বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি হায়েযের অবস্থায় রয়েছি।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ হায়েয তো তোমার হাতে নেই।' এর দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, ঋতুবতী নারী মসজিদে যাতায়াত করতে পারে। নিফাস বিশিষ্টা নারীরও এ হুকুম। এরা রাস্তায় চলা হিসেবে যাতায়াত করতে পারে। সুনান-ই-আবু দাউদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘোষণা রয়েছেঃ আমি ঋতুবতী নারী ও অপবিত্র লোকদের জন্যে মসজিদকে হালাল করি না। ইমাম আবু মুসলিম খাত্তাবী (রঃ) বলেন, এ হাদীসটিকে একটি দল দুর্বল বলেছেন। কেননা, এর একজন বর্ণনাকারী আফলাত ইবনে খালীফাতুল আমেরী অপরিচিত। কিন্তু সুনান-ই-ইবনে মাজার মধ্যে এ বর্ণনাটি রয়েছে। তাতে আফলাতের স্থলে মা’দূম যিহূলী রয়েছে। প্রথম হাদীসটি হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে এবং এ দ্বিতীয় হাদীসটি হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। কিন্তু সঠিক নাম হযরত আয়েশারই (রাঃ) বটে।জামেউত্ তিরযিমীর মধ্যে অন্য একটি হাদীস হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে আলী! এ মসজিদে অপবিত্র হওয়া তোমার ও আমার ছাড়া আর কারও জন্যে হালাল নয়। এ হাদীসটি সম্পূর্ণই দুর্বল এবং এটা কখনই সাব্যস্ত হতে পারে না। এতে সালিম নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে যে পরিত্যাজ্য এবং তার শিক্ষক আতিয়্যাও দুর্বল। এ বিষয়ে আল্লাহ পাকই ভাল জানেন। এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আলী (রাঃ) বলেন, ভাবার্থ এই যে, অপবিত্র ব্যক্তি এ অবস্থায় গোসল না করে নামায পড়তে পারে না, কিন্তু যদি সফরে থাকে এবং পানি না পায় তবে পানি না পাওয়া পর্যন্ত পড়তে পারে।' হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ) এবং হযরত যহাক (রঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ) হযরত যায়েদ (রঃ) এবং হযরত আবদুর রহমান (রঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত হয়েছে।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, “আমরা শুনতাম যে, এ হাদীসটি সফরের হুকুমে অবতীর্ণ হয়েছে।' এ হাদীস দ্বারাও এ মাসআলার সাক্ষ্য হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “পবিত্র মাটি হচ্ছে মুসলমানকে পবিত্রকারী যদিও দশ বছর পর্যন্ত পানি পাওয়া না যায়। যখন পানি পাওয়া যাবে তখন ওটাই ব্যবহার করবে, এটাই তোমার জন্যে উত্তম।' (সুনান ও মুসনাদ-ই-আহমাদ)ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এ দু’টি উক্তির মধ্যে উত্তম হচ্ছে ঐ লোকদের উক্তি যারা বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে অতিক্রম করা হিসেবে মসজিদে গমন করা। কেননা, যে মুসাফির অপবিত্র অবস্থায় পানি পাবে না তার হুকুমতো পরে পরিষ্কারভাবে রয়েছে। সুতরং এখানেও যদি এ ভাবার্থই হয় তবে পরে আবার একে অন্য বাক্যে ফেরানোর কোন আবশ্যকতা থাকে না।অতএব আয়াতের অর্থ এখন এই হলো যে, হে মুমিনগণ! তোমরা মাতাল অবস্থায় মসিজদে যেওনা যে পর্যন্ত তোমরা নিজেদের কথা নিজেরাই বুঝতে না পার। অনুরূপভাবে অপবিত্র অবস্থাতেও তোমরা মসজিদে যেওনা যে পর্যন্ত অবগাহন না কর। তবে রাস্তা অতিক্রম করা হিসেবে যাওয়া বৈধ। শব্দের অর্থ হচ্ছে আসা-যাওয়া অর্থাৎ অতিক্রম করা। এর। বা এসে থাকে। যখন কেউ নদী অতিক্রম করে তখন আরববাসীরা বলে, (আরবী) অর্থাৎ ‘অমুক নদী অতিক্রম করেছে।অনুরূপভাবে যে শক্তিশালী উট সফরে পথ অতিক্রম করে তাকেও তারা বলে, (আরবী) অর্থাৎ উট ভ্ৰমণ পথ অতিক্রম করেছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) যে উক্তিটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন, জমহুরেরও ঐ উক্তি। আর আয়াত দ্বারা বাহ্যতঃ এটাই প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সে অসম্পূর্ণ অবস্থায় নামায পড়তে নিষেধ করছেন যা নামাযের উদ্দেশ্যের বিপরীত। অনুরূপভাবে নামাযের স্থানে এমন অবস্থায় আসতে বাধা দিচ্ছেন যা সে স্থানের শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতার উল্টো। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান ভাল রয়েছে।তারপর যে আল্লাহ পাক বলেন-‘যে পর্যন্ত তোমরা গোসল না কর। এটা দলীল হচ্ছে ইমাম আবু হানিফা (রঃ), ইমাম মালিক (রঃ) এবং ইমাম শাফিঈ (রঃ)-এর যে, অপবিত্র ব্যক্তির মসজিদে অবস্থান নিষিদ্ধ, যে পর্যন্ত সে গোসল না করবে বা যদি পানি না পায় কিংবা পানি পায় কিন্তু তা ব্যবহারের ক্ষমতা না থাকে তবে তায়াম্মুম করে নেবে।ইমাম আহমাদ (রঃ) বলেন যে, অপবিত্র ব্যক্তি যখন নামায পড়ে নেবে তখন তার জন্যে মসজিদে অবস্থান বৈধ। যেমন মুসনাদ-ই-আহমাদ এবং সুনান-ই-সাঈদ মানসূরে বর্ণিত আছে। হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীগণকে দেখেছি যে, তারা অপবিত্র হতেন এবং অযু করে মসজিদে বসে থাকতেন।' এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।এখন কোন কোন সময় তায়াম্মুম করা জায়েয তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। যে রোগের কারণে তায়াম্মুম জায়েয হয় ওটা হচ্ছে ঐ রোগ যে ঐ সময় পানি ব্যবহার করলে কোন অঙ্গ নষ্ট হওয়ার বা রোগের সময় বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কোন কোন আলেম প্রত্যক রোগের জন্য তায়াম্মুমের অনুমতির ফতওয়া দিয়েছেন। কেননা আয়াত সাধারণ। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, একজন আনসারী রুগ্ন ছিলেন। না তিনি দাঁড়িয়ে অযু করতে পারেন, না তার কোন সেবক ছিলো যে তাঁকে পানি দেয়। তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এটা বর্ণনা করেন। সে সময় এ হুকুম অবতীর্ণ হয়। এ বর্ণনাটি মুরসাল।তায়াম্মুমের বৈধতার দ্বিতীয় অবস্থা হচ্ছে সফর। সে সফর দীর্ঘই হোক বা ক্ষুদ্র হোক। (আরবী) বলা হয় নরম ভূমিকে। এখানে ওর দ্বারা পায়খানাকে বুঝান হয়েছে। লা-মাসতুম শব্দের দ্বিতীয় পঠন হচ্ছে লামাসতুম। এর তাফসীরে দুটি উক্তি রয়েছে। একটি এই যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে সঙ্গম। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ যদি তোমরা সঙ্গমের পূর্বে স্ত্রীদেরকে তালাক প্রদান কর এবং তাদের মোহর নির্দিষ্ট কর তবে যা নির্দষ্ট করেছে তারা তার অর্ধেক পাবে।' (২:২৩৭) অন্য আয়াতে রয়েছে- “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নারীদেরকে বিয়ে কর অতঃপর সঙ্গমের পূর্বে তালাক প্রদান কর তখন তাদের জন্যে ইদ্দত’ নেই। এখানেও (আরবী) রয়েছে। হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে (আরবী) (৫:৬)-এর ভাবার্থ সঙ্গম। হযরত আলী (রাঃ), হযরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত তাউস (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ), হযরত উবায়েদ ইবনে উমায়ের (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ), হযরত শা’বী (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ) হযরত মুকাতিল ইবনে হিব্বান (রঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে।হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রঃ) বলেন, একবার এ শব্দের উপর আলোচনা হলে কতগুলো মাওয়ালী বলেন যে, এটা সঙ্গম নয় এবং কতগুলো আরব বলেন যে, এটা সঙ্গম। আমি হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এটা বর্ণনা করি। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন-তুমি কাদের সঙ্গে ছিলে? আমি বলি- ‘আমি মাওয়ালীদের সঙ্গে ছিলাম। তিনি বলেন, মাওয়ালীগণ পরাজিত হয়েছে। (আরবী) এবং (আরবী) অর্থ হচ্ছে সঙ্গম। আল্লাহ তা'আলা এখানে কিনায়া করেছেন। অন্যান্য কয়েকজন মনীষী এর ভাবার্থ সাধারণ স্পর্শ করা নিয়েছেন। নিজের শরীরের কোন অংশ স্ত্রীর শরীরের কোন অংশের সাথে মিলিয়ে নিলেই অযু ওয়াজিব হয়ে যায়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, ‘সঙ্গম ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ স্পর্শ করাকে (আরবী) বলা হয়। তিনি বলেন যে, চুম্বনও (আরবী)-এরই অন্তর্ভুক্ত এবং ওতেও অযু করা অবশ্যকর্তব্য হয়ে পড়বে।' তিনি আরও বলেন, ‘সঙ্গম করায়, হাত দ্বারা স্পর্শ করায় এবং চুম্বন করায় অযু করতে হয়।' (আরবী)-এর ভাবার্থ স্পর্শ করা।হযরত ইবনে উমার (রাঃ) চুম্বন দেয়াতে অযু ফরয হওয়ার উক্তিকারী ছিলেন এবং ওটাকেও (আরবী)-এর অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। হযরত উবাইদাহ (রাঃ), হযরত আবু উসমান (রাঃ), হযরত সাবিতা (রাঃ), হযরত ইবরাহীম (রাঃ) এবং হযরত যায়েদও (রাঃ) বলেন যে, (আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছে সঙ্গম ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ স্পর্শ করা। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, 'মানুষের স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন দেয়া এবং হাত দ্বারা স্পর্শ করা হচ্ছে (আরবী) এতে অযু ফরয হয়ে যাবে। (মুআত্তা-ই-মালিক)দারেকুতনীর হাদীসের মধ্যে স্বয়ং হযরত উমার (রাঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনা এর বিপরীতও পাওয়া যায় যে, তিনি অযুর অবস্থায় ছিলেন এবং স্বীয় স্ত্রীকে চুম্বন দেন, অতঃপর অযু করেননি, ঐ অবস্থাতেই নামায আদায় করেন। সুতরাং এ দু’টি বর্ণনাকে সঠিক মেনে নেয়ার পর এ ফায়সালা করতেই হবে যে, তিনি অযুকে মুস্তাহাব মনে করতেন। আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।সাধারণ স্পর্শতেই অযু করতে হবে এ উক্তি হচ্ছে শাফিঈ (রঃ) এবং তাঁর সহচরের। ইমাম মালিক ও প্রসিদ্ধ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) হতেও এ উক্তিই বর্ণিত আছে। যারা এ উক্তি করেন তাঁরা বলেন যে, এখানে দু'টি কিরআত রয়েছে। একটি হচ্ছে লা-মাসতুম এবং অপরটি হচ্ছে লামাসতুম। আর কুরআন কারীমের মধ্যে হাত দ্বারা স্পর্শ করার উপরও শব্দের প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ইরশাদ হচ্ছে- (আরবী) (৬:৭) এটা স্পষ্টকথা যে, এখানে ভাবার্থ হচ্ছে হাত দ্বারা স্পর্শ করা। অনুরূপভাবে হযরত মায়েয ইবনে মালিক (রাঃ)-কে রাসূল (সঃ) বলেছিলেনঃ সম্ভবতঃ তুমি চুম্বন দিয়ে বা হাত দ্বারা স্পর্শ করে থাকবে। সেখানেও (আরবী) শব্দ রয়েছে এবং শুধু হাত লাগানোর অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। অন্য হাদীসে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ হাতের ব্যভিচার হচ্ছে হাত দ্বারা স্পর্শ করা।' হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরূপ খুব কম দিনই অতিবাহিত হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদের নিকট এসে আমাদেরকে চুম্বন দেননি বা হাত দ্বারা স্পর্শ করেননি।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী) হতে নিষেধ করেছেন। এখানেও এর অর্থ হচ্ছে হাত দ্বারা স্পর্শ করার ক্রয়-বিক্রয়। অতএব হাদীসটিকে যেমন সঙ্গমের উপর প্রয়োগ করা হয় দ্রুপ হাত দ্বারা স্পর্শ করার উপরও প্রয়োগ করা হয়। কবি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ আমার হাত তার হাতের সাথে মিলিত হয়েছে, আমি ধন চাই।'ইবনে আবি লাইলা হযরত মুআয (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরয করেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! ঐ লোকটির ব্যাপারে মীমাংসা কী হতে পারে যে একটি অপরিচিতা নারীর সঙ্গে শুধু ব্যভিচার ছাড়া ঐ সমস্ত কাজ করেছে যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে। তখন- (আরবী) (১১:১১৪) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন লোকটিকে বলেন, অযু কর ও নামায আদায় কর। হযরত মুআয (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এটা কি একমাত্র তার জন্যে নির্দিষ্ট, না সমস্ত মুসলমানের জন্য সাধারণ? তিনি উত্তর দেনঃ “বরং এটা সমস্ত মুসলমানের জন্যে সাধারণ। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে যায়েদার হাদীস থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, এর সনদ সংযুক্ত নয়। ইমাম নাসাঈ (রঃ) হতে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেন। মোটকথা, এটার উক্তিকারী এ হাদীসটি সম্বন্ধে বলেন, লোকটিকে অযু করার নির্দেশ দেয়ার কারণ এই যে, সে স্ত্রীলোকটিকে স্পর্শ করেছিল মাত্র সঙ্গম করেনি। এর উত্তর এই দেয়া যায় যে, প্রথমতঃ এটা মুনকাতা। ইবনে আবি লাইলা ও হযরত মু'আযের মধ্যে সাক্ষাত প্রমাণিত নয় ।দ্বিতীয়তঃ হতে পারে যে, তাকে ফরয নামায আদায়ের জন্যে অযু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন হযরত আবু বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যে বান্দা কোন পাপ করার পর অযু করে দু' রাকআত নামায আদায় করে, আল্লাহ তা'আলা তার পাপ মার্জনা করে থাকেন। এ হাদীসটি পূর্ণভাবে সূরা আলে ইমরানের (আরবী) (৩:১৩৫)-এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন, এ উক্তি দুটির মধ্যে উত্তম হচ্ছে ঐ লোকদের উক্তি যারা বলেন যে, (আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছে সঙ্গম, অন্য কিছু নয়। কেননা, সহীহ মারফু হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার কোন পত্নীকে চুম্বন দেন এবং অযু না করেই নামায আদায় করেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) অযু করতেন, অতঃপর চুম্বন দিতেন এবং পরে অযু না করেই নামায আদায় করতেন। হযরত হাবীব (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর কোন সহধর্মিণীকে চুম্বন করতেন, অতঃপর নামাযে যেতেন এবং অযু করতেন না। আমি বলি, সে স্ত্রী আপনিই হতেন। তখন তিনি মুচকি হেসে উঠেন। এর সনদে সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য সনদে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, উপরের বর্ণনাকারী অর্থাৎ হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে শ্রবণকারী হচ্ছেন হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাঃ)।অন্য বর্ণনায় রয়েছে- ‘অযুর পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে চুম্বন করতেন এবং পুনরায় অযু করতেন না। অন্য সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি চুম্বন করেন এবং পরে অযু না করেই নামায আদায় করেন।হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) চুম্বন করতেন অথচ তিনি রোযার অবস্থায় থাকতেন এবং তাতে তার রোযাও নষ্ট হতো না ও তিনি নতুনভাবে অযুও করতেন না'। (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর) হযরত যায়নাব সাহমিয়া' (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) চুম্বন দেয়ার পর অযু না করেই নামায আদায় করতেন।এরপর আল্লাহ পাক বলেন-“যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর।' এর দ্বারা অধিকাংশ ধর্মশাস্ত্রবিদ দলীল গ্রহণ করেছেন যে, পানি না পাওয়ার কারণে তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে পানি অনুসন্ধানের পর। কুতুবে ফুরু’র মধ্যে অনুসন্ধানের অবস্থাও বর্ণনা করা হয়েছে।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি লোককে দেখেন যে, সে লোকদের সাথে নামায না পড়ে পৃথক হয়ে রয়েছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ ‘জনগণের সাথে তুমি নামায পড়লে না কেন? তুমি কি মুসলমান নও? লোকটি বলে, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি মুসলমান তো বটে, কিন্তু আমি অপবিত্র হয়ে গেছি এবং পানি পাইনি।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ঐ অবস্থায় তোমার জন্যে মাটি যথেষ্ট ছিল। (আরবী) শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ইচ্ছে করা। আরবেরা বলে- (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা স্বীয় হিফাযতের সঙ্গে তোমার প্রতি ইচ্ছে পোষণ করুন। ইমরুল কায়েসের নিম্নের কবিতায়ও (আরবী) শব্দটি এ অর্থেই এসেছেঃ (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে ঐ জিনিস যা ভূপৃষ্ঠের উপর চড়ে গেছে। সুতরাং মাটি, বালু, গাছ প্রভৃতিও এর অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়েছে যে, যে জিনিস মাটির শ্রেণীভুক্ত, যেমন বালু, ইট এবং চুন ইত্যাদি। এটা ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর মাযহাব। আবার শুধু মাটিকেও বলা হয়েছে এবং এটা হচ্ছে ইমাম শাফিঈ (রঃ) ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) এবং তাঁদের সহচরদের উক্তি। এর প্রথম দলীল তো কুরআন কারীমের এ শব্দগুলো (আরবী) অর্থাৎ সুতরাং ওটা পিচ্ছিল মাটি হয়ে যাবে।' (১৮:৪০) দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে সহীহ মুসলিমের নিম্নে হাদীসটিঃহযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাদেরকে সমস্ত মানুষের উপর তিনটি মর্যাদা দেয়া হয়েছে (১) আমাদের সারিগুলো ফেরেশতাদের সারির মত করা হয়েছে (২) আমাদের জন্যে সমস্ত ভূমিকে মসজিদ করা হয়েছে এবং (৩) ভূপৃষ্ঠের মৃত্তিকাকে আমাদের জন্যে পবিত্র ও পবিত্রকারী বানানো হয়েছে যখন আমরা পানি না পাই। হাদীসের শব্দগুলোর মধ্যে (আরবী) শব্দ রয়েছে এবং অন্য সনদে (আরবী)-এর স্থলে (আরবী) শব্দ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ হাদীসে কৃপা প্রকাশের সময় মাটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যদি অন্য কোন জিনিস অযুর স্থলবর্তী হতো তবে সাথে সাথে ওরও উল্লেখ করতেন। এখানে (আরবী) শব্দটির অর্থের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, ওর ভাবার্থ হচ্ছে হালাল এবং কারও কারও মতে ওর ভাবার্থ হচ্ছে পবিত্র। যেমন হাদীস শরীফ রয়েছে, হররত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “পবিত্র মাটি হচ্ছে মুসলমানদের অযু, যদিও দশ বছর পর্যন্ত পানি পাওয়া না যায়। অতঃপর যখন পানি পাওয়া যাবে তখন সে যেন তা তার শরীরে বুলিয়ে দেয়। এটাই তার জন্যে উত্তম।' ইমাম তিরমিযী (রঃ) একে হাসান সহীহ বলেছেন। হাফিয আবুল হাসান কাত্তানও (রঃ) একে বিশুদ্ধ বলেছেন। সবচেয়ে পবিত্র মাটি হচ্ছে ক্ষেত্র ভূমির মাটি। এমন কি তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যে একে মার’ রূপে আনা হয়েছে। এরপর বলা হচ্ছে-‘ঐ মাটি স্বীয় মুখমণ্ডলে ও হাতে ঘর্ষণ কর।' তায়াম্মুম হচ্ছে অযুর স্থলবর্তী। এটা শুধুমাত্র পবিত্রতা লাভের জন্যে সমস্ত শরীরে ঘর্ষণের জন্যে নয়। সুতরাং শুধু মুখে ও হাতে ঘর্ষণ করলেই যথেষ্ট হবে। এর উপর ইজমা হয়েছে। কিন্তু তায়াম্মুম করার নিয়মে মতবিরোধ রয়েছে।নতুন শাফিঈ মাযহাব এই যে, দু'বার করে মুখ এবং দু'খানা হাত কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করা ওয়াজিব। কেননা, (আরবী)-এর প্রয়োগ কাদের নিম্নাংশ পর্যন্ত ও হাতের কনুই পর্যন্ত এর উপর হয়ে থাকে। যেমন অযুর আয়াতে রয়েছে। আর এ শব্দেরই প্রয়োগ হয়ে থাকে এবং ভাবার্থ শুধু হস্তদ্বয়ের তালু হয়ে থাকে। যেমন চোরের শাস্তির ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন- (আরবী) (৫৩৮) এখানে তায়াম্মুমের হুকুমে হাতের বর্ণনা হচ্ছে সাধারণ এবং অযুর হুকুমে হচ্ছে শর্তযুক্ত। এজন্যেই মুতলাক'-কে ‘মুকাইয়াদ’ -এর হুকুমে উঠান হবে। কেননা, অযুর মধ্যে ব্যাপক পবিত্রতা বিদ্যমান রয়েছে। কেউ কেউ এর দলীলরূপে দারেকুতনী (রঃ)-এর বর্ণনাকে গ্রহণ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘তায়াম্মুত হচ্ছে দু’বার (হাত) মারা। একবার হাত মেরে মুখের উপর ঘর্ষণ করা এবং আর একবার হাত মেরে দু হাতকে কনুই পর্যন্ত ঘর্ষণ করা। কিন্তু হাদীসটি বিশুদ্ধ নয়। কেননা, এর ইসনাদে দুর্বলতা রয়েছে। হাদীসটি প্রমাণিত নয়।সুনান-ই-আবূ দাউদের একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় হস্ত একটি দেয়ালের উপর মারেন এবং মুখমণ্ডলে ঘর্ষণ করেন, দ্বিতীয়বার হাত মেরে স্বীয় হস্তদ্বয়ের উপর ঘর্ষণ করেন। কিন্তু এর ইসনাদে মুহাম্মাদ ইবনে সাবিত আবদী দুর্বল। কোন কোন হাফি-ই-হাদীস তাকে দুর্বল বলেছেন। এ হাদীসটিই কোন কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীও বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা মারফু করেন না, বরং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর কাজ বলে থাকেন। ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম আবু যারআ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে আ’দীর (রঃ) সিদ্ধান্ত এই যে, এ হাদীসটি মাওকুফই বটে। ইমাম বায়হাকী (রঃ) বলেন যে, এ হাদীসকে মার’ বলা মুনকার।নিম্নের হাদীসটিও ইমাম শাফিঈ (রঃ)-এর দলীল। হযরত ইবনুস্ সাম্মা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তায়াম্মুম করেন এবং স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয়ের উপর হাত ফিরিয়ে দেন। হযরত আবূ জাহাম (রাঃ) বলেন, “আমি দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রস্রাব করছেন। আমি তাঁকে সালাম দেই কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। তিনি দেয়ালের নিকট গিয়ে তার উভয় হস্তদ্বয় মারেন এবং হস্তদ্বয় কনুই পর্যন্ত ঘর্ষণ করেন। অতঃপর তিনি আমার সালামের উত্তর দেন।' (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর) এতো ছিল ইমাম শাফিঈ (রঃ)-এর নতুন মাযহাব। তার প্রাচীন মাযহাব এই যে, তায়াম্মুমে মার তো দু’টোই, কিন্তু দ্বিতীয় মারে হাতকে কজি পর্যন্ত ঘর্ষণ করতে হবে। তৃতীয় উক্তি এই যে, শুধু একটি বার মার অর্থাৎ শুধু একবার হস্তদ্বয় মাটির উপর মেরে নেয়াই যথেষ্ট। ধূলিযুক্ত হাতকে মুখের উপর এবং হস্তদ্বয়ের কজি পর্যন্ত ফিরিয়ে নেবে। মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, একটি লোক আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার ফারূক (রাঃ)-এর নিকট আগমন করে বলে-“আমি অপবিত্র হয়ে গেছি এবং পানি পাইনি। আমাকে কি করতে হবে?' তিনি বলেন, 'নামায পড়তে হবে না। তাঁর দরবারে হযরত আম্মারও (রাঃ) বিদ্যমান ছিলেন। তিনি বলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমরা এক সেনাদলে ছিলাম। আমি ও আপনি দু’জন অপবিত্র হয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের নিকট পানি ছিল না। আপনি তো নামায পড়েননি। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে নামায আদায় করেছিলাম। ফিরে এসে আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর খিদমতে হাযির হই এবং আমি তাঁর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি হেসে উঠেন ও বলেনঃ “তুমি এরূপ করলেই যথেষ্ট হতো। অতঃপর তিনি মাটিতে হাত মারেন এবং ফু দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয়ে হাত ফিরিয়ে নেন।মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘তায়াম্মুমে একবারই হাত মারতে হয় যা মুখমণ্ডলের জন্যে ও হস্তদ্বয়ের তালুর জন্যে। মুসনাদ-ই-আহমাদেরই আর একটি হাদীসে রয়েছে, হযরত শাকীক (রঃ) বলেন, 'আমি হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) ও হযরত আবু মূসা (রাঃ)-এর সঙ্গে বসেছিলাম। হযরত আবু ইয়ালা (রাঃ), হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলেন, ‘যদি কেউ পানি না পায় তবে সে যেন নামায না পড়ে।' একথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ বলেন, “হযরত আম্মার (রাঃ) হযরত উমার (রাঃ)-কে যা বলেছিলেন তা কি আপনার স্মরণ নেই? তিনি হযরত উমর (রাঃ)-কে বলেছিলেনআপনার কি স্মরণ নেই যে, আমাকে ও আপনাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) উটে চড়িয়ে (কোন এক জায়গায়) পাঠিয়েছিলেন। তথায় আমি অপবিত্র হয়ে যাই এবং মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে নামায পড়ে লই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ সংবাদ দেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হেসে উঠে বলেনঃ ‘তুমি এরূপ করলেই যথেষ্ট হতো। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় ভূমির উপর মারেন এবং হস্তের তালুদ্বয় এক সাথে ঘর্ষণ করেন ও মুখমণ্ডলে একবার হাত ফিরিয়ে নেন। মার একবারই ছিল।' হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এতে কিন্তু হযরত উমার (রাঃ) সন্তুষ্ট হননি।' একথা শুনে হযরত আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাহলে সূরা-ই-নিসার এ আয়াতটিকে কি করবেন যাতে রয়েছে-‘পানি না পেলে পবিত্র মাটির ইচ্ছে কর।' হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) এর উত্তর দিতে পারেননি এবং বলেন, জেনে রাখুন যে, যদি আমরা জনগণকে তায়াম্মুমের অনুমতি দিয়ে দেই তবে খুব সম্ভব পানি যখন তাদের কাছে খুব ঠাণ্ডা অনুভূত হবে তখন তারা তায়াম্মুম করতে আরম্ভ করবে।'সুরা মায়েদায় ঘোষিত হয়েছে- (আরবী) অর্থাৎ ‘ওটা তোমাদের মুখমণ্ডলে ও তোমাদের হাতে ঘর্ষণ কর।' (৫:৬) এটা দ্বারা হযরত ইমাম শাফিঈ (রঃ) দলীল গ্রহণ করেছেন যে, তায়াম্মুম পবিত্র মাটি দ্বারা হওয়া ও ওটা ধূলিযুক্ত হওয়া যাতে ধূলি হাতে লেগে যায় এবং মুখ ও হাতের উপর ঘর্ষণ করা যায়, এটা জরুরী। যেমন হযরত আবূ জাহাম (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে বর্ণনা করা রয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রস্রাব করতে দেখেন এবং সালাম করেন। তাতে এও রয়েছে যে, ঐ কার্য শেষ করে রাসূলুল্লাহ (সঃ) দেয়ালের পার্শ্বে যান এবং স্বীয় লাঠি দ্বারা কিছু মাটি উঠিয়ে নিয়ে ওটা হাতে মেরে তায়াম্মুম করেন। এরপর ঘোষিত হচ্ছে আল্লাহ তোমাদের উপর তোমাদের ধর্মে সংকীর্ণতা ও কাঠিন্য আনয়ন করতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান। এ জন্যেই পানি না পাওয়ার সময় মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করাকে তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন এবং তোমাদের উপর স্বীয় নি'আমত দান করেছেন, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। সুতরাং এ উম্মত এ নিআমতের সঙ্গে নির্দিষ্ট। যেমন সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে যা পূর্বে কাউকেও দেয়া হয়নি। (১) এক মাসের পথ পর্যন্ত প্রভাব দ্বারা আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। (২) আমার জন্যে সমস্ত ভূমিকে মসজিদ ও পবিত্রকারী বানানো হয়েছে। আমার উম্মতের যে কোন জায়গায় নামাযের সময় এসে যাবে সেখাইে নামায পড়ে নেবে। তার মসজিদও তার অযু সেখানেই তার নিকট বিদ্যমান রয়েছে। (৩) আমার জন্যে যুদ্ধলব্ধ মালকে হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারও জন্যে হালাল করা হয়নি। (৪) আমাকে সুপারিশ করার অধিকার দেয়া হয়েছে। (৫) সমস্ত নবী (আঃ)-কে শুধুমাত্র নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো। কিন্তু আমি সারা দুনিয়ার নিকট প্রেরিত হয়েছি।'সহীহ মুসলিমের উদ্ধৃতি দিয়ে ঐ হাদীসেও বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “সমস্ত লোকের উপর আমাদেরকে তিনটি ফযীলত দেয়া হয়েছে। (১) আমাদের সারিগুলো ফেরেশতাদের সারির মত বানানো হয়েছে। (২) আমাদের জন্য সারা ভূমিকে মসজিদ বানানো হয়েছে। (৩) পানি পাওয়া না গেলে ওর মাটিকে অযু বানানো হয়েছে। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিচ্ছেন-পানি না পাওয়ার সময় স্বীয় মুখমণ্ডল ও হাতের উপর মাসেহ্ কর, তিনি মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। তার মার্জনা ও ক্ষমার অবস্থা এই যে, পানি না পাওয়ার সময় তায়াম্মুমকে শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত করতঃ ঐভাবে নামায আদায় করার অনুমতি দান করেছেন। তিনি এ অনুমতি না দিলে তোমরা কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যেতে। কেননা, এ পবিত্র আয়াতে নামাযকে অসম্পূর্ণ অবস্থায় আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন নেশার অবস্থায় বা অপবিত্র অবস্থায় কিংবা বে-অযু অবস্থায় নামায পড়াকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন যে পর্যন্ত সে নিজের কথা নিজেই বুঝতে না পারবে, নিয়মিতভাবে গোসল না করবে এবং শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী অযু না করবে। কিন্তু রোগের অবস্থায় ও পানি না পাওয়ার অবস্থায় তায়াম্মুমকে অযু ও গোসলের স্থলবর্তী করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহের জন্যে আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার জন্যেই। এখন তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়ার ঘটনা বর্ণনা হচ্ছে। আমরা সূরা-ই-নিসার এ আয়াতের তাফসীরে এ ঘটনাটি যে বর্ণনা করছি, এর কারণ এই যে, সূরা-ই-মায়েদার তায়াম্মুমের আয়াতটি এ আয়াতের পর অবতীর্ণ হয়। এর প্রমাণ এই যে, স্পষ্টতঃ এটিই হচ্ছে মদ্য নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বের আয়াত এবং মদ্য হারাম হয় উহুদ যুদ্ধের কিছুদিন পর, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বান্ নাযীরের ইয়াহূদীদেরকে অবরোধ করে রেখেছিলেন। আর কুরআন শরীফের যে সূরাগুলো শেষের দিকে অবতীর্ণ হয়, সূরা-ই-মায়েদাহ ঐগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে এ সূরার প্রাথমিক আয়াতগুলো শেষের দিকে অবতীর্ণ হয়। সুতরাং তায়াম্মুমের শান-ই-নমূল এখানে বর্ণনা করাই যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ তাআলার উত্তম তাওফীক দানের উপরই নির্ভর করছি।মুসনাদ-ই-আহমাদে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে হযরত আসমা (রাঃ)-এর নিকট হতে একটি হার ধার করেছিলেন। উক্ত হারটি সফরে কোন জায়গায় হারিয়ে যায়। হারটি অনুসন্ধানের জন্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ) লোক পাঠিয়ে দেন। হার পাওয়া যায় বটে, কিন্তু ওটা খুঁজতে খুঁজতে নামাযের ওয়াক্ত এসে যায়। তাদের নিকট পানি ছিল না। তারা বিনা অযুতেই নামায আদায় করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসে ওটা বর্ণনা করেন। সে সময় তায়াম্মুমের হুকুম অবতীর্ণ হয়। হযরত উসায়েদ ইবনে হুজায়ের (রাঃ) তখন হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বলেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আল্লাহর শপথ! আপনার উপর যে বিপদ এসে থাকে তার পরিণাম মুসলমানদের জন্য মঙ্গলজনকই হয়।হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঙ্গে কোন এক সফরে বের হই। যখন আমরা বায়দা অথবা যাতুল জায়েশ’ নামক স্থানে ছিলাম তখন আমার হারটি ভেঙ্গে কোথায় পড়ে যায়। হারটি খুঁজবার জন্য যাত্রীদলসহ রাসূলুল্লাহ (সঃ) তথায় থেমে যান। তখন না আমাদের নিকট পানি ছিল, না ঐ প্রান্তরের কোন জায়গায় পানি ছিল। জনগণ আমার পিতা হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন-“দেখুন আমরা তাঁর কারণে কি বিপদেই না পড়েছি!' অতএব আমার পিতা আমার নিকট আগমন করেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার উরুর উপর স্বীয় মস্তক রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এসেই তিনি আমাকে বলেন, “তুমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ও জনগণকে এখানে থামিয়ে দিয়েছে। এখন না তাদের নিকট পানি রয়েছে, না কোন জায়গায় পানি দেখা যাচ্ছে?' মোটকথা তিনি আমাকে খুব শাসন গর্জন করেন এবং আল্লাহ জানেন কত কি তিনি আমাকে বলেছেন। এমনকি স্বীয় হস্ত দ্বারা আমার পার্শ্ব দেশে প্রহার করতেও থাকেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে বলে আমি সামান্য নড়াচড়াও করিনি। সারা রাত্রি কেটে যায়। সকালে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জেগে উঠেন। কিন্তু পানি ছিল না। সে সময় আল্লাহ তা'আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করেন। তখন সমস্ত লোক তায়াম্মুম করেন। হযরত উসায়েদ ইবনে হুজায়ের (রাঃ) তখন বলেনঃ “হে আবু বকরের পরিবারবর্গ! এ বরকত আপনাদের প্রথম নয়। তখন যে উটে আমি আরোহণ করেছিলাম ঐ উটটি উঠালে ওর নীচে আমার হার পেয়ে যাই।' (সহীহ বুখারী)মুসনাদ-ই-আহমাদে রয়েছে, হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় পত্নী হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে যাতুল জায়েশ’ এর মধ্য দিয়ে গমন করছিলেন। তথায় হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ইয়ামানী হারটি ভেঙ্গে কোথায় পড়ে যায়। ঐ হারটি খুঁজবার জন্য জনগণ তথায় থেমে যান। রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সঙ্গীয় মুসলমানগণ সারা রাত্রি তথায় কাটিয়ে দেন। সকালে উঠে দেখেন যে, পানি মোটেই নেই। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর উপর পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে পবিত্রতা লাভ করার অনুমতি দানের আয়াত অবতীর্ণ করেন। মুসলমানগণ রাসূলুলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে উঠে মাটির উপর হাত মারেন এবং হাতে যে মাটি লাগে তা ঝেড়ে না ফেলেই স্বীয় চেহারার উপর ও হস্তদ্বয়ের উপর কাঁধ পর্যন্ত ও হাতের নীচ হতে বগল পর্যন্ত ঘর্ষণ করেন।ইবনে জারীর (রঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, এর পূর্বে তো হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর উপর ভীষণ রাগন্বিত হয়েছিলেন। কিন্তু তায়াম্মুমের অনুমতির হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার সংবাদ শুনে আনন্দিত চিত্তে স্বীয় কন্যার নিকট আগমন করেন এবং বলেন, তুমি বড়ই কল্যাণময়ী। মুসলমানেরা এত বড় অবকাশ পেয়েছে।অতঃপর মুসলমানগণ একবার হাত মেরে চেহারা ঘর্ষণ করেন এবং দ্বিতীয়বার হাত মেরে কনুই পর্যন্ত ও বগল পর্যন্ত হস্তদ্বয় ঘর্ষণ করেন।তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর বর্ণনায় রয়েছে, হযরত আসলা’ ইবনে সুরাইক (রাঃ) বলেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর উষ্ট্ৰীটি চালনা করছিলাম যার উপর তিনি আরোহিত ছিলেন। তখন ছিল শীতকাল, রাত্রে ভীষণ ঠাণ্ডা পড়েছিল, সে সময় আমি অপবিত্র হয়ে পড়ি। এদিকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যাত্রার ইচ্ছে করেছেন। ঐ অবস্থায় আমি তার উস্ত্রী ছালনা করতে অপছন্দ করি। সাথে সাথে আমার এটাও ধারণা হয় যে, ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে আমি মরেই যাবো বা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বো। আমি চুপে চুপে একজন আনসারীকে (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর উষ্ট্ৰীটির লাগাম ধরতে বলি। সুতরাং তিনি লাগাম ধরে চলতে থাকেন, আর আমি আগুন জ্বেলে পানি গরম করতঃ গোসল করে লই। তারপর দৌড়ে গিয়ে যাত্রীদলের নিকট পৌছি। রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে বলেনঃ ‘আসল’ ব্যাপার কি? উষ্ট্ৰীটির চলন কেমন যেন বিগড়ে গেছে?' আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এতক্ষণ আমি উষ্ট্ৰী চালাইনি। বরং অমুক আনসার (রাঃ) চালনা করছিলেন। তিনি তখন বলেনঃ “এর কারণ কি?' আমি তখন সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করি। তখন আল্লাহ তাআলা হতে (আরবী) পর্যন্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন। এ বর্ণনাটি অন্য সনদেও বর্ণিত আছে।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Lees, luister, zoek en reflecteer over de Koran

Quran.com is een vertrouwd platform dat wereldwijd door miljoenen mensen wordt gebruikt om de Koran in meerdere talen te lezen, te doorzoeken, te beluisteren en erover na te denken. Het biedt vertalingen, tafseer, recitaties, woord-voor-woordvertalingen en tools voor een diepere studie, waardoor de Koran voor iedereen toegankelijk is.

Als Sadaqah Jariyah zet Quran.com zich in om mensen te helpen een diepe verbinding met de Koran te maken. Ondersteund door Quran.Foundation , een non-profitorganisatie. Quran.com blijft groeien als een gratis en waardevolle bron voor iedereen, Alhamdulillah.

Navigeren
Home
Koran Radio
reciteurs
Over ons
Ontwikkelaars
Product updates
Feedback
Hulp
Onze projecten
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Non-profitprojecten die eigendom zijn van, beheerd worden door of gesponsord worden door Quran.Foundation.
Populaire links

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

SitemapPrivacyAlgemene voorwaarden
© 2026 Quran.com. Alle rechten voorbehouden