Identifikohu
🚀 Bashkohuni me Sfidën tonë të Ramazanit!
Mëso më shumë
🚀 Bashkohuni me Sfidën tonë të Ramazanit!
Mëso më shumë
Identifikohu
Identifikohu
39:74
وقالوا الحمد لله الذي صدقنا وعده واورثنا الارض نتبوا من الجنة حيث نشاء فنعم اجر العاملين ٧٤
وَقَالُوا۟ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ ٱلَّذِى صَدَقَنَا وَعْدَهُۥ وَأَوْرَثَنَا ٱلْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ ٱلْجَنَّةِ حَيْثُ نَشَآءُ ۖ فَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَـٰمِلِينَ ٧٤
وَقَالُواْ
ٱلۡحَمۡدُ
لِلَّهِ
ٱلَّذِي
صَدَقَنَا
وَعۡدَهُۥ
وَأَوۡرَثَنَا
ٱلۡأَرۡضَ
نَتَبَوَّأُ
مِنَ
ٱلۡجَنَّةِ
حَيۡثُ
نَشَآءُۖ
فَنِعۡمَ
أَجۡرُ
ٱلۡعَٰمِلِينَ
٧٤
Tefsiret
Mësimet
Reflektime
Përgjigjet
Kiraat
Po lexoni një tefsir për grupin e vargjeve 39:73 deri në 39:74

৭৩-৭৪ নং আয়াতের তাফসীর: উপরে হতভাগ্য ও পাপীদের পরিণাম ও তাদের অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে ভাগ্যবান আল্লাহভীরু ও সৎ লোকদের পরিণামের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে উত্তম ও সুন্দর উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করিয়ে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তাদের বিভিন্ন দল থাকবে। প্রথমে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী বিশিষ্ট লোকদের দল, তারপর পুণ্যবানদের দল, এরপর তাদের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ লোকদের দল এবং এরপর তাদের চেয়েও কম মর্যাদা সম্পন্ন লোকদের দল থাকবে। নবীগণ থাকবেন নবীদের দলে, সিদ্দীকগণ থাকবেন তাদের সমপর্যায়ের লোকদের দলে, শহীদগণ থাকবেন শহীদদের দলে এবং আলেমগণ থাকবেন আলেমদের দলে। মোটকথা, প্রত্যেকেই তাঁর সমপর্যায়ের লোকের সাথে থাকবেন। যখন তারা জান্নাতের নিকট পৌঁছে যাবেন এবং পুলসিরাত অতিক্রম করে ফেলবেন তখন তথায় একটি পুলের উপর তাদেরকে দাঁড় করানো হবে এবং তাঁদের পরস্পরের মধ্যে যে যুলুম ও উৎপীড়ন ছিল তার প্রতিশোধ ও বদলা গ্রহণ করিয়ে দেয়া হবে। যখন তারা সম্পূর্ণরূপে পাক-সাফ হয়ে যাবেন তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দান করা হবে।সূর বা শিংগার সুদীর্ঘ হাদীসে রয়েছে যে, জান্নাতের দরযার উপর পৌঁছে জান্নাতীরা পরস্পরের মধ্যে পরামর্শ করবেঃ দেখা যাক, কাকে প্রথমে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়! অতঃপর তারা ইচ্ছা করবে হযরত আদম (আঃ)-এর, তারপর হযরত নূহ (আঃ)-এর, তারপর হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর, এরপর হযরত মূসা (আঃ)-এর, তারপর হযরত ঈসা (আঃ)-এর এবং এরপর তারা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রতি ইচ্ছা পোষণ করবে, যেমন হাশরের মাঠে সুপারিশের ক্ষেত্রে করেছিল। এর দ্বারা সর্বক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর ফযীলত প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য। সহীহ মুসলিমের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতে আমিই হবে প্রথম সুপারিশকারী।” অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমিই হলাম এমন এক ব্যক্তি যে, সর্বপ্রথম আমিই জান্নাতের দরযায় করাঘাত করবো।” মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরযা খুলতে চাইলে তথাকার দারোগা আমাকে জিজ্ঞেস করবেঃ “আপনি কে?” আমি উত্তরে বলবোঃ আমি হলাম মুহাম্মাদ (সঃ)! সে তখন বলবেঃ “আমার উপর এই নির্দেশই ছিল যে, আপনার আগমনের পূর্বে আমি যেন কারো জন্যে জান্নাতের দর না খুলি।”হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চন্দ্রের মত উজ্জ্বল হবে। থুথু, প্রস্রাব, পায়খানা ইত্যাদি কিছুই সেখানে হবে না। তাদের পানাহারের পাত্রগুলো হবে স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত। তাদের অঙ্গার ধাণিকা হতে সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হবে। তাদের ঘর্ম হবে মিশক আম্বর। তাদের প্রত্যেকের দু’জন স্ত্রী হবে, যাদের পদনালী এমন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হবে যে, ওর মজ্জা মাংসের পিছন হতে দেখা যাবে। কোন দু’জন লোকের মধ্যে কোন মতানৈক্য, হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকবে না। তাদের অন্তরগুলো একটি অন্তরে পরিণত হয়ে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতে থাকবে। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হাফিয আবু ইয়া’লা (রঃ)-এর হাদীস গ্রন্থে রয়েছেঃ প্রথম যে দলটি জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চন্দ্রের মত উজ্জ্বল হবে। তাদের পরবর্তী দলটির চেহারা হবে আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের মত উজ্জ্বল। তারপর তাতে প্রায় উপরে বর্ণিত হাদীস-এর বর্ণনার মতই বর্ণনা রয়েছে এবং এও রয়েছে যে, তাদের দেহ হবে ষাট হাত লম্বা, যেমন হযরত আদম (আঃ)-এর দেহ ছিল। আর একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের একটি দল, যাদের সংখ্যা হবে সত্তর হাজার, সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল হবে।” একথা শুনে হযরত আক্কাশা মুহসিন (রাঃ) দাঁড়িয়ে গিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমার জন্যে দু'আ করুন যেন আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করেন।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুআ করলেনঃ “হে আল্লাহ! তাকে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করুন!” অতঃপর একজন আনসারী দাঁড়িয়ে গিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার জন্যে দু'আ করুন যেন আল্লাহ আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ “আক্কাশা (রাঃ) তোমার অগ্রগামী হয়ে গেছে।” এই সত্তর হাজার লোকের বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার কথা বহু কিতাবে বহু সনদে বহু সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে।হযরত সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার অথবা সাত লক্ষ লোক এক সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা একে অপরকে ধরে থাকবে। তারা একই সাথে জান্নাতে পা রাখবে। তাদের চেহারা হবে চৌদ্দ তারিখের চন্দ্রের মত (উজ্বল)।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত আবু উমামা আল বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “আমার সাথে আমার প্রতিপালকের ওয়াদা রয়েছে যে, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক জান্নাতে যাবে এবং প্রতি হাজারের সাথে আরো সত্তর হাজার হবে, তাদের না হিসাব হবে, না শাস্তি হবে। তারা ছাড়া আরো তিন লপ বা অঞ্জলি পূর্ণ লোক (জান্নাতে বিনা হিসাবে যাবে), যাদেরকে আল্লাহ নিজের হাতের অঞ্জলি ভরে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবেন। (এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ) এবং ইবনে আবি শায়বা (রঃ) বর্ণনা করেছেন) যখন এই সৌভাগ্যবান বুযুর্গ ব্যক্তিরা জান্নাতের নিকট পৌঁছে যাবেন তখন তাঁদের জন্যে জান্নাতের দরগুলো খুলে দেয়া হবে। সেখানে তাদের খুবই ইযযত ও সম্মান হবে। তথাকার রক্ষক ফেরেশতারা তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করবেন, তাঁদের প্রশংসা করবেন এবং সালাম জানাবেন। এরপরের উত্তর কুরআন কারীমে উহ্য রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণত্ব বাকী থাকে। ভাবার্থ এই যে, ঐ সময় তারা পূর্ণভাবে খুশী হয়ে যাবেন। তথায় তারা কল্পনাতীত আনন্দ, শান্তি এবং আরাম ও আয়েশ লাভ করবেন। তাদের সর্বপ্রকারের মনোবাসনা পূর্ণ হয়ে যাবে।এখানে একথা বর্ণনা করে দেয়াও জরুরী যে, কতকগুলো লোক (আরবী)-এর (আরবী) টিকে যে অষ্টম (আরবী) বলেছেন এবং এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন যে, জান্নাতের আটটি দরযা রয়েছে, তাঁরা খুব লৌকিকতা করেছেন এবং অযথা কষ্ট স্বীকার করেছেন। জান্নাতের আটটি দরযার কথা তো সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নিজের মাল হতে আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া খরচ করবে তাকে জান্নাতের সবগুলো দরযা হতে ডাক দেয়া হবে। জান্নাতের কয়েকটি দর রয়েছে। নামাযীকে ‘বাবুসসালাত’ হতে, দাতাকে বাবুস সাদকা হতে, মুজাহিদকে বাবুল জিহাদ’ হতে এবং রোযাদারকে ‘বাবুর রাইয়ান’ হতে ডাক দেয়া হবে।” একথা শুনে হযরত আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এর তো কোন প্রয়োজন নেই যে, প্রত্যেক দর হতে ডাক দেয়া হোক, কারণ যে দরযা হতেই ডাক দেয়া হোক না কেন, উদ্দেশ্য তো হলো জান্নাতে প্রবেশ করা। কিন্তু এমন কোন লোক কি আছে যাকে সমস্ত দুর থেকে ডাক দেয়া হবে?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হ্যা, আছে এবং আমি আশা করি যে, তুমিই হবে তাদের মধ্যে একজন।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে) হযরত সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতের আটটি দর রয়েছে। ঐগুলোর মধ্যে একটির নাম হচ্ছে ‘বাবুর রাইয়ান’। এটা দিয়ে শুধু রোযাদারই প্রবেশ করবে।” হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ভালভাবে ও পূর্ণমাত্রায় অযু করার পর পাঠ করেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।” তার জন্যে জান্নাতের আটটি দরযা খুলে দেয়া হয়, যে দর দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণনা করা হয়েছে)হযরত মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ (আরবী) ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’ হচ্ছে জান্নাতের চাবি।” জান্নাতের দরগুলোর প্রশস্ততার বর্ণনাঃ আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকেও জান্নাতের অধিবাসী করেন। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত সুদীর্ঘ হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার উম্মতের মধ্যে যাদের হিসাব হবে না তাদেরকে ডান দিকের দর দিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাও। তারা কিন্তু অন্যান্য দরগুলোতেও জনগণের সাথে শরীক হবে।” যার হাতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর প্রাণ রয়েছে তার শপথ! জান্নাতের চৌকাঠ এতো বড় ও প্রশস্ত যে, ওর প্রশস্ততা মক্কা ও হিজরের মধ্যকার দূরত্বের সমান অথবা হিজর ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।" (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে)হযরত উবা ইবনে গাওয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর ভাষণে বলেনঃ “আমার নিকট এটা বর্ণনা করা হয়েছে যে, জান্নাতের দরগুলোর প্রশস্ততা হবে চল্লিশ বছরের পথের দূরত্বের সমান। এমন একটি দিন আসবে যে, ঐ দিন জান্নাতে প্রবেশকারীদের অত্যন্ত ভীড় হবে, ফলে এই প্রশস্ত দরগুলোও লোকে পূর্ণ হয়ে যাবে।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতের চৌকাঠের প্রশস্ততা হবে চল্লিশ বছরের পথের দূরত্বের সমান।” (আবদ ইবনে হুমায়েদ (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)মহান আল্লাহ বলেন যে, জান্নাতীরা যখন জান্নাতের নিকটবর্তী হবে তখন রক্ষক ফেরেশতারা তাদেরকে বলবেঃ “তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে অবস্থিতির জন্যে। তোমাদের আমল, কথাবার্তা, চেষ্টা-তদবীর এবং বদলা-বিনিময় ইত্যাদি সবই আনন্দদায়ক।” যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন এক যুদ্ধের সময় স্বীয় ঘোষককে বলেছিলেনঃ “যাও, ঘোষণা করে দাও যে, জান্নাতে শুধু মুসলমানরাই যাবে কিংবা বলেছিলেন, মুমিনরাই শুধু জান্নাতে যাবে। ফেরেশতারা জান্নাতীদেরকে আরো বলবেনঃ “তোমাদেরকে এ জান্নাত হতে কখনো বের করা হবে না। বরং তোমরা এখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।” জান্নাতীরা নিজেদের এই অবস্থা দেখে খুশী হয়ে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং বলবেঃ “প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। দুনিয়ায় তাদের এই প্রার্থনাই ছিলঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার রাসূলদের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে প্রদান করুন এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় করবেন না। আপনি তো প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।” (৩:১৯৪) অন্য আয়াতে আছে যে, তারা এ সময় বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এর জন্যে হিদায়াত দান করেছেন, তিনি আমাদেরকে হিদায়াত না করলে আমরা হিদায়াত লাভ করতাম না। অবশ্যই আমাদের নিকট আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।” (৭:৪৩) তারা আরো বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সমুদয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের চিন্তা-দুঃখ দূর করে দিয়েছেন, নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী। যিনি আমাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে এই পবিত্র স্থান দান করেছেন, এখানে আমাদেরকে কোন দুঃখ-বেদনা এবং কষ্ট ও বিপদ স্পর্শ করে না।" (৩৫:৩৪-৩৫)। মহান আল্লাহ জান্নাতীদের আরো উক্তি উদ্ধৃত করেনঃ ‘আল্লাহ আমাদেরকে অধিকারী করেছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেথায় ইচ্ছা বসবাস করবো। আল্লাহ পাক বলেনঃ সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম!এ আয়াতটি মহান আল্লাহর নিম্নের উক্তির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি যিকরের বা উপদেশের পরে যৰূরে লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎ বা যোগ্যতা সম্পন্ন বান্দারা যমীনের ওয়ারিস হবে।” (২১:১০৫) এজন্যেই তারা বলবে, জান্নাতে যেথায় ইচ্ছা আমরা বসবাস করবো। এটাই হলো আমাদের আমলের উত্তম পুরস্কার। মিরাজের ঘটনায় হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখি যে, ওর তাঁবুগুলো মণিমুক্তা নির্মিত এবং ওর মাটি খাঁটি মিশক আম্বর।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত ইবনে সায়েদ (রাঃ)-কে জান্নাতের মাটি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “ওটা সাদা ময়দার মত খাটি মিশক আম্বর। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “সে সত্য কথা বলেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) ও আবদ ইবনে হামীদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)(আরবী) আল্লাহ পাকের এই উক্তি সম্পর্কে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জান্নাতের দরযায় পৌঁছে জান্নাতীরা একটি গাছ দেখতে পাবে, যার মূল হতে দু’টি নহর বের হতে থাকবে। একটি নহরে তারা গোসল করবে, যার ফলে তারা এমন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হবে যে, তাদের দেহ ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তাদের মাথার চুল তেল লাগানো ও চিরুণীকৃত থাকবে। আর কখনো চিরুণী করার প্রয়োজন হবে না। তাদের দেহের ও চেহারার রং-এর কোন পরিবর্তন ঘটবে না। অতঃপর তারা দ্বিতীয় নহরে যাবে। হয়তো তারা এর জন্যে আদিষ্ট থাকবে। ঐ নহরের পানি তারা পান করবে। ফলে সমস্ত ঘৃণিত জিনিস হতে তারা সম্পূর্ণরূপে পাক সাফ হয়ে যাবে। জান্নাতের ফেরেশতারা তাদেরকে সালাম দিবেন ও মুবারকবাদ জানাবেন এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বলবেন। তাদের প্রত্যেকের কাছে কিশোর পরিচারকরা আসবে এবং তাদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। তারা ঐ জান্নাতবাসীদের বলবেঃ “আপনারা সন্তুষ্ট থাকুন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের জন্যে বিভিন্ন প্রকারের নিয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের মধ্য হতে কেউ দৌড়িয়ে যাবে এবং যে জান্নাতবাসীর জন্যে যে হ্র নির্দিষ্ট রয়েছে। তাকে গিয়ে বলবেঃ “আপনাকে জানাই মুবারকবাদ। অমুক সাহেব এসে পড়েছেন। তার নাম শোনা মাত্রই ঐ হ্র খুশী হয়ে কিশোর পরিচারককে বলবেঃ “তুমি কি স্বয়ং তাঁকে দেখেছো?" সে উত্তরে বলবেঃ “হ্যা, আমি স্বচক্ষে তাঁকে দেখে এসেছি।” ঐ হর তখন আনন্দে আটখানা হয়ে দরযার উপর এসে দাড়িয়ে যাবে। জান্নাতবাসী তার কক্ষে এসে দেখবে যে, সেখানে উন্নত মর্যাদা সম্পন্ন শয্যা রয়েছে, প্রস্তুত আছে পানপাত্র এবং সারি সারি উপাধান। বিছানা দেখার পর দেয়ালের প্রতি দৃষ্টি পড়লে সে দেখতে পাবে যে, ওটা লাল, সবুজ, হলদে, সাদা এবং নানা প্রকারের মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত রয়েছে। অতঃপর ছাদের প্রতি চোখ পড়লে দেখবে যে, ওটা এতো পরিষ্কার পরিছন্ন যে, আলোর ন্যায় ঝকমক করছে। ওর আলো চোখের আলোকে নিভিয়ে দিবে যদি মহান আল্লাহ চোখের জ্যোতি ঠিক না রাখেন। অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীদের প্রতি অর্থাৎ জান্নাতী হ্রীদের প্রতি প্রেমের দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে। তারপর সে নিজের আসনসমূহের যেটার উপর ইচ্ছা উপবেশন করবে এবং বলবেঃ “আল্লাহর শোকর যে, তিনি আমাদেরকে সুপথ প্রদর্শন করেছেন। যদি তিনি আমাদেরকে এ পথ প্রদর্শন না করতেন তবে কখনো আমরা এ পথে পরিচালিত হতাম না।”অন্য একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে সেই সত্তার শপথ! যখন এ লোকগুলো (জান্নাতী লোকগুলো) কবর হতে বের হবে তখন তাদের অভ্যর্থনা করা হবে। তাদের জন্যে ডানা বিশিষ্ট উষ্ট্র আনয়ন করা হবে যেগুলোর উপর সোনার হাওদা থাকবে। তাদের জুতার তলার লম্বা চামড়াটাও আলোয় ঝকমক করবে। এই উষ্ট্রগুলো এক একটি কদম এতো দূরে রাখবে যতদূর মানুষের দৃষ্টি যায়। তারা একটি গাছের নিকট পৌঁছবে যার নীচ হতে দু'টি নহর বয়ে যাচ্ছে। একটি নহরের পানি তারা পান করবে, যার ফলে তাদের পেটের সব জঞ্জাল এবং ময়লা আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। তারপর দ্বিতীয় নহরটিতে তারা গোসল করবে। এরপর আর কখনো তাদের দেহ ময়লাযুক্ত হবে না এবং তাদের মাথার চুল এলোমেলো হবে না। তাদের শরীর ও চেহারা সদা উজ্জ্বল থাকবে। অতঃপর তারা জান্নাতের দর উপর আসবে। তারা দেখতে পাবে যে, লাল বর্ণের মণি-মাণিক্যের একটি গোলাকৃতি জিনিস সোনার তক্তার উপর ঝুলানো রয়েছে। তারা তখন তাতে আঘাত করবে এবং তা বেজে উঠবে। এ শব্দ শোনা মাত্রই প্রত্যেক হুর জেনে নিবে যে, তার স্বামী এসে গেছে। প্রত্যেকে তখন নিজ নিজ দারোয়ানকে দর খুলে দেয়ার হুকুম করবে। তখন দারোয়ান দরযা খুলে দিবে। সে ভিতরে পা রাখা মাত্রই দ্বাররক্ষীর আলোকোজ্জ্বল চেহারা দেখে সিজদায় পড়ে যাবে। কিন্তু ঐ দ্বাররক্ষী তাকে বাধা দিয়ে বলবেঃ “মস্তক উত্তোলন করুন! আমি তো আপনার অধীনস্থ। অতঃপর ঐ দ্বাররক্ষী তাকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাবে। যখন সে মণি-মুক্তা নির্মিত তাঁবুর কাছে পৌঁছবে যেখানে তার হ্র রয়েছে তখন ঐ হ্র আনন্দে আত্মহারা হয়ে তাঁবু হতে দৌড়িয়ে আসবে এবং তার সাথে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে বলবেঃ “আপনি আমার প্রেমপাত্র এবং আমি আপনার প্রেমপাত্রী। আমি এখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবো, কখনো আর মত্যবরণ করবো না। আমি বহু নিয়ামতের অধিকারিণী, দারিদ্র ও অভাব হতে আমি বহু দূরে রয়েছি। আমি আপনার প্রতি সদা সন্তুষ্ট থাকবো, কখনো অসন্তুষ্ট হবে না। সদা-সর্বদা আমি আপনার খিদমতে লেগে থাকবো। কখনো এদিক ওদিক সরে যাবো না।” অতঃপর ঐ জান্নাতবাসী ঘরে প্রবেশ করবে যার ছাদ মেঝে হতে এক লাখ হাত উঁচু হবে। ঐ ঘরের দেয়ালগুলো হবে নানা প্রকারের ও রঙ বেরঙের মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত। ঐ ঘরে সত্তরটি আসন থাকবে। প্রতিটি আসনে সত্তরটি করে গদি থাকবে। প্রতিটি গদিতে সত্তরজন হুর থাকবে। প্রতিটি হ্র সত্তরটি করে হুল্লা পরিধান করে থাকবে। ঐ হুল্লাগুলোর মধ্য দিয়ে তাদের পদনালীর মজ্জা দেখা যাবে। তার সাথে সহবাসে দুনিয়ার রাত্রির প্রায় পুরো একটি রাত্রি কেটে যাবে। তাদের বাগান ও বাড়ীর নিম্নদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। ওর পানি কখনো দুর্গন্ধময় হবে না। ওর পানি হবে মুক্তার মত স্বচ্ছ। তথায় একটি দুধের নহর হবে, যার স্বাদ কখনো পরিবর্তন হবে না, যে দুধ কোন জন্তুর স্তন হতে বের হয়নি। একটি হবে সুরার নহর, যা হবে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং যা কোন মানুষের হাতের তৈরী নয়। একটি খাঁটি মধুর নহর হবে যা মৌমাছির পেট হতে বহির্গত মধু নয়। এর চতুর্দিকে বিভিন্ন প্রকারের ফলে পরিপূর্ণ বৃক্ষরাজি থাকবে যেগুলোর ফল জান্নাতীদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। তারা দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফল নেয়ার ইচ্ছা করলে নিতে পারবে। যদি তারা বসে বসে ফল ভাঙ্গার ইচ্ছা করে তবে গাছের শাখা এমনভাবে ঝুঁকে পড়বে যে, তারা বসে বসেই ফল ভাঙ্গতে পারবে। শুয়ে শুয়ে ফল পাড়ার ইচ্ছা করলে শাখা ঐ পরিমাণই ঝুঁকে পড়বে।” অতঃপর তিনি নিম্নের আয়াত পাঠ করেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং ওর ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে।” (৭৬:১৪) তারা যখন খাদ্য খাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন সাদা বা সবুজ রঙ এর পাখী তাদের কাছে এসে স্বীয় পালক উঁচু করে দিবে। তারা ওর পার্শ্বদেশের যে প্রকারের গোশত খাওয়ার ইচ্ছা করবে খেয়ে নিবে। অতঃপর পাখীটি পূর্ববৎ জীবিত হয়ে উড়ে যাবে। ফেরেশতারা ঐ জান্নাতীদের কাছে আসবেন এবং সালাম করে বলবেনঃ “এগুলো হচ্ছে জান্নাত যেগুলোর ওয়ারিস তোমাদের আমলের কারণে তোমাদেরকে বানিয়ে দেয়া হয়েছে।”যদি কোন হুরের একটি চুল যমীনে এসে পড়ে তবে ওটা স্বীয় ঔজ্জ্বল্য ও কৃষ্ণতার দ্বারা সূর্যের কিরণকে আরো উজ্জ্বল করে দিবে এবং ওর কৃষ্ণতা প্রতীয়মান থাকবে। (এটা গারীব হাদীস, এটা যেন মুরসাল। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন)

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Lexoni, dëgjoni, kërkoni dhe reflektoni mbi Kuranin

Quran.com është një platformë e besueshme e përdorur nga miliona njerëz në mbarë botën për të lexuar, kërkuar, dëgjuar dhe reflektuar mbi Kuranin në gjuhë të shumta. Ajo ofron përkthime, tefsir, recitime, përkthim fjalë për fjalë dhe mjete për studim më të thellë, duke e bërë Kuranin të arritshëm për të gjithë.

Si një Sadaka Xhariyah, Quran.com është i përkushtuar për të ndihmuar njerëzit të lidhen thellë me Kuranin. I mbështetur nga Quran.Foundation , një organizatë jofitimprurëse 501(c)(3), Quran.com vazhdon të rritet si një burim falas dhe i vlefshëm për të gjithë, Elhamdulillah.

Navigoni
Shtëpi
Kuran Radio
Recituesit
Rreth Nesh
Zhvilluesit
Përditësimet e produktit
Feedback
Ndihmë
Projektet tona
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Projektet jofitimprurëse të zotëruara, të menaxhuara ose të sponsorizuara nga Quran.Foundation
Kërkimet e preferuara

Ayatul Kursi

Surah Yaseen

Surah Al Mulk

Surah Ar-Rahman

Surah Al Waqi'ah

Surah Al Kahf

Surah Al Muzzammil

Harta e faqesPrivatësiaTermat dhe Kushtet
© 2026 Quran.com. Të gjitha të drejtat e rezervuara