سائن ان کریں۔
🚀 ہمارے رمضان چیلنج میں شامل ہوں!
مزيد جانیے
🚀 ہمارے رمضان چیلنج میں شامل ہوں!
مزيد جانیے
سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
23:4
حرمت عليكم امهاتكم وبناتكم واخواتكم وعماتكم وخالاتكم وبنات الاخ وبنات الاخت وامهاتكم اللاتي ارضعنكم واخواتكم من الرضاعة وامهات نسايكم وربايبكم اللاتي في حجوركم من نسايكم اللاتي دخلتم بهن فان لم تكونوا دخلتم بهن فلا جناح عليكم وحلايل ابنايكم الذين من اصلابكم وان تجمعوا بين الاختين الا ما قد سلف ان الله كان غفورا رحيما ٢٣
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَـٰتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَٰتُكُمْ وَعَمَّـٰتُكُمْ وَخَـٰلَـٰتُكُمْ وَبَنَاتُ ٱلْأَخِ وَبَنَاتُ ٱلْأُخْتِ وَأُمَّهَـٰتُكُمُ ٱلَّـٰتِىٓ أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَٰتُكُم مِّنَ ٱلرَّضَـٰعَةِ وَأُمَّهَـٰتُ نِسَآئِكُمْ وَرَبَـٰٓئِبُكُمُ ٱلَّـٰتِى فِى حُجُورِكُم مِّن نِّسَآئِكُمُ ٱلَّـٰتِى دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا۟ دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَـٰٓئِلُ أَبْنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنْ أَصْلَـٰبِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا۟ بَيْنَ ٱلْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ غَفُورًۭا رَّحِيمًۭا ٢٣
حُرِّمَتۡ
عَلَيۡكُمۡ
اُمَّهٰتُكُمۡ
وَبَنٰتُكُمۡ
وَاَخَوٰتُكُمۡ
وَعَمّٰتُكُمۡ
وَخٰلٰتُكُمۡ
وَبَنٰتُ
الۡاٰخِ
وَبَنٰتُ
الۡاُخۡتِ
وَاُمَّهٰتُكُمُ
الّٰتِىۡۤ
اَرۡضَعۡنَكُمۡ
وَاَخَوٰتُكُمۡ
مِّنَ
الرَّضَاعَةِ
وَ اُمَّهٰتُ
نِسَآٮِٕكُمۡ
وَرَبَآٮِٕبُكُمُ
الّٰتِىۡ
فِىۡ
حُجُوۡرِكُمۡ
مِّنۡ
نِّسَآٮِٕكُمُ
الّٰتِىۡ
دَخَلۡتُمۡ
بِهِنَّ
فَاِنۡ
لَّمۡ
تَكُوۡنُوۡا
دَخَلۡتُمۡ
بِهِنَّ
فَلَا
جُنَاحَ
عَلَيۡكُمۡ
وَحَلَاۤٮِٕلُ
اَبۡنَآٮِٕكُمُ
الَّذِيۡنَ
مِنۡ
اَصۡلَابِكُمۡۙ
وَاَنۡ
تَجۡمَعُوۡا
بَيۡنَ
الۡاُخۡتَيۡنِ
اِلَّا
مَا
قَدۡ
سَلَفَ​ؕ
اِنَّ
اللّٰهَ
كَانَ
غَفُوۡرًا
رَّحِيۡمًا ۙ‏
٢٣
حرام کردی گئیں تم پر تمہاری مائیں اور تمہاری بیٹیاں اور تمہاری بہنیں اور تمہاری پھوپھیاں اور تمہاری خالائیں اور تمہاری بھتیجیاں اور بھانجیاں اور تمہاری وہ مائیں جنہوں نے تمہیں دودھ پلایا ہے اور تمہاری دودھ شریک بہنیں اور تمہاری بیویوں کی مائیں اور تمہاری ربیبائیں جو تمہاری گودوں میں پلی بڑھی ہوں تمہاری ان بیویوں سے جن کے ساتھ تم نے مقاربت کی ہو اور اگر تم نے ان بیویوں سے مقاربت نہ کی ہو تو تم پر کچھ گناہ نہیں اور تمہارے ان بیٹوں کی بیویاں جو تمہاری صلب سے ہوں اور یہ (بھی تم پر حرام کردیا گیا ہے) کہ تم بیک وقت دو بہنوں کو ایک نکاح میں جمع کرو سوائے اس کے کہ جو گزر چکا یقیناً اللہ غفور اور رحیم ہے
تفاسیر
اسباق
تدبرات
جوابات
قیراط

বংশজাত, দুগ্ধ পান সম্বন্ধীয় এবং বৈবাহিক সম্বন্ধের কারণে যেসব স্ত্রীলোক পুরুষদের জন্যে হারাম এ আয়াতে তাদেরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, সাত প্রকারের নারী বংশের কারণে এবং সাত প্রকারের নারী বৈবাহিক সম্বন্ধের কারণে পুরুষদের উপর হারাম করা হয়েছে।অতঃপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন। ভগ্নি কন্যাগণ পর্যন্ত তো হচ্ছে বংশজাত আত্মীয়। জমহুর উলামা এ আয়াত দ্বারা দলীল নিয়েছেন যে, ব্যভিচার দ্বারা যে মেয়ে জন্মগ্রহণ করবে সে মেয়েটিও ঐ ব্যভিচারীর উপর হারাম হবে। কেননা, সেও মেয়ে, অতএব হারাম। ইমাম আবু হানীফা (রঃ), ইমাম মালিক (রঃ) এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ)-এর এটাই মাযহাব। ইমাম শাফিঈ (রঃ) হতে এর বৈধতার কথা বর্ণিত আছে। কেননা, শরীয়ত হিসেবে এটা কন্যা নয়। সুতরাং উত্তরাধিকারের ব্যাপারে যেমন মেয়ের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সে উত্তরাধিকার পায় না, তদ্রুপই আয়াতের মধ্য যে কয়জনকে হারাম করা হয়েছে তাদের অন্তর্ভুক্ত সে নয়।এরপর বলা হচ্ছে-‘তোমাদের আপন মাতা যেমন তোমাদের উপর হারাম, তদ্রপ তোমাদের দুধ-মাতাও তোমাদের জন্য হারাম।' সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে রয়েছেঃ ‘জন্ম যাকে হারাম করে স্তন্যপানও তাকে হারাম করে।' সহীহ মুসলিমের মধ্যে রয়েছে যে, বংশের কারণে যে হারাম হয়, দুগ্ধ পানের কারণেও সে হারাম হয়।ধর্মশাস্ত্রবিদগণ এতে চারটি অবস্থা এবং কেউ কেউ ছয়টি অবস্থা নির্দিষ্ট করেছেন যা আহকামের শাখার গ্রন্থরাজির মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত কথা এই যে, এর মধ্যে কিছুই নির্দিষ্ট নেই। কেননা, ওরই মত কতগুলো অবস্থা বংশের মধ্যেও পাওয়া যায় এবং ঐ অবস্থাগুলোর মধ্যে কতগুলো শুধু বৈবাহিক সম্বন্ধের কারণেই হারাম হয়ে থাকে। সুতরাং হাদীসের উপর কোন প্রতিবাদ উঠতে পারে না। এখন কয়বার দুধপান করলে অবৈধতা সাব্যস্ত হয় সে ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই। দুধপান করামাত্রই অবৈধতা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। ইমাম মালিক (রঃ) এ কথাই বলেন। হযরত ইবনে উমার (রঃ), সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রঃ), উরওয়া (রঃ), ইবনে যুবাইর (রঃ) এবং যুহরী (রঃ)-এর উক্তিও এটাই। দলীল এই যে, স্তন্য পান এখানে সাধারণ।কেহ কেহ বলেন যে, তিনবার পান করলে অবৈধতা সাব্যস্ত হবে। যেমন সহীহ মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “একবার চোষণ করা বা দু’বার পান করা হারাম করেনা।' এ হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত আছে। ইমাম আহমাদ (রঃ), ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ (রঃ), আবু উবাইদাহ (রঃ) এবং আবু সাউরও এ কথাই বলেন। আলী (রাঃ), আয়িশা (রাঃ), উম্মে আফযাল (রাঃ), ইবন যুবাইর (রঃ), সুলাইমান ইবন ইয়াসার (রঃ) এবং সাঈদ ইবন যুবাইর (রঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। তাদের দলীল হচ্ছে সহীহ মুসলিমের উপরোক্ত হাদীসটি।হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, পূর্বে কুরআন পাকের মধ্যে দশবার দুধ পানের উপর অবৈধতার হুকুম অবতীর্ণ হয়েছিল। পরে ওটা রহিত হয়ে পাঁচবারের উপর রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত ওটা পঠিত হতে থাকে। দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে হযরত সালহা বিনতে সাহীল (রাঃ)-এর বর্ণনাটি, তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন হযরত আবু হুযাইফার (রাঃ) গোলাম হযরত সালিম (রাঃ)-কে পাঁচবার দুধপান করিয়ে দেন।কোন স্ত্রীলোক তার নিকট কোন পুরুষ লোকের যাতায়াতকে পছন্দ করলে এ হাদীসটি অনুযায়ীই হযরত আয়েশা (রাঃ) তাকে এ নির্দেশই দিতেন। ইমাম শাফিঈ (রঃ) এবং তাঁর সহচরগণেরও ঘোষণা এটাই যে, পাঁচবার দুধ পানই নির্ভরযোগ্য। এটা স্মরণীয় বিষয় যে, জমহূরের মতে এ দুধপান শিশুর দুধ ছেড়ে দেয়ার পূর্বে অর্থাৎ দু'বছরের মধ্যেই হতে হবে। এর বিস্তারিত বিবরণ সূরা-ই-বাকারার (আরবী) (২:২৩৩)-এর তাফসীরের মধ্যে দেয়া হয়েছে। আবার এ দুধ পানের ক্রিয়া দুধ মাতার স্বামী পর্যন্ত পৌছবে কি-না এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর ও ইমাম চতুষ্টয়ের মতে এটা স্বামীর উপরও ক্রিয়াশীল হবে কিন্তু পূর্ববর্তী কোন কোন মনীষীর মতে এটা শুধু দুধ দাত্রী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে, দুধ পিতা পর্যন্ত পৌছবে না। এর ব্যাখ্যার স্থান হচ্ছে আহকামের বড় বড় গ্রন্থগুলো, তাফসীর নয়। আল্লাহ পাক বলেনঃ শাশুড়ী হারাম।' যে মেয়ের সাথে বিয়ে হবে, এ বিবাহ বন্ধনের সাথে সাথেই তার মা হারাম হয়ে যাবে, মেয়ের স্বামী তার সঙ্গে সঙ্গম করুক আর নাই করুক। হ্যাঁ, তবে যে নারীকে বিয়ে করছে তার সাথে তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যা রয়েছে। এখন যদি বিয়ের পর ঐ স্ত্রীলোকটির স্বামী তার সাথে সঙ্গম করে থাকে তবে তার মেয়েটি তার স্বামীর জন্যে হারাম হয়ে যাবে।আর যদি সঙ্গমের পূর্বেই স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয় তবে তার কন্যা তার স্বামীর জন্যে হারাম হবে না। এজন্যেই এ আয়াতে এ শর্ত লাগানো। হয়েছে। কোন কোন লোক সর্বনামটিকে শাশুড়ী ও প্রতিপালিতা মেয়ে উভয়ের দিকেই ফিরিয়েছেন। তাঁরা বলেন যে, শাশুড়ীও ঐ সময় হারাম হয় যখন তার মেয়ের সঙ্গে তার জামাতার নির্জনবাস হয়, নচেৎ হারাম হয় না। শুধু বিবাহ বন্ধন দ্বারা স্ত্রীর মাতাও হারাম হয় না এবং স্ত্রীর মেয়েও হারাম হয় না।হযরত আলী (রাঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে বিয়ে করেছে, অতঃপর সঙ্গমের পূর্বেই তালাক দিয়েছে, সে ঐ মেয়ের মাতাকে বিয়ে করতে পারে, যেমন প্রতিপালিতা মেয়েকে এভাবেই তার মাতাকে তালাক দেয়ার পর বিয়ে করা যায়। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) হতেই আর একটি বর্ণনা রয়েছে যে, যখন ঐ স্ত্রী তার স্বামীর সাথে সঙ্গমের পূর্বেই মারা যাবে এবং এ স্বামী তার উত্তরাধিকার গ্রহণ করবে তখন তার মাতাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করা মাকরূহ হবে। হ্যা, তবে যদি সঙ্গমের পূর্বেই তালাক দিয়ে দেয় তবে ইচ্ছে করলে তার মাতাকে বিয়ে করতে পারে।হযরত আবু বকর ইবনে কিনানা (রাঃ) বলেন, আমার পিতা তায়েফের একটি মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে দেন। তার সাথে আমার নির্জন বাস হয়নি এমতাবস্থায় আমার চাচা (মেয়েটির পিতা) মারা যান। তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ আমার শাশুড়ী বিধবা হন। তিনি বড় সম্পদ শালিনী ছিলেন। তাই আমার পিতা আমাকে পরামর্শ দেন যে, আমি যেন তার মেয়েকে তালাক দিয়ে তাকেই বিয়ে করি।আমি তখন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে এ মাসআলাটি জিজ্ঞেস করি। তিনি বলেন, তুমি তাকে বিয়ে করতে পার।' অতঃপর আমি হযরত ইবনে উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞাস করি। তিনি বলেন, তুমি তাকে বিয়ে করতে পার না। আমি আমার পিতার নিকট এটা বর্ণনা করি। তিনি ঐ দু' মনীষীর ফতওয়া লিখে দিয়ে হযরত মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখেন। হযরত মুআবিয়া (রাঃ) উত্তরে লিখেন, 'আমি হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম করতে পারি না। তোমরাই অবস্থা সম্যক উপলব্ধি করছো, কারণ অবস্থা তোমাদের সামনে রয়েছে। সে ছাড়া আরও বহু স্ত্রীলোক রয়েছে। মোটকথা তিনি অনুমতিও দিলেন না এবং নিষেধও করলেন না। আমার পিতা তখন তাঁর বাসনা আমার শাশুড়ীর দিক হতে ফিরিয়ে নেন এবং তার সাথে আমার বিয়ে দেয়া হতে বিরত থাকেন।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ) বলেন যে, স্ত্রীর কন্যা ও স্ত্রীর মাতার একই হুকুম। যদি স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম না হয় তবে এ দু’জনই হালাল হবে। কিন্তু এর ইসনাদে সন্দেহযুক্ত বর্ণনাকারী রয়েছে। হযরত মুজাহিদ (রঃ)-এর এটাই উক্তি। ইবনে যুবাইর (রাঃ)-এবং হযরত ইবনে আব্বাসও (রাঃ) ঐ দিকেই গেছেন। হযরত মুআবিয়া (রাঃ) এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। শাফিঈ মাযহাব অবলম্বীদের মধ্যে আবুল হাসান (রঃ) আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সারূনী (রঃ) হতেও রাফেঈর উক্তি অনুযায়ী এটাই বর্ণিত আছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত আছে! কিন্তু পরে তিনি তার একথা হতে প্রত্যাবর্তন করেন।তাবরানীর হাদীসে রয়েছে যে, ‘ফারাহ গোত্রের শাখা ‘কাখ’ গোত্রের একটি লোক একটি নারীকে বিয়ে করে। অতঃপর তার বিধবা মাতার সৌন্দর্যের প্রতি তার দৃষ্টি নিবন্ধ হয়। তাই সে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-কে মাসআলা জিজ্ঞেস করে, তার মাতাকে বিয়ে করা আমার জন্যে বৈধ কি?' তিনি বলেন, হ্যা।' সুতরাং সেই মহিলাটিকে তালাক দিয়ে তার মাতাকে বিয়ে করে নেয়। তার ছেলেমেয়েও হয়।অতঃপর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) মদীনায় আগমন করেন। এখানে তিনি এ মাসআলাটি বিশ্লেষণ করেন। ফলে তিনি জানতে পারেন যে, এটা হালাল নয়। অতঃপর তিনি কুফা প্রত্যাবর্তন করে ঐ লোকটিকে বলেন, ‘তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও। সে তোমার জন্যে হারাম।' লোকটি তার আদেশ প্রতিপালন করতঃ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় ।জমহুর উলামা এ দিকেই গেছেন যে, মেয়ে শুধু বিবাহ বন্ধন দ্বারা হারাম হয়। যে পর্যন্ত না তার মায়ের সঙ্গে তার স্বামীর সঙ্গম হয়। তবে মেয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সঙ্গম না হলেও মা হারাম হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নির্জনবাসের পূর্বেই তালাক দিয়ে দেয় কিংবা মহিলাটি মারা যায়, তখন তার মা তার স্বামীর জন্যে হালাল নয়। এটা সন্দেহযুক্ত বলেই তিনি তা অপছন্দ করেন। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ), হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ), হযরত মাসরূক (রঃ), হযরত তাউস (রঃ), হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত আতা' (রঃ) হযরত হাসান বসরী (রঃ), হযরত ইবনে সীরীন (রঃ), হযরত কাতাদাহ (রঃ) এবং হযরত যুহরী (রঃ) হতেও এরূপই বর্ণিত আছে। ইমাম চতুষ্টয়, সাতজন ধর্মশাস্ত্রবিদ, জমহুর উলামা এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মনীষীবর্গের এটাই মাযহাব।ইমাম ইবনে জুরায়েজ (রঃ) বলেন, ঐ মনীষীদের উক্তি সঠিক যারা শাশুড়ীকে উভয় অবস্থাতেই হারাম বলে থাকেন। কেননা, মহান আল্লাহ তাদের অবৈধতার সঙ্গে সঙ্গমের শর্ত আরোপ করেননি, যেমন মেয়ের মায়ের জন্যে এ শর্ত আরোপ করেছেন। তাছাড়া এর উপর ইজমা হয়েছে যা এমন দলীল যে, যার বিপরীত করা সে সময় বৈধই নয় যখন ওর উপর সবাই একমত হয়। সনদের ব্যাপারে সমালোচনা থাকলেও একটি গারীব হাদীসেও এটা বর্ণিত আছে। যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ 'যখন কোন পুরুষ কোন স্ত্রীকে বিয়ে করে তখন তার মাকে বিয়ে করা হালাল নয়, স্বামী ঐ মেয়ের সঙ্গে সঙ্গম করুক আর নাই করুক। হ্যা, তবে যে মহিলাকে বিয়ে করেছে তাকে যদি সঙ্গমের পূর্বে তালাক দিয়ে দেয় তবে ইচ্ছে করলে তার মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। এ হাদীসটির সনদ দুর্বল বটে, কিন্তু এ মাসআলার উপর ইজমা হয়ে গেছে যা এর বিশুদ্ধতার উপর এমন এক সাক্ষী যার পরে আর কোন সাক্ষ্যের আবশ্যকতা নেই। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-“তোমাদের প্রতিপালিতা ঐ মেয়েগুলো তোমাদের জন্যে হারাম যারা তোমাদের ক্রোড়ে অবস্থিতা, যদি তাদের মাতাদের সঙ্গে তোমাদের নির্জনবাস হয়ে থাকে। জমহূরের ঘোষণা এই যে, তারা ক্রোড়ে লালিত পালিতা হোক আর নাই হোক সর্বাবস্থাতেই হারাম হবে। যেহেতু এরূপ মেয়েরা সাধারণতঃ তাদের মাতাদের সাথেই থাকে এবং স্বীয় বৈপিত্রের (সৎ বাপের) নিকট প্রতি পালিত হয় সেহেতু একথা বলা হয়েছে। এটা কোন শর্ত নয়। যেমন নিম্নের আয়াতে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ যদি তোমাদের দাসীরা পবিত্র থাকতে ইচ্ছে করে তবে তোমরা তাদেরকে নির্লজ্জতার কার্যে বাধ্য করো না।' (২৪:৩৩) এখানেও যদি তারা। পবিত্র থাকতে ইচ্ছে করে’ এ শর্তটি ঘটনার প্রাধান্য হিসেবে করা হয়েছে। অর্থ এই নয় যে, যদি তারা পবিত্র থাকতে না চায় তবে তাদেরকে নির্লজ্জতার কাজে উত্তেজিত কর। অনুরূপভাবে এ আয়াতেও বলা হয়েছে যে, যদি ক্রোড়ে অবস্থান করে। তাহলে বুঝা গেল যে, ক্রোড়ে অবস্থান না করলেও হারাম হবে।সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে রয়েছে যে, হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি আমার বোন আবু সুফইয়ানের কন্য ইযহূকে বিয়ে করুন। তিনি বলেনঃ তুমি এটা পছন্দ কর? হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেন ‘হ্যাঁ, আমি আপনাকে শূন্য রাখতে পারি না। তাছাড়া এ সকার্যে আমি আমার বোনকেও জড়িয়ে দেব না কেন? রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ জেনে রেখো যে, এটা আমার জন্যে বৈধ নয়।'উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) তখন বলেন, “আমি তো শুনেছি যে, আপনি নাকি আবু সালমা (রাঃ)-এর মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন? রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “উম্মে সালমা (রাঃ)-এর গর্ভের মেয়েটির কথা বলছ?তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘জেনে রেখো, প্রথমতঃ সে আমার উপর এ জন্যে হারাম যে, সে আমার প্রতিপালিতা, সে আমারই ক্রোড়ে লালিত পালিত হচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ যদি এরূপ না হতো তবুও সে আমার উপর হারামই হতো। কেননা, সে আমার দুগ্ধ ভ্রাতার কন্যা, আমার ভ্রাতুস্পুত্রী। আমাকে ও তার পিতা আবু সালমা (রাঃ)-কে সাওবিয়া দুধ পান করিয়েছিলেন। সাবধান! তোমাদের কন্য ও ভগ্নীদেরকে আমার উপর পেশ করো না।'সহীহ বুখারীর মধ্যে নিম্নরূপ শব্দ রয়েছেঃ ‘উম্মে সালমা (রাঃ)-এর সাথে আমার বিয়ে যদি নাও হতো তথাপি সে আমার উপর হালাল হতো না। সুতরাং অবৈধতার মূল তিনি বিয়েকেই স্থির করেছেন। এ মাযহাবই হচ্ছে ইমাম চতুষ্টয়ের, সাতজন ধর্ম শাস্ত্রবিদের এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহূরের। এও বলা হয়েছে যে, যদি মেয়েটি ক্রোড়ে প্রতিপালিত হয় তবে হারাম হবে নচেৎ হারাম হবে না।হযরত মালিক ইবন আউস ইবন হাসান (রঃ) বলেন, আমার স্ত্রী সন্ত নাদি রেখে মারা যায়। তার প্রতি আমার খুবই ভালবাসা ছিল। এ জন্য তার মৃত্যুতে আমি অত্যন্ত শোকাভিভূত হয়ে পড়ি। ঘটনাক্রমে হযরত আলী (রাঃ)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি আমাকে চিন্তিত দেখে এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। আমি ঘটনাটি তাঁর নিকট বর্ণনা করি। তিনি তখন আমাকে বলেন, “তোমার পূর্বে তার স্বামীর কোন সন্তান আছে কি?' আমি বলি হ্যাঁ, একটি কন্যা আছে এবং সে তায়েফে অবস্থান করে। তিনি বলেন, ‘মেয়েটিকে বিয়ে করে নাও।'আমি তখন কুরআন কারীমের এ আয়াতটি পাঠ করে তাকে বলি, এর ভাবার্থ কি হবে? তিনি বলেনঃ “এটা সে সময় হতো যদি সে তোমার নিকট লালিত পালিত হতো। আর সে তো তোমার কথামত তায়েফে রয়েছে। তোমার নিকটেই তো নেই। এর ইসনাদ সহীহ হলেও এ উক্তটি সম্পূর্ণ গারীব।হযরত দাউদ ইবনে আলী যাহেরী (রঃ) এবং তাঁর সহচরগণ ঐদিকেই গেছেন। রাফেঈ (রঃ) হযরত ইমাম মালিক (রঃ)-এরও এ উক্তির কথাই বলেছেন। ইবনে হাযামও (রঃ) এটাই গ্রহণ করেছেন। আমাদের শায়েখ হাফিয আবি আব্দিল্লাহ যাহবী (রঃ) বলেন, “আমি এ কথাটি শায়েখ তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়া (রঃ)-এর নিকট পেশ করলে তিনি ওটাকে অত্যন্ত কঠিন অনুভব করেন এবং নীরবতা অবলম্বন করেন। (আরবী) শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে ঘর। যেমন হযরত আবু উবাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। তবে নিজের অধিকারে যে দাসী রয়েছে এবং তার সাথে তার মেয়েও রয়েছে, তার সম্বন্ধে হযরত উমার (রাঃ) জিজ্ঞাসিত হন যে, একের পর অন্য বৈধ হবে কি-না?' তখন হযরত উমার (রাঃ) বলেন, এক আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, হালাল এবং অন্য আয়াত দ্বারা জানা যাচ্ছে যে হারাম। সুতরাং আমি ওটা কখনও করবো না। শায়েখ আবু উমার ইবনে আব্দিল্লাহ (রঃ) বলেন, কারও জন্যে এটা হালাল নয় যে, কোন স্ত্রীলোকের উপর অধিকার লাভ করার কারণে তার সঙ্গে সঙ্গম করবে অতঃপর একই অধিকারের উপর ভিত্তি করে তার মেয়ের সঙ্গেও সঙ্গম করবে এবং এ মাসআলায় আলেমদের মধ্যে কোন মতবিরোধ নেই। কেননা আল্লাহ তা'আলা ওটাকে বিয়েতেও হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। আলেমদের মতে কারও উপরে অধিকার লাভ বিয়েরই অনুসারী। কিন্তু হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে যে বর্ণনা দেয়া হয় তার উপর ফতওয়া প্রদানকারী ইমামগণ এবং তাদের অনুসারী কেউই নেই। হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যা মেয়ে এবং মেয়ের মেয়ে এভাবে যতই নিম্নস্তরে যাক না কেন, সবাই হারাম। হযরত কাতাদা (রঃ)-এর বর্ণনা মতে হযরত আবুল আলিয়া (রঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত আছে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী)-এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘নারীদেরকে বিয়ে করা।' হযরত আতা’ (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘তাদের কাপড় সরিয়ে দেয়া, স্পর্শ করা এবং উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে তাদের পদদ্বয়ের মধ্যস্থলে বসে পড়া।' ইবনে জুরাইজ জিজ্ঞেস করেন, 'যদি এ কাজ স্ত্রীর বাড়ীতেই হয়? হযরত আতা’ উত্তরে বলেন, এখানকার ওখানকার দুটোর হুকুম একই। এরূপ যদি হয়ে যায় তবে তার মেয়ে তার স্বামীর উপর হারাম হয়ে যাবে।'ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, শুধু নির্জনবাসের দ্বারাই তার মেয়ের অবৈধতা সাব্যস্ত হয় না। যদি সঙ্গম করা, স্পর্শ করা এবং কামপ্রবৃত্তির সাথে।তার কোন অঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দেয় তবে সর্বসম্মতিক্রমে একথা সাব্যস্ত হয় যে, স্ত্রীর মেয়ে তার উপর হারাম হবে না।এরপর বলা হচ্ছে-‘তোমাদের পুত্রবধুগণও তোমাদের উপর হারাম, যারা তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের পত্নী’। অর্থাৎ পালক পুত্রের স্ত্রী হারাম নয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ যখন যায়েদ তার নিকট হতে স্বীয় প্রয়োজন পুরো করে নেয়, তখন আমি তাকে তোমার বিবাহে দিয়ে দেই, যেন মুমিনদের উপর তাদের পালিত পুত্রদের ব্যাপারে কোন সংকীর্ণতা না থাকে।' (৩৩:৩৭)হযরত আতা’ (রঃ) বলেন, আমরা শুনতাম যে যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত যায়েদ (রাঃ)-এর স্ত্রী হযরত যায়নাব (রাঃ)-কে বিয়ে করেন তখন মক্কার কুরাইশরা তার সমালোচনা শুরু করে দেয়। তখন (আরবী) (৩৩:৪) এ আয়াতটি এবং (আরবী) (৩৩:৪০)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আয়াতগুলোর অর্থ হচ্ছেঃ “তোমাদের পালক পুত্রগণকে তিনি তোমাদের পুত্র করেননি। মুহাম্মাদ (সঃ) তোমাদের পুরুষদের কারও পিতা নয়।হযরত হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতগুলো অস্পষ্ট, যেমন তোমাদের পুত্রদের স্ত্রীগণ, তোমাদের শাশুড়ীগণ। হযরত তাউস (রঃ), হযরত ইবরাহীম (রঃ), হযরত যুহরী (রঃ) এবং হযরত মাকহুল (রঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত আছে। আমি বলি অস্পষ্টের ভাবার্থ হচ্ছে সাধারণ। অর্থাৎ যাদের সাথে সঙ্গম করা হয়েছে এবং যাদের সাথে সঙ্গম করা হয়নি সবাই এর মধ্যে জড়িত। শুধু বিয়ে করার পরেই অবৈধতা সাব্যস্ত হয়ে যায়, সঙ্গম হোক আর নাই হোক। এ মাসআলার উপর সবাই একমত যে, কেউ যদি প্রশ্ন করে, ‘আয়াতে তো শুধু ঔরসজাত পুত্রের উল্লেখ আছে, তাহলে দুধ পুত্রের স্ত্রী অবৈধ হওয়া কিরূপে সাব্যস্ত হবে। তবে এর উত্তর হবে এই যে, ওর অবৈধতা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিম্নের হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি বলেনঃ স্তন্যপান দ্বারা ওটাই হারাম হয় যা হারাম হয় বংশের দ্বারা। জমহুরের মাযহাব এটাই যে, দুধ পুত্রের স্ত্রীও হারাম। কোন কোন লোক তো এর উপরই ইজমা নকল করেছেন।অতঃপর আল্লাহ পাক বলেন-“বিবাহে দু বোনকে একত্রিত করাও তোমাদের জন্যে হারাম। অধীনস্থ দাসীদের উপরও এ হুকুম প্রযোজ্য যে, একই সময় দু’ বোনের সাথে সঙ্গম করা হারাম। কিন্তু অজ্ঞতার যুগে যা হয়ে গেছে তা আমি ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং জানা গেল যে, আগামীতে কোন সময় এ কাজ কারও জন্যে বৈধ নয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ প্রথম মৃত্যু ছাড়া তথায় তারা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না। (৪৪ঃ৫৬) তাহলে জানা যাচ্ছে যে, আগামীতে আর মৃত্যুর আগমন ঘটবে না।সাহাবা, তাবেঈন, ঈমানগণ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের ইজমা আছে যে, একই সাথে দু বোনকে বিয়ে করা হারাম। যে ব্যক্তি মুসলমান হবে এবং তার বিয়েতে দু’বোন থাকবে, তাকে এ অধিকার দেয়া হবে যে, সে যে কোন একজনকে রাখবে অপরজনকে তালাক দেবে। আর এটা তাকে করতেই হবে। হযরত যহ্হাক ইবনে ফীরোয (রাঃ) বলেন, আমি যখন মুসলমান হই। তখন আমার বিয়েতে দু' স্ত্রী ছিল যারা পরস্পর ভগ্নী ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন একজনকে তালাক দিয়ে দেই। (মুসনাদ-ই-আহমাদ) সুনান-ই-ইবনে মাজা, সুনান-ই-আবি দাউদ ও জামেউত্ তিরমিযীর মধ্যে এ হাদীসটি রয়েছে। জামেউত্ তিরমিযীর মধ্যে এও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘এ দু'জনের মধ্যে যাকে ইচ্ছে রাখ অপরজনকে তালাক দাও। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এ হাদসিটি হাসান বলেছেন। সুনান-ই-ইবনে মাজার মধ্যে আবু খাররাশের এরূপ ঘটনাও বর্ণিত আছে। সম্ভবতঃ যহ্হাক ইবনে ফীররাযেরই কুনইয়াত আবু খাররাশ হবে এবং ঘটনাটি একই হবে। আবার এর বিপরীত হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। হযরত দায়লামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আরয করেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার বিবাহে দু’বোন রয়েছে। তিনি বলেনঃ “তাদের মধ্যে যাকে চাও একজনকে তালাক দিয়ে দাও। (তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই)সুতরাং দায়লামী অর্থে হযরত যহ্হাক ইবনে ফীরোযকেই বুঝানো হয়েছে। তিনি ইয়ামনের ঐ নেতৃবর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা অভিশপ্ত আসওয়াদ আনসী মুতানাব্বীকে হত্যা করেছিলেন। পরস্পর দু’ বোন এ রূপ দু’জন দাসীকে একই সাথে একত্রিত করে তাদের সাথে সঙ্গম করাও হারাম। এর দলীল হচ্ছে এ আয়াতটির সাধারণতা, যার মধ্যে স্ত্রী ও দাসী উভয়ই জড়িত রয়েছে।হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি এটাকে মকরূহ বলেন। প্রশ্নকারী বলে, কুরআন কারীমে যে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ ‘কিন্তু তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের অধিকারী।'(২৩:৭) তখন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, “তোমার উটও তো তোমার দক্ষিণ হস্তের অধিকারে রয়েছে।' জমহুরের প্রসিদ্ধ উক্তিও এটাই এবং ইমাম চুতষ্টয় প্রভৃতি মনীষীও এ কথাই বলেন। তবে পূর্ববর্তী কোন কোন মহামানব এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-কে এ মাসআলাটি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একটি আয়াত এটাকে হালাল করছে এবং অপরটি হারাম করছে। আমি তো এটা হতে নিষেধ করি না। প্রশ্নকারী তথা হতে বের হয়। পথে একজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাঁকেও এ প্রশ্ন করে। তিনি বলেন, 'আমার অধিকার থাকলে এরূপ কার্যকারীকে আমি শিক্ষামূলক শাস্তি প্রদান করতাম।ইমাম মালিক (রঃ) বলেন, “আমার ধারণা এ উক্তিকারী খুব সম্ভব হযরত আলী (রাঃ) ছিলেন। হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রাঃ) হতেও এ রকমই বর্ণিত আছে। ইসতিকার-ই-ইবনে আবদিল বারর’ গ্রন্থে রয়েছে যে, এ ঘটনার বর্ণনাকারী কাবীসা ইবনে যাভীব হযরত আলী (রাঃ)-এর নাম নেয়নি, কারণ সে আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের প্রিয়পাত্র ছিল এবং তাদের উপর তার নাম খুব কঠিন ঠেকতো।হযরত আইয়াস ইবনে আমের বলেন, আমি হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, আমার অধিকারে দু'টি দাসী রয়েছে যারা পরস্পর দু' বোন। একজনের সাথে আমি সম্পর্ক স্থাপন করেছি এবং আমার ঔরসে তার সন্তানাদিও হয়েছে। এখন আমার মনে চাচ্ছে যে, তার বোনটি যে আমার দাসী হিসেবে রয়েছে তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করি। তাহলে বলুন শরীয়তে এ ব্যাপারে কি হুকুম রয়েছে?তিনি বলেন, প্রথম দাসীটিকে আযাদ করে দিয়ে তার বোনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পার।' তিনি বলেন, লোকে তো বলে যে, আমি তার বিয়ে করিয়ে দিয়ে তার বোনের সঙ্গে মিলিত হতে পারি।' হযরত আলী (রাঃ) তখন বলেন, ‘দেখ এ অবস্থাতেও ক্ষতি রয়েছে। তা হচ্ছে এই যে, যদি তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয় বা মারা যায় তবে সে পুনরায় তোমার নিকট ফিরে আসবে। সুতরাং তাকে আযাদ করে দেয়ার মধ্যেই নিরাপত্তা রয়েছে।'অতঃপর তিনি আমার হাত ধারণ করে বলেন, জেনে রেখো যে, আযাদ ও দাসী স্ত্রীলোকদের হুকুম বৈধতা ও অবৈধতার দিক দিয়ে একই। হ্যাঁ, তবে সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। আযাদ মহিলাদেরকে চারটের বেশী একত্রিত করা যায় না। কিন্তু দাসীদের সংখ্যার কোন শর্ত নেই।' দুগ্ধ পানের সম্পর্কের ফলে ঐ সমুদয় স্ত্রীলোক হারাম হয়ে যায়, বংশীয় সম্পর্কের কারণে যেগুলো হারাম হয়ে থাকে। স্মরণ রাখতে হবে যে, হযরত উসমান (রাঃ)-এর মতই হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যেমন তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই-এর মধ্যে রয়েছে যে, হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, পরস্পর বোন হয় এরূপ দু'টি দাসীকে একই সময়ে একত্রিত করে তাদের সাথে সঙ্গম করার বৈধতা এক আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত হচ্ছে এবং অপর আয়াত দ্বারা অবৈধতা সাব্যস্ত হচ্ছে।'হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, দাসীদের সাথে আমার আত্মীয়তার কারণে তারা অন্যান্য গুটিকয়েক দাসীকে আমার উপর হারাম করে থাকে। কিন্তু তাদের পরস্পরের আত্মীয়তার কারণে হারাম করে না। অজ্ঞতা যুগের লোকেরাও। ঐ সমুদয় নারীকে হারাম বলে জানতো যাদেরকে তোমরা হারাম মনে করে থাক। কিন্তু তারা শুধু পিতার স্ত্রীকে অর্থাৎ বিমাতাকে এবং একই সাথে বিবাহে দু' বোনকে একত্রিত করাকে হারাম মনে করতো না। কিন্তু ইসলাম এসে এ দু’টোকেও হারাম করে দেয়। এ জন্যেই এ দু'টোর অবৈধতার বর্ণনার সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, যে বিয়ে হয়েছে তা হয়েছেই। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, “যে আযাদ স্ত্রীলোকগুলো হারাম ঐ দাসীগুলোও হারাম। হ্যাঁ, তবে সংখ্যায় এক নয়। অর্থাৎ আযাদ মহিলাদেরকে চারটের বেশী একত্রিত করা যায় না। কিন্তু দাসীদের জন্যে কোন সীমা নেই।' হযরত শা'বীও (রঃ) এটাই বলেন।হযরত আবু আমর (রঃ) বলেন, “হযরত উসমান (রাঃ) এ ব্যাপারে যা বলেছেন, পূর্ববর্তী মনীষীদের একটি দলও এটাই বলেছেন, যাদের মধ্যে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) রয়েছেন। কিন্তু প্রথমতঃ এর নকলে তো স্বয়ং ঐ মনীষীদের মধ্যেই বহু কিছু মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে।দ্বিতীয়তঃ এ উক্তির দিকে বিবেকসম্পন্ন আলেমগণ মোটেই মনোযোগ দেননি এবং তা গ্রহণও করেননি। হেজায, ইরাক, সিরিয়া এমনকি পূর্ব পশ্চিমের সমস্ত ধর্মশাস্ত্রবিদ ওর বিপক্ষে রয়েছেন।' মুষ্টিমেয় কয়েকজন শুধু শব্দের প্রতি লক্ষ্য করেই এবং কোন চিন্তা ও বুদ্ধি বিবেচনা না করেই তাদের হতে পৃথক রয়েছেন ও ইজমার বিপরীত মত পোষণ করেছেন। যারা পূর্ণ জ্ঞানের ও বিবেচনা শক্তির অধিকারী তাঁরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, দু'বোনকে যেমন বিবাহে একত্রিত করা যায় না, তদ্রপ ঐ দাসীদের সাথেও একই সময় সঙ্গম করতে পারে না, যারা পরস্পর বোন। অনুরূপভাবে মুসলমানদের ইজমা রয়েছে যে, এ আয়াতে মাতা, কন্যা, বোন ইত্যাদিকে হারাম করা হয়েছে। এদের সাথে যেমন বিয়ে হারাম, তদ্রুপ যদি তারা দাসী হয়ে অধীন হয়ে যায়, তবে তাদের সাথেও মিলন হারাম।মোটকথা, বিয়ের ও দাসীদের উপর অধিকার লাভের পরে, এ দু’ অবস্থাতেই এরা সবাই সমান। না তাদেরকে বিয়ে করে তাদের সাথে মিলন বৈধ, না তাদের উপর অধিকার লাভের পর তাদের সাথে মিলন বৈধ। অনুরূপভাবে এ হুকুমই হচ্ছে একই সাথে দু' বোনকে একত্রিত করণ এবং শাশুড়ীর ও স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যার একত্রিত করণ। স্বয়ং তাদের জমহূরেরও এটাই মাযহাব। আর এটাই হচ্ছে ঐ দলীল যা ঐ গুটিকয়েক বিপক্ষীর উপর পূর্ণ সনদ ও পরিপূর্ণ হুজ্জত।মোটকথা একই সাথে দু' বোনকে বিয়েতে একত্রিত করাও হারাম এবং দু’ বোনকে দাসীরূপে রেখে তাদের সাথে মিলিত হওয়াও হারাম।

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
قرآن کو پڑھیں، سنیں، تلاش کریں، اور اس پر تدبر کریں۔

Quran.com ایک قابلِ اعتماد پلیٹ فارم ہے جسے دنیا بھر کے لاکھوں لوگ قرآن کو متعدد زبانوں میں پڑھنے، سرچ کرنے، سننے اور اس پر تدبر کرنے کے لیے استعمال کرتے ہیں۔ یہ ترجمے، تفسیر، تلاوت، لفظ بہ لفظ ترجمہ اور گہرے مطالعے کے ٹولز فراہم کرتا ہے، جس سے قرآن سب کے لیے قابلِ رسائی بنتا ہے۔

صدقۂ جاریہ کے طور پر، Quran.com لوگوں کو قرآن کے ساتھ گہرا تعلق قائم کرنے میں مدد کے لیے وقف ہے۔ Quran.Foundation کے تعاون سے، جو ایک 501(c)(3) غیر منافع بخش تنظیم ہے، Quran.com سب کے لیے ایک مفت اور قیمتی وسیلہ کے طور پر بڑھتا جا رہا ہے، الحمد للہ۔

نیویگیٹ کریں۔
ہوم
قرآن ریڈیو
قراء
ہمارے بارے میں
ڈویلپرز
پروڈکٹ اپڈیٹس
رائے
مدد
ہمارے پروجیکٹس
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
غیر منافع بخش منصوبے جو Quran.Foundation کی ملکیت، زیرِ انتظام یا زیرِ سرپرستی ہیں۔
مشہور لنکس

آیت الکرسی

سورہ یسین

سورہ الملک

سورہ الرحمان

سورہ الواقعة

سورہ الكهف

سورہ المزمل

سائٹ کا نقشہرازداریشرائط و ضوابط
© 2026 Quran.com. جملہ حقوق محفوظ ہیں