سائن ان کریں۔
🚀 ہمارے رمضان چیلنج میں شامل ہوں!
مزيد جانیے
🚀 ہمارے رمضان چیلنج میں شامل ہوں!
مزيد جانیے
سائن ان کریں۔
سائن ان کریں۔
1:8
يسالونك عن الانفال قل الانفال لله والرسول فاتقوا الله واصلحوا ذات بينكم واطيعوا الله ورسوله ان كنتم مومنين ١
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَنفَالِ ۖ قُلِ ٱلْأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ ۖ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَصْلِحُوا۟ ذَاتَ بَيْنِكُمْ ۖ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ١
يَسۡـــَٔلُوۡنَكَ
عَنِ
الۡاَنۡفَالِ​ ؕ
قُلِ
الۡاَنۡفَالُ
لِلّٰهِ
وَالرَّسُوۡلِ​ ۚ
فَاتَّقُوا
اللّٰهَ
وَاَصۡلِحُوۡا
ذَاتَ
بَيۡنِكُمۡ​
وَاَطِيۡعُوا
اللّٰهَ
وَرَسُوۡلَهٗۤ
اِنۡ
كُنۡتُمۡ
مُّؤۡمِنِيۡنَ‏
١
(اے نبی ﷺ) یہ لوگ آپ سے اموال غنیمت کے بارے پوچھ رہے ہیں آپ کہیے کہ اموال غنیمت کل کے کل اللہ اور رسول ﷺ کے ہیں پس تم اللہ کا تقویٰ اختیار کرو اور اپنے آپس کے معاملات درست کرو اور اللہ اور اس کے رسول ﷺ کی اطاعت کرو اگر تم مؤمن ہو
تفاسیر
اسباق
تدبرات
جوابات
قیراط

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ‘আনফাল গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে বলা হয়। তিনি আরও বলেন যে, সূরায়ে আনফাল বদর যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তিনি বলেনঃ “আনফাল হচ্ছে ঐ গনীমতের মাল যাতে একমাত্র নবী (সঃ) ছাড়া আর কারও অধিকার নেই। তিনি বলেন যে, হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে যখন কোন কথা জিজ্ঞেস করা হতো তখন তিনি বলতেনঃ “আমি অনুমতিও দিচ্ছি না এবং নিষেধও করছি না।” অতঃপর হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাআলা নবী (সঃ)-কে নিষেধকারী, আদেশকারী এবং হারাম ও হালালের ব্যাখ্যাদানকারী রূপে প্রেরণ করেছেন।” কাসিম (রঃ) বলেন যে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে একটি লোক এসে তাঁকে আনফাল’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন তিনি উত্তরে বলেনঃ “আনফাল এই যে, একটি লোক যুদ্ধে অপর একটি লোককে হত্যা করে তার ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্র গনীমতের মাল হিসেবে নিয়ে নিলো। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলো। তিনি ঐ উত্তরই দিলেন। সে আবার জিজ্ঞেস করলে তিনি রেগে ওঠেন এবং তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “এ লোকটির দৃষ্টান্ত তো ঐ ব্যক্তির মত যাকে হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) প্রহার করেছিলেন, এমন কি তার দেহের রক্ত তার পায়ের গোড়ালি দিয়ে বইতে শুরু করেছিল।” তখন লোকটি তাঁকে বলে, “আপনি কি ঐ ব্যক্তি নন যে, আল্লাহ উমার (রাঃ)-এর প্রতিশোধ আপনার দ্বারা গ্রহণ করেছেন?” এই ইসনাদটি বিশুদ্ধ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) নফলের তাফসীর ঐ গনীমতের মাল দ্বারা করেছেন যা যুদ্ধে ছিনিয়ে নেয়া হয়। আর ইমাম কোন কোন লোককে মূল গনীমত বন্টনের পরে আরও কিছু বেশী প্রদান করেন। অধিকাংশ ফকীহও ‘আনফাল’ -এর ভাবার্থ এটাই গ্রহণ করেছেন। জনগণ নবী (সঃ)-কে ঐ পঞ্চমাংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যা চার অংশ বের করার পরে অবশিষ্ট থেকে যায়। তখন (আরবী)-এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং মাসরূক (রঃ) বলেন যে, (আরবী) শব্দের প্রয়োগ যুদ্ধ দিবসে। ছিনিয়ে নেয়া সম্পদের উপর নয়, বরং যুদ্ধের ব্যুহ রচনা করার পূর্বে হয়ে থাকে। কেননা, ওটাও তো এক প্রকারের বাড়াবাড়ি। ইবনে মুবারক (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- হে নবী (সঃ) ! তোমাকে মানুষ ঐ ক্রীতদাসী, ক্রীতদাস, সওয়ারী, আসবাবপত্র ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে যেগুলো বিনা যুদ্ধে মুসলমানরা মুশরিকদের নিকট থেকে লাভ করেছে। সুতরাং এর উত্তর এই যে, এ সবকিছুর অধিকারী হচ্ছেন নবী (সঃ) ! তিনি নিজের ইচ্ছামত ওগুলো বিলি বন্টন করতে পারেন। এর দ্বারা এই ফল বের হলো যে, তিনি মালে ফাই’কে (আরবী) মনে করতেন। আর মালে ফাই’ ঐ মালকে বলা হয় যা বিনা যুদ্ধে কাফিরদের নিকট থেকে লাভ করা যায়। আর অন্যদের মত এই যে, সারিয়ার মাধ্যমে যে মাল মুসলমানদের হস্তগত হয় সেটাই আনফাল। অর্থাৎ মুসলমানগণ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করার জন্যে গিয়েছেন এবং কাফিরগণ যুদ্ধ না করেই নিজেদের সম্পদ ও আসবাবপত্র ছেড়ে পালিয়ে গেল। আর সেই সম্পদ মুসলমানদের হাতে আসলো এবং নবী (সঃ) ঐ সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। আবার এ কথাও বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হচ্ছে- মুসলিম সেনাবাহিনীর কোন অংশবিশেষকে সেই সময়ের ইমাম তাদের কর্মনৈপুণ্য ও উচ্চমনার প্রতিদান হিসেবে সাধারণ বন্টনের পরেও কিছু বেশী প্রদান করে থাকেন।সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেনঃ বদরের যুদ্ধে আমার ভাই উমাইর নিহত হয়। তখন আমিও সাঈদ ইবনুল আসকে হত্যা করে ফেলি এবং তার যুলকুইফা নামক তরবারী খানা নিয়ে নিই। ওটা আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে নিয়ে আসলে তিনি আমাকে বলেনঃ “ওটা অধিকৃত মালের স্তুপের মধ্যে রেখে দাও।” আমি তখন ওটা তাতে রেখে দেয়ার জন্যে যাচ্ছিলাম। ঐ সময় আমার মনের অবস্থা কিরূপ ছিল তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এক তো ভাই-এর হত্যা, দ্বিতীয়তঃ আমি যা কিছু ছিনিয়ে নিয়েছিলাম সেটাও আমাকে জমা দিতে হচ্ছে! কিন্তু আমি অল্প দূর গিয়েছি এমন সময় সূরায়ে আনফালের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে ডেকে নিয়ে বলেনঃ “যাও, তুমি তোমার ছিনিয়ে নেয়া মাল নিয়ে নাও।” সা’দ ইবনে মালিক হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত সা'দ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহ আজ আমাকে মুশরিকদের নিকট পরাজিত হওয়ার গ্লানি থেকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং এখন এ তরবারী খানা আমাকে দান করুন। তখন তিনি বললেনঃ “এ তরবারী তোমারও নয় আমারও নয়। কাজেই ওটা রেখে দাও।” আমি তখন ওটা রেখে দিয়ে ফিরে আসলাম। আর আমি মনে মনে বললাম, আমি যদি এটা না পাই তবে কেউ অবশ্যই পেয়ে যাবে যে আমার মত এর হকদার নয় এবং আমার ন্যায় বিপদ আপদও সহ্য করেনি। এমন সময় কেউ একজন আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলেন। আমি নবী (সঃ)-এর কাছে গেলাম এবং আরয করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কোন অহী অবতীর্ণ হয়েছে কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ “তুমি আমার কাছে তরবারী চেয়েছিলে । কিন্তু ওটা আমার ছিল না যে, তোমাকে দিতাম। এখন আল্লাহ পাক (আরবী)-এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। এ আয়াতের মাধ্যমে তিনি আমাকে ওটা প্রদান করেছেন। আমি এখন ওটা তোমাকে দিয়ে দিলাম”।”সা'দ (রাঃ) বলেনঃ আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। (১) বদরের যুদ্ধে একটি তরবারীর উপর আমি অধিকার লাভ করেছিলাম। আমি নবী। (সঃ)-এর কাছে এসে বললাম, এ তরবারীটি আমাকে দান করুন। তিনি বললেনঃ “যেখান থেকে ওটা গ্রহণ করেছে। ওখানেই রেখে দাও।” তিনি দু'বার এ কথা বললেন। পুনরায় আমি আবেদন জানালে তিনি ঐ কথাই বলেন। সেই সময় সূরায়ে আনফালের এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (২) আমার ব্যাপারে দ্বিতীয় যে আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তা হচ্ছে- (আরবী) (৪৬:১৫) -এই আয়াতটি। (৩) তৃতীয় হচ্ছে -(আরবী) (৫:৯০) -এই আয়াতটি এবং (৪) চতুর্থ হচ্ছে অসিয়তের আয়াত।”মালিক ইবনে রাবীআ (রাঃ) বলেনঃ “বদরের যুদ্ধে ইবনে আ’ইযের বরযুবান’ নামক তরবারীটি আমার হস্তগত হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেকে যেন নিজ লুটের মাল জমা দিয়ে দেয়, তখন আমিও এই তরবারীটি জমা দিয়ে দেই। আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, কেউ তাঁর কাছে কোন কিছু চাইলে তাকে তিনি বঞ্চিত করতেন না। আরকাম (রাঃ) এই তরবারীটি দেখে রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর কাছে তা চেয়ে বসেন। ফলে তিনি তাঁকে তা দিয়ে দেন।” আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার দ্বিতীয় কারণঃ আবূ উমামা (রাঃ) বলেনঃ আনফাল সম্পর্কে আমি আবূ উবাদা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “আমাদের সাথে বদরের মুজাহিদগণও ছিলেন। আর আনফালের আয়াত ঐ সময় অবতীর্ণ হয় যখন আনফালের জন্যে আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় এবং আমরা পরস্পর উচ্চবাচ্য করতে শুরু করি। তখন আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারটা আমাদের হাত থেকে নিয়ে নেন এবং নবী (সঃ)-কে প্রদান করেন। এখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই গনীমতের মাল মুসলমানদের মধ্যে সমানভাবে বন্টন করে দেন।” উবাদা ইবনে সাবিত (রাঃ) বলেনঃ “আমি বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে শরীক হয়েছিলাম। আল্লাহ শত্রুদেরকে পরাজিত করলেন। এখন একটি দল শক্রদের পশ্চাদ্ধাবন করলো এবং পলাতকদের হত্যা করলো। আর একদল সৈন্যের উপর ঝাপিয়ে পড়লো এবং তাদেরকে পরিবেষ্টন করলো। আর একটি দল নবী (সঃ)-কে ঘিরে রেখে তার হিফাযত করতে থাকলো যেন শত্রুরা তার কোন ক্ষতি করতে না পারে। যখন রাত্রি হলো এবং তিনি গনীমতের মাল বন্টন করতে শুরু করলেন তখন যারা গনীমতের মাল একত্রিত করে রক্ষিত রেখেছিল তারা বলতে লাগলোঃ “এর হকদার একমাত্র আমরাই।” যারা শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করেছিল তারা বললোঃ “শত্রুকে পরাজিত করার কারণ আমরাই। কাজেই এর হকদার শুধু আমরাই।” আর যারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর রক্ষণাবেক্ষণ করছিল তারা। বললোঃ “আমাদের এই আশংকা ছিল যে, না জানি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন বিপদে পতিত হন। সুতরাং আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ছিলাম।”তখন (আরবী) -এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এর পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) গনীমতের মাল মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, তিনি শক্রদের মধ্যে অবস্থানকালেই গনীমতের এক চতুর্থাংশ বন্টন করে দিতেন এবং যুদ্ধক্ষেত্র হতে ফিরে আসার পর এক তৃতীয়াংশ বন্টন করতেন। আর ওটা নিজের জন্যে গ্রহণ করা তিনি সমীচীন মনে করতেন না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বদরের যুদ্ধের দিন বলেছিলেনঃ “যে ব্যক্তি এমন এমন কাজ করবে তার জন্যে তাকে এরূপ এরূপ পুরস্কার দেয়া হবে।” এ কথা শুনে যুবকদের দল বীরত্ব প্রমাণ করার জন্যে উঠে পড়ে লাগলেন। আর বৃদ্ধের দল মরিচা রক্ষা ও পতাকা ধারণ করে থাকলেন। অতঃপর যখন গনীমতের মাল আসলো তখন যার জন্যে যা ওয়াদা করা হয়েছিল তা নেয়ার জন্যে তিনি হাযির হন। বুদ্ধগণ বললেনঃ “আমাদের উপর তোমাদের প্রাধান্য হতে পারে না। আমরা তোমাদের পিছনে আশ্রয়স্থল হিসেবে ছিলাম। যদি তোমাদের পরাজয় ঘটতো তবে তোমরা আমাদের কাছেই আশ্রয় লাভ করতে।” এভাবে তাদের। মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে থাকলো। তখন সূরায়ে আনফালের এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, বদর যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঘোষণা করেনঃ “যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে তাকে নিহত ব্যক্তির মাল থেকে এই এই পুরস্কার দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি কাউকে বন্দী করেছে তার জন্যে এই এই পুরস্কার রয়েছে। সুতরাং আবুল ইয়াসার দুজন বন্দীকে নিয়ে এসে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি যা ওয়াদা করেছিলেন তা পূরণ করুন!” এ কথা শুনে হযরত সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ) বলে উঠলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি আপনি এভাবে দিতে থাকেন তবে আপনার অন্যান্য সাহাবীদের জন্যে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা যে যুদ্ধক্ষেত্রে অটল থেকেছি তার কারণ এটা ছিল না যে, আমাদের মাল বা অন্য কিছু পাওয়ার লোভ ছিল এবং কারণ এটাও ছিল না যে, আমরা শত্রু দেখে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলাম। আমরা তো এখানে শুধুমাত্র এ জন্যেই স্থির রয়েছিলাম যে, আপনার উপর যেন পিছন থেকে আক্রমণ না করা হয়। স্থায়ী হিফাযতেরও অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।” মোটকথা, এ ধরনের কথা কাটাকাটি ও বচসা হয়ে গেল এবং এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। ইরশাদ হচ্ছে- (আরবী)অর্থাৎ “জেনে রেখো যে, তোমরা যে গনীমতের মাল লাভ করছে তার এক পঞ্চমাংশ হচ্ছে আল্লাহর জন্যে।” (৮:৪১) ইমাম আবু উবাইদিল্লাহ (রঃ) তাঁর (আরবী) নামক পুস্তকে লিখেছেন যে, গনীমতের মালকে আনফাল বলা হয় এবং ঐসব মালকে আনফাল বলা হয় যা মুসলমানরা অমুসলিম রাষ্ট্রের কাফিরদের নিকট থেকে লাভ করে থাকে। আনফালের উপর সর্বপ্রথম রাসূল (সঃ)-এর হক রয়েছে যেমন আল্লাহ তা'আলা কুরআন পাকে বলে দিয়েছেন। বদরের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) গনীমতের মাল আল্লাহ তা'আলার হিদায়াত অনুযায়ী এক পঞ্চমাংশ বের না করেই বন্টন করেছিলেন। যেমন আমরা সা’দ (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখ করেছি। এরপর এক পঞ্চমাংশ বের করে দেয়ার আয়াত অতীর্ণ হয়। তখন পূর্ব আয়াত মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু যায়েদের বর্ণনা রয়েছে যে, পূর্ব আয়াত মানসূখ হয়নি, বরং ওটাও ঠিকই রয়েছে। আবু উবাইদাহ বলেন যে, এ ব্যাপারে আরও হাদীস রয়েছে। জমাকৃত আনফাল গনীমতের মালকে বলা হয়। কিন্তু এর এক পঞ্চমাংশ নবী (সঃ)-এর পরিবারবর্গের জন্যে নির্দিষ্ট, যেমন কুরআন পাকে ও হাদীস শরীফে রয়েছে। আরবের পরিভাষায় আনফাল ঐ ইহসানকে বলা হয় যা শুধুমাত্র সৎ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, ইহসান তার উপর ওয়াজিব থাকে না। এটাই হচ্ছে ঐ গনীমতের মাল যা আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্যে হালাল করেছেন এবং এটা ঐ জিনিস যা শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যেই নির্দিষ্ট। মুসলমানদের পূর্বে অন্য কোন উম্মতের জন্যে এটা হালাল ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমাকে এক পঞ্চমাংশের অধিকারী বানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং আমার পূর্বে আর কাউকেও এর অধিকারী করা হয়নি।” আবু উবাইদাহ্ বলেন যে, যদি নেতা সেনাদলের কাউকে কোন পুরস্কার প্রদান করেন যা তার নির্দিষ্ট অংশ হতে অতিরিক্ত তবে ওটাকে নফল বা আনফাল বলা হয়। আর এটা তার কর্মনৈপুণ্য এবং শত্রুদের উপর প্রচণ্ড আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়ে থাকে। এই নফল, যা নেতার পক্ষ থেকে কারও কর্মকুশলতার কারণে দেয়া হয় তা চার পন্থায় হয়ে থাকে এবং প্রত্যেক পন্থা আপন স্থানে অন্য পন্থা হতে পৃথক। প্রথম হচ্ছে নিহত ব্যক্তির লুট করা মাল ও আসবাবপত্র। এটা হতে এক পঞ্চমাংশ বের করা হয় না। দ্বিতীয় হচ্ছে ঐ নফল যা পঞ্চমাংশ পৃথক করার পর দেয়া হয়ে থাকে। যেমন নেতা কোন ক্ষুদ্র সেনাবাহিনীকে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলেন! তারা গনীমতের মাল নিয়ে ফিরে আসলো। তখন নেতা ঐ সেনাদলকে এর থেকে চতুর্থাংশ বা তৃতীয়াংশ বন্টন করে দিলেন। তৃতীয় হচ্ছে এক পঞ্চমাংশ বের করার পর বাকীটা বন্টন করা হয়ে থাকে। এর মধ্য থেকে নেতা কাউকে তার কর্মতৎপরতা বিবেচনা করে যা দেয়া সমীচীন মনে করেন তা দিয়ে দেন। তারপর বাকীটা বন্টন করে দেন। চতুর্থ পন্থা এই যে, এক পঞ্চমাংশ বের করার। পূর্বেই সমস্ত গনীমত থেকে অতিরিক্ত প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এটা হচ্ছে পানি বহনকারী, রাখাল, সহিস ও অন্যান্য মজুরদের হক। মোটকথা, এটা কয়েকভাবে বন্টন করা হয়।ইমাম শাফিঈ (রঃ) বলেন যে, গনীমতের মালের মধ্য থেকে এক পঞ্চমাংশ বের করার পূর্বে মুজাহিদগণকে নিহতদের যে আসবাবপত্র ও মালধন প্রদান করা হয় ওটা আনফালের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় কারণ এই যে, পাঁচ অংশের মধ্য থেকে যে এক পঞ্চমাংশ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যে নির্ধারিত থাকতো তা থেকে তিনি যাকে যতটুকু দেয়ার ইচ্ছা করতেন তা দিয়ে দিতেন সেটাও নফল। সুতরাং নেতার উচিত যে, তিনি যেন শত্রুদের সংখ্যাধিক্য ও মুসলমানদের সংখ্যার স্বল্পতা প্রভৃতি জরুরী বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে সুন্নাত পন্থার অনুসরণ করেন। যদি এ ধরনের যৌক্তিকতার আবির্ভাব না ঘটে তবে নফল বের করা জরুরী নয়।তৃতীয় কারণ এই যে, নেতা একটি দলকে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে প্রেরণ করলেন এবং তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, যে কেউ যা কিছু লাভ করবে তা থেকে যেন এক পঞ্চমাংশ পৃথক করে দিয়ে অবশিষ্ট গ্রহণ করে। আর এটা যুদ্ধে গমনের পূর্বেই পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে মীমাংসিত হয়। কিন্তু তাঁদের এই বর্ণনায় যে বলা হয়েছে- ‘বদরের গনীমত হতে এক পঞ্চমাংশ বের করা হয়নি', এতে প্রতিবাদের অবকাশ রয়েছে। হযরত আলী (রাঃ) বলেছিলেনঃ “এ উট দুটি সেই উট যা আমরা বদরের দিন পাঁচ অংশের মধ্য থেকে লাভ করেছিলাম।” আমি কিতাবুস সীরাহ্’ এর মধ্যে এটা পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছি।(আরবী) অর্থাৎ তোমরা এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর এবং পরস্পর মিলেমিশে বাস কর। একে অপরের উপর অত্যাচার করো না এবং পরস্পর শত্রু হয়ে যেয়ো না। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে যে হিদায়াত ও জ্ঞান দান করেছেন তা কি এই মাল হতে উত্তম নয় যার জন্যে তোমরা যুদ্ধ করছো? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর অনুগত হয়ে যাও। নবী (সঃ) যে ভাগ বন্টন করছেন তা তিনি আল্লাহর ইচ্ছা অনুসারেই করছেন। তাঁর ভাগ বন্টন ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, (আরবী)-এর অর্থ হচ্ছে- তোমরা পরস্পর ঝগড়া বিবাদ করো না এবং গালাগালিও করো না। আনাস (রাঃ) বলেনঃ একদা আমরা নবী (সঃ)-কে দেখলাম যে, তিনি মুচকি হাসতে রয়েছেন। এ দেখে হযরত উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার হাসির কারণ কি?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ আমার উম্মতের দু’জন লোক আল্লাহর সামনে জানুর উপর ভর করে দাড়িয়ে গেছে। একজন আল্লাহকে বলছে- “হে আমার প্রভু! এ লোকটি আমার উপর অত্যাচার করেছে। আমি এর প্রতিশোধ চাই।” আল্লাহ পাক তখন তাকে বলছেনঃ “এ লোকটিকে অত্যাচারের বদলা দিয়ে দাও।” অত্যাচারী উত্তরে বলছে, “হে আমার প্রভু! এখন আমার কোন পুণ্য অবশিষ্ট নেই যে, আমি একে অত্যাচারের বিনিময়ে তা প্রদান করতে পারি।” তখন ঐ অত্যাচারিত ব্যক্তি বলছে- “হে আল্লাহ! আমার পাপের বোঝা তার উপর চাপিয়ে দিন।” এ কথা বলতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কেঁদে ফেললেন এবং তিনি কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বললেনঃ ওটা বড়ই কঠিন দিন হবে। তাক এর প্রয়োজন বোধ করবে যে, সে তার পাপের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়। তখন আল্লাহ পাক প্রতিশোধ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বলবেনঃ “তুমি মাথা উঠিয়ে জান্নাতের প্রতি লক্ষ্য কর!” সে তখন মাথা উঠিয়ে জান্নাতের দিকে তাকাবে এবং আরয করবেঃ “হে আমার প্রভু! এখানে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং মণি-মুক্তার তৈরী অট্টালিকা রয়েছে! হে আল্লাহ! এ অট্টালিকা কোন নবী, সিদ্দীক ও শহীদের কি?” আল্লাহ তা'আলা উত্তরে বলবেনঃ “যে কেউ এর মূল্য আদায় করবে তাকেই এটা দিয়ে দেয়া হবে।” সে বলবেঃ “হে আমার প্রভু! কে এর মূল্য আদায় করতে সক্ষম হবে?” আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “এর মূল্য তুমিই আদায় করতে পার।” তখন সে আরয করবেঃ “হে আল্লাহ! কিভাবে আমি এর মূল্য আদায় করতে পারি?” মহা মহিমান্বিত আল্লাহ তখন বলবেনঃ “এটা এভাবে যে, তুমি তোমার ভাইকে ক্ষমা করে দেবে।” সে বলবেঃ “হে আমার প্রভু! ঠিক আছে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম।” তখন। আল্লাহ পাক বলবেনঃ “এখন তোমরা উভয়ে একে অপরের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ কর!” এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং পরস্পরের মধ্যে সন্ধি ও মিল প্রতিষ্ঠিত কর। কেননা, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলাও মুমিনদের পরস্পরের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দিবেন।”

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
قرآن کو پڑھیں، سنیں، تلاش کریں، اور اس پر تدبر کریں۔

Quran.com ایک قابلِ اعتماد پلیٹ فارم ہے جسے دنیا بھر کے لاکھوں لوگ قرآن کو متعدد زبانوں میں پڑھنے، سرچ کرنے، سننے اور اس پر تدبر کرنے کے لیے استعمال کرتے ہیں۔ یہ ترجمے، تفسیر، تلاوت، لفظ بہ لفظ ترجمہ اور گہرے مطالعے کے ٹولز فراہم کرتا ہے، جس سے قرآن سب کے لیے قابلِ رسائی بنتا ہے۔

صدقۂ جاریہ کے طور پر، Quran.com لوگوں کو قرآن کے ساتھ گہرا تعلق قائم کرنے میں مدد کے لیے وقف ہے۔ Quran.Foundation کے تعاون سے، جو ایک 501(c)(3) غیر منافع بخش تنظیم ہے، Quran.com سب کے لیے ایک مفت اور قیمتی وسیلہ کے طور پر بڑھتا جا رہا ہے، الحمد للہ۔

نیویگیٹ کریں۔
ہوم
قرآن ریڈیو
قراء
ہمارے بارے میں
ڈویلپرز
پروڈکٹ اپڈیٹس
رائے
مدد
ہمارے پروجیکٹس
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
غیر منافع بخش منصوبے جو Quran.Foundation کی ملکیت، زیرِ انتظام یا زیرِ سرپرستی ہیں۔
مشہور لنکس

آیت الکرسی

سورہ یسین

سورہ الملک

سورہ الرحمان

سورہ الواقعة

سورہ الكهف

سورہ المزمل

سائٹ کا نقشہرازداریشرائط و ضوابط
© 2026 Quran.com. جملہ حقوق محفوظ ہیں