Đăng nhập
🚀 Tham gia thử thách Ramadan của chúng tôi!
Tìm hiểu thêm
🚀 Tham gia thử thách Ramadan của chúng tôi!
Tìm hiểu thêm
Đăng nhập
Đăng nhập
2:222
ويسالونك عن المحيض قل هو اذى فاعتزلوا النساء في المحيض ولا تقربوهن حتى يطهرن فاذا تطهرن فاتوهن من حيث امركم الله ان الله يحب التوابين ويحب المتطهرين ٢٢٢
وَيَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًۭى فَٱعْتَزِلُوا۟ ٱلنِّسَآءَ فِى ٱلْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلْمُتَطَهِّرِينَ ٢٢٢
وَيَسۡـَٔلُونَكَ
عَنِ
ٱلۡمَحِيضِۖ
قُلۡ
هُوَ
أَذٗى
فَٱعۡتَزِلُواْ
ٱلنِّسَآءَ
فِي
ٱلۡمَحِيضِ
وَلَا
تَقۡرَبُوهُنَّ
حَتَّىٰ
يَطۡهُرۡنَۖ
فَإِذَا
تَطَهَّرۡنَ
فَأۡتُوهُنَّ
مِنۡ
حَيۡثُ
أَمَرَكُمُ
ٱللَّهُۚ
إِنَّ
ٱللَّهَ
يُحِبُّ
ٱلتَّوَّٰبِينَ
وَيُحِبُّ
ٱلۡمُتَطَهِّرِينَ
٢٢٢
Họ (các bạn đạo của Ngươi) hỏi Ngươi (hỡi Thiên Sứ Muhammad) về kinh nguyệt của phụ nữ. Ngươi hãy trả lời họ: “Nó gây hại (cho các ngươi khi quan hệ), cho nên các ngươi đừng đến gần vợ của các ngươi trong suốt thời gian kinh nguyệt cho đến khi nào họ đã sạch sẽ trở lại (dứt kinh). Khi nào họ đã (tắm Junub) sạch sẽ thì các ngươi hãy đến với họ như Allah đã cho phép các ngươi. Quả thật, Allah rất yêu thương những người biết ăn năn sám hối và những người giữ mình sạch sẽ.
Tafsirs
Bài học
Suy ngẫm
Câu trả lời
Qiraat
Bạn đang đọc phần chú giải Kinh Qur'an cho nhóm các câu này. 2:222 đến 2:223

২২২-২২৩ নং আয়াতের তাফসীরহযরত আনাস (রাঃ) বলেন যে, ইয়াহূদীরা ঋতুবর্তী স্ত্রীলোকদেরকে তাদের সাথে খেতেও দিতো না এবং তাদের পার্শ্বে রাখতো না। সাহাবীগণ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে এই সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তারই উত্তরে এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে, সহবাস ছাড়া অন্যান্য সবকিছু বৈধ। একথা শুনে ইয়াহুদীরা বলেঃ “আমাদের বিরুদ্ধাচরণই রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উদ্দেশ্য।” হযরত উসায়েদ বিন হুযায়ের (রাঃ) এবং হযরত ইবাদ বিন বাশার (রাঃ) ইয়াহুদীদের এই কথা নকল করে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদেরকে তাহলে সহবাস করারও অনুমতি দিন।' এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখমণ্ডল (এর-রং) পরিবর্তিত হয়। অন্যান্য সাহাবীগণ (রাঃ) ধারণা করেন যে, তিনি তাদের প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর এই মহান ব্যক্তিদ্বয় যেতে থাকলে রাসূলুল্লাহর (সঃ) নিকট কোন এক ব্যক্তি উপঢৌকন স্বরূপ কিছু দুধ নিয়ে আসেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের পিছনে লোক। পাঠিয়ে তাদেরকে ডেকে পাঠান এবং ঐ দুধ তাদেরকে পান করান। তখন জানা যায় যে ঐ ক্রোধ প্রশমিত হয়েছে (সহীহ মুসলিম)। সুতরাং ‘ঋতুর অবস্থায় স্ত্রীদের হতে পৃথক থাকো’-এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘সহবাস করো না। কারণ, এ ছাড়া অন্যান্য সবকিছুই বৈধ। অধিকাংশ আলেমের মাযহাব এই যে, সহবাস বৈধ নয় বটে, কিন্তু প্রেমালাপ করা বৈধ। হাদীসসমূহেও রয়েছে যে, এরূপ অবস্থায় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-ও সহধর্মিণীদের সাথে মেলামেশা করতেন, কিন্তু তারা গুপ্ত স্থান কাপড়ে বেঁধে রাখতেন (সুনান-ই-আবু দাউদ)।হযরত আম্মারার ফুফু (রাঃ) হযরত আয়েশাকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, যদি স্ত্রী হায়েযের অবস্থায় থাকে এবং স্বামী-স্ত্রীর একই বিছানা হয় তবে তারা কি করবে:' অর্থাৎ এই অবস্থায় তার স্বামী তার পাশে শুতে পারে কি-না:' হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “আমি তোমাকে সংবাদ দিচ্ছি যা রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বয়ং করেছেন। একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) বাড়িতে এসেই তার নামাযের জায়গায় চলে যান এবং নামাযে লিপ্ত হয়ে পড়েন। অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। ইতিমধ্যে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তিনি শীত অনুভব করে আমাকে বলেনঃ এখানে এসো। আমি বলি : আমি ঋতুবতী।' তিনি আমাকে আমার জানুর উপর হতে কাপড় সরাতে বলেন। অতঃপর তিনি আমার উরু ও গণ্ড দেশের উপর বক্ষ রেখে শুয়ে পড়েন। আমিও তার উপর ঝুঁকে পড়ি। ফলে ঠাপ কিছু প্রশমিত হয় এবং সেই গরমে তিনি ঘুমিয়ে যান।'হযরত মাসরূক (রঃ) একদা হযরত আয়েশার (রাঃ) নিকট গমন করেন এবং বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ নবী (সঃ) ও তাঁর পরিবারের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। উত্তরে হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ‘মারহাবা, মারহাবা! অতঃপর তাঁকে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। হযরত মাসরূক (রঃ) বলেনঃ আমি আপনাকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি কিন্তু লজ্জাবোধ করছি।' তিনি বলেনঃ “আমি তোমার মা এবং তুমি আমার ছেলে (সুতরাং যা জিজ্ঞেস করতে চাও কর)।' তিনি বলেনঃ (আচ্ছা বলুন তো) ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে তার স্বামীর কি করা কর্তব্য:' তিনি বলেন ‘লজ্জা স্থান ছাড়া সবই জায়েয (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর)।' অন্য সনদেও বিভিন্ন শব্দে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে এ উক্তি বর্ণিত আছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) মুজাহিদ (রঃ), হাসান বসরী (রঃ) এবং ইকরামা (রঃ)-এর ফতওয়া এটাই। ভাবার্থ এই যে, ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে উঠা-বসা, খাওয়া ও পান করা ইত্যাদি সবই সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয।। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে,তিনি বলেনঃ “আমি ঋতুর অবস্থায় নবী (সঃ)-এর মস্তক ধৌত করতাম, তিনি আমার ক্রোড়ে হেলান দিয়ে শুয়ে কুরআন মাজীদ পাঠ করতেন। আমি হাড় চুষতাম এবং তিনিও ওখানেই মুখ দিয়ে চুষতেন। আমি পানি পান করে তাঁকে গ্লাস দিতাম এবং তিনিও ওখানেই মুখ দিয়ে ঐ গ্লাস হতেই ঐ পানিই পান করতেন। সেই সময় আমি ঋতুবতী থাকতাম। সুনান-ই- আবু দাউদের মধ্যে বর্ণিত আছে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “আমার ঋতুর অবস্থায় আমি ও রাসূলুল্লাহ (সঃ) একই বিছানায় শয়ন করতাম। তাঁর কাপড়ের কোন জায়গা খারাপ হয়ে গেলে তিনি শুধু ঐটুকু জায়গাই ধুয়ে ফেলতেন, শরীরের কোন জায়গায় কিছু লেগে গেলে ঐ জায়গাটুকুও ধুয়ে ফেলতেন এবং ঐ কাপড়েই নামায পড়তেন। তবে সুনানে আবূ দাউদের একটি বর্ণনায় এও রয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ‘আমি ঋতুর অবস্থায় বিছানা হতে নেমে গিয়ে মাদুরের উপরে চলে আসতাম। আমি পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার নিকট আসতেন না। তাহলে এই বর্ণনাটির ভাবার্থ এই যে, তিনি সতর্কতামূলকভাবে এর থেকে বেঁচে থাকতেন, নিষিদ্ধতার জন্যে নয়।কোন কোন মনীষী এ কথাও বলেন যে, কাপড় বাঁধানো অবস্থায় উপকার গ্রহণ করেছেন। হযরত হারিস হেলালিয়াহর (রাঃ) কন্যা মায়মুনা (রাঃ) বলেনঃ ‘নবী (সঃ) যখন তাঁর কোন সহধর্মিণীর সাথে মিলনের ইচ্ছে করতেন তখন তিনি তাকে কাপড় বেঁধে দেয়ার নির্দেশ দিতেন (সহীহ বুখারী)। এই রকমই সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে এই হাদীসটি হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আমার স্ত্রীর ঋতুর অবস্থায় তার সাথে আমার কোন কিছু বৈধ আছে কি:' তিনি বলেন কাপড়ের উপরের সব কিছুই বৈধ (সুনান-ই-আবু দাউদ ইত্যাদি)। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, এটা হতে বেঁচে থাকাও উত্তম। হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়াব (রাঃ) এবং হযরত শুরাইহের (রাঃ) মাযহাবও এটাই। এই ব্যাপারে ইমাম শাফিঈর (রাঃ) দু'টি উক্তি রয়েছে, তন্মধ্যে এটাও একটি। অধিকাংশ ইরাকী প্রভৃতি মনীষীরও এটাই মাযহাব। তাঁরা বলেন যে, সহবাস যে হারাম এটাতো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কাজেই এর আশপাশ হতেও বেঁচে থাকা উচিত যাতে হারামের মধ্যে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। ঋতুর অবস্থায় সহবাসের নিষিদ্ধতা এবং যে ব্যক্তি। এই কার্যে পতিত হবে তার পাপী হওয়া, এটা তো নিশ্চিত কথা। তাকে অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু তাকে কাফ্ফারাও দিতে হবে কি-না এ বিষয়ে আলেমদের দু'টি উক্তি রয়েছে। প্রথম উক্তি এই যে, তাকে কাফফারাও দিতে হবে। মুসনাদ-ইআহমাদ ও সুনানের মধ্যে রয়েছে, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে সে যেন একটি স্বর্ণ মুদ্রা বা অর্ধ স্বর্ণ মুদ্রা দান করে।' জামেউত্ তিরমিযী শরীফের মধ্যে রয়েছে যে, যদি রক্ত লাল হয় তবে একটা স্বর্ণ মুদ্রা আর যদি রক্ত হলদে বর্ণের হয় তবে অর্ধস্বর্ণ মুদ্রা। মুসনাদ-ই-আহমদের মধ্যে রয়েছে যে, যদি রক্ত শেষ হয়ে গিয়ে থাকে এবং এখন পর্যন্ত স্ত্রী গোসল না করে থাকে, এই অবস্থায় যদি স্বামী তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় তবে অর্ধ দীনার, নচেৎ এক দীনার। দ্বিতীয় উক্তি এই যে, কাফফারা কিছুই নেই। শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেই চলবে। ইমাম শাফিঈ (রঃ) এ কথাই বলেন। অধিকতর সঠিক মাযহাবও এটাই এবং জমহুর ওলামাও এই মতই পোষণ করেন। যে হাদীসগুলো উপরে বর্ণিত হয়েছে সেই সম্পর্কে এঁদের কথা এ যে, এগুলোর মারফ হওয়া সঠিক কথা নয়, রবং সঠিক কথা এ যে, এলো। মাওকুফ হাদীস বর্ণনা হিসেবে এগুলো মারফু ও মাওকুফ উভয় রূপে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ হাদীসশাস্ত্রবিদের মতে সঠিক কথা এই যে, এগুলো মাওকুফ হাদীস। তাদের নিকটে যেও না' এটা তাফসীর হচ্ছে এ নির্দেশের যে, ঋতুর অবস্থায় স্ত্রীগণ হতে তোমরা পৃথক থাকবে। এর দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, ঋতু শেষ হয়ে গেলে তাদের নিকট যাওয়া বৈধ।হযরত ইমাম আবু আবদিল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেনঃ পবিত্রতা বলে দিচ্ছে যে, এখন তার নিকটে যাওয়া জায়েয। হযরত মায়মুনা (রাঃ) এবং হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “আমাদের মধ্যে যখন কেউ ঋতুবতী হতেন তখন তিনি কাপড় বেঁধে দিতেন এবং নবী (সঃ)-এর সাথে তার চাদরে শুয়ে যেতেন। এর দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হচ্ছে যে, নিকটে যাওয়া হতে নিষেধ করার অর্থ সহবাস হতে নিষেধ করা। এ ছাড়া তার সাথে শয়ন, উপবেশন ইত্যাদি সবই বৈধ।এরপরে ইরশাদ হচ্ছে-তারা যখন পবিত্র হয়ে যাবে তখন তাদের সাথে সহবাস কর। ইমাম ইবনে হাযাম (রঃ) বলেন যে, প্রত্যেক হায়েযের পবিত্রতার উপর সহবাস করা ওয়াজিব। তার দলীল হচ্ছে (আরবি) অর্থাৎ তাদের নিকটে এসো' এই শব্দটি। কিন্তু এটা কোন শক্ত দলীল নয়। এটা শুধু অবৈধতা সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা। এছাড়া অন্য কোন দলীল তার কাছে নেই। উসুল’ শাস্ত্রের আলেমগণের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, আমর’ অর্থাৎ নির্দেশ সাধারণভাবে অবশ্যকরণীয়রূপে এসে থাকে। তাদের পক্ষে ইমমি ইবনে হাযামের কথার উত্তর দেয়া খুব কঠিন। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এই নির্দেশ শুধু অনুমতির জন্য। এর পূর্বে নিষিদ্ধতার কথা এসেছে বলে এটা এরই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখানে আমর’ অবশ্য করণীয়ের জন্যে নয়। কিন্তু এটা বিবেচ্য বিষয়। দলীল দ্বারা যা সাব্যস্ত হয়েছে তা এই যে, এরূপ স্থলে অর্থাৎ পূর্বে নিষিদ্ধ এবং পরে নির্দেশ, এ অবস্থায় নির্দেশ স্বীয় মূলের উপরেই বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ যা নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে যেমন ছিল এখন তেমনই হয়ে যাবে। অর্থাৎ নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে যদি কাজটি ওয়াজিব থেকে থাকে তবে এখনও ওয়াজিবই থাকবে। যেমন কুরআন মাজীদের মধ্যে রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতীত হয়ে যাবে তখন তোমরা মুশরিকদের হত্যা কর।' (৯:৫) আর যদি নিষিদ্ধতার পূর্বে তা বৈধ থেকে থাকে তবে তা বৈধই থাকবে। যেমন কুরআন পাকের (আরবি) অর্থাৎ যখন তোমরা ইহরাম খুলে দেবে তখন তোমরা শিকার কর।' (৫২) অন্য স্থানে রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ যখন নামায পুরো করা হয়ে যাবে তখন তোমরা পৃথিবীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়।' (৬২:১০) ঐ আলেমদের এই সিদ্ধান্ত ঐ বিভিন্ন উক্তিগুলোকে একত্রিত করে দেয় যা ‘আমরে’র অবশ্যকরণীয় ইত্যাদি সম্বন্ধে রয়েছে। ইমাম গাযযালী (রঃ) প্রভৃতি মনীষীও এটা বর্ণনা করেছেন। পরবর্তী কতকগুলো ইমাম এটাও পছন্দ করেছেন। এটাই সঠিকও বটে। এই জিজ্ঞাস্য বিষয়টিও স্মরণীয় যে, যখন হায়েযের রক্ত আসা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাবে, ওর পরেও স্ত্রীর সাথে স্বামীর সহবাস হালাল হবে না যে পর্যন্ত না সে গোসল করবে। হাঁ, তবে যদি তার কোন ওজর থাকে এবং গোসলের পরিবর্তে যদি তার জন্যে তায়াম্মুম করা যায়েয হয় তবে তায়াম্মুমের পর তার কাছে স্বামী আসতে পারে। এতে সমস্ত আলেমের মতৈক্য রয়েছে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এ সমস্ত আলেমের বিপরীত মত পোষণ করেন। তিনি বলেন যে, যদি হায়েয় শেষ সময়কাল অর্থাৎ দশ দিন পর্যন্ত থেকে বন্ধ হয়ে যায় তবে সে গোসল না করলেও তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, একবার তো (আরবি) শব্দ রয়েছে; এর ভাবার্থ হচ্ছে হায়েযের রক্ত বন্ধ হওয়া এবং তাত্বাহহারনা' শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে গোসল করা। হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত ইকরামা (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ), হযরত মুকাতিল বিন হিববান (রঃ) হযরত শায়েস বিন সা'দ (রঃ) প্রভৃতি মহান ব্যক্তিও এটাই বলেন।অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে-তোমরা ঐ জায়গা দিয়ে এসো, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে যার নির্দেশ দিচ্ছেন। এর ভাবার্থ হচ্ছে সম্মুখের স্থান। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ) প্রভৃতি অনেক মুফাসসিরও এই অর্থই বর্ণনা করেছেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে শিশুদের জন্মগ্রহণের জায়গা। এছাড়া অন্য স্থান অর্থাৎ পায়খানার স্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ। এই রকম কাজ যারা করে তারা সীমা অতিক্রমকারী। সাহাবা (রাঃ) এবং তাবেঈন (রঃ) হতে এর ভাবার্থ এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ ‘হায়েযের অবস্থায় যে স্থান হতে তোমাদেরকে বিরত রাখা হয়েছিল এখন ঐ স্থান তোমাদের জন্যে হালাল হয়ে গেল। এর দ্বারা পরিষ্কারভাবে বুঝা গেল যে, পায়খানার জায়গায় সহবাস করা হারাম। এর বিস্তারিত বর্ণনাও ইনশাআল্লাহ আসছে। পবিত্রতার অবস্থায় এসে যখন সে হায়েয হতে বেরিয়ে আসে’এ অর্থও নেয়া হয়েছে। এজন্যেই এর পরবর্তী বাক্যে পাপ কার্য হতে প্রত্যাবর্তনকারী ও হায়েযের অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হতে দূরে অবস্থানকারীকে আল্লাহ তা'আলা ভালবাসেন। অনুরূপভাবে (প্রস্রাবের স্থান ছাড়া) অন্য স্থান হতে যারা বিরত থাকে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও অলবাসেন।এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-তোমাদের স্ত্রীগুলো তোমাদের ক্ষেত্র বিশেষ। অর্থাৎ সন্তান বের হওয়ার স্থানে তোমরা যেভাবেই চাও তোমাদের ক্ষেত্রে এসো। নিয়ম ও পদ্ধতি পখক হলেও স্থান একই। অর্থাৎ সম্মুখে করে অথবা তার বিপরীত। সহীহ বুখারী শরীফের মধ্যে রয়েছে : ইয়াহূদীরা বলতো যে, স্ত্রীর সঙ্গে সম্মুখের দিক দিয়ে সহবাস না করে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে যায় তবে টেরা চক্ষু বিশিষ্ট সন্তান জন্মলাভ করবে। তাদের এ কথার খগুনে এই বাক্যটি অবতীর্ণ হয়। এতে বলা হয় যে, স্বামীর এই ব্যাপারে স্বাধীনতা রয়েছে। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতীম' গ্রন্থে রয়েছে যে, ইয়াহুদীরা এই কথাটিই মুসলমানদেরকেও বলেছিল। ইবনে জুরাইজ (রঃ) বলেন যে, এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, সম্মুখের দিক দিয়ে আসতে পারে এবং পিছনের দিক দিয়েও আসতে পারে। কিন্তু স্থান একটিই হবে।অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেঃ “আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট কিরূপে আসবো এবং কিরূপে ছাড়বো:” তিনি উত্তরে বলেন, তারা তোমাদের ক্ষেত্র বিশেষ, যেভাবেই চাও এসো। হাঁ, তবে তাদের মুখের উপরে মেরো না, তাদেরকে খুব মন্দ বলো না, ক্রোধ বশতঃ তাদের হতে পৃথক হয়ে যেয়ো না। একই ঘরে অবস্থান কর (আহমাদ ও সুনান)।' (মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতীমের মধ্যে রয়েছে যে, হামীর গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করে, আমার স্ত্রীদের সাথে আমার খুব ভালবাসা রয়েছে। সুতরাং তাদের সম্বন্ধে যে নির্দেশাবলী রয়েছে তা আমাকে বলে দিন।'তখন এই নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে যে, কয়েকজন আনসারী সাহাবী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এটা জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাহাবীর (রঃ) মুশকিলুল হাদীস গ্রন্থে রয়েছে যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে উল্টোভাবে সহবাস করেছিল। এতে মানুষ তার সমালোচনা করলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।‘তাফসীর-ই-ইবনে জারীরের মধ্যে রয়েছে যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন সাবেতাহ (রাঃ) হযরত আবদুর রহমান বিন আবু বকরের (রাঃ) কন্যা হযরত হাফসার (রাঃ) নিকটে এসে বলেন, আমি একটি জিজ্ঞাস্য সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করতে চাই, কিন্তু লজ্জাবোধ করছি।' তিনি বলেন, হে ভ্রাতুস্পুত্র! লজ্জা করো, যা জিজ্ঞেস করতে চাও জিজ্ঞেস কর।' তিনি বলেন, আচ্ছা বলুন তো, স্ত্রীদের সাথে পিছনের দিক দিয়ে সহবাস করা বৈধ কি:' তিনি বলেন, হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, আনসারগণ (রাঃ) স্ত্রীদেরকে উল্টো করে শোয়ায়ে দিতেন এবং ইয়াহূদীরা বলতো যে, এভাবে সহবাস করলে সত্তন টেরা হয়ে থাকে। অতঃপর যখন মুহাজিরগণ (রাঃ) মদীনায় আগমন করেন এবং এখানকার স্ত্রী লোকদের সাথে তাদের বিয়ে হয়, তখন তারাও এরূপ করতে চাইলে একজন স্ত্রীলোক তার স্বামীর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতঃ বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত আপনার কথা মানতে পারি না। সুতরাং তিনি নবীর (সঃ) দরবারে উপস্থিত হন। হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) তাঁকে বসিয়ে দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এখনই এসে যাবেন।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) আগমন করলে ঐ আনসারিয়া স্ত্রী লোকটি তো লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে না পেরে ফিরে যান। কিন্তু হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘আনসারিয়া স্ত্রী লোকটিকে ডেকে পাঠাও।' তিনি তাঁকে ডেকে আনলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে এই আয়াতটি পাঠ করে শুনান এবং বলেন, স্থান একটিই হবে।মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে যে, একদা হযরত উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ব্যাপার কি: হযরত উমার (রাঃ) বলেন, রাত্রে আমি আমার সোয়ারী উল্টো করেছি।' তিনি কোন উত্তর দিলেন না। সেই সময়ই এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং তিনি বলেন, 'তুমি সম্মুখের দিক হতে বা পিছনের দিক হতে এসো, তোমার দু'টোরই অধিকার রয়েছে। কিন্তু ঋতুর অবস্থায় এসো না। আনসারীর ঘটনা সম্বলিত হাদীসটি। কিছু বিস্তারিতভাবেও বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে এও রয়েছে যে,হযরত আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)-কে আল্লাহ ক্ষমা করুন,তিনি কিছু সন্দেহের মধ্যে পতিত হয়েছেন। কথা এই যে, আনসারদের দল প্রথমে মূর্তি পূজক ছিলেন এবং ইয়াহুদীরা আহলে কিতাব ছিল। মূর্তি পূজকেরা কিতাবীদের মর্যাদা ও বিদ্যার কথা স্বীকার করতো। ইয়াহূদীরা একই প্রকারে তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করতো। আনসারদেরও এই অভ্যাসই ছিল। পক্ষান্তরে মক্কাবাসীরা কোন নির্দিষ্ট নিয়মের অনুসারী ছিল না। তারা যথেচ্ছা স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতো।ইসলাম গ্রহণের পর মক্কাবাসী মুহাজিরগণ (রাঃ) যখন মদীনায় আগমন করেন তখন মক্কা হতে আগত একজন মুহাজির পুরুষ মদীনার একজন আনসারিয়াহু মহিলাকে বিয়ে করেন এবং মনোমত পন্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। মহিলাটি অস্বীকার করে বসেন এবং স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, ‘আমি ঐ একই নিয়ম ছাড়া অনুমতি দেবো না। কথা বাড়তে বাড়তে রাসূলুল্লাহ (সঃ) পর্যন্ত পৌছে যায়। অতঃপর এই নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। সুতরাং সামনে বা পিছনে যেভাবে ইচ্ছা সহবাসের অধিকার রয়েছে, তবে স্থান একটিই হবে। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন, 'আমি হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) নিকট কুরআন মাজীদ শিক্ষা করেছি। প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত তাকে শুনিয়েছি। এক একটি আয়াতের তাফসীর ও ভাবার্থ তাকে জিজ্ঞেস করেছি। এই আয়াতে পৌছে যখন আমি তাঁকে এই আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করি তখন তিনি এটাই বর্ণনা করেন যা উপরে বর্ণিত হয়েছেঃ হযরত ইবনে উমারের (রাঃ) সন্দেহ ছিল এই যে, কতকগুলো বর্ণনায় রয়েছেঃ তিনি কুরআন মাজীদ পাঠের সময় কাউকেও বলতেন না। কিন্তু একদিন পাঠের সময় যখন এই আয়াতে পৌছেন তখন তিনি হযরত নাফে' (রঃ) নামক তাঁর একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করেন, এই আয়াতটি কি সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল তা তুমি জান কি:' তিনি বলেন, ‘না’। তখন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা স্ত্রী লোকদের অন্য জায়গায় সহবাস সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।' একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি (ইবনে উমার রাঃ) বলেন, একটি লোকে তার স্ত্রীর সাথে পিছন দিক দিয়ে সহবাস করেছিল। ফলে এই আয়াতটি ঐ কাজের অনুমতি প্রদান হিসেবে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু প্রথমতঃ হাদীস শাস্ত্রবিদগণ এতে কিছুটা ক্রটি বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয়তঃ এর অর্থও এই হতে পারে যে, পিছনের দিক দিয়ে সম্মুখের স্থানে করেছিলেন এবং উপরের বর্ণনাগুলোও সনদ হিসেবে সহীহ নয়। বরং ঐ হযরত নাফে' (রঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে,তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি একথা বলেন যে, হযরত ইবনে উমার (রাঃ) গুহ্যদ্বারে সহবাস জায়েয বলেছেন:' তিনি বলেন, 'মানুষ মিথ্যা বলে থাকে। অতঃপর তিনি ঐ আনসারিয়াহ মহিলা ও মুহাজির পুরুষটির ঘটনাটাই বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তো এই আয়াতের এই ভাবার্থ বর্ণনা করতেন। এই বর্ণনার ইসনাদও সম্পূর্ণরূপেই সঠিক এবং এর বিপরীত সনদ সঠিক নয়। ভাবার্থও অন্যরূপ হতে পারে। স্বয়ং হযরত ইবনে উমার (রাঃ)। হতেও এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে। ঐ বর্ণনাগুলো ইনশাআল্লাহ অতিসত্বরই। বর্ণিত হচ্ছে। ওগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, হযরত ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, 'না এটা মুবাহ্, না হালাল, বরং হারাম। যদিও বৈধতার উক্তির সম্বন্ধ মদীনার কোন কোন ফকীহ প্রভৃতি মনীষীর দিকে লাগানো হয়েছে এবং কেউ কেউ তো ইমাম মালিকের (রঃ) দিকেও সম্বন্ধ লাগিয়েছেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক এটা অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, এটা কখনও ইমাম মালিকের (রঃ) কথা নয়। বহু সহীহ হাদীস দ্বারা এ কাজের অবৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।একটি বর্ণনায় রয়েছে-‘হে জনমণ্ডলী! তোমরা লজ্জাবোধ কর। আল্লাহ তা'আলা সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীদের গুহ্যদ্বারে সহবাস করো না’। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ কার্য হতে মানুষকে নিষেধ করেছেন (মুসনাদ-ই-আহমাদ) আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন স্ত্রী বা পুরুষের সঙ্গে একাজ করে, তার দিকে আল্লাহ তা'আলা করুণার দৃষ্টিতে দেখবেন না। (জামেউত্ তিরমিযী) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি এই সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'তুমি কি কুফরী করা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করছে। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলেন, (আরবি)-এর এই অর্থ বুঝেছি এবং এর উপর আমল করেছি। তখন তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন, তাকে ভৎর্সনা করেন এবং বলেন, 'ভাবার্থ এই যে, দাড়িয়ে কর অথবা পেটের ভরে শোয়া। অবস্থায় কর, কিন্তু জায়গা একটিই হবে। অন্য এইটি মারফু হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে সে ছোট ‘লুতী (হযরত লুত আঃ -এর সম্প্রদায়ভুক্ত)-মুসনাদ-ই-আহমাদ। হযরত আবুদ দারদা (রাঃ) বলেন যে, এটা কাফিরদের কাজ। হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস (রাঃ) হতেও এটা নকল করা হয়েছে এবং অধিকতর এটাই সঠিক।রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘সাত প্রকার লোক রয়েছে যাদের দিকে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন করুণার দৃষ্টিতে দেখবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। এবং তাদেরকে বলে দেবেনঃ ‘দোযখীদের সাথে দোযখে চলে যাও।' (১) ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী (২) হস্ত মৈথুনকারী (৩) চতুষ্পদ জন্তুর সাথে এই কার্যকারী (৪) স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাসকারী (৫) স্ত্রী ও তার মেয়েকে বিয়েকারী। (৬) প্রতিবেশির স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারকারী এবং (৭) প্রতিবেশীকে এমনভাবে শাসন গর্জনকারী যে, শেষ পর্যন্ত সে তাকে অভিশাপ দেয়। কিন্তু এর সনদের মধ্যে লাহীআহ এবং তার শিক্ষক দু’জনই দুর্বল। মুসনাদ-ই-আহমাদের একটি হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য পথে সহবাস করে তাকে আল্লাহ দয়ার দৃষ্টিতে দেখেন না। মুসনাদ-ই-আহমাদ এবং সনানের মধ্যে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে অথবা অন্য পথে সহবাস করে কিংবা যাদুকরের নিকট গমন করে এবং তাকে সত্যবাদী মনে করে সে ঐ জিনিসকে অস্বীকার করলো যা মুহাম্মদ (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ) বলেন যে, ইমাম বুখারী (রঃ) এই হাদীসকে দুর্বল বলেছেন। জামেউত্ তিরমিযীর মধ্যে বর্ণিত আছে যে, গুহ্যদ্বারে সহবাস করাকে হযরত আবু সালমাও (রাঃ) হারাম বলতেন। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেনঃ ‘লোকদের স্ত্রীদের সাথে এই কাজ করা কুফরী (সুনান-ই-নাসাঈ)। এই অর্থের একটি মারফু হাদীসও বর্ণিত আছে। কিন্তু হাদীসটির মাওকুফ হওয়াই অধিকরত সঠিক কথা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এই স্থানটি হারাম। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) এই কথাই বলেন। হযরত আলী (রাঃ) এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেনঃ ‘সেই ব্যক্তি অত্যন্ত বর্বর। তুমি আল্লাহর কালাম শুননি: কুরআন পাকের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যখন লুতের (আঃ) কওমকে বলা হলো-তোমরা কি এমন নির্লজ্জতার কাজ করছে যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বে কেউ কোনদিন করেনি: সুতরাং বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ হতে এবং সাহাবা-ই-কিরাম (রাঃ) হতে বহু বর্ণনা ও সনদ দ্বারা এই কার্যের নিষিদ্ধতা বর্ণিত আছে। এই কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, হযরত আবদুল্লাহ্ বিন উমারও (রাঃ) এই কাজকে অবৈধই বলেছেন। যেহেতু দারেমী’র মধ্যে রয়েছে যে, একবার তিনি এই সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেছিলেনঃ মুসলমানও এই কাজ করতে পারে: এর ইসনাদ সঠিক এবং এর দ্বারা এই কার্যের অবৈধতাও পরিষ্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে। সুতরাং অশুদ্ধ ও বিভিন্ন অর্থ বিশিষ্ট বর্ণনাগুলোর পিছনে পড়ে এরূপ একজন মর্যাদা সম্পন্ন সাহাবীর (রাঃ) দিকে এরূপ জঘন্য মাসআলার সম্বন্ধ লাগানো মোটেই ঠিক নয়। এই প্রকারের বর্ণনাগুলো পাওয়া গেলেও ঐগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। এখন রইলেন ইমাম মালিক (রঃ)। তাঁর দিকেও এই কার্যের বৈধতার সম্বন্ধ লাগানো উচিত হবে না। হযরত মুআম্মার বিন ঈসা (রঃ) বলেন যে, হযরত ইমাম মালিক (রঃ) এই কার্যকে হারাম বলতেন। ইসরাঈল বিন রাওহ্ (রঃ) একদা তাঁকে এই প্রশ্নই করলে তিনি বলেন, তুমি কি নির্বোধ: বীজ বপন তো ক্ষেত্রেই করতে হয়। সাবধান! লজ্জা স্থান ছাড়া অন্য জায়গা হতে বেঁচে থাকবে। প্রশ্নকারী বলেন, ‘জনাব! জনগণ তো একথাই বলে থাকে যে, আপনি এই কাজকে বৈধ বলেন। তখন তিনি বলেন, তারা মিথ্যাবাদী। আমার উপর তারা অপবাদ দিচ্ছে।' সুতরাং ইমাম মালিক (রঃ) হতেও এর অবৈধতা সাব্যস্ত হচ্ছে। ইমাম আবু হানীফা (রঃ), ইমাম শাফিঈ (রঃ) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) এবং তাদের সমস্ত ছাত্র ও সহচর যেমন সাঈদ বিন মুসাইয়াব (রঃ), আবু সালমা (রঃ) ইকরামা (র), তাউস (রঃ), আতা (রঃ) সাঈদ বিন যুবাইর (রঃ) উরওয়া বিন যুবাইর (রঃ), মুজাহিদ (রঃ) এবং হাসান বসরী (রঃ) প্রভৃতি মনীষীগণ সবাই এই কাজকে অবৈধ বলেছেন এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ কার্যকে কুফরী পর্যন্ত বলেছেন। এর অবৈধতায় জমহুর উলামারও ইজমা রয়েছে। যদিও কতকগুলো লোক মদীনার ফকীহগণ হতে এমন কি ইমাম মালিক (রঃ) হতেও এর বৈধতা নকল করেছেন কিন্তু এগুলো সঠিক নয়।আবদুর রহমান বিন কাসিম (রঃ) বলেন, কোন ধর্মভীরু লোককে আমি এর অবৈধতা সম্বন্ধে সন্দেহ করতে দেখিনি। অতঃপর তিনি (আরবি) পাঠ করে বলেন, স্বয়ং (আরবি) অর্থাৎ ক্ষেত্র শব্দটিই এর অবৈধতা প্রকাশ করার জন্যে যথেষ্ট। কেননা, অন্য জায়গা ক্ষেত্র নয়। ক্ষেত্রে যাবার পদ্ধতির স্বাধীনতা রয়েছে। বটে কিন্তু ক্ষেত্র পরিবর্তনের স্বাধীনতা নেই। ইমাম মালিক (রঃ) হতে এটা বৈধ হওয়ার বর্ণনাসমূহ নকল করা হলেও সেগুলোর ইসনাদের মধ্যে অত্যন্ত দুর্বলতা রয়েছে। অনুরূপভাবে ইমাম শাফিঈ (রঃ) হতেও লোকেরা একটি বর্ণনা বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তিনি তার ছয়খানা গ্রন্থে স্পষ্ট ভাষায় এটাকে হারাম লিখেছেন। এরপর আল্লাহ তাআলা বলেন-নিজেদের জন্যে তোমরা অর্থেই কিছু পাঠিয়ে দাও। অর্থাৎ নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে বিরত থাক এবং সত্যার্যাবলী সম্পাদন কর, যেন পুণ্য অগ্রে চলে যায়। আল্লাহকে ভয় কর এবং বিশ্বাস রেখো যে, তার সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাৎ করতে হবে ও তিনি পুঙ্খানুপুঙখরূপে তোমাদের হিসাব নেবেন। ঈমানদারগণ সদা আনন্দিত থাকবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ভাবার্থ এও হতে পারে যে, সহবাসের ইচ্ছে করলে নিম্নের দুআটি পাঠ করবে। (আরবি) অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে ও আমাদের সন্তানদেরকে শয়তান হতে রক্ষা করুন।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ যদি এই সহবাস দ্বারা শুক্র ধরে যায় তবে শয়তান ঐ সন্তানের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।'

He has revealed to you ˹O Prophet˺ the Book in truth, confirming what came before it, as He revealed the Torah and the Gospel
— Dr. Mustafa Khattab, the Clear Quran
Notes placeholders
Đọc, Lắng nghe, Tra cứu và Suy ngẫm về Kinh Qur'an

Quran.com là nền tảng đáng tin cậy, được hàng triệu người dùng trên thế giới để đọc, tra cứu, lắng nghe và suy ngẫm Kinh Qur'an bằng nhiều ngôn ngữ, với bản dịch, tafsir, tụng đọc, dịch từng từ và các công cụ học sâu, giúp ai cũng có thể tiếp cận Kinh Qur'an.

Là một Sadaqah Jariyah, Quran.com tận tâm giúp mọi người gắn bó sâu sắc hơn với Kinh Qur'an. Được hậu thuẫn bởi tổ chức phi lợi nhuận 501(c)(3) Quran.Foundation, Quran.com không ngừng phát triển như một nguồn tài nguyên miễn phí và hữu ích cho tất cả, Alhamdulillah.

Điều hướng
Trang chủ
Đài Qur'an
Người đọc kinh
Về chúng tôi
Các nhà phát triển
Cập nhật sản phẩm
Phản hồi
Trợ giúp
Dự án của chúng tôi
Quran.com
Quran For Android
Quran iOS
QuranReflect.com
Sunnah.com
Nuqayah.com
Legacy.Quran.com
Corpus.Quran.com
Dự án phi lợi nhuận do Quran.Foundation sở hữu, quản lý hoặc tài trợ
Liên kết phổ biến

Ayatul Kursi

Yaseen

Al Mulk

Ar-Rahman

Al Waqi'ah

Al Kahf

Al Muzzammil

Sơ đồ trang webQuyền riêng tưĐiều khoản và điều kiện
© 2026 Quran.com. Bản quyền đã được bảo lưu.